Monday, September 16, 2024

JPDA - Chapter 41

 ৪১. য়িন শু



সু ছন কাঁদছিলো গাড়িতে, মিন হুয়েকে হতবাক করে দিয়ে, কিছুতেই ভোলানো যাচ্ছিলো না ওকে।

যখন ট্যাক্সিটা ঝংশাঁ রোডে ঢুকে পড়েছে, শিয়াংহে বিল্ডিংটা সামনে, তখন মিন হুয়ের সেল ফোন বেজে উঠলো। ব্লু টুথ ইয়ারপিসে সাও মুয়ের ব্যতিব্যস্ত গলা বেজে উঠলো, “শও হুয়ে, আজ সকালের মিটিং-এর কথা কী আপনি ভুলে গেছেন? সেটা তো শুরু হতে চলেছে। আপনি এখনো এসে পৌঁছোন নি কেনো? সবাই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।”

“আমি এখনই আসছে, এখনই আসছি। আমার জন্য - পাঁচ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন।”

মিন হুয়ে সু ছনকে জড়িয়ে ধরে বললো, “যা হোক, সাও জিয়ে, ছন ছন আমার সাথে আছে। আপনি কী বলতে পারেন যে কে এখন ওকে একটু দেখবে আমি যতোক্ষণ মিটিং-এ থাকব?”

“অপ্রত্যাশিতভাবে, হে জঁ আপত্তি জানিয়েছেন, বলেছেন বা’অ্যান কাজের জায়গা, এটা কিন্ডারগার্টেন নয় …”

মিন হুয়ে চমকে উঠলো।

“আমি এখন কী করব? সু ছনের ডিসচার্জের কাজ সব হয়ে গেছে, ওর বেডটাও আর নেই।” উদ্বিগ্ন হয়ে বললো মিন হুয়ে, “জিয়া জুনও নেই এখানে, ও একটা সাক্ষাৎকারে গেছে।”

“বেশ তুমি ফোর সিজন্স টেনিস ক্লাবে যাও দং পিং রোডে,” সাও মু বললো তক্ষুনি, “য়িন শু ওখানে খেলছে। তুমি সোজাসুজি ওর কাছে যাও আর বাচ্চাকে ওর হাতে দিয়ে দাও।”

পূর্ব পিং রোড কাছেই। মিন হুয়ে দ্বিধায় পড়ে গেলো, “এটা কি সুবিধের হবে? ওকে তো দুপুরের পরে নেবার কথা ছিলো … তুমি আমাকে আগে কল করো নি কেনো?”

য়িন শুয়ের পরিবার অবস্থাপন্ন আর ও একমাত্র ছেলে, পয়সা রোজগার করে না, কিন্তু পয়সার অভাবও নেই। তবে ও ঘরে বসে ব্যস্ত থাকার লোকও নয়, ও বাইরে খেলতে ভালো বাসে। বাজার করা, বাড়িতে রান্না করা আর বাচ্চাদের দেখাশোনা করার সময়টুকু বাদ দিলে বাকি সময়ে ও হয় গলফ্‌ খেলে নয়তো দৌড়োয়, বিশেষ করে গরমের দিনে প্রায়ই গলফ্‌ খেলে। যদি কেউ আগে থেকে ব্যবস্থা করে একটা সময় স্থির করে রাখে, তবে সেই সময়ের অনেক আগে তার ঘাড়ে একটা বাচ্চাকে চাপিয়ে দিলে সে বিরক্ত হবে না? 

“কোনো অসুবিধে নেই। ও ফোনের দিকে তাকায় না যখন ও খেলে, তাড়াতাড়ি যাও, বাচ্চাকে রেখে শিগগির চলে এসো। আমি অনেকের সাথে মিটিং-এ অপেক্ষা করছি। হে জঁ এর মধ্যেই খুব বিরক্তি দেখিয়েছেন।”

ইয়ারফোনে হে হাই শিয়াং-এর গর্জন শোনা যাচ্ছিলো। মিন হুয়ে চটপট বললো, “ঠিক আছে, সাও জিয়ে।”

ড্রাইভার গাড়ি ঘুরিয়ে চললো পূর্ব পিং রোডে। পাঁচ মিনিট পরে পৌঁছে গেলো ফোর সিজন্‌স টেনিস ক্লাবে। 

ছেলেকে কোলে নিয়ে মিন হুয়ে ফ্রন্ট ডেস্কে গেলো। দেখলো একটা মেয়ে একটা কম্পিউটারের সামনে বসে আছে। চটপট জানতে চাইলো, “কোন কোর্টে আছেন য়িন শু?” 

