Sunday, July 26, 2026

Share this recommendation:

Share on Facebook Post on X


How to Find a Perfect Romance Novel: Try Monique Rand

There is nothing perfect in this world. You love to read romance novels. Yet sometimes you are bored of tropes. Some other times you are irritated by tropes stuffing without an interesting story. Also, there are times when you feel impatient because of a too long situational conversation. Your remedy is a new author like Monique Rand.

You can try her free books first. If those books can pique your taste, then go buy her books. If you read her books more, then she will be able to write more books to your taste.

You can try Monique’s free books on Wattpad and you can buy her books on Amazon.

What Makes Monique Rand’s Books Interesting?

Monique writes romance books. Her characters are contemporary and urban. They travel the world and make their own decisions. In love and all other matters of life they stand their grounds and hold their heads high. She categorises her books as:

  • Enemies (Haters) to lovers: Conflict between the protagonists increases the tension and enhances the uncertainties of the protagonists becoming lovers.
  • Second chance romance: The protagonists are judgemental. They develop their own ideas about each other and they part their ways because of discord. Then after several roundabouts they reconcile.
  • Wholesome romance: The protagonists go through family drama and professional jealousy, backstabbing, falls and rises. Their lives are no less interesting than any other protagonists yet all readers can relate to them.
  • Romantic Comedy: The protagonists rise and fall. Every move they make, forward or backward, every turn they take and every straight path they follow make them look foolish and ridiculous.

In the end, every story promises that the protagonists find a happy ending to their trials and tribulations. In other words, they reach the happy beginning of another chapter of their lives.

How Many Books Has Monique Rand Written?

Monique has started publishing her romance books since the beginning of 2024. She has been adding books to one series at present and has plans to publish more romance books in different series.

Entwined Series

Monique’s debut romance series is Entwined. She has written twelve books in the series. She is hopeful that she will add more books in this series. Though in a series, all these books can be read as standalone books.

What Else Monique Has to Offer?

Monique is one of the pen names of Sanhita Mukherjee. Sanhita has written both non-fiction and fiction books. Her non-fiction books are in law and management categories. Here’s a summary of Sanhita’s fiction books:

Genre Series Number of Books
Mystery / Thriller American Small Town Mysteries 12
Mystery / Thriller Kolkata Crime Cosmos 5
Fantasy The Real Bengal Fantasy 6
Fairy Tales The Banglish Fairy Tales 2
Literary Fiction The Marplian 4
Literary Fiction Wowman 2
Short Stories Shorts 2

All Sanhita’s books have romantic subplots and the romantic tension spread all over the stories.

All books by Monique and Sanhita are available on Audible.

Interesting? Buy books by Monique and Sanhita now.

Monday, June 8, 2026

Panchpoksho - 66

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~


আত্মপক্ষ

~~~~~

সুরচিতা একটু সময় নিয়ে উত্তর দিল, “বলতে পারব না। আমি চাই যে তুই আর পাঁচটা মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন কর। ঘর সংসার কর। সেটা হতে গেলে দেখা না হওয়াই ভালো। কোনোরকম যোগাযোগ না রাখাই ভালো। কিন্তু, আমি জানি না, এখান থেকে কাজ বন্ধ করে যদি আমাকে চলে যেতে হয় তাহলে যেখানে গিয়ে পৌঁছোব সেখানে তুই আছিস কিনা। একদম যোগাযোগ না রাখলে তো সেটা জানা সম্ভব নয়। কিন্তু এক্ষুনি সেসব কথা ভাবতে ইচ্ছে করছে না। তুইও এখনও কিছুদিন ব্যস্ত থাকবি বৈষয়িক কারণে। মা-বাবাকে নিয়ে। নেহাৎ দরকার না হলে যোগাযোগ নাই বা করলি। এতদিনে কত ঝামেলা তো আমাকে ছাড়াই সামলে নিয়েছিস, তাই না?” 

শান্তস্বরে অভি বলল, “তোমার ইচ্ছে মতো তুমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছ। তাতে আমার কোনো ভূমিকা নেই। কিন্তু আমি এরপরের জীবনটা যেভাবে ভেবেছিলাম তাতে তুমি ছিলে। এবার তোমার সিদ্ধান্তের নিরিখে আমাকে ভবিষ্যৎ ভাবতে হবে। আমি তোমাকে কোনো কথা এক্ষুনি দিতে পারব না। কিছু সময় আমারও লাগবে। কিন্তু তৈরি থেকো, সবকিছুর পরে আমি আবারও এসে তোমার সাথে থাকতে চাইতে পারি। বিয়ে কিংবা সংসার না চেয়ে, শুধু তোমার সাথে থাকার জন্য। তৈরি থেকো আবার করে নতুন কিছু ভাবার জন্য।” 

সুরচিতা অভির দুই হাতের তালু নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল, “আমি তো নতুনের জন্য সব সময় তৈরি। কিন্তু সেদিন কী করব সে কথা আমিও আজ দিতে পারব না। তুইও সেদিন আবার ফিরে যাওয়ার জন্য তৈরি থাকিস।”


পরদিন ভোরে ল্যান্ড রোভার ধরে ওরা নেমে এলো হলদুঝোরাতে। তারপর সেখান থেকে চলল ওমনিতে, টৌলিং হয়ে মাঠপুরের রেল জংশনের পথে। সেখান থেকে বিকেলে মা-বাবার কাছে যাওয়ার ট্রেন ধরবে অভি। এবারও সুরচিতা তিনপাহাড়িতে নেমে গেল। তার সামনে এখনও অনেকটা চড়াই পথ। 

অভির প্রেমে মজে গিয়ে সে যে জগৎ সংসারকে ভালোবেসে ফেলেছে। আপন করে ফেলেছে। অগুণতি সন্ততি সেখানে মূঢ়, ম্লান, মূক জন্মাচ্ছে, বেড়ে উঠছে দিশেহারা। তাদের যতজনকে সম্ভব ততজনকে যে অভির মতো আত্মমর্যাদায় স্বনির্ভরতায় প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। সুরচিতার যে তাদের সেই অধ্যবসায়ের সঙ্গী না হয়ে উপায় নেই।


(শেষ)

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

Sunday, June 7, 2026

Panchpoksho - 6

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

সুরচিতা বলল, “একসময় পাগলের মতো বলতাম না, ‘আমি সব দেখব’, আমাজন, আন্দিজ, রকি, আল্পস, জমাট নর্থ সি আর অরোরা বোরিয়ালিস, দক্ষিণ গঙ্গোত্রী আর অরোরা অস্ট্রেলিস। দেখব হয়তো। জীবন মানে অনন্ত সম্ভাবনা। বাঁধা গতে না ফেলে বহতা নদীর মতো চলতে দিলে হয়তো ঘাটা-আঘাটায় ঠেকতে ঠেকতে পৌঁছে যাব তীর্থে।”


অভি বলল, “পরে ইচ্ছে হলে সংসার পাতবে?”


সুরচিতা বলল, “ইচ্ছে হলে নিশ্চয়ই পাতব। কিন্তু ইচ্ছে হলে, তবেই; অনিচ্ছায় নয়।”


অভি বলল, “আমাকে জানাবে না। তাই না?”


সুরচিতা বলল, “নিশ্চয়ই না। তুই আমার সবটা অধিকার করে আছিস। তাই ভেবেছিস আমার সাথে চব্বিশ ঘন্টাটা ভাগ করে নিবি। আমি তোর সবটা অধিকার করে আছি। আমি কাউকে এটা ছেড়ে দিতে রাজি নই। অথচ সংসারে আমার রুচি, মতি কিছুই নেই আর এখন। কিন্তু জীবনের নিয়মে ইচ্ছে হলে তুই সংসার করবি যখন, তখন সে সংসারে তোর অংশীদার যে থাকবে সেই তো তার চব্বিশ ঘন্টার ভাগ দেবে তোকে, তোকে পূর্ণ অধিকার করবে। আমার অস্তিত্বের কথা জানলে সে যে দিতেই পারবে না। তাই তো আমাদের ভালোবাসাগুলোকে, প্রেমগুলোকে যথার্থ সম্মান দিয়েই নিজেদেরকে আমরা বিচ্ছিন্ন করে নেব পরস্পরের থেকে। না হলে যে আমরা শান্তি পাব না, স্বস্তি পাব না।”


অভি স্থির হয়ে বসে শুনল। মানল কিনা বোঝা গেল না। তারপর জানলা দিয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল বিকেলের আলোয় আলসেমি মাখা মাঠটার দিকে। হয়তো মাঠটা নয়। অন্য কিছু দেখছিল। দূরে, ভূগোলে নয়, সময়ে। দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দে বার বার ধরা পড়ছিল ডরমিটরির চালা কাঁপিয়ে দেওয়া ঝড়টা। 

তারপর একসময় ঝড় মিলিয়ে গেল। আলোটা মরে গিয়ে একটা ছাইরঙা কুয়াশার মতো সন্ধে নামতে লাগল। একটা একটা করে তারা ফুটতে লাগল আকাশে। পরিবেশিকা চা আর চানাচুর নিয়ে এলো। ঘরের আলো জ্বালিয়ে দিল। অভি প্রথম মুখ খুলল, “আর কখনও আমাদের দেখা হবে না, তাই তো?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Saturday, June 6, 2026

Panchpoksho - 64

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~

আত্মপক্ষ

