পাঁচপক্ষ
~~~~~~
আত্মপক্ষ
~~~~~~
একটু থেমে কী যেন ভাবল সুরচিতা, ফের বলল, “তাও ঝামেলা আছে। কারণ ইলোপ করার পর তারা না পায় প্রেসক্রিপশন, না পায় ডাক্তার। ভরসা শুধু সঙ্গে থাকা টাকাপয়সা, থাকলে ব্যবস্থা করতে পারে মেয়েগুলো, আর ফুরোলে ফিরে আসে। তবে অপেক্ষাকৃত গরীব মেয়েগুলোর সমস্যাই এটা যে ওরা প্রেগনেন্সি নিয়ে ফেরে। আপাতত কাজ চলছে ওরা যাতে অন্তত আমাদের জানায় ওদের রিলেশনশিপ তৈরি হলে আর রোমা ওদেরকে পিলের বিকল্প ব্যবস্থা করে দিতে পারেন তখনই। তারপর গায়েব হোক আর না হোক। ওদের আর্থিক ক্ষমতা না এলে...।”
অভি বলল, “তুমি এখান থেকে চলে গেলে তখন?”
সুরচিতা দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়েছিল। সেদিকে তাকিয়েই বলল, “সে কথা কাল হবে। আজ এখন খাব আর ঘুমোব। কাল ভোর চারটের সময় উপাসনাকেন্দ্রের পাড়াজাগানিয়ে ঘন্টা বাজবে। উঠে পড়ব। ছটার সময় রুবিনজা ওমনি নিয়ে আসবে। বেরিয়ে পড়ব।”
অভি বলল, “এই রাত নটার সময় খেয়ে ঘুমোতে যেতে হবে?”
সুরচিতা মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করতে দিল। অভি আবার বলল, “কাল যাচ্ছি কোথায়?”
সুরচিতা বলল, “সে অনেক দূর। ক্যামেরা এনেছিস?”
অভি সাড়া দিল না। সুরচিতা বলল আবার, “তাহলে চার্জ দিয়ে নিস।”
খাওয়ার পরে অভিকে একটা স্নোজ্যাকেট আর মোজা, গ্লাভস এসব পরে দেখে নিতে দিল সুরচিতা। অভি বলল, “এগুলো বেশ কাজের জিনিস, সু।”
সুরচিতা বলল, “হুঁ। গ্লাভস, মোজা সব তোর ব্যাগে পুরে নিস।”
ওগুলো ব্যাগে রেখে অভি একটা পারফিউমের বোতল বার করে সুরচিতাকে দিল। সুরচিতা বলল, “থ্যাঙ্ক ইউ-উ। আজকালে তার মানে শপিং মলে যাচ্ছিস।”
অভি বলল, “ছাত্রাবস্থাতেও গেছি। তবে কিনিনি কিছু। সব দেখতে হয়, না হলে পিছিয়ে পড়তে হয়।”
সুরচিতা বলল, “বটে! বেশ বোধোদয় হয়েছে দেখছি।”
সুরচিতা শোওয়ার ঘর থেকে বেরিয়ে বসার ঘরে এলো। পেছন পেছন অভিও এলো। সুরচিতা বলল, “যা-আ ঘুমিয়ে পড়।”
অভি বলল, “তুমি এখানে ঘুমোবে?”
সুরচিতা বলল, “বটে।”
সকালে রুবিনজার ওমনি ওদের বেসক্যাম্প জংলাবসতিতে ছেড়ে দিল। ওরা চড়তে শুরু করল শৃঙ্গের দিকে। সারা দিন ধরে যেতে যেতে অভির একটাই কথা, “এতো উঁচু পাহাড়ের মাথায় এরকম পুকুর আর মিডো কক্ষণো দেখি নি!”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