“কোচ য়িন? উনি তো খেলা শেষে সবে বেরিয়ে গেলেন। আপন ওঁকে পার্কিং লটে পেয়ে যাবেন।” 

“পার্কিং লট কোথায়?”

“পিছনের গেটে। সোজা গিয়ে, বাঁদিকে, একটা কাঁচের দরজা আছে। ওটাকে ঠেলে খুললেই হবে।”

মিন হুয়ে ভয় হচ্ছে যে ও বুঝি য়িন শুয়ের দেখা পাবে না। তাই ছেলেকে কোলে নিয়েও ও দৌড় লাগালো। কাঁচের দরজাটা দেখতে পেলো। দরজাটা ঠেলে খুলতে গিয়ে ও থমকে গেলো। 

দূরে, কালো টয়োটা এসিউভি-এর পাশে, একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে খেলার পোষাকে, কাঁধে একটা টেনিস ব্যাগ। যদিও আবছায়া কেবল, মিন হুয়ে চিনতে পারলো য়িন শুকে। কোমর পর্যন্ত ঝুলের নাইকির জার্সি পরা একটা মেয়ের সাথে কথা বলছে, দুজনে হাত ধরে আছে খুব ঘনিষ্ঠ ভঙ্গিমায়। কথার শেষে মেয়েটা গাড়িতে উঠলো য়িন শুয়ের সাথে, বসলো ড্রাইভারের পাশের সিটে।

গাড়ির ইঞ্জিন চালু করে য়িন শু মেয়েটাকে চুমু খেলো। মেয়েটা ছিটকে সরে গেলো না। মেয়েটা উদার ভঙ্গিমায় য়িন শুকে অভিবাদন জানিয়ে জবাবী চুমু দিলো। 

বুকের মধ্যে ধড়াস করে উঠলো মিন হুয়ের, শরীরের সব রক্ত জমা হলো ওর মুখে। ও মেয়েটাকেও চিনতে পারলো য়ে শও ঝেন বলে।

কী ভাবে? কী করে হতে পারে? এটা নিশ্চয়ই সত্যি নয়।

য়ে শও ঝেন হলো চেন জিয়া জুনের টিউটর যাকে মিন হুয়ে খুঁজে বার করেছে। মেয়েটা ভালো পড়ায়, বুদ্ধিমতী আর মননশীল, ওকে তাই অনেকেই পছন্দ করে।

পরে য়িন দি, সাও মুয়ের ছেলে, - তার লেখা শেখার জন্য টিউটরের দরকার পড়তে মিন হুয়ে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে ছিলো য়ে শও ঝেন-এর সঙ্গে। মেয়েটার পারিবারিক দুরবস্থার কথা মনে করে, মিন হুয়ের মনে হয়ে ছিলো একের বেশি রোজগারের জায়গা থাকলে মেয়েটার জন্য ভালোই হবে। য়ে শও ঝেনও রাজি হয়ে গিয়ে ছিলো মনের আনন্দে।

এগারো বছরের য়িন দি এখন একটা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে, মা-বাবার দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু শও ঝেন জানতো কী করে সেই বিদ্রোহীকে বাধ্য করবে যাতে সে লেখাপড়ায় মন দেয়, মন দেয় অধ্যাবসায়ে আর অনুশীলনে।

সাও মু তো খুব প্রশংসাও করেন শও ঝেনের সরলতা আর ক্ষমতার। সাও মু ভাবছে যে গরমের ছুটির সময়ে মেয়েটাকে কোম্পানিতে কাজও দেবেন। পার্ট-টাইম কাজ, প্রচার বা ওরকম কোনো জনমুখী বিভাগে।

মিন হুয়ে আশাই করতে পারে নি যে শও ঝেনের চরিত্রের ‘সারল্য’ এমন চেহারা নেবে, এতো তাড়াতাড়ি।

মিন হুয়ের ইচ্ছে করছিলো নিজের গালে চড় কষাতে। ও আশা করে নি যে ওর মানুষ চেনার ক্ষমতাটা এতো খারাপ। আগেও ভুল করেছে ও, চেং ছিরাংকে চিনতে, তার জেরে ও নিজের প্রাণও খোয়াতে বসে ছিলো।

আবার ও ভুল বুঝেছে য়ে শও ঝেনকে। আর অগ্নিকুন্ডে ফেলেছে সাও মুয়ের পরিবারকে।

এরা দুজনে শুরুটা করলো কবে?