~~~~~~

সুরচিতা বলল, “মনে হয়। মানুষের বসতি ছাড়া কোথায়ই বা এমন করে পালতু কুকুর ডেকে সাবধান করে বল?” 

অভি বলল, “কিন্তু তর্কটা এখনও বাকি।” 

সুরচিতা হাসল, ভঙ্গিটাই যেন বলল, “বেশ তো, তর্ক হোক।” 

অভি বলল, “বিষ তো বিষই; পোকার জন্য বিষ যা তাতো মানুষের জন্যও বিষ। মানুষের খাবারটা যদি মানুষকেই বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়--” 

খিলখিল করে হেসে উঠল সুরচিতা। হাসির দমক একটু কমলে বলল, “এতো আবেগে তর্ক দাঁড়ায় নাকি? তুই না বিজ্ঞান পড়েছিস! পার্টস পার মিলিয়নের মতো মাপজোপ ভুলে গেছিস? মানুষের শরীরের রক্তের পরিমাণ আর পোকার দেহরস মানে পোকাদের শরীরের রাসায়নিক বওয়ার জন্য ব্যবস্থায় যে তরল থাকে তার পরিমাণ এই দুইয়ের অনুপাত কতো? একটা রাসায়নিক পরিমাণে যতটা হলে পোকার শরীরে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে মানুষের জন্য বিষক্রিয়া ঘটাতে সেই একই রাসায়নিক অনেক বেশি পরিমাণে লাগে কিনা? ভেবে দেখ আমাদের রক্তে যে কার্বন মনোক্সাইড থাকে সাধারণত তার জন্য আমরা বিষক্রিয়ায় মরি না, কিন্তু বদ্ধ ঘরে সারারাত কেরোসিনের লন্ঠন জ্বললে যতটা কার্বন মনোক্সাইড শরীরে মেশে তাতে ঘরের লোকজন মরে যায়। তাছাড়া সব্জি ধুলে আর খোসা ছাড়ালেই অধিকাংশ পেস্টিসাইড চলে যায়।” 

এবার অভি হেসে উঠল, “তাহলে শেষ কথাটা কী?” 

সুরচিতা হাওয়াতে হাতুড়ি ঠুকে ঘোষণা করল, “সুস্বাস্থ্যের মূলে পুষ্টি। অপুষ্টি মানে অস্বাস্থ্য। তাই আগে মানুষ পুষ্ট হোক তবেই তাকে সুস্থ রাখার চেষ্টা সফল হবে।” তারপর মাটির দিকে চোখ নামিয়ে উদাস গলায় বলল, “এখন এখানে আর অন্য উপায় নেই রে।”


তারপর আবার ছুটে আসা মেঘেদের বুক চিরে গায়ে জলের দানা মাখতে মাখতে দুজনে পৌঁছল চূড়ান্ত লক্ষ্য হিমেল শীর্ষে। সেই একই মেনু লাঞ্চে। তবে এখানে পরিবেশিকা বেশ অল্প বয়স্ক এবং ফ্যাশন সচেতন। তাই তাঁর সাথে ব্যবস্থা করা গেল রাতে রুটি আর ডিম তড়কার। সূর্য থেকে বন্দি করা ইলেক্ট্রিসিটিও পাওয়া গেল। ক্যামেরা চার্জ করার জন্য যথেষ্ট। দুদিন পরে নিয়ন লাইট দেখে মনে হতে লাগল যেন গোপনীয়তার চাদরে বুঝি টান পড়েছে। সেগুলো নিভিয়ে দিয়ে বিকেলের আলোতে জানলার পাশে চেয়ার টেনে মুখোমুখি বসে দুজনে আবার গল্প জুড়ল।


