Tuesday, June 2, 2026

Panchpoksho - 60

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~


আত্মপক্ষ

~~~~~~

একটু থেমে আবার বলল, “এখানে যে বিদেশি সন্ন্যাসিনীরা আছেন, এখানে মানে আমাদের মিশনে আর অন্যান্য মিশনে, তারা খুব মাশরুম ভক্ত। ওঁরাই মাশরুম খেতে আর রাঁধতে শিখিয়েছেন আমাকে। ওঁরাই বলেছিলেন যে ওঁদের দেশ শীতপ্রধান হলেও ওঁরা সারা বছর মাশরুম ফলান। এদিকে এদেশের পশ্চিম থেকে এখানে আসা সন্ন্যাসিনী যাঁরা তাঁরাও বিদেশিনীদের মতোই অধিকাংশ চাষির ঘরের মেয়ে। চাষি মানে আমাদের এখানকার মতো নয় যে নিজের আধছটাক জমিতে ধান বোনে কি বোনে না বড়ো চাষির জমিতে জন খাটতে যায়। এরা চাষ বলতে বোঝে আদিগন্ত বাদাম কী তিসি ক্ষেতের বুকে কোকো গাছের স্পটেড প্লান্টেশন। এঁদের সাথেই গালগল্প করে বুঝলাম মাশরুম দিয়েই শুরু করা যায়। তারপর আমার আর পার্টনারদের ইচ্ছের ওপর নির্ভর করছে কী হবে।” 

অভি বলল, “তুমি যে এই সব চাপিয়ে না দিয়ে পার্টনারের বিবেচনার ওপর আস্থা রাখছ, ভালো হলে তাতেই হবে, খারাপ হলেও তাতেই হবে। হয় একটা বুদ্ধিমান বিবেচক লিডার তৈরি হবে যে পুরো দলটার মাঝিগিরি করতে পারবে; নয়তো একটা কুচুটে লোকের আখের চিন্তায় তোমাকে তাড়ানোর ষড়যন্ত্র হবে আর পুরো দলটার কাজের দফা-রফা।” 

সুরচিতা হাসল, বলল, “সে তো সব প্রজেক্টের ক্ষেত্রেই সত্যি। তবে এই দলের লোকগুলোর আর্থিক পুঁজিটা ছিনিয়ে নেওয়া গেলেও ওদের অভিজ্ঞতা আর যেটুকু জ্ঞানগম্যি হোলো সেটা কাড়তে পারবে না। তবে যদি আরও বড়ো দুর্যোগ আসে, এই লোকগুলোর জ্ঞানটা, অভিজ্ঞতাটা অন্য কেউ এদের থেকে শিখে নেওয়ার আগেই এদের মরে যেতে হয়... তাহলেই কেবল সবটা জলে যাবে। আমার থাকা না-থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি একটা প্রচেষ্টার অনুঘটক মাত্র।” 

দম নিয়ে সে আবার বলল, “মেয়েদের মধ্যে কন্ট্রাসেপ্টিভের ব্যবহার শুরু করানো বা বাড়ানোর প্রজেক্টেও একই ব্যাপার। পৃথিবীতে জন্মনিরোধক পাওয়া যায়, কী কী রকম, তাতে শরীরের কী ক্ষতি হয় কী হয় না এসব জ্ঞান আর কোথায় পাওয়া যায় সেই ঠিকানা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া। তারপর কে ব্যবহার করবে আর কে করবে না, কিংবা কে তাতে ষড়যন্ত্রের অভিসন্ধি দেখবে সেটা যার যার ব্যাপার।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Monday, June 1, 2026

Panchpoksho - 59

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

সুরচিতা দম নিতে দাঁড়িয়ে গেল। বড়ো শ্বাস নিয়ে খানিকক্ষণ বুকে ধরে রেখে ধীরে ধীরে ছাড়ল; শ্বাস নেওয়া আর ছাড়ার প্রক্রিয়া চালাল বার দুই-তিন। তারপর জবাব দিল, “সেও চিঠি লিখে লিখে তদ্বির করে করে তবে হয়েছে। তার জন্য অবশ্য সরকারের অন্য অন্য ডিপার্টমেন্টেও চিঠি লিখতে হয়েছিল। মেয়েদের দেখভালের ডিপার্টমেন্টে তদ্বির করতে হলো এই বলে যে এখানে মেয়েরা পুঁজি চায় না শুধু টেকনিকাল কাজটুকু শিখতে চায় স্বনির্ভর হওয়ার জন্য, দরকার পড়লে ফি দিতেও রাজি তারা। তারপর তো রাজ্যপালের দ্বারস্থ হতে হলো। তাঁর আদেশে তবে ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা হলো। কারণ এরকম ট্রেনিং-এর কোনো নিয়ম ছিল না। তাইতেই ধর কিনা প্রথম পাঁচটা বছর কেটে গেল। এরপর আবার ব্যাঙ্ক থেকে ধার করতে হবে, তার আগে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে।” 

অভি বলল, “এসব কাজ জলদি হলে আমার কপাল পুড়ত না।” 

সুরচিতা চমকে বলল, “মানে?” 

অভি বলল, “তোমার বুড়ো হওয়ার জন্য যতোটা কাজ হলে যথেষ্ট হয় তার থেকে অনেক বেশি কাজ এখানে। তোমার বুড়ো হতে যতো সময় লাগবে তার থেকে অনেক বেশি সময় লাগবে সে সব কাজ হতে। তুমি আটকে গেলে কাজে। আরও অনেকদিন আটকে থাকবে। আর আমার কপাল পুড়ল। ভাবছিলাম বউ তো আমার আছেই, শুধু বিয়েটা করতে বাকি। এখন দেখছি তার কাছে আমার সাথে ঘর করার থেকেও বেশি আকর্ষণীয়, অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অনেক অনেক বেশি নেশা ধরানো কিছু আছে।” 

সুরচিতা মনমরা হয়ে বলল, “আমি জানতাম। তুই দুঃখ পাবি। তোর আর এসব কাজের মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা নেই। তুই যেখানে ছিলি, তার থেকেও বেশি গভীরে আছিস আজ। আমার বিয়ের প্রয়োজনও নেই, ইচ্ছেও নেই।” 

তারপর মরা মনকে জাগিয়ে উদাস গলাকে উৎসাহে চুবিয়ে বলল, “কিন্তু বিয়ের ইচ্ছে যখন তোর হয়েছে সেই ইচ্ছেটা মরার আগে একজন বউ খুঁজে বার কর। দেখবি তখন আমাকে বউ হিসেবে না পাওয়ার দুঃখটা আর ততো বাজবে না।” 

অভি বলল, “সেই; তুমি মাশরুম কোম্পানির পার্টনারশিপ ব্যবসা করো। তাই আমাকে নতুন পার্টনার দেখে নিতে হবে। কিন্তু এতো কিছু থাকতে হঠাৎ মাশরুম ভাবলে কেন?” 

সুরচিতা অবাক হলো, “তোকে বলিনি, কেন?” 

অভি দুদিকে মাথা নেড়ে না বলল। সুরচিতা বলল, “আসলে এত ব্যস্ত থাকি আজকাল এসব নিয়ে কতটা বলছি আর কতটা বলছি না মনে রাখতে পারি না।” 

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Sunday, May 31, 2026

Panchpoksho - 58

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~


আত্মপক্ষ