মিন হুয়ে বুঝতে পারলো না ব্যাপারটা, আবার সাহসও করলো না ব্যাপারটাকে খুব বিশ্লেষণ করতে যদি ওর ব্যাখ্যা ভুল হয় তাই ভেবে। য়ে শও ঝেন আর চেন জিয়া জুন সাধারণত দেখা করে ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে। ওর সাথে মিন হুয়ের দেখাই হয় না প্রায়। মেয়েটার রেজিউমি ছাড়া মেয়েটার ব্যাপারে জানেও না কিছু। যা কিছু ভালো ভালো কথা ও মেয়েটার সম্বন্ধে শুনেছে তার অনেকটারই মূলে জিয়া জুন। মেয়েটা যখনই পড়ায়, তখনই খুব যত্ন নিয়ে তৈরি করে আনে পড়ানোর বিষয়বস্তুতে, অনেক কাগজপত্র নিজেই তৈরি করে এনে দিয়ে দেয় জিয়া জুনকে, জিয়া জুনকে বাড়ির কাজও দেয়।

এসব কথা ভেবে মিন হুয়ে আরো একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লো। এমনো কী হতে পারে যে জিয়া জুনও মেয়েটাকে পছন্দ করে?

  হাসপাতেলে থাকার সময়ে সু ছনের সঙ্গে থাকার জন্য কাউকে একটা দরকার ছিলো একবার। মেয়েটা তখন নিজেই সময় দিতে চেয়ে ছিলো সু ছনকে।

মিন হুয়ে ঘন্টা পিছু শ্রমের মূল্য হিসেব করে মেয়েটাকে পারিশ্রমিক দিতে চেয়ে ছিলো, কিন্তু মেয়েটা টাকাটা নিতেও চায় নি। পাঁচ দিনের ফাঁক পূরণের জন্য জিয়া জুন দু দিনের জন্য সাহায্য চেয়ে ছিলো শও ঝেনের কাছে। আর ও অমনি রাজি হয়ে গিয়ে ছিলো। তখন ও খুব জোর দিয়ে জানিয়ে ছিলো যে ও কিছুতেই সু ছনের সঙ্গে থাকার জন্য টাকা নেবে না।

মিন হুয়ে ভাবতেই পারে নি যে মেয়েটা এতো চটপট ‘কাজ’ শুরু করে দেবে। টিউটর বাড়ির পুরুষ কর্তাটির প্রেমে পড়ে গেলো দু সপ্তাহের মধ্যে। ও জানে না কে উদ্যোগটা নিয়েছে। যে নাইকির সেটটা পরে আছে শও ঝেন - মাথা থেকে পা পর্যন্ত - সেটার দাম কয়েক হাজার ডলার। য়ে শও ঝেনের যা রোজগার, তাতে ও কিছুতেই ওটা কিনতে পারে না। 

মিন হুয়ের ইচ্ছে হচ্ছিলো জানতে যে হচ্ছেটা কী। তারপর ভয় পেলো যদি দু জনেই অস্বীকার করে। দুজনেই বিব্রত হবে যদি দুজনেই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলতে না চায়। ওদের ওপরে দোষ দেওয়া হয়ে যাবে যে ওরা সমস্যা তৈরি করছে। 

সাও মুয়ের দিকটা কী হবে, ওকে বলবে কী বলবে না তা মিন হুয়ে জানে না।

এর মধ্যে য়িন শুয়ের গাড়ি টেনিস ক্লাব থেকে বেরিয়ে গেছে। 

বিরক্ত হয়ে মিন হুয়ে টেনিস ক্লাব থেকে বেরিয়ে এলো, ছেলেকে কোলে নিয়ে। একটা ট্যাক্সি নিয়ে গেলো শিয়াংহে বিল্ডিং-এ। ও মনে মনে ভাবছিলো যে কেউ যখন নেই যার থেকে সাহায্য পাওয়া যাবে, তখন বেহায়ার মতো সু ছনকে নিয়ে ও কোম্পানিতেই যাবে। আর ওকে অনেক কথা শুনতে হবে, যেমন ওকে সব সময়ে শুনতে হয়।