অভি বলল, “তোমার আমাজনে যাওয়ার কী হবে?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Friday, June 5, 2026

Panchpoksho - 63

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~


আত্মপক্ষ

~~~~~~

সুরচিতা ঝলমলিয়ে উঠল, “ঠিক বলেছিস। ফ্যাশনেবল, বুটিকের কাপড়জামার মতো। তাই দামীও। যে দেশটা জনসংখ্যায় পৃথিবীতে দ্বিতীয় আর ভূভাগের ক্ষেত্রে সপ্তম, সে দেশের লোককে যথেষ্ট পুষ্টি দিতে উচ্চফলনশীল শস্য, ডাল, সব্জি ছাড়া উপায় নেই রে। ‘পোকা মারা বিষে মরব নাকি সব্জি খেয়ে’ এরকমটা সেই ভাবতে পারে, যে দুবেলা পেট পুরে খেতে পায়। যে পায় না এখনও তার জন্য এখনও অল্প জমিতে বেশি খাবার ফলানোটা জরুরি। জেনেটিক্যালি মডিফায়েড বা পেস্টিসাইড দিয়ে ফলানো হাই-ইল্ডিং শস্যের বা সব্জির দাম এখনও খাদক বা ক্রেতার কাছে তুলনামূলক ভাবে কম। চাষের খরচ বেশি, কিন্তু রিটার্নের সম্ভাবনাও বেশি। কিন্তু অর্গানিক চাষ মানে এখানে ফ্রস্টিং-এ, আর সমতলে বন্যায়, সর্বত্র খরায় আর পোকায়, আগাছায় ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ফলে অল্প পুঁজিতে করলেও ক্রেতার কাছে ফলনটা যে দরে পৌঁছোয় সেটা এখনও বেশি। বিশ্বাস না হলে যে দেশের দোকানে থরে থরে সব্জি সাজিয়ে খদ্দেরকে বেছে নিতে বলে পছন্দের সব্জি সেখানে গিয়ে পাশাপাশি তাকে রাখা অর্গানিক আর ইন্ডাস্ট্রিয়াল সব্জির দাম যাচাই করে নে।” 

অভি তর্ক জারি রাখল, “কিন্তু সস্তা হওয়াটাই যে সব নয়। পেস্টিসাইড আর সারের জন্য যে ক্যান্সার হচ্ছে!” 

সুরচিতাও নাছোড়, “এমন তর্ক করে ডজনখানেক রাসায়নিককে খলনায়ক বানিয়েছে বটে একদল লোক, তাতে আবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের ফুড এন্ড এগ্রিকালচারাল অরগ্যানাইজেশনের সিলমোহরও লাগিয়েছে। তাও বছর দশক হলো। কিন্তু এখন যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের অন্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগ্যানাইজেশন জানাচ্ছে যে পৃথিবী জুড়ে ডিডিটির উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়ার পরের এক দশকে পৃথিবীতে ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব কমেছে এমন প্রমাণ সে সংস্থা পায় নি; কিন্তু সেই গত এক দশকেই ম্যালেরিয়ার বা ডেঙ্গির প্রকোপ বেড়েছে উন্নয়নশীল দেশে সে কথাটা সত্যি। তাহলে? আর এসব যুক্তিহীন তর্ক গ্রাহ্য করলে তো মোবাইল ফোনের ব্যবহারও বন্ধ করে দিতে হয়। কারণ সরাসরি কার্যকারণগত যোগাযোগ না বোঝা গেলেও দেখা গেছে যে মোবাইলের ব্যবহার বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ম্যালিগন্যান্ট ব্রেন টিউমারের প্রকোপ।”


খাড়াই রাস্তার একপাশে কংক্রিটের বাধানো বসার জায়গা পেয়ে দুজনেই বসে পড়ল। হাঁপাতেও লাগল। তখন মাথার ওপর ঘেউ ঘেউ করে একটা কুকুর ডাকতে শুরু করল। ডেকে চলল একটানা। অভি বলল, “তার মানে পৌঁছে গেছি প্রায়, বলো?” 

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Thursday, June 4, 2026

Panchpoksho - 62

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~


আত্মপক্ষ

~~~~~~

আরও বলল, “আরেকটা উপায় যারা পদ্ধতিটা গ্রহণ করছে তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা যাতে সেই সংক্রান্ত সব খবর তাদের পৌঁছে দেওয়া যায়। যাতে তাদের সাথে কোনো আড়াল আবডালের সুযোগ না তৈরি হয়। দু পক্ষ যাতে পরস্পরকে স্পষ্ট আর সোজাসুজি দেখতে পায়। একে অপরকে সোজাসুজি বুঝতে পারে। প্রজেক্টে কোনো কথাবার্তা, তথ্য দেওয়া নেওয়া প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্যকে আহত করছে কিনা সে ব্যাপারে সজাগ থাকা, সেরকম কিছু হলে ক্ষতিকর সব প্রসেসকে বন্ধ করে দিয়ে ক্ষতি নিরূপণ আর নিরাময় করা। কখনও কখনও প্রজেক্টের কর্মীদের পিঠ চাপড়ে স্বার্থে ঘা লাগা গোষ্ঠীগুলো প্রজেক্ট নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে নিজেদের স্বার্থ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা করে। সেসব থেকেও প্রজেক্ট বাঁচাতে হয়, ছলে, কৌশলে, প্রচার এড়িয়ে গিয়ে। শাক দিয়ে মাছ ঢেকে, মাশরুম দিয়ে কন্ট্রাসেপটিভ ঢেকে।”


অভি জানতে চাইল, “মাশরুম চাষটা কী তোমরা অর্গানিক ফার্মিং হিসেবে দেখাবে?” 

