পাঁচপক্ষ
~~~~~~
আত্মপক্ষ~~~~~~
সুরচিতা বলল, “মনে হয়। মানুষের বসতি ছাড়া কোথায়ই বা এমন করে পালতু কুকুর ডেকে সাবধান করে বল?”
অভি বলল, “কিন্তু তর্কটা এখনও বাকি।”
সুরচিতা হাসল, ভঙ্গিটাই যেন বলল, “বেশ তো, তর্ক হোক।”
অভি বলল, “বিষ তো বিষই; পোকার জন্য বিষ যা তাতো মানুষের জন্যও বিষ। মানুষের খাবারটা যদি মানুষকেই বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়--”
খিলখিল করে হেসে উঠল সুরচিতা। হাসির দমক একটু কমলে বলল, “এতো আবেগে তর্ক দাঁড়ায় নাকি? তুই না বিজ্ঞান পড়েছিস! পার্টস পার মিলিয়নের মতো মাপজোপ ভুলে গেছিস? মানুষের শরীরের রক্তের পরিমাণ আর পোকার দেহরস মানে পোকাদের শরীরের রাসায়নিক বওয়ার জন্য ব্যবস্থায় যে তরল থাকে তার পরিমাণ এই দুইয়ের অনুপাত কতো? একটা রাসায়নিক পরিমাণে যতটা হলে পোকার শরীরে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে মানুষের জন্য বিষক্রিয়া ঘটাতে সেই একই রাসায়নিক অনেক বেশি পরিমাণে লাগে কিনা? ভেবে দেখ আমাদের রক্তে যে কার্বন মনোক্সাইড থাকে সাধারণত তার জন্য আমরা বিষক্রিয়ায় মরি না, কিন্তু বদ্ধ ঘরে সারারাত কেরোসিনের লন্ঠন জ্বললে যতটা কার্বন মনোক্সাইড শরীরে মেশে তাতে ঘরের লোকজন মরে যায়। তাছাড়া সব্জি ধুলে আর খোসা ছাড়ালেই অধিকাংশ পেস্টিসাইড চলে যায়।”
এবার অভি হেসে উঠল, “তাহলে শেষ কথাটা কী?”
সুরচিতা হাওয়াতে হাতুড়ি ঠুকে ঘোষণা করল, “সুস্বাস্থ্যের মূলে পুষ্টি। অপুষ্টি মানে অস্বাস্থ্য। তাই আগে মানুষ পুষ্ট হোক তবেই তাকে সুস্থ রাখার চেষ্টা সফল হবে।” তারপর মাটির দিকে চোখ নামিয়ে উদাস গলায় বলল, “এখন এখানে আর অন্য উপায় নেই রে।”
তারপর আবার ছুটে আসা মেঘেদের বুক চিরে গায়ে জলের দানা মাখতে মাখতে দুজনে পৌঁছল চূড়ান্ত লক্ষ্য হিমেল শীর্ষে। সেই একই মেনু লাঞ্চে। তবে এখানে পরিবেশিকা বেশ অল্প বয়স্ক এবং ফ্যাশন সচেতন। তাই তাঁর সাথে ব্যবস্থা করা গেল রাতে রুটি আর ডিম তড়কার। সূর্য থেকে বন্দি করা ইলেক্ট্রিসিটিও পাওয়া গেল। ক্যামেরা চার্জ করার জন্য যথেষ্ট। দুদিন পরে নিয়ন লাইট দেখে মনে হতে লাগল যেন গোপনীয়তার চাদরে বুঝি টান পড়েছে। সেগুলো নিভিয়ে দিয়ে বিকেলের আলোতে জানলার পাশে চেয়ার টেনে মুখোমুখি বসে দুজনে আবার গল্প জুড়ল।
অভি বলল, “তোমার আমাজনে যাওয়ার কী হবে?”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