কথা শোনা অনেক ভালো, কাজের দেরি হবার থেকে। ও যখন গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে যাচ্ছিলো, হঠাৎ কেউ ওকে ডাকলো পিছন থেকে, “মিন হুয়ে।”

ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে পেলো য়িন শুকে। ও চমকে উঠলো আর কোনো মতে বললো, “হাই”।

“সাও মু ফোন করে ছিলো, বললো সু ছনকে নিয়ে যেতে।”

য়িন শু হাসি মুখেই কথা বলছিলো মিন হুয়ের সাথে।

মনে হচ্ছে যে ও এখনো জানে না। একটু দ্বিধা নিয়ে মিন হুয়ে বললো, “অসুবিধে হবে না তো?”

“কোনো অসুবিধে হবে না। আমি গলফ খেলা হয়ে যেতে, চলে এলাম।”

যখন কথা কটা বললো য়িন শু তখন ওর চোখ মুখ বেশ শান্ত, অস্বাভাবিক কিছু নেই। 

মিন হুয়ে তাকালো ওর গাড়ির দিকে। গাড়িতে কেউ নেই। এক মূহুর্তের জন্য মিন হুয়ে অবাক হলো যে ও নিজে কী ঘোরের মধ্যে স্বপ্ন দেখছিলো। ব্যাপারটা নিয়ে ভাবার পরে একটু ও আপন মনে অনুমান করে স্থির করলো যে য়িন শু নিশ্চয়ই য়ে শও ঝেনকে কলেজে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলো, কিন্তু ওর এতো সাহসও নেই যে ও ওর বউয়ের ফোনটা উপেক্ষা করবে, তাই ও নিশ্চয়ই য়ে শও ঝেনকে নামিয়ে দিয়েছে গাড়ি থেকে, আর নিজে এসেছে সু ছনকে নিতে। যদি দুজনের মধ্যে কিছু না থাকে তাহলে য়ে শও ঝেনের আর য়িন শুয়ের গাড়িতে বসতে কী অসুবিধে আছে? মেয়েটা ওর ছেলেকে পড়ায়, তাই খুবই স্বাভাবিক যে মেয়েটা য়িন শুয়ের গাড়িতে চড়তেই পারে। 

“তাহলে আমি তোমাকে খানিক ঝামেলা দি।” মিন হুয়ে দিয়ে দিলো সু ছনকে য়িন শুয়ের কোলে, “রাতে আমি ওকে নিয়ে আসব।”

“না, তোমার গাড়ি নেই, আগে থাকতে ফোন করবে, আমি ওকে ফিরিয়ে আনব।”

“দুওখোই নি।”

মিন হুয়ে সু ছনের মাথা চাপড়ে বললো, “ছন ছন, খানিক ক্ষণ শুশুর বাড়িতে খেলা করতে পারবে, কেমন?”

সু ছনের একটু অনিচ্ছে ছিলো মাকে ছেড়ে যাওয়াতে। মায়ের হাত ছাড়তে চাই ছিলো না কিছুতেই। 

চট করে য়িন শু বললো, “শও দি গ্য আর শও নিং জিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছে আজ দুপুরেই। ওরা তোমার সাথে খেলতে পারবে। শুশু একটা ভালো খাবার বানিয়ে দেবে তোমাদেরকে।”

সু ছন যখন শুনলো যে ওর প্রিয় দাদা আর দিদি ওর সাথে খেলবে বলে তৈরি, তখন ও য়িন শুয়ের কাছে যেতে দেরি করলো না, উঠে পড়লো য়িন শুয়ের কোলে।

দুজনে বিদায় জানিয়ে তাড়াহুড়ো করে চলে যেতে, মিন হুয়ে মনে অনেক সন্দেহ নিয়ে গেলো ওপরে।

***



সারা সকাল ধরে ছোটো বড়ো নানান মিটিং হয়ে গেছে। মিন হুয়ে কথা দিয়ে ছিলো যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সময়ের আগেই ও শেষ করে দেবে জিএস১.০-এর ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং ফাংশন, আর হে হাই শিয়াং-এর মুখে অবশেষে একটা হাসি জেগে উঠলো।