সুরচিতা একটু ভাবল। তারপর বলল, “আমরা তা ভাবছি না। বলছিও না। তারওপর সারাবছর মাশরুম ফলানোর জন্য যে ভ্যাপসা গুমটানি গরম দরকার তা এখানে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় না। আমাদের তো সেটা বানাতে হবে। তো সেই বিচারে আমরা অর্গানিক মাশরুম চাষ করতে পারব না।”


এবার অভি দাঁড়ালো দম নিতে। হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, “সারা পৃথিবীতে এখন অর্গানিকটাই ফ্যাশন?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Wednesday, June 3, 2026

Panchpoksho - 61

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~


আত্মপক্ষ

~~~~~~

তারপর বলল, “দুটোর মধ্যে যোগাযোগ একটাই। মাশরুম চাষের প্রজেক্টের ছায়ায় জন্মনিরোধকের প্রজেক্টটা হয়। তাই মাশরুমের প্রজেক্টটা বেঁচে থাকার ওপর নির্ভর করছে অন্য প্রজেক্টটার বাঁচা-মরা। জন্মনিরোধক ব্যবস্থাটা জীবনযাপনের অঙ্গ করে তুলতে গেলে মেয়েগুলোকে পড়াশোনা করে বা না করে রোজগেরে যে হওয়া যায় সেই কথাটা জানাতে হবে এবং রোজগেরে হওয়াটা যে জরুরি সে কথাটাও বোঝাতে হবে। তাই মাশরুম কিংবা সুপুরির চাষ কিংবা দর্জির কাজ বা জারদৌসির আড়ি-সিপ্পি শেখার ব্যবস্থা করা। তাই নতুন কিছু শিখে বা আগে থেকে শেখা কোনো কাজ থেকে রোজগারের ব্যবস্থা যে করা যায় সেটা জানানো, বোঝানো। আর কী শিখলে রোজগারের উপায় হবে সেটা ভাবতে, সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে তোলার চেষ্টা।”


অভি তার প্রশ্নের পুরো উত্তর এখনও পায় নি। তাই বলল, “কিন্তু জনতা ক্ষমতা পাবে সেটা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীগুলো টের পেলে? বা তাদের মুঠোর লোক ধরে রাখার ছকের উল্টো পুরাণ পড়াচ্ছ টের পেলে তারা তো প্রজেক্ট ভেস্তে দেওয়ার সব চেষ্টা করবে। সেগুলো সামলাবার কথা ভেবেছ কিছু?” 

অভির দূরদর্শিতায় নতুন করে মুগ্ধ হওয়ার কিছু ছিল না সুরচিতার। কিন্তু নিশ্চিন্ত বোধ করল আরেকবার। অভির জন্য, তার নিজের জন্যও, তার নিজের কর্মকুশলতার প্রতি, বুদ্ধির প্রতি তার আস্থা আরেকটু দৃঢ় হলো। উত্তরে সে বলল, “এই রিস্কগুলো ম্যানেজ করতে পারার ওপরেই দাঁড়িয়ে থাকে প্রজেক্টের সাকসেস। ধর কিনা, মেয়েরা যাতে জন্মনিরোধক ব্যবহার করে তার জন্য জিনিসটার উপকারিতার দিকটাকে যত্ন করে তুলে ধরতে হয়, আর অপকার যে কিছু নেই আজকের দিনে সে কথাটা নানা ভাবে প্রচার করে বা এঁদের সাথে তর্ক করে বোঝাতে হয়। এই সব কথা বোঝানোর চেষ্টাটা আমাদের ষড়যন্ত্র কিংবা কোনো আখের গুছোনোর অভিসন্ধি কিনা সেটা বোঝাতে মাদার সুপিরিয়রকে যেভাবে কায়দা করেছি সেটা একটা উপায়। এই উপায়ে যারা প্রজেক্টের সাথে সরাসরি জড়িয়ে নেই কিন্তু প্রজেক্ট সফল হলে তাদের ক্ষমতা কমে যাবে বা চলে যাবে বলে ভয় পাচ্ছে তাদের প্রতিহত করা যায়।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Tuesday, June 2, 2026

Panchpoksho - 60

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~


আত্মপক্ষ

~~~~~~

একটু থেমে আবার বলল, “এখানে যে বিদেশি সন্ন্যাসিনীরা আছেন, এখানে মানে আমাদের মিশনে আর অন্যান্য মিশনে, তারা খুব মাশরুম ভক্ত। ওঁরাই মাশরুম খেতে আর রাঁধতে শিখিয়েছেন আমাকে। ওঁরাই বলেছিলেন যে ওঁদের দেশ শীতপ্রধান হলেও ওঁরা সারা বছর মাশরুম ফলান। এদিকে এদেশের পশ্চিম থেকে এখানে আসা সন্ন্যাসিনী যাঁরা তাঁরাও বিদেশিনীদের মতোই অধিকাংশ চাষির ঘরের মেয়ে। চাষি মানে আমাদের এখানকার মতো নয় যে নিজের আধছটাক জমিতে ধান বোনে কি বোনে না বড়ো চাষির জমিতে জন খাটতে যায়। এরা চাষ বলতে বোঝে আদিগন্ত বাদাম কী তিসি ক্ষেতের বুকে কোকো গাছের স্পটেড প্লান্টেশন। এঁদের সাথেই গালগল্প করে বুঝলাম মাশরুম দিয়েই শুরু করা যায়। তারপর আমার আর পার্টনারদের ইচ্ছের ওপর নির্ভর করছে কী হবে।” 

অভি বলল, “তুমি যে এই সব চাপিয়ে না দিয়ে পার্টনারের বিবেচনার ওপর আস্থা রাখছ, ভালো হলে তাতেই হবে, খারাপ হলেও তাতেই হবে। হয় একটা বুদ্ধিমান বিবেচক লিডার তৈরি হবে যে পুরো দলটার মাঝিগিরি করতে পারবে; নয়তো একটা কুচুটে লোকের আখের চিন্তায় তোমাকে তাড়ানোর ষড়যন্ত্র হবে আর পুরো দলটার কাজের দফা-রফা।” 

সুরচিতা হাসল, বলল, “সে তো সব প্রজেক্টের ক্ষেত্রেই সত্যি। তবে এই দলের লোকগুলোর আর্থিক পুঁজিটা ছিনিয়ে নেওয়া গেলেও ওদের অভিজ্ঞতা আর যেটুকু জ্ঞানগম্যি হোলো সেটা কাড়তে পারবে না। তবে যদি আরও বড়ো দুর্যোগ আসে, এই লোকগুলোর জ্ঞানটা, অভিজ্ঞতাটা অন্য কেউ এদের থেকে শিখে নেওয়ার আগেই এদের মরে যেতে হয়... তাহলেই কেবল সবটা জলে যাবে। আমার থাকা না-থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি একটা প্রচেষ্টার অনুঘটক মাত্র।” 

দম নিয়ে সে আবার বলল, “মেয়েদের মধ্যে কন্ট্রাসেপ্টিভের ব্যবহার শুরু করানো বা বাড়ানোর প্রজেক্টেও একই ব্যাপার। পৃথিবীতে জন্মনিরোধক পাওয়া যায়, কী কী রকম, তাতে শরীরের কী ক্ষতি হয় কী হয় না এসব জ্ঞান আর কোথায় পাওয়া যায় সেই ঠিকানা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া। তারপর কে ব্যবহার করবে আর কে করবে না, কিংবা কে তাতে ষড়যন্ত্রের অভিসন্ধি দেখবে সেটা যার যার ব্যাপার।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Monday, June 1, 2026

