Thursday, April 9, 2026

Panchpoksho - 06

 পাঁচপক্ষ
~~~~~~



প্রথমপক্ষ
~~~~~~
সুরচিতার মা শুধু বাইরের খোলসটার কথাই জানেন। তাঁর মনে হয় যে পড়াশুনায় অনুৎসাহী একদল ছেলেমেয়েকে লেখাপড়ায় তুখোড় করার চেষ্টা করে বাজে সময় নষ্ট করছে তাঁর মেয়ে। তাঁর ধারণা যে সুরচিতা হাজার চেষ্টা করলেও অমনোযোগী ছাত্রদের কিছুতেই কিছু শেখাতে পারবে না। তাঁর মতে এই ভস্মে ঘি-ঢালা পরিশ্রমে সুরচিতা মিশনের উদ্দেশ্যসিদ্ধির একটা যন্ত্র হয়ে উঠেছে মাত্র। বরং ঝকঝকে দু-চারজন ছাত্রকে প্রাইভেট টিউশন দিলে তার সংসার-খরচ আর বাড়িভাড়া উঠে আসত, মাইনেতে হাতই পড়ত না, সেটা জমত ভবিষ্যতের জন্য। কিছু সুনামও বাড়ত তাঁর মেয়ের। তাই তিনি সুরচিতার সপ্তাহান্তের কাজ নিয়ে তাঁর অপছন্দ আর বিরক্তি মাঝে মাঝে ব্যক্ত করে থাকেন।
আজ কিন্তু তিনি ভীষণ উত্তেজিত, আহ্লাদিত। এমনটা হয় তখনই যখন তিনি ভাবেন যে তিনি সুরচিতার নিস্তরঙ্গ জীবনে এক ঝলক খুশির তুফান তুলে দিতে চলেছেন। তাই সুরচিতার রান্নার পদাবলী শুনেও তিনি বললেন, “ভালো। কাল বাদ পরশু একটু ভালো করে বাজার করে রাখিস। ভালো করে রান্নাও করিস।”
সুরচিতা কৌতুক করে বলল, “তুমি আসবে বুঝি?” মা বললেন, “রক্ষে করো। তোমার অমন হাঁটুভাঙা পাহাড়ের মাথায় আমি আবার যাব? তাও এই চৈত মাসের বৃষ্টির পরে, শীতশীত স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায়? তারওপর তোমার আবার আদরের ইস্কুলের কোয়ার্টারখানা পাথুরে গোমড়ামুখো বাড়ি। কতো বছরের শ্যাওলা আর হাঁপানির ব্যামো বাসা করে আছে যেন!”
মা থামলেন। হয় কথা হারিয়েছেন, না হলে খেই। না হলে দম, না হলে সাহস। এই বুঝি সমালোচনা অসহ্য হলো বলে মেয়ে তাঁর ফোন কেটে দিল। কিন্তু মেয়ের এসব কথা গায়ে লাগে না। যেদিন সময় থাকে না সেদিন ফোন কেটে দেয়; বা ইচ্ছে করে না পুরোনো রেকর্ড শুনতে সেদিন ফোন কেটে দেয়।
কিন্তু আজ মায়ের কথায় ভণিতা আছে। মানে তার পেছনে একটা চমকপ্রদ খবর আছে। বা আপাত চমকপ্রদ খবর আছে। তাই সে বলল, “কিন্ত পরশু দিনটা হঠাৎ বিশেষ রান্নার দিন হতে যাবে কেন?”
মা বললেন, “সে তুমি জানবে কী করে? কাউকে তো ফোন নম্বর দাও না। অমন ছায়ার মতো ছাত্র তোমার, তাকেও দাও নি।”
সুরচিতার সব রক্ত যেন দুগালে এসে জমা হলো, বুকের মধ্যে হাতুড়ি পিটতে লাগল। গলাটা শুকিয়ে যেতে লাগল। কিন্তু গলা জুড়ে আনন্দ খেলিয়ে বলল, “অভি আসছে, মা?”
মা বললেন, “হ্যাঁ। সে ছেলে যে আবার একটা নতুন চাকরি জুটিয়েছে তা তো তোকে বলেইছিলাম। এবার একটু লম্বা ছুটিতে এসেছে। তোর কাছে যাবে কদিনের জন্য। ভালোমন্দ খাওয়াস। আর কোনো সুকর্ম তো তোকে দিয়ে হবে না।”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

Readers Loved