পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রাক্পক্ষ
~~~~~~
তারপর পুলিশ অফিসার গলা তুলে হুঙ্কার দিতেই, বড়দি তার ওপরে গলা তুলে বলেছিলেন, “আমার নির্দেশ মেনেই মেয়েরা থানায় এসে এসব বজ্জাতকে জমা দেয় তাই আপনি কেরামতি দেখানোর সুযোগ পান। তা না করে যদি এগুলোকে রাস্তায় ফেলে দিত পারতেন আমার মেয়েদের ওপর দারোগাগিরি ফলাতে? আমার মেয়েদের না ছাড়লে পুরো ইস্কুল আমি এখানে বসাব। আপনাকে, আপনার নেতাকে, তার বাবাকে, তার বিরোধী নেতাকে সক্কলকে বসিয়ে ক্লাস করাবো আর বেয়াদবি দেখলেই--”
কথাটা আর শেষ হয় নি, তার আগেই মিনমিন করে অফিসারটি বলেছিলেন, “যান, যান আপনার মেয়েদের নিয়ে যান।”
আজ এসব কথা ভাবলে সুরচিতার মনে হয় যে বড়দি না থাকলে, তাঁর একটা বিশিষ্ট পরিচিতি না থাকলে, সেদিন কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের খপ্পরে গিয়ে পড়ত থানায় আটকে পড়া মেয়েগুলো। তারপর তাদের নিত্য নিরাপত্তার অভাববোধ থেকে, বা পুলিশের অসহযোগ ও বিরোধিতায় তাদের অবুঝ অভিমানী কিশোর মনে সমাজ আর শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ নিশ্চয়ই জমা হতো। আর সেই অভিযোগ থেকে ক্ষোভ তৈরি করে, সেটা ব্যবহার করে হয়তো নিতান্ত আঞ্চলিক বা আরো বড়ো কিছু একটা রাজনৈতিক গণ্ডগোল বাধিয়ে তোলা হতো। মেয়েগুলোকেও হয়তো ব্যবস্থা অমান্য করতে আর অপরাধে অভ্যস্ত করে তোলা হতো। নিরবচ্ছিন্ন সামাজিক জীবনপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হতো।
সামনে থেকে আসা আঘাত ঠেকানোর জন্য হাত ওঠে নিতান্ত স্নায়বিক কারণে। তবু মানুষ সহ্য করে, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবধি, বিশেষত সামাজিক যাপনের সবটুকুই যখন দূষিত হয়ে যায় রাজনীতির জবরদখলে। এরকম একটা অবস্থায় অব্যবস্থার যাঁতাকলে কোন কাজের যে কী কী পরিণতি হতে পারে তা আঁচ করা গেলেও নিয়ন্ত্রণ করা তো যায় না। তাই হয়তো অব্যবস্থা রেখে দেওয়া হয়, তার থেকে ঘোলাজলে মাছও ধরা হয়।
ব্যবস্থাপকদের নিশ্চয়ই মুনাফা হয় এতে। আর বার বার কৈশোর সে যাঁতাকলে বলি হয়ে যায়, কিছুটা অসংযমে, কিছুটা অনভিজ্ঞতায়, কিছুটা আবেগে, কিছুটা স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদে, কিছুটা প্রতিবর্তগত আত্মরক্ষার চেষ্টায়।
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