Panchpoksho - 59

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

সুরচিতা দম নিতে দাঁড়িয়ে গেল। বড়ো শ্বাস নিয়ে খানিকক্ষণ বুকে ধরে রেখে ধীরে ধীরে ছাড়ল; শ্বাস নেওয়া আর ছাড়ার প্রক্রিয়া চালাল বার দুই-তিন। তারপর জবাব দিল, “সেও চিঠি লিখে লিখে তদ্বির করে করে তবে হয়েছে। তার জন্য অবশ্য সরকারের অন্য অন্য ডিপার্টমেন্টেও চিঠি লিখতে হয়েছিল। মেয়েদের দেখভালের ডিপার্টমেন্টে তদ্বির করতে হলো এই বলে যে এখানে মেয়েরা পুঁজি চায় না শুধু টেকনিকাল কাজটুকু শিখতে চায় স্বনির্ভর হওয়ার জন্য, দরকার পড়লে ফি দিতেও রাজি তারা। তারপর তো রাজ্যপালের দ্বারস্থ হতে হলো। তাঁর আদেশে তবে ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা হলো। কারণ এরকম ট্রেনিং-এর কোনো নিয়ম ছিল না। তাইতেই ধর কিনা প্রথম পাঁচটা বছর কেটে গেল। এরপর আবার ব্যাঙ্ক থেকে ধার করতে হবে, তার আগে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে।” 

অভি বলল, “এসব কাজ জলদি হলে আমার কপাল পুড়ত না।” 

সুরচিতা চমকে বলল, “মানে?” 

অভি বলল, “তোমার বুড়ো হওয়ার জন্য যতোটা কাজ হলে যথেষ্ট হয় তার থেকে অনেক বেশি কাজ এখানে। তোমার বুড়ো হতে যতো সময় লাগবে তার থেকে অনেক বেশি সময় লাগবে সে সব কাজ হতে। তুমি আটকে গেলে কাজে। আরও অনেকদিন আটকে থাকবে। আর আমার কপাল পুড়ল। ভাবছিলাম বউ তো আমার আছেই, শুধু বিয়েটা করতে বাকি। এখন দেখছি তার কাছে আমার সাথে ঘর করার থেকেও বেশি আকর্ষণীয়, অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অনেক অনেক বেশি নেশা ধরানো কিছু আছে।” 

সুরচিতা মনমরা হয়ে বলল, “আমি জানতাম। তুই দুঃখ পাবি। তোর আর এসব কাজের মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা নেই। তুই যেখানে ছিলি, তার থেকেও বেশি গভীরে আছিস আজ। আমার বিয়ের প্রয়োজনও নেই, ইচ্ছেও নেই।” 

তারপর মরা মনকে জাগিয়ে উদাস গলাকে উৎসাহে চুবিয়ে বলল, “কিন্তু বিয়ের ইচ্ছে যখন তোর হয়েছে সেই ইচ্ছেটা মরার আগে একজন বউ খুঁজে বার কর। দেখবি তখন আমাকে বউ হিসেবে না পাওয়ার দুঃখটা আর ততো বাজবে না।” 

অভি বলল, “সেই; তুমি মাশরুম কোম্পানির পার্টনারশিপ ব্যবসা করো। তাই আমাকে নতুন পার্টনার দেখে নিতে হবে। কিন্তু এতো কিছু থাকতে হঠাৎ মাশরুম ভাবলে কেন?” 

সুরচিতা অবাক হলো, “তোকে বলিনি, কেন?” 

অভি দুদিকে মাথা নেড়ে না বলল। সুরচিতা বলল, “আসলে এত ব্যস্ত থাকি আজকাল এসব নিয়ে কতটা বলছি আর কতটা বলছি না মনে রাখতে পারি না।” 