~~~~~~

সুরচিতা বলল, “পাগল! মুচলেখা নিয়ে ও আমাকে মিশনের পাক্কা কনটেনডর ইনস্টিটিউশন বানাতে পারত, পিছনে পলিটিশিয়ান লেলিয়ে প্রজেক্টের বারোটা পাঁচ করতে পারত। সব থেকে বাজে ব্যাপার গ্রামের মেয়েগুলো যে আমার স্পেশাল ক্লাসে দু-পাতা পড়তে শিখছে, দু-ধাপ সিঁড়ি ভাঙা অঙ্ক শিখছে সেটাও বন্ধ হয়ে যেত। তাই আমি মাদারকে বলেছিলাম যে ‘প্রমাণ করুন যে আমি গ্রামে কন্ট্রাসেপটিভ বিলোনোর প্রজেক্ট করছি আপনার এই সন্দেহ সত্যি’।” 

অভি রহস্য গল্পের পাতা উল্টোবার মতো রুদ্ধশ্বাসে বলল, “তারপর? প্রজেক্টটা চালাচ্ছ কী করে?” 

সুরচিতা বলল, “গ্রামের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা একটা রেজিস্টার্ড অ্যাসোসিয়েশন করেছে। আমাকে রেখেছে মেন্টর হিসেবে। রেখেছে ডাক্তারদের আর ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের অ্যাডভাইসর হিসেবে। সবই অনারারি পদ।” 

অভি ফুট কাটল, “তা ভিন্ন উপায় কী? স্পনসরকে তো আর মাইনে দিয়ে পোষা দিয়ে যায় না।” 

সুরচিতা বলল, “এসএমই বলা যেত। কিন্তু পয়সা কড়ির ব্যাপারটা স্পষ্ট করার জন্যই এমন ব্যবস্থা। না হলে আমরা সবাই ট্যাক্স নিয়ে ঝঞ্ঝাটে পড়তাম।”


সে রাত কেটে যেতে একটা ভয়ঙ্কর চড়াই ভেঙে দুজনে পৌঁছল একটা চ্যাটালো জায়গায়। যেখান থেকে নিচে তাকালে দেখা যায় নিচের রাস্তাটা। কিন্তু বোঝা যায় না সেটাতে দুটো রাস্তা এসে মিলেছে না কি সেটা দুভাগ হয়ে গেছে। একটা ল্যান্ড-রোভার গেল রাস্তাটা দিয়ে। দেখে বোঝা গেল একদিক থেকে দেখলে দুটো রাস্তা এসে মিলেছে একটা রাস্তায়; তার উল্টোদিক থেকে দেখলে রাস্তাটা দুভাগ হয়ে গেছে। তারপর রাস্তা বেশ চড়াই। কিন্তু কংক্রিট বাধানো সিঁড়ি করা আছে তার মধ্যে। সে সব সিঁড়ি চড়ার সময় গালে, মাথায়, ঘাড়ে কানে আদর দিয়ে যেতে লাগলো থোকা থোকা রডোডেনড্রন।


অভি বলল, “তাহলে তুমি আপাতত মাশরুম চাষ করছ?” 

সুরচিতা বলল, “আমি করছি না। আমি উস্কানি দিচ্ছি। অনুপমা, মিনু, নীলিমা আর তাদের বন্ধুরা করছে। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের সিলভিকালচার ডিভিসন ওদের ট্রেনিং দিচ্ছে আপাতত অ্যাগ্রোনেটে নাইলন আর সুতির অনুপাত বদলে কেমন করে নার্সারি শেডের উষ্ণতা আর আর্দ্রতা বদলাতে হয় তার। সেটা হলে হবে গ্রীন হাউসে অ্যাটোমাইজার আর স্প্রিঙ্কলার দিয়ে আর্দ্রতা মাপার আর জল ছিটিয়ে সেচের কাজ শেখার পর্ব। তারপর ওঁদের লেটার অফ রেকমেন্ডশনের জন্য তদ্বির করতে হবে যেহেতু আধুনিক নার্সারির তরতরিকার ওপর ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টে কোনো সার্টিফিকেট কোর্স নেই।” 

অভি প্রশ্ন করল, “তাহলে মিনুরা শিখছে কীকরে এসব ওদের নার্সারিতে?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Saturday, May 30, 2026

Panchpoksho - 57

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

অভি বলল, “বললাম তো আমি সেরা ছাত্র। পরিচ্ছন্ন। উজ্জ্বল চরিত্র। দরিদ্র ও মেধাবী। সুতরাং ভক্তা নারীর অভাব হয় নি। কিন্তু ঘনিষ্ঠতা আমি এড়িয়ে গেছি তুমি আছো বলে। আর মেয়েরা ভেবেছে আমি ভালো ছেলে। কিংবা গরিব বলে প্রেম করি না, বা আমার প্রেম করা উচিৎ নয়।” 

সুরচিতা বলল, “আচ্ছা! তুই ভালো ছেলে। তুই ব্রিলিয়ান্টও। স্টেপজাম্প করতেই পারিস।” 

অভি বলল, “তার মানে? তুমি পড়াবার সময় স্টেপজাম্প করলে ছাত্র বুঝবে কী করে?” 

সুরচিতা বলল, “না, স্টেপজাম্প করছি না। মাতলামি, খোয়ারি এসব মিটলে প্রেমিকা ছেড়ে যাওয়া ছেলেটা সাধারণত একটা মেয়ের কাছে যায়। যে মেয়েটার বুক ফাটে কিন্তু মুখ ফোটে না। যে মেয়েটা ছেলেটাকে ভালোবাসে কিন্তু জানলেও ছেলেটা আমল দেয় না কারণ তার অন্য প্রেমিকা আছে। এখন তোর প্রেমিকা ছেড়ে গেছে যখন তখন তোকে এই মেয়েটার কাছে যেতে হবে।” 

অভি বলল, “যাব। সময় লাগবে। তার আগে সিয়াপুরাতে গিয়ে বাবা-মায়ের থাকার জায়গা ঠিক করতে হবে। বাবা-মাকে একটা ফ্ল্যাট কিনে দিতে হবে। তারপর যাব তার কাছে। তুমি কী মিশনে সন্ন্যাসিনী হবে?”

