পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রাক্পক্ষ
~~~~~~
হয়তো বোঝে নি কারণ অভির সাথে মেশার মূলে সুরচিতার একটা সচেতন উদ্দেশ্য ছিল। সুরচিতা ভেবেছিল যে অভি যদি সত্যিই তার মা-বাবার মতো দুর্বল না হয় বা যদি তার নিজের মতে আর নিজের মতো বাঁচার ইচ্ছে আর উৎসাহ থাকে তাহলে সুরচিতা অভিকে সসম্মানে বন্ধু করে নেবে, যতটুকু ভরসা ছেলেটার লাগবে বা সে নিতে চাইবে সবটুকু নিঃশর্তে দেবে, আর আগলে রাখবে টুকুন রায়দের থাবা থেকে, ছলে আর কৌশলে।
তাই সে অভিকে জানতে চেয়েছিল, বুঝতে চেয়েছিল। আবার সেই জানা বোঝার হাত ধরে টুকুন রায়দের সাথে অঘোষিত নিশঃব্দ অলক্ষ্য যুদ্ধটার কারণ, উদ্দেশ্য সবই ক্রমে বদলে গিয়েছিল, সুরচিতার সচেতনতা আর আর তার নিয়ন্ত্রণরেখাকে ফাঁকি দিয়ে।
সুরচিতার মুগ্ধতার কথা হয়তো অভি বুঝেছিল বা তার অস্পষ্ট ধারণা হয়েছিল সুরচিতার অনুভূতি সম্পর্কে। সুরচিতা তার কোনো ক্ষতি করবে মানে সুরচিতা তাকে কোনো ভাবে অপমান করবে সে সম্ভাবনাটা সে আমল দেয় নি। তার প্রতিনিয়তের দুর্গতির পাশে অমন অপমানের একটা মনোবেদনা তার কাছে হালকা ঝুঁকি বই কিছু মনে হয় নি বোধ হয়। সে কিছু না করেও অপরাধীর জীবন কাটাচ্ছিল যে।
তার বয়সী ছেলেদের মা-বাবারা নিজেদের ছেলেকে সাবধান করতেন অভির সাথে মিশে দুর্মতি হতে পারে বলে। আর মেয়েদের, মানে যে সব মেয়েদের বাবাদের দোতলা বাড়ি ছিল তারা কেবলই অভির স্বভাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতেন তার মা-বাবার কথা টেনে এনে। ফলে সুরচিতা তার মন নিয়ে, অনু্ভূতি নিয়ে কিছুদিন খেলে আনন্দ নেবে আর তারপর তাকে ফেলে দিয়ে চলে যাবে এরকম ভয় অভি মোটেও পায় নি।
শারীরিক কোনো উৎপীড়নের আশঙ্কাও তার অযৌক্তিক মনে হয়েছিল হয়তো। কারণ হয়তো তার প্রত্যেকটা দিন একটা একটা নতুন লড়াই ছিল মা-বাবার অল্প বয়সের খেয়ালের মাশুল দিতে দিতে নতুন করে নিজের জন্য বাঁচার কারণ খুঁজে পাওয়ার মধ্যে, নতুন করে বাঁচার লড়াই জেতার কৌশল শেখার মধ্যে।
সুরচিতার আসা যাওয়া নিয়ে সে সতর্ক থাকলেও আক্রমণাত্মক ছিল না। তাই বোধ হয় একসময় সেও টের পেয়েছিল সুরচিতা তার বন্ধুর অভাব পূরণ করতে পারে। তারপর একসময় নিয়মিত সোম-বুধ-শুক্র সন্ধেবেলা সুরচিতা কিছুক্ষণ কাটাতো অভির সাথে। কোনো কোনো সন্ধেবেলা চা, মুড়ি, চানাচুর খেতে খেতে গল্পে মুখর হতো দীপ্তির সাময়িক যোগদানে।
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