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Sunday, May 31, 2026

Panchpoksho - 58

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~


আত্মপক্ষ

~~~~~~

সুরচিতা বলল, “পাগল! মুচলেখা নিয়ে ও আমাকে মিশনের পাক্কা কনটেনডর ইনস্টিটিউশন বানাতে পারত, পিছনে পলিটিশিয়ান লেলিয়ে প্রজেক্টের বারোটা পাঁচ করতে পারত। সব থেকে বাজে ব্যাপার গ্রামের মেয়েগুলো যে আমার স্পেশাল ক্লাসে দু-পাতা পড়তে শিখছে, দু-ধাপ সিঁড়ি ভাঙা অঙ্ক শিখছে সেটাও বন্ধ হয়ে যেত। তাই আমি মাদারকে বলেছিলাম যে ‘প্রমাণ করুন যে আমি গ্রামে কন্ট্রাসেপটিভ বিলোনোর প্রজেক্ট করছি আপনার এই সন্দেহ সত্যি’।” 

অভি রহস্য গল্পের পাতা উল্টোবার মতো রুদ্ধশ্বাসে বলল, “তারপর? প্রজেক্টটা চালাচ্ছ কী করে?” 

সুরচিতা বলল, “গ্রামের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা একটা রেজিস্টার্ড অ্যাসোসিয়েশন করেছে। আমাকে রেখেছে মেন্টর হিসেবে। রেখেছে ডাক্তারদের আর ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের অ্যাডভাইসর হিসেবে। সবই অনারারি পদ।” 

অভি ফুট কাটল, “তা ভিন্ন উপায় কী? স্পনসরকে তো আর মাইনে দিয়ে পোষা দিয়ে যায় না।” 

সুরচিতা বলল, “এসএমই বলা যেত। কিন্তু পয়সা কড়ির ব্যাপারটা স্পষ্ট করার জন্যই এমন ব্যবস্থা। না হলে আমরা সবাই ট্যাক্স নিয়ে ঝঞ্ঝাটে পড়তাম।”


সে রাত কেটে যেতে একটা ভয়ঙ্কর চড়াই ভেঙে দুজনে পৌঁছল একটা চ্যাটালো জায়গায়। যেখান থেকে নিচে তাকালে দেখা যায় নিচের রাস্তাটা। কিন্তু বোঝা যায় না সেটাতে দুটো রাস্তা এসে মিলেছে না কি সেটা দুভাগ হয়ে গেছে। একটা ল্যান্ড-রোভার গেল রাস্তাটা দিয়ে। দেখে বোঝা গেল একদিক থেকে দেখলে দুটো রাস্তা এসে মিলেছে একটা রাস্তায়; তার উল্টোদিক থেকে দেখলে রাস্তাটা দুভাগ হয়ে গেছে। তারপর রাস্তা বেশ চড়াই। কিন্তু কংক্রিট বাধানো সিঁড়ি করা আছে তার মধ্যে। সে সব সিঁড়ি চড়ার সময় গালে, মাথায়, ঘাড়ে কানে আদর দিয়ে যেতে লাগলো থোকা থোকা রডোডেনড্রন।


অভি বলল, “তাহলে তুমি আপাতত মাশরুম চাষ করছ?” 

সুরচিতা বলল, “আমি করছি না। আমি উস্কানি দিচ্ছি। অনুপমা, মিনু, নীলিমা আর তাদের বন্ধুরা করছে। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের সিলভিকালচার ডিভিসন ওদের ট্রেনিং দিচ্ছে আপাতত অ্যাগ্রোনেটে নাইলন আর সুতির অনুপাত বদলে কেমন করে নার্সারি শেডের উষ্ণতা আর আর্দ্রতা বদলাতে হয় তার। সেটা হলে হবে গ্রীন হাউসে অ্যাটোমাইজার আর স্প্রিঙ্কলার দিয়ে আর্দ্রতা মাপার আর জল ছিটিয়ে সেচের কাজ শেখার পর্ব। তারপর ওঁদের লেটার অফ রেকমেন্ডশনের জন্য তদ্বির করতে হবে যেহেতু আধুনিক নার্সারির তরতরিকার ওপর ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টে কোনো সার্টিফিকেট কোর্স নেই।” 

অভি প্রশ্ন করল, “তাহলে মিনুরা শিখছে কীকরে এসব ওদের নার্সারিতে?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Saturday, May 30, 2026

Panchpoksho - 57

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

অভি বলল, “বললাম তো আমি সেরা ছাত্র। পরিচ্ছন্ন। উজ্জ্বল চরিত্র। দরিদ্র ও মেধাবী। সুতরাং ভক্তা নারীর অভাব হয় নি। কিন্তু ঘনিষ্ঠতা আমি এড়িয়ে গেছি তুমি আছো বলে। আর মেয়েরা ভেবেছে আমি ভালো ছেলে। কিংবা গরিব বলে প্রেম করি না, বা আমার প্রেম করা উচিৎ নয়।” 

সুরচিতা বলল, “আচ্ছা! তুই ভালো ছেলে। তুই ব্রিলিয়ান্টও। স্টেপজাম্প করতেই পারিস।” 

অভি বলল, “তার মানে? তুমি পড়াবার সময় স্টেপজাম্প করলে ছাত্র বুঝবে কী করে?” 

সুরচিতা বলল, “না, স্টেপজাম্প করছি না। মাতলামি, খোয়ারি এসব মিটলে প্রেমিকা ছেড়ে যাওয়া ছেলেটা সাধারণত একটা মেয়ের কাছে যায়। যে মেয়েটার বুক ফাটে কিন্তু মুখ ফোটে না। যে মেয়েটা ছেলেটাকে ভালোবাসে কিন্তু জানলেও ছেলেটা আমল দেয় না কারণ তার অন্য প্রেমিকা আছে। এখন তোর প্রেমিকা ছেড়ে গেছে যখন তখন তোকে এই মেয়েটার কাছে যেতে হবে।” 

অভি বলল, “যাব। সময় লাগবে। তার আগে সিয়াপুরাতে গিয়ে বাবা-মায়ের থাকার জায়গা ঠিক করতে হবে। বাবা-মাকে একটা ফ্ল্যাট কিনে দিতে হবে। তারপর যাব তার কাছে। তুমি কী মিশনে সন্ন্যাসিনী হবে?”

সুরচিতা বলল, “নারে, সেও তো বেড়ি। তাছাড়া তেমন সন্ন্যাসিনী এখানে কেউ নেই। এদের উপার্জন সবটা মিশনকে দিয়ে দিতে হয় মিশনে আমৃত্যু ঠাঁই পাওয়ার জন্য। আমার মতো যারা কোয়ালিফায়েড টিচিং স্টাফ তারা পুরো মাইনের টাকা, রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট সব দিয়ে দেবে। যে বাগানে মালির কাজ করে সেও। বদলে দুজনেই একই কাপড় পড়বে। একই রকম খাবে। একই রকম কম্বল পাবে। এই আর কি।”

সোজা কথার পরেই মোচড়, “যখন গ্রামের কাজটা শুরু করলাম, তখন আমাকে ডেকে মাদার সুপিরিয়র মুচলেখা চেয়েছিল যে আমার কার্যকলাপে মিশন কোনো ভাবে যুক্ত নয় বা আমার কার্যকলাপে মিশন কোনো ভাবে ব্যবহৃত হবে না। সন্ন্যাসিনীরা সব্বাই যেমন স্বেচ্ছায় গ্রামে গিয়ে কাজ করে না, তেমনই স্বেচ্ছায় গ্রামে কাজ করার অধিকারও সন্ন্যাসিনীদের নেই। তখনই বুঝেছিলাম এই সন্ন্যাসটা এদের কেমন চাকরি।”

তারপরে সিদ্ধন্ত, “চাকরি করে রোজগারের টাকা এমপ্লয়ারকে দান করার লোক আমি নই। তার থেকেও সব্বনেশে কথা হলো নিজের ভাবার আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে নিজে হাতে গলা টিপে মেরে ফেলতে হবে মিশনে ঢুকতে হলে। ওরকম মরে মরে বাঁচতে আমি রাজি নই।” 

অভি বলল, “মুচলেখা দিয়েছিলে নাকি?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Friday, May 29, 2026

Panchpoksho - 56

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

তারপর যেন খানিকটা নিজের সাথেই কথা বলতে লাগল, “আমার বয়সী ছেলেরা সব্বাই তাদের প্রেমিকাদের বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে বলে বিয়ে করে ফেলছে চটপট। আর আমি শুধু ভাবছি, তাহলে তোমার বিয়ের বয়স তো কবেই পার হয়ে গেছে। রোজ ভাবি তোমাকে বলি সব ফেলে আমার কাছে চলে এসো। কিন্তু সমস্ত ধার দেনা না-চুকিয়ে কীকরে তোমাকে বলি রোজগারপাতি বন্ধ করে চলে আসতে আমার কাছে! তোমার কাছে আমার দৈন্যের কোনো লজ্জা নেই। কিন্তু তোমাকে অনাদরে রাখতে পারতাম না। তাই আমিও তাড়াহুড়ো করি নি। কিন্তু এইটা সত্যিই বোধ হয় তোমার বয়স পেরিয়ে গেছে। তাই সাংসারিক বাঁধনও বেড়ি লাগছে তোমার। ভালো লাগল এবারও তুমি সোজাসুজি বললে সহজ সত্যিটা। এবার আমি কী করব?” 

সুরচিতা তখন রাস্তার বাঁপাশে একটা খাদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে। সেদিকে তাকিয়ে অভি দেখল ঘাসে ঢাকা একটা ঢাল বেয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে সাদা কালো মেঘেরা নেমে চলেছে। যেন একটা র‍্যালি, সাজগোজ করে সুরে, ছন্দে, তালে মেঘেদের চলন। রাস্তার দিকে ফিরে সে দেখল ডান দিকের খাড়া ঢালের গায়ে ধসের দাগ। তবু সেই দেওয়ালে ঝুলছে একটা ফুলন্ত ম্যাগনোলিয়া। সে সুরচিতাকে ম্যাগনোলিয়া দেখাবে বলে সুরচিতার কাঁধ ধরে ঘুরিয়ে দিল। সুরচিতা খুশিতে ঝলমল করে উঠল। তারপর রাস্তার ঢাল বেয়ে নামতে নামতে বলল, “আপাতত সাতাশিমাইল বস্তি এসে গেছে। তুই কী করবি সে কথা আমরা সারা সন্ধে ধরে বসে ঠিক করব।”


সন্ধেবেলার চা খাওয়া মিটতে অভিই বলল, “বলো আমি কী করব?” 

সুরচিতা বলল, “প্রেমিকা ছেড়ে গেলে ছেলেরা একগলা মদ খেয়ে বন্ধুদের কাছে ছেড়ে যাওয়া মেয়েটার নামে খুব গালিগালাজ করে শুনেছি। তোর সেরকম কোনো বন্ধু কী নেই?” 

অভি বলল, “নিশ্চয়ই আছে এমন বলতে পারব না। আমি ক্লাসের সেরা ছাত্র। তাই আমার চারপাশে সহপাঠী বা জুনিয়র ছিল অনেক। কিন্তু ঘনিষ্ঠ কেউ হয় নি। তারা জানে আমি খুবই গভীর জলের মাছ। আমি প্রেমে পড়ি না। মদের আসরে যাই না নিজের গরিবীর অজুহাতে। আর মাতালদের উদ্ধার করি মানবতার ভানে। তারা আমার সাথে মদ কেউ খাবে না। তাছাড়া কেউ বুঝবে না আমাদের ব্যাপারটা বা ভুল বুঝবে ভেবে আমি কখনই কাউকে আমাদের সম্পর্কের কথা বলি নি।” 

সুরচিতা বলল, “মেয়েরাও জানতে চায় নি?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Thursday, May 28, 2026

Panchpoksho - 55

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

উপলব্ধিতে স্বর গাঢ় হল, “পড়াশোনার অভাবটা সুস্থ সমাজজীবনে বেঁচে থাকার একমাত্র প্রতিবন্ধক নয়। মূল অভাবটা বিকল্প খুঁজে নিতে না পারার অক্ষমতা। জপ-তপে অধ্যবসায় অনুশীলন থাকলেও সেগুলো অস্থিরতা কাটানোর খুব জোরালো কোনো উপায় নয়। নীতিকথা বুঝতে যে বোধ লাগে বা বোঝানোর জন্য অনুশাসনের গণ্ডি ছাপিয়ে যে প্রাঞ্জলতা লাগে তাও নেই দেখলাম। ফলে এসব নীতিকথা গ্রামের ছেলেমেয়েগুলোকে বিবেচনাও দেয় না; বিকল্প খুঁজতে যে আত্মবিশ্বাস লাগে তাও দেয় না। সব দেখে কেবল মনে হতে লাগল যে প্রার্থনা আসলে নিজেকে ঠকানো, নিজেদের অক্ষমতাকে নিজের ক্রোধ থেকে আড়াল করার কান্না।”

কাজের কথায আবার ফিরে এলো প্রত্য়য়, “আমি কোমর বেধে লাগলাম একটা পরিকল্পনা করতে। তার থেকে জন্মালো প্রকল্প। মিশনের ডাক্তার গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডাক্তার রোমা এক কথায় রাজি হয়ে গেলেন। টৌলিং থেকে আর মাঠপুর থেকে দুজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টও আসেন মাসে দুবার করে, বদলা-বদলি সপ্তাহে। এসবের আয়োজনে এক সময় টের পেলাম যে এখানে করার মতো অনেক কাজ আছে। সারাজীবনে আমার শেষ হবে না। কিন্তু এই ব্যস্ততা এই ডুবে থাকা আমাকে মজিয়ে দিয়েছে। এসব ছেড়ে এক্ষুনি যেতে পারব না। গেলে ভীষণ একঘেয়েমি আর মনখারাপ পেয়ে বসবে।”

নিজেদের কথায় ডুব দিল এবার, “তোর তো উপায়ই নেই সব ছেড়ে এক্ষুনি আমার কাছে আসার। আর এসেই বা কী করবি? আমি তো মত্ত আছি আমার খেয়ালে, এখান থেকে পাততাড়ি গুটোতে বাধ্য হলেও আমি যেখানে যাব সেখানে এরকম সর্বগ্রাসী কাজই খুঁজব। চব্বিশ ঘন্টা মেতে থাকার একটা উপলক্ষ খুঁজব। এ একটা ভয়ানক তীব্র নেশা। সত্যি বলতে কী এই নেশার চোটে তোর-আমার বিয়ের কথা, যে সংসারকে মনে মনে সর্বক্ষণ সাজাতাম সেসবের কথা কখন যে ভেসে গেছে টেরও পায় নি। কিছুতেই চার দেওয়াল আর একটা চাকরির মধ্যে নিজের সংসার সাজিয়ে আর মন বসাতে পারব না। তাতে হাঁপিয়ে উঠব, কষ্ট পাব। তখন এতো ভালোবাসার মানুষটাকে সংসারে বেধে নিজের হাঁসফাঁস আর তারও তাই করে ছাড়ব। তাই ভাবলাম তোকে বুঝিয়ে বলি সব। তুই বুঝবি।”


অভি বলল, “বুঝিয়ে বললে তাই বুঝলাম। কারণটা শুধু আমার মা বা তোমার মায়ের আমাদের বিয়েটা মানতে না পারা নয়, তুমিও আর বিয়ের বাঁধন যে চাও না সেটাই সব থেকে জরুরি আর গুরুত্বপূর্ণ।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Wednesday, May 27, 2026

Panchpoksho - 54

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~


আত্মপক্ষ
~~~~~~
উদাস বলে গেল, “তাছাড়া অঞ্জনা বা যে-কোনো মেয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর টানা একমাস করে সন্ন্যাসিনীরা সবাই মিলে প্রার্থনায় বসতেন। সেসব প্রার্থনায় তাঁরা শুধু চাইতেন মতিচ্ছন্ন মেয়েগুলো যেন ভালো থাকে, যেন সুস্থ থাকে, আনন্দে থাকে, তাদের যেন কোনো বিপদ না হয়। এঁদেরকে শুরুর থেকেই আমি দেখছি বিশ্লেষকের দৃষ্টিভঙ্গীতে, মিশেছি দ্বিধা আর সন্দেহ নিয়ে। এঁদেরকে বোঝার চেষ্টার থেকে অবিশ্বাস করেছি বেশি। কিন্তু সেসব জেনেও ওঁরা আমাকে ডেকে নিয়ে যেতেন অঞ্জনার জন্য প্রার্থনার সময়। কারণ সে আমার বড়ো আদরের ছিল। তাই আমি সে-সময়ে এঁদের কাছে বসে নিজের হতাশা, দুঃখ ভাগ করে নিয়েছি। তখন বুঝেছি যে তাঁদের প্রার্থনাটা বাইরে থেকে দেখলে একটা আচরণমাত্র, কিন্তু আন্তরিক পর্যায়ে সেটা যে মনকে স্থির করার, সহিষ্ণু করার অধ্যবসায়, অনুশীলন, তা চিনে ফেলা যায়।”
অভি এসব শুনে যে একসাথে অবাক আর বিরক্ত হচ্ছে সেটা টের পেয়ে চুপ করে গেল সুরচিতা।