সুরচিতা বলল, “নারে, সেও তো বেড়ি। তাছাড়া তেমন সন্ন্যাসিনী এখানে কেউ নেই। এদের উপার্জন সবটা মিশনকে দিয়ে দিতে হয় মিশনে আমৃত্যু ঠাঁই পাওয়ার জন্য। আমার মতো যারা কোয়ালিফায়েড টিচিং স্টাফ তারা পুরো মাইনের টাকা, রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট সব দিয়ে দেবে। যে বাগানে মালির কাজ করে সেও। বদলে দুজনেই একই কাপড় পড়বে। একই রকম খাবে। একই রকম কম্বল পাবে। এই আর কি।”

সোজা কথার পরেই মোচড়, “যখন গ্রামের কাজটা শুরু করলাম, তখন আমাকে ডেকে মাদার সুপিরিয়র মুচলেখা চেয়েছিল যে আমার কার্যকলাপে মিশন কোনো ভাবে যুক্ত নয় বা আমার কার্যকলাপে মিশন কোনো ভাবে ব্যবহৃত হবে না। সন্ন্যাসিনীরা সব্বাই যেমন স্বেচ্ছায় গ্রামে গিয়ে কাজ করে না, তেমনই স্বেচ্ছায় গ্রামে কাজ করার অধিকারও সন্ন্যাসিনীদের নেই। তখনই বুঝেছিলাম এই সন্ন্যাসটা এদের কেমন চাকরি।”

তারপরে সিদ্ধন্ত, “চাকরি করে রোজগারের টাকা এমপ্লয়ারকে দান করার লোক আমি নই। তার থেকেও সব্বনেশে কথা হলো নিজের ভাবার আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে নিজে হাতে গলা টিপে মেরে ফেলতে হবে মিশনে ঢুকতে হলে। ওরকম মরে মরে বাঁচতে আমি রাজি নই।” 

অভি বলল, “মুচলেখা দিয়েছিলে নাকি?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Friday, May 29, 2026

Panchpoksho - 56

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

তারপর যেন খানিকটা নিজের সাথেই কথা বলতে লাগল, “আমার বয়সী ছেলেরা সব্বাই তাদের প্রেমিকাদের বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে বলে বিয়ে করে ফেলছে চটপট। আর আমি শুধু ভাবছি, তাহলে তোমার বিয়ের বয়স তো কবেই পার হয়ে গেছে। রোজ ভাবি তোমাকে বলি সব ফেলে আমার কাছে চলে এসো। কিন্তু সমস্ত ধার দেনা না-চুকিয়ে কীকরে তোমাকে বলি রোজগারপাতি বন্ধ করে চলে আসতে আমার কাছে! তোমার কাছে আমার দৈন্যের কোনো লজ্জা নেই। কিন্তু তোমাকে অনাদরে রাখতে পারতাম না। তাই আমিও তাড়াহুড়ো করি নি। কিন্তু এইটা সত্যিই বোধ হয় তোমার বয়স পেরিয়ে গেছে। তাই সাংসারিক বাঁধনও বেড়ি লাগছে তোমার। ভালো লাগল এবারও তুমি সোজাসুজি বললে সহজ সত্যিটা। এবার আমি কী করব?” 

সুরচিতা তখন রাস্তার বাঁপাশে একটা খাদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে। সেদিকে তাকিয়ে অভি দেখল ঘাসে ঢাকা একটা ঢাল বেয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে সাদা কালো মেঘেরা নেমে চলেছে। যেন একটা র‍্যালি, সাজগোজ করে সুরে, ছন্দে, তালে মেঘেদের চলন। রাস্তার দিকে ফিরে সে দেখল ডান দিকের খাড়া ঢালের গায়ে ধসের দাগ। তবু সেই দেওয়ালে ঝুলছে একটা ফুলন্ত ম্যাগনোলিয়া। সে সুরচিতাকে ম্যাগনোলিয়া দেখাবে বলে সুরচিতার কাঁধ ধরে ঘুরিয়ে দিল। সুরচিতা খুশিতে ঝলমল করে উঠল। তারপর রাস্তার ঢাল বেয়ে নামতে নামতে বলল, “আপাতত সাতাশিমাইল বস্তি এসে গেছে। তুই কী করবি সে কথা আমরা সারা সন্ধে ধরে বসে ঠিক করব।”


সন্ধেবেলার চা খাওয়া মিটতে অভিই বলল, “বলো আমি কী করব?” 

সুরচিতা বলল, “প্রেমিকা ছেড়ে গেলে ছেলেরা একগলা মদ খেয়ে বন্ধুদের কাছে ছেড়ে যাওয়া মেয়েটার নামে খুব গালিগালাজ করে শুনেছি। তোর সেরকম কোনো বন্ধু কী নেই?” 

অভি বলল, “নিশ্চয়ই আছে এমন বলতে পারব না। আমি ক্লাসের সেরা ছাত্র। তাই আমার চারপাশে সহপাঠী বা জুনিয়র ছিল অনেক। কিন্তু ঘনিষ্ঠ কেউ হয় নি। তারা জানে আমি খুবই গভীর জলের মাছ। আমি প্রেমে পড়ি না। মদের আসরে যাই না নিজের গরিবীর অজুহাতে। আর মাতালদের উদ্ধার করি মানবতার ভানে। তারা আমার সাথে মদ কেউ খাবে না। তাছাড়া কেউ বুঝবে না আমাদের ব্যাপারটা বা ভুল বুঝবে ভেবে আমি কখনই কাউকে আমাদের সম্পর্কের কথা বলি নি।” 

সুরচিতা বলল, “মেয়েরাও জানতে চায় নি?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Thursday, May 28, 2026

