পাঁচপক্ষ
~~~~~~
আত্মপক্ষ
~~~~~~
তারপর সুরচিতা প্রেমিকটির আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে পরল। মাফিন আর কফি খেতে খেতে দুজনের অনেক হাসি ঠাট্টা হলো। এখন অনিশ্চয়তাগুলো অনেকটাই ওদের দুজনের নিয়ন্ত্রণে; আত্মবিশ্বাসও অনেক বেশি, দুজনেরই।
শেষ যখন ওরা মুখোমুখি হয়েছিল তখনও এমন হাসিঠাট্টার অবকাশ ছিল না। এমন একান্ত যাপনের সুযোগও ছিল না তখন।
সন্ধের মুখে সুরচিতার মায়ের ফোন এলো। মা জানতে চাইলেন, “কী করে কী খাওয়ালি অভিকে?”
সুরচিতা বলল, “সেটা তুমি অভির মুখ থেকেই শোনো।”
অভি উচ্ছসিত হয়ে বলতে লাগল এসে থেকে ও কী কী খেয়েছে। তারপর খুশি খুশি গলায় “গুড নাইট” বলে মা ফোনটা রেখে দিলেন।
সুরচিতা অভিকে জিজ্ঞেস করল, “বাড়িতে খবর দিয়েছিস?”
অভি বলল, “না। দিচ্ছি।”
দীপ্তি অনেক ধন্যবাদ দিলেন সুরচিতাকে এই জন্য যে অভিকে মানুষ করায় সে ওঁদের সাহায্য করেছে বলে। ফোনটা স্পিকার মোডে ছিল। অভি হাসছিল। দীপ্তির সাথে কথাবার্তা সারা হতে সুরচিতা বলল, “তোর মামার বাড়ির দিকে গিয়েছিলি?”
অভি বলল, “জন্মে থেকে মা কোনোদিন নিয়ে যায় নি মায়ের নিজের বাড়িতে, সেখানে আমি হঠাৎ যেতে যাব কেন?”
সুরচিতা বলল, “মা কেন নিয়ে যাননি জানিস?”
অভি বলল, “ওখানে গেলেই নাকি বাবাকে সবাই মেরে ফেলবে আর মাকে আর আমাকে আটকে রাখবে।”
সুরচিতা বলল, “কিংবা তোদেরও মেরে ফেলবে। এখন ভাবতে হবে লাভটা কিসে--মেরে ফেলায় না আটকে রাখায়?”
অভি কিচ্ছু বুঝতে পারছিল না, বলল, “মানে?”
সুরচিতা বলল, “তোর বাবার চার ভাই, সকলেই বাবার বড়ো তাই তো?”
অভি বলল, “তাই-ই তো শুনেছি।”
সুরচিতা বলল, “সবাই-ই সরকারি-আধাসরকারি চাকুরে আর বাড়ির জমিজমার অংশীদার। তোর বাবা ইস্কুলে পড়ার সময়ই ঠাকুর্দা মারা গিয়েছিলেন। বাবা বড়ো হয়েছিলেন মূলতঃ দাদাদের আশ্রয়ে। ফলে তিনি সবার ছোটো হলেও খুব আদরের ছিলেন না। এখন তিনি অবিবাহিত বা নিঃসন্তান মারা গেলে তাঁর অংশীদারিটুকু এঁরা পেয়ে যেতেন। আর তাঁকে সপরিবারে নিকেশ করতে পারলেও তাই।”
বিরক্ত মুখে ভ্রূ কুঁচকে অভি বলল, “ধুর কী সব শুরু করলে? তোমার সাথে অনেক জরুরি কথা আছে--”
ওকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে সুরচিতা বলল, “সে তো আছিস কদিন, বলবি না হয়।”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