কিন্তু বাকিটা শোনার জন্য অভি উদগ্রীবও হয়ে পড়েছিল। তাই সুরচিতা আবার বলতে লাগল, “অঞ্জনা ফেরার পর তাকে এক্কেবারে একটা নতুন মেয়ের মতো করে গ্রহণ করা হলো। অঞ্জনার পরিবর্তনের জন্য তার অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এই নির্মলভাবে গ্রহণ করায় তার অনুতাপের জ্বালাটা চলে গেল। মননে ঋদ্ধ হলো, চরিত্রে সহিষ্ণু হলো, স্বভাবে স্নিগ্ধ হলো, আচরণে শান্ত হলো। বিবেচক হয়ে উঠল।”
স্বরে বিশ্বাস আর প্রত্য়য় জেগে উঠল, “তার মধ্যের তিন বছরে আমি শনিবারের গ্রামসেবা দলে যোগ দিয়েছিলাম। গ্রামে গিয়ে দেখতাম কত কত অঞ্জনা, তাদের না আছে পয়সাওয়ালা মা-বাবা, না আছে মঠের সন্ন্যাসিনীদের মতো সহিষ্ণু সংবেদনশীল পরিজন। তাদের দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে যে আত্মবিশ্বাস লাগবে, যে বিবেচনা লাগবে সে অব্দি পৌঁছোনোর কোনো উপায়ই তাদের নেই। ফলে তাদের ভাঙা মন কিছুতেই বল পায় না। তারা ক্রমশ তলিয়ে যেতে থাকে এক অসীম নরকযন্ত্রণায়। ভরণপোষণের ভরসাটুকু লোপ পেলে নিরক্ষর বা নামমাত্র সাক্ষর মেয়েগুলোর কেউ কেউ কাজ নেয় সমতল শহরের পতিতাপল্লীতে। কেউ কেউ বিদেশ-বিভুঁইতে।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Tuesday, May 26, 2026