Panchpoksho - 55

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

উপলব্ধিতে স্বর গাঢ় হল, “পড়াশোনার অভাবটা সুস্থ সমাজজীবনে বেঁচে থাকার একমাত্র প্রতিবন্ধক নয়। মূল অভাবটা বিকল্প খুঁজে নিতে না পারার অক্ষমতা। জপ-তপে অধ্যবসায় অনুশীলন থাকলেও সেগুলো অস্থিরতা কাটানোর খুব জোরালো কোনো উপায় নয়। নীতিকথা বুঝতে যে বোধ লাগে বা বোঝানোর জন্য অনুশাসনের গণ্ডি ছাপিয়ে যে প্রাঞ্জলতা লাগে তাও নেই দেখলাম। ফলে এসব নীতিকথা গ্রামের ছেলেমেয়েগুলোকে বিবেচনাও দেয় না; বিকল্প খুঁজতে যে আত্মবিশ্বাস লাগে তাও দেয় না। সব দেখে কেবল মনে হতে লাগল যে প্রার্থনা আসলে নিজেকে ঠকানো, নিজেদের অক্ষমতাকে নিজের ক্রোধ থেকে আড়াল করার কান্না।”

কাজের কথায আবার ফিরে এলো প্রত্য়য়, “আমি কোমর বেধে লাগলাম একটা পরিকল্পনা করতে। তার থেকে জন্মালো প্রকল্প। মিশনের ডাক্তার গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডাক্তার রোমা এক কথায় রাজি হয়ে গেলেন। টৌলিং থেকে আর মাঠপুর থেকে দুজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টও আসেন মাসে দুবার করে, বদলা-বদলি সপ্তাহে। এসবের আয়োজনে এক সময় টের পেলাম যে এখানে করার মতো অনেক কাজ আছে। সারাজীবনে আমার শেষ হবে না। কিন্তু এই ব্যস্ততা এই ডুবে থাকা আমাকে মজিয়ে দিয়েছে। এসব ছেড়ে এক্ষুনি যেতে পারব না। গেলে ভীষণ একঘেয়েমি আর মনখারাপ পেয়ে বসবে।”

নিজেদের কথায় ডুব দিল এবার, “তোর তো উপায়ই নেই সব ছেড়ে এক্ষুনি আমার কাছে আসার। আর এসেই বা কী করবি? আমি তো মত্ত আছি আমার খেয়ালে, এখান থেকে পাততাড়ি গুটোতে বাধ্য হলেও আমি যেখানে যাব সেখানে এরকম সর্বগ্রাসী কাজই খুঁজব। চব্বিশ ঘন্টা মেতে থাকার একটা উপলক্ষ খুঁজব। এ একটা ভয়ানক তীব্র নেশা। সত্যি বলতে কী এই নেশার চোটে তোর-আমার বিয়ের কথা, যে সংসারকে মনে মনে সর্বক্ষণ সাজাতাম সেসবের কথা কখন যে ভেসে গেছে টেরও পায় নি। কিছুতেই চার দেওয়াল আর একটা চাকরির মধ্যে নিজের সংসার সাজিয়ে আর মন বসাতে পারব না। তাতে হাঁপিয়ে উঠব, কষ্ট পাব। তখন এতো ভালোবাসার মানুষটাকে সংসারে বেধে নিজের হাঁসফাঁস আর তারও তাই করে ছাড়ব। তাই ভাবলাম তোকে বুঝিয়ে বলি সব। তুই বুঝবি।”


অভি বলল, “বুঝিয়ে বললে তাই বুঝলাম। কারণটা শুধু আমার মা বা তোমার মায়ের আমাদের বিয়েটা মানতে না পারা নয়, তুমিও আর বিয়ের বাঁধন যে চাও না সেটাই সব থেকে জরুরি আর গুরুত্বপূর্ণ।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Wednesday, May 27, 2026

Panchpoksho - 54

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~


আত্মপক্ষ
~~~~~~
উদাস বলে গেল, “তাছাড়া অঞ্জনা বা যে-কোনো মেয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর টানা একমাস করে সন্ন্যাসিনীরা সবাই মিলে প্রার্থনায় বসতেন। সেসব প্রার্থনায় তাঁরা শুধু চাইতেন মতিচ্ছন্ন মেয়েগুলো যেন ভালো থাকে, যেন সুস্থ থাকে, আনন্দে থাকে, তাদের যেন কোনো বিপদ না হয়। এঁদেরকে শুরুর থেকেই আমি দেখছি বিশ্লেষকের দৃষ্টিভঙ্গীতে, মিশেছি দ্বিধা আর সন্দেহ নিয়ে। এঁদেরকে বোঝার চেষ্টার থেকে অবিশ্বাস করেছি বেশি। কিন্তু সেসব জেনেও ওঁরা আমাকে ডেকে নিয়ে যেতেন অঞ্জনার জন্য প্রার্থনার সময়। কারণ সে আমার বড়ো আদরের ছিল। তাই আমি সে-সময়ে এঁদের কাছে বসে নিজের হতাশা, দুঃখ ভাগ করে নিয়েছি। তখন বুঝেছি যে তাঁদের প্রার্থনাটা বাইরে থেকে দেখলে একটা আচরণমাত্র, কিন্তু আন্তরিক পর্যায়ে সেটা যে মনকে স্থির করার, সহিষ্ণু করার অধ্যবসায়, অনুশীলন, তা চিনে ফেলা যায়।”
অভি এসব শুনে যে একসাথে অবাক আর বিরক্ত হচ্ছে সেটা টের পেয়ে চুপ করে গেল সুরচিতা।

কিন্তু বাকিটা শোনার জন্য অভি উদগ্রীবও হয়ে পড়েছিল। তাই সুরচিতা আবার বলতে লাগল, “অঞ্জনা ফেরার পর তাকে এক্কেবারে একটা নতুন মেয়ের মতো করে গ্রহণ করা হলো। অঞ্জনার পরিবর্তনের জন্য তার অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এই নির্মলভাবে গ্রহণ করায় তার অনুতাপের জ্বালাটা চলে গেল। মননে ঋদ্ধ হলো, চরিত্রে সহিষ্ণু হলো, স্বভাবে স্নিগ্ধ হলো, আচরণে শান্ত হলো। বিবেচক হয়ে উঠল।”
স্বরে বিশ্বাস আর প্রত্য়য় জেগে উঠল, “তার মধ্যের তিন বছরে আমি শনিবারের গ্রামসেবা দলে যোগ দিয়েছিলাম। গ্রামে গিয়ে দেখতাম কত কত অঞ্জনা, তাদের না আছে পয়সাওয়ালা মা-বাবা, না আছে মঠের সন্ন্যাসিনীদের মতো সহিষ্ণু সংবেদনশীল পরিজন। তাদের দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে যে আত্মবিশ্বাস লাগবে, যে বিবেচনা লাগবে সে অব্দি পৌঁছোনোর কোনো উপায়ই তাদের নেই। ফলে তাদের ভাঙা মন কিছুতেই বল পায় না। তারা ক্রমশ তলিয়ে যেতে থাকে এক অসীম নরকযন্ত্রণায়। ভরণপোষণের ভরসাটুকু লোপ পেলে নিরক্ষর বা নামমাত্র সাক্ষর মেয়েগুলোর কেউ কেউ কাজ নেয় সমতল শহরের পতিতাপল্লীতে। কেউ কেউ বিদেশ-বিভুঁইতে।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Tuesday, May 26, 2026

Panchpoksho - 53

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

দুদিকে মাথা নেড়ে বলল সুরচিতা, “না। আজকাল মিশনগুলোকে খেটে খেতে হয়। উপরি কিছু হলে দান করতে হয় নবীন মিশনে, বা প্রশাসনের উর্দ্ধমাগে কোনো নির্ধারিত সংস্থায়। আর এখানকার কমিউনিটি ব্যাপারটা ভালো মনে মেনে নিত, না বিষ নজরে দেখত সেটা বলা সহজ নয়। সোশ্যাল মিডিয়া এসে ইস্তক গত দুতিন বছরে মতামত জাহির করার মানে, অন্যকে শোনানোর সুযোগ বেড়ে যাওয়ায় সব্বাই বেশ স্বমতাবলম্বী স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছে এই পাহাড়েও। তার সাথে আছে ট্র্যাডিশনাল মিডিয়ার বাড়বাড়ন্তে নানান মতবাদের পণ্যায়ন। ফলে যথাযথ প্যাকেজিং পেলে যে-কোনো মতবাদ জনমনকে পোট্যাটো চিপস্‌-এর মতোই মুগ্ধ করতে পারে যুক্তিবুদ্ধিকে ছুটি দিয়ে। সাধারণ মানুষের তাই যে-কোনো মতের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যে-কোনো মতের জোরেই দুনিয়া দখল করার সুযোগ এখন অনেক, অনেক বেশি। ফলে মঠের মোকাবিলা আর শুধু একটা সুযোগসন্ধানী রাজনীতিক বা ক্ষমতা দখলের লড়াইতে নামা দুয়েকটা দলের সাথে নেই। সুতরাং শুধু অঞ্জনা নয় যে কোনো মেয়েকেই তার বাচ্চাশুদ্ধু থাকতে দেওয়ার আগে মঠ অনেকগুলো বিষয় তুল্যমূল্য করে।” 

একটা খাড়া চড়াই শুরু হয়ে যাওয়ায় দুজনেই কথা থামিয়ে দিল।


বেশ কিছুটা পথ পার হয়ে রাস্তা আবার হালকা চড়াইতে উঠতে শুরু করায় আবার বলতে শুরু করল সুরচিতা, “অঞ্জনা প্রথমে নিজের বাড়িতেই ফিরেছিল। সেখান থেকে চিঠি লিখেছিল আমাকে। কয়েকটা শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল ওর। সেগুলোর চিকিৎসা এগোলে ও একটু সুস্থ হলে মিশনে ফিরতে চেয়েছিল। আমি মহাধ্যক্ষার সাথে কথা বলি। মেয়ে নিজের ইচ্ছেয় ফিরলে এঁদের ক্ষমাধর্মে সহিষ্ণুতাব্রতে তো আটকায় না। তাই অঞ্জনা অনায়াসে ফিরে এসেছিল।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Monday, May 25, 2026

Panchpoksho - 52

পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

সুরচিতা বলল, “তারপর আর কী? সেই অন্য জনটা কে, তার ঠিকুজি কুলুজি চাইতে লাগল। আমি মুখে কুলুপ আঁটলাম। তখন জানতে চাইল বিয়েতে ওকে ডাকব কিনা। আমি বললাম, ‘বিয়েই করব না তো ডাকার কথা আসছে কী করে?’ ধৃতিকান্ত বিরক্তি নিয়ে চলে গেল। যেন আমার গ্রে ম্যাটার পচে দুর্গন্ধ ছাড়ছে...” 