Panchpoksho - 53

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

দুদিকে মাথা নেড়ে বলল সুরচিতা, “না। আজকাল মিশনগুলোকে খেটে খেতে হয়। উপরি কিছু হলে দান করতে হয় নবীন মিশনে, বা প্রশাসনের উর্দ্ধমাগে কোনো নির্ধারিত সংস্থায়। আর এখানকার কমিউনিটি ব্যাপারটা ভালো মনে মেনে নিত, না বিষ নজরে দেখত সেটা বলা সহজ নয়। সোশ্যাল মিডিয়া এসে ইস্তক গত দুতিন বছরে মতামত জাহির করার মানে, অন্যকে শোনানোর সুযোগ বেড়ে যাওয়ায় সব্বাই বেশ স্বমতাবলম্বী স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছে এই পাহাড়েও। তার সাথে আছে ট্র্যাডিশনাল মিডিয়ার বাড়বাড়ন্তে নানান মতবাদের পণ্যায়ন। ফলে যথাযথ প্যাকেজিং পেলে যে-কোনো মতবাদ জনমনকে পোট্যাটো চিপস্‌-এর মতোই মুগ্ধ করতে পারে যুক্তিবুদ্ধিকে ছুটি দিয়ে। সাধারণ মানুষের তাই যে-কোনো মতের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যে-কোনো মতের জোরেই দুনিয়া দখল করার সুযোগ এখন অনেক, অনেক বেশি। ফলে মঠের মোকাবিলা আর শুধু একটা সুযোগসন্ধানী রাজনীতিক বা ক্ষমতা দখলের লড়াইতে নামা দুয়েকটা দলের সাথে নেই। সুতরাং শুধু অঞ্জনা নয় যে কোনো মেয়েকেই তার বাচ্চাশুদ্ধু থাকতে দেওয়ার আগে মঠ অনেকগুলো বিষয় তুল্যমূল্য করে।” 

একটা খাড়া চড়াই শুরু হয়ে যাওয়ায় দুজনেই কথা থামিয়ে দিল।


বেশ কিছুটা পথ পার হয়ে রাস্তা আবার হালকা চড়াইতে উঠতে শুরু করায় আবার বলতে শুরু করল সুরচিতা, “অঞ্জনা প্রথমে নিজের বাড়িতেই ফিরেছিল। সেখান থেকে চিঠি লিখেছিল আমাকে। কয়েকটা শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল ওর। সেগুলোর চিকিৎসা এগোলে ও একটু সুস্থ হলে মিশনে ফিরতে চেয়েছিল। আমি মহাধ্যক্ষার সাথে কথা বলি। মেয়ে নিজের ইচ্ছেয় ফিরলে এঁদের ক্ষমাধর্মে সহিষ্ণুতাব্রতে তো আটকায় না। তাই অঞ্জনা অনায়াসে ফিরে এসেছিল।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Readers Loved