হাহা করে হাসতে লাগল সুরচিতা। অভিও।


রাতের খাবার এসে গেল। সে রাতের মতো সব কথা তুলে রেখে দুজনে ঘুমিয়ে পড়ল। দুজনের আশা, কথা যখন শুরু হয়েছে তখন সহমত হওয়ার রাস্তাও বেরোবে। একজন ভাবছিল বিয়েটা হবে। অন্যজন জানত বিয়েটা হবে না।


পরদিন সকালে পথে বেরিয়ে সূর্যোদয় দেখা গেল। তারপর চলতে চলতে রোদ মাখা শুকনো একটা দিন পাওয়া গেল ক্রমশঃ। সুরচিতাই কথাটা তুলল, “তাহলে বুঝতে পারছিস দুই পরিবারের কাছে ব্যাপারটা কতো বড়ো আঘাত। অন্য কেউ করলে হয়তো ‘বেশ করেছে’ বলার উদারতা আমাদের বাবা-মায়েদের আছে। কিন্তু নিজের সন্তান করলে চুরমার হয়ে যাবে ভেঙে।” 

“এটা তুমি কখন বুঝলে?”, জানতে চাইল অভি। 

সুরচিতা বলল, “তিনপাহাড়ি এসে। অঞ্জনা যাওয়ার পর ওর বাবা-মাকে দেখে। ওঁদের কাউন্সেলিং দিতে দিতে। মঠের সন্ন্যাসিনীদের চোখের জল দেখে। তাঁদের প্রার্থনা দেখে।” 

অভি বলল, “অঞ্জনা যদি বাচ্চা নিয়ে ওঁদের মিশনে আশ্রয় নিত তাহলে তো ওঁদেরই লাভ। ক্রেডিট পেতেন ওঁদের হায়ারার্কিতে, এখানকার কমিউনিটিতেও।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Sunday, May 24, 2026

Panchpoksho - 51

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

একটু থেমে এক ঢোক জল খেল সুরচিতা। তারপর আবার বলতে লাগল, “মাকে যদি সত্যি কথা বলতাম তাহলে পাড়াতুতো বান্ধবীদের কাছে, দিদার বাড়িতে, জেঠুর বাড়িতে গিয়ে ‘তোমাকে ছাড়া কাকেই বা বলি আমার মেয়ের অপকম্মের কথা’ বলে কেঁদে বুক ভাসাতো। সেসব কথা চালাচালি হয়ে তোর বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছতে সময় লাগত না। তারপর ধাড়ি মেয়ের সাথে কচি ছেলের প্রেমের রসালো গল্প বলে কথা। আর যে কী কী হতো তার ঠিক নেই। তোর বাবা-মাকে হয় তো টুকুন রায়রা ধরত, তারপর ধরত আমার বাবা-মাকে, গায়ে পড়ে সালিশি করতে আসত।”

গলার স্বরে উদ্বেগ নিয়ে এলো বিপ্দের সম্ভাবনাগুলো, “তারপর আমার একটা ভালো বিয়ে দিতে উঠে পড়ে লাগত যাতে তোর সুন্দর ভবিষ্যতের কাঁটাটা ওপড়ানো যায়। না হলে আমাদের সাচ্ছল্যকে শাস্তি দিত তোদের দারিদ্র্যকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। পুরো সম্পর্কটা তোর আমার ভালো লাগা, বেঁচে থাকা, আনন্দ, উপলব্ধির বলয় থেকে গিয়ে পড়ত সমাজ আর রাজনীতির পাঁকে। ওদের মধ্যস্থতার ওস্তাদিতে আমার বাবা এবং মা-ও মাৎ হয়ে যেত। তোর বাবা-মাকে আরেক প্রস্থ গ্লানিতে নাকানি চোবানি খাওয়ানো হতো।”

নিশ্চিন্তি এলো বলার সুরে, “তাই কোনো ঝামেলা না করে আমি পালিয়ে এলাম তিনপাহাড়িতে। শ্যামশরণদার কাছে শুনেছিলাম এখানকার মেয়েদের আর ইস্কুলগুলোর কথা। তাই শ্যামশরণদার সাথে এসে মিশন দেখে ইন্টারভিউ দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়ে বাড়ি ফিরে যাই। সানসাইন অ্যাকাডেমিতে বলি আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে বিদেশে তাই আমাকে যেন ওরা তক্ষুণি ছেড়ে দেয়, দিল্লীতে মাসির বাড়ি যেতে হবে বিয়ের বাজার আর বিয়ে করার জন্য। অন্য চাকরি নিয়ে যাচ্ছি সে কথা ওদের বলি নি কারণ বললে ওরা কম্পেন্সেশন চাইত। তবে শেষ মাসের মাইনেও দেয় নি। বলেছিলাম দিল্লী থেকে ওঁদের নেমতন্নর চিঠি পাঠিয়ে দেব।”


অভি বলল, “পারোও বটে। কিন্তু এখন কেন বলছ আমাকে বিয়ে করবে না? অন্য কেউ এসেছে তোমার জীবনে?” 

সুরচিতা হাসল, “ধৃতিকান্ত এসে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, সে প্রস্তাবে আপত্তি জানালাম যেই, সেও একই প্রশ্ন করেছিল।” 

অভি জানতে চাইল রুদ্ধশ্বাসে, “তাকে কী বলেছিলে?” 

সুরচিতা, “বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ, অন্যকেউ আছে’।” 

অভি ফের প্রশ্ন করল, “তারপর?” 

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Saturday, May 23, 2026

Panchpoksho - 50

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

অভি গম্ভীর গলায় বলল, “যেদিন বুঝেছিলাম তুমি আমার প্রেমে পড়েছ আর লুকোতে চাইছ কিন্তু পারছ না, সেদিন কিন্তু আমি জানতে চাই নি কেন লুকোতে চাইছ। তোমার সাথে দিনের পর দিন মিশে আমি বুঝে গিয়েছিলাম ক্লাস নাইনে পড়া ছেলেটার ফ্রিতে তোমার টিউশন না নেওয়ার সিদ্ধান্তটা তুমি সম্মান করেছ। তারপর বুঝেছিলাম যে আমার সাথে মিশে আমাকে তোমার ভালো লেগেছিল শুধু আমার স্বভাব, মেধা, ব্যক্তিত্ব নিয়ে সব মিলিয়ে আমি যা ছিলাম সেই জন্যই।”

সুরচিতা চুপচাপ শুনছিল, “আরও মনে হয়েছিল যে তোমার প্রেমটা লুকোতে চাইছিলে যদি আমি তার থেকে তোমাকে ধান্দাবাজ, অপ্রকৃতিস্থ, বদ বা অসুস্থ এসব ভাবি সেইজন্য; কিংবা এই ভেবে যে যদি আমি মনে করি আমার পারিবারিক আর্থিক দৈন্যের সুযোগে তুমি আমাকে ব্যবহার করছ নিজের কোনো ব্যর্থতা থেকে, শূন্যতা পূরণের সাময়িক তাৎক্ষণিক অভিলাষে। কিন্তু ভাবতে পারিনি কারণ তুমি আমাকে কখনও ফ্রি টিউশন দিয়ে উদ্ধার করে দিতে চাও নি। আমরা বন্ধুর মতো মিশেছি। দুজনের যাবতীয় জ্ঞানগম্যি আর অজ্ঞানতা ভাগাভাগি করেছি। ঋদ্ধ হয়েছি সু। আর তুমি যে আমাকে উদ্ধার করে না দিয়ে আমার বন্ধু হয়েছিলে তাই হয়তো একসময় আমিও ভেসে গেছি তোমার প্রেমে। তখন আর নিজের কাছেই কোনো বাধা কোনো আড়াল জরুরি মনে হয় নি। তুমিও কোনো ভান ছাড়াই স্বীকার করেছিলে আমাকে। তাহলে আজ কেন এমন করছ?” 

সুরচিতা বলল, “আমাদের এসব কথার কোনোটাই আমার অজানা বা অবোধ্য নয় অভি। আমি যখন এখানে এসেছিলাম, তখন বাড়ি থেকে পালানো জরুরি হয়ে উঠেছিল। সকাল বিকেল মায়ের কেবল আমার বিয়ের পরিকল্পনা। দরজাতেও সুপাত্রদের ভার্চুয়াল লাইন দেখাতে লাগল আমাকে মা। অমুকের বোনপো, তমুকের মেজ ছেলে, কার ভাগনা, কার ভাইপো নিজবাটি হলেই হলো; যেমন তেমন চাকুরে হলেই হলো; বাপমায়ের একমাত্র ছেলে হলে তো কোনো কথাই নেই সে রাজপুত্র। শুধু আমি স্বয়ংবরা হলেই হয়। আমি বলতে পারি নি মাকে যে আমার বর পছন্দ করা হয়ে গেছে। তোর সামনে তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সবচেয়ে কঠিন, সবচেয়ে পিচ্ছিল ধাপগুলো। আমি তখন তোকে বিয়ে করলে তোর ভবিষ্যৎ চুরমার হয়ে যাতে পারত; তার সাথে সাথে তোর স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন, আমার স্বপ্ন তোকে সম্মানিত হতে দেখার--সে সব ভেঙে যেত।”

গলায় জমে ওঠা বাষ্প কাটিয়ে বলতে লাগল, “তোর বাবা-মায়ের দুজনকার জীবনের স্বপ্ন আর সম্ভ্রম ফিরে পাওয়ার লড়াই জুড়ে আছে তোর জীবনের ঐ সময়টায়। নিজেদের ঐ বয়সেই ওঁরা সর্বস্ব খুইয়েছিলেন, ধন, মান আপনজন।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Friday, May 22, 2026

Panchpoksho - 49

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

বিকেলের চা এলো। অভিকে জাগালো সুরচিতা। খিদে মিটল মাংসে পুর দিয়ে বানানো পুলি পিঠে আর নুডলের সুপ খেয়ে। সন্ধের অন্ধকার ঘনিয়ে আসতে একটা জলন্ত বাতি দিয়ে গেলেন ডর্মিটরির মালকিন এক দিদি। সঙ্গে আরেকটা মোমবাতি। সুরচিতার বালিশের পাশে একটা সার্চলাইট রাখা ছিল। সুরচিতা বাতিটা নিভিয়ে দিল ফুঁ দিয়ে। অভি বলল, “এখন কী অন্ধকারে থাকব নাকি?” 

সুরচিতা খিলখিলিয়ে হেসে উঠল, “তোর ভয় করছে নাকি? স্থানীয় লোকেরা অবশ্য কেবল ভূত দেখে সন্ধে হলেই।” 

অভি বলল, “যাহ্‌, অন্ধকারে বিরক্ত লাগে। তোমার কাছে লাইটার আছে?” 

সুরচিতা বলল, “আছে। টয়লেট গেলে সার্চলাইট নিয়ে যাবি। বাতি জ্বালাবো ঘরে খেতে দিলে। কারণ এখন বাতি জ্বেলে ফুরিয়ে ফেললে তখন যদি বলে ওদের আর বাতি নেই? তাছাড়া ঘরে কার্বন মনোক্সাইড জমা হবে। তাই আলো নিভিয়ে রাখাই রেওয়াজ এখানে।” 

অভি বলল, “বলিহারি, অ্যাডভেঞ্চার। দামটাও সস্তা। সার্ভিসটাও ঘাটিয়া।” 

সুরচিতা বলল, “সেই জন্যই এখানে মেয়েরা আসে দল বেধে, অন্তাক্ষরী খেলে। আর ছেলেরা নেশা করে পড়ে থাকে বা টর্চের আলোয় তাস খেলে।” 

অভি বলল, “আমাদের তো অনেক কথা আছে। আমরা নাহয় সেগুলোই বলি।” 

সুরচিতা বলল, “বলো।” 

তারপর ঢক ঢক করে কিছু আওয়াজ হলো। সুরচিতার হাঁটুর ওপর হাতড়াতে লাগল অভির হাত। সুরচিতা অভির হাত ধরে ফেলল। অভি গলা সাফ করে বলল, “প্রিয়ে আমাকে বিয়ে করবে?” 

সুরচিতা বলল, “না।” 

অভি বলল, “ঠাট্টা হচ্ছে?” 

সুরচিতা সুর করে বলল, “না-আ।” 

অভি বলল, “কেন?” 

সুরচিতা বলল, “বলেছিস কাউকে তুই আমাকে বিয়ে করতে চাস?” 

অভি বলল, “না। তুমি রাজি না হলে অন্য কাউকে কী করে বলব? তাছাড়া আমার কোনো সন্দেহই ছিল না মনে আমাদের প্রেম নিয়ে। যাদের সন্দেহ থাকে তারা অন্যলোকের সাথে আলোচনা করে। আমি ভাবলাম তুমি আমার অপেক্ষায় এতো দিন আছো, তাই বাড়ি নয় আমার প্রায়োরিটির টপে ছিল আমাদের বিয়ে।” 

সুরচিতা বলল, “আস্তে কথা বল। এখানে সবাই বাংলা বোঝে।” 

তারপর অভি আর কিছু বলছে না দেখে সুরচিতা বলল, “আমাদের প্রেম তো অনেক দিনের। সন্দেহ ছিল না প্রেমের সততা নিয়ে তাও মানি। কিন্তু আমরা তো আগে কথাই বলি নি বিয়ে করব কিনা তাই নিয়ে। তাই না?” 

অভি বলল, “বলে যাও।” 

সুরচিতা বলল, “আজ কথা উঠল। আমি আমার মত জানালাম। আমরা পরস্পরের প্রেম সশ্রদ্ধভাবে গ্রহণ আর রক্ষণ করেছি। গোপনীয়তা রেখেছি যথাসম্ভব। বাস্তবে তুই আর আমি ছাড়া একথা কেউ জানেও না। তার ভিত্তিতেই আমি আশা করছি তুই আমার সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দিবি।” 

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Thursday, May 21, 2026

Panchpoksho - 48

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

কতো ছবি যে তুলল তার ঠিক নেই। সুরচিতা বুঝিয়ে পারে না ফেরা পর্যন্ত ইলেক্ট্রিসিটির সাথে মোলাকাত হবে না। অতএব যখন তখন ছবি আর ভিডিও তুলে ব্যাটারি খরচ করা চলবে না। দু-এক জায়গায় ওরা দাঁড়িয়ে চা, কোলড্রিঙ্ক খেল। এটা সেটা কিনল। দুপুরের আগে হিংরু নামে গ্রামটায় পৌঁছতে পারলে ভালো হয়। কিন্তু অভিকে সে কথা বোঝায় কে।


ঘুরেফিরে সেই প্রশ্ন এলো, “তুমি মিশন ছেড়ে গেলে প্রজেক্টের কী হবে?” 

সুরচিতা অভিকে বলল, “আমি মিশন ছেড়ে যাব কেন?” 

অভি দম নিতে নিতে বলল, “আমরা কী কখনও একসাথে থাকব না?” 

সুরচিতা বলল, “না”। 

অভি থমকে গেল। কিন্তু সুরচিতা তখন অনেকটা এগিয়ে গেছে। রংপুকুর দেখে অবশ্য কথারা আবার পুকুর, খাদ, পাহাড় আর উপত্যকায় ফিরে গেল। আন্তর্জাতিক সীমা এড়িয়ে সরকারি নার্সারির মধ্যে দিয়ে কখনও জঙ্গলের বুনো গন্ধের মধ্যে দিয়ে, কখনও ন্যাড়া পাহাড়ের গা বেয়ে চলা মেঠো রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে দেখা হতে লাগল নানা অভিযাত্রীদলের সাথে। 

অসংখ্য চূড়াওয়ালা বেঁটে মন্দির হাঁটু মুড়ে বসে যেন প্রার্থনা করছে নৈঃশব্দ আর নির্জনতা। সেই মন্দিরগুলোকে ঘিরে রেখেছে জাগরুক পাহারাদারের মতো মন্ত্রমাখা পতাকার ঝাঁক। কোথাও সে পতাকার রং উজ্জ্বল নীল হলুদ, কোথাও ঘোলাটে সাদা। তারপর মেঘেরা যখন কুয়াশার মতো ঘিরে ধরতে লাগল, জ্যাকেটের গায়ে বিন্দু বিন্দু জমে ওঠা জলের কণা মুহূর্ত পরেই সপসপে করে গেল জ্যাকেট তখন বোঝা গেল হিংরু এসে গেছে। 

এই সময় হঠাৎ মেঘ সব জল হয়ে ঝরে গেল বা জোরালো হাওয়ায় উড়ে গেল। রাস্তার ধার বরাবর খাড়া নেমে যাওয়া উপত্যকায় ফুলন্ত রডোডেনড্রন বন যেন সবে স্নান সেরে দাঁড়িয়েছে রোদে। তার গা থেকে ঝরে পড়া জলে, গায়ে লেগে থাকা জলে ঠিকরে পড়া রোদ পুরো উপত্যকাকে রূপসী করে তুলেছে। 

তাদের ফুলপাতার ঠাসাঠাসি বুনোট দেখে মনে হয় যেন কেউ ধানগমের মতো রডোডেনড্রন চাষ করেছে উপত্যকাময়। মুগ্ধতা কাটিয়ে জ্যাকেটের গভীর থেকে ক্যামেরা বার করে ছবি তোলার প্রস্তুতি নিতে নিতে উপত্যকার আধখানা ঢেকে গেল নিচে থেকে হু হু করে ছুটে আসা মেঘের লেপের নিচে। ক্যামেরার লেন্স বন্ধ করা মাত্র হয়ে গেল আরেক প্রস্থ ধারাস্নান।


অবশেষে হিংরুতে ভাত ডাল বাঁধাকপি দিয়ে লাঞ্চ। তারপর তিন প্রস্থ কম্বলের নিচে ডরমিটরিতে। সুরচিতা পিট্‌ঠু থেকে পত্রিকা বের করে পড়তে লাগল। দিনের আলো থাকতে ঘুমোতে পারবে না সে। আর করতে লাগল পায়ের পাতার ব্যায়াম। অভি ঘুমিয়ে পড়ল কিছুক্ষণের মধ্যেই।

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Wednesday, May 20, 2026

Panchpoksho - 47

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

একটু থেমে কী যেন ভাবল সুরচিতা, ফের বলল, “তাও ঝামেলা আছে। কারণ ইলোপ করার পর তারা না পায় প্রেসক্রিপশন, না পায় ডাক্তার। ভরসা শুধু সঙ্গে থাকা টাকাপয়সা, থাকলে ব্যবস্থা করতে পারে মেয়েগুলো, আর ফুরোলে ফিরে আসে। তবে অপেক্ষাকৃত গরীব মেয়েগুলোর সমস্যাই এটা যে ওরা প্রেগনেন্সি নিয়ে ফেরে। আপাতত কাজ চলছে ওরা যাতে অন্তত আমাদের জানায় ওদের রিলেশনশিপ তৈরি হলে আর রোমা ওদেরকে পিলের বিকল্প ব্যবস্থা করে দিতে পারেন তখনই। তারপর গায়েব হোক আর না হোক। ওদের আর্থিক ক্ষমতা না এলে...।”


অভি বলল, “তুমি এখান থেকে চলে গেলে তখন?” 

সুরচিতা দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়েছিল। সেদিকে তাকিয়েই বলল, “সে কথা কাল হবে। আজ এখন খাব আর ঘুমোব। কাল ভোর চারটের সময় উপাসনাকেন্দ্রের পাড়াজাগানিয়ে ঘন্টা বাজবে। উঠে পড়ব। ছটার সময় রুবিনজা ওমনি নিয়ে আসবে। বেরিয়ে পড়ব।” 

অভি বলল, “এই রাত নটার সময় খেয়ে ঘুমোতে যেতে হবে?” 

সুরচিতা মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করতে দিল। অভি আবার বলল, “কাল যাচ্ছি কোথায়?” 

সুরচিতা বলল, “সে অনেক দূর। ক্যামেরা এনেছিস?” 

অভি সাড়া দিল না। সুরচিতা বলল আবার, “তাহলে চার্জ দিয়ে নিস।”


খাওয়ার পরে অভিকে একটা স্নোজ্যাকেট আর মোজা, গ্লাভস এসব পরে দেখে নিতে দিল সুরচিতা। অভি বলল, “এগুলো বেশ কাজের জিনিস, সু।” 

সুরচিতা বলল, “হুঁ। গ্লাভস, মোজা সব তোর ব্যাগে পুরে নিস।” 

ওগুলো ব্যাগে রেখে অভি একটা পারফিউমের বোতল বার করে সুরচিতাকে দিল। সুরচিতা বলল, “থ্যাঙ্ক ইউ-উ। আজকালে তার মানে শপিং মলে যাচ্ছিস।” 

অভি বলল, “ছাত্রাবস্থাতেও গেছি। তবে কিনিনি কিছু। সব দেখতে হয়, না হলে পিছিয়ে পড়তে হয়।” 

সুরচিতা বলল, “বটে! বেশ বোধোদয় হয়েছে দেখছি।”


সুরচিতা শোওয়ার ঘর থেকে বেরিয়ে বসার ঘরে এলো। পেছন পেছন অভিও এলো। সুরচিতা বলল, “যা-আ ঘুমিয়ে পড়।” 

অভি বলল, “তুমি এখানে ঘুমোবে?” 

সুরচিতা বলল, “বটে।”


সকালে রুবিনজার ওমনি ওদের বেসক্যাম্প জংলাবসতিতে ছেড়ে দিল। ওরা চড়তে শুরু করল শৃঙ্গের দিকে। সারা দিন ধরে যেতে যেতে অভির একটাই কথা, “এতো উঁচু পাহাড়ের মাথায় এরকম পুকুর আর মিডো কক্ষণো দেখি নি!” 


~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Readers Loved