দুপুরে খাবার সময়ে, মিন হুয়ে রেস্টুরেন্টে চললো সাও মুয়ের পিছু পিছু। এক বাটি নুডল অর্ডার করে বসলো একটা নিরিবিলি জায়গা দেখে। মিন হুয়ে চুপচাপ দেখলো সাও মুকে। কিন্তু অস্বাভাবিক কিছুই চোখে পড়লো না।

দুজনে একসঙ্গে চার বছর কাজ করার পরে, সাও মু নিজের ক্ষমতার সুযোগে মিন হুয়েকে অনেক সুবিধে দিয়েছেন কাজের ক্ষেত্রে। তাতে মিন হুয়ে অনেক ভারি কাজ অন্যদের তুলনায় অনেক কম মাথাব্যাথা নিয়ে সম্পূর্ণ করতে পেরেছে। 

দুজনের বন্ধুত্ব ক্রমশ গভীর থেকে গভীরতর হয়ে উঠেছে। তাছাড়া ঝৌ রু জি আর য়িন শু একসাথে গলফ খেলে। ছুটিছাটায় দুই পরিবার অনেক সময়েই একসঙ্গে কাটায়। 

তা সত্ত্বেও, মিন হুয়ে আর সাও মু এতো ঘনিষ্ঠও নয় যে তারা সব কিছু নিয়ে কথা বলতে পারে একে অপরের সাথে। যাই হোক, দুজনের মধ্যে বয়সের ব্যবধান অনেকটা। মিন হুয়ের থেকে সাও মুয়ের বয়স ষোলো বছর বেশি। মিন হুয়ের গুরুজনেদের সমকক্ষ প্রায়। দুজনে আবেগমথিত বিষয়ে প্রায় কথাই বলে না, ওরা কথা বলে কম্পিউটার, টেকনোলজি, এআই নিয়ে যখন ওরা একত্র হয়। খুব উৎসাহের সঙ্গে দুজনে এইসব আলোচনা উপভোগও করে। মিন হুয়ে কখনো সু তিয়াঁ কিংবা শিন ছির কথা সাও মুকে বলে নি। চেং ছিরাং-এর ঘটনাটার কারণে, সাও মুয়ের ভয় ছিলো যে মিন হুয়ের মন খারাপ হবে। তাই মিন হুয়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো কথা বলার সাহস হয় নি সাও মুয়ের।

কোম্পানিতে সবাই মনে করে যে সাও মু খুব খুশি মহিলা আর তার বর খুব কাজের, শুধু লোকটা রোজগার করে না। 

“সাও জিয়ে, টেনিস ক্লাবটা বেশ খরচ সাপেক্ষ! য়িন শু গ্যগ্য এতো ভালোবাসে টেনিস খেলতে, তুমিও ওঁর সাথে খেলো না কেনো?”

নুডল খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলো মিন হুয়ে। 

“আমার ভালো লাগে। তবে আমি রোজ ওভারটাইম কাজ করি। আমার সময় কোথায়? আমি স্নান করে ঘুমিয়ে পড়ি।”

“জিয়ে, আমার মনে হয়, চাপটা তুমি নিতে পারবে। এতো কাজ আর দুটো বাচ্চা, আমি মোটেও তোমাকে রোজ দেখার জন্য ব্যস্ত নই।”

“এক ঘেয়ে নয়।” দীর্ঘশ্বাস ফেললো সাও মু, “সেই জন্য আমি ওষুধ খাই।”

“কী ধরনের ওষুধ?”

“প্যাক্সেটিন। শুনেছো এটার কথা কখনো?”

প্যাক্সেটিন


মিন হুয়ে মাথা ঝাঁকাল।

“মানসিক উদ্বেগ, অশান্তি, হতাশা এসব কাটাতে বছর খানেক হলো খাচ্ছি।”

“এতো ভয়ানক অবস্থা?”

“মেনোপজ। শেষবার যখন আমি সিএফডিএ করিয়ে ছিলাম, তখন এতো ব্যস্ত ছিলাম যে আমার স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুগুলোতে আঘাত লেগে ছিলো। আমার মনোযোগ দূর্বল হয়ে গেছে। আমি রোজ ঘোরের মধ্যে কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকি, কেবল আমার চোখ চারপাশে ঘোরে, আমি কোনো কাজে মন দিতে পারি না। ডাক্তার দিয়েছে আমাকে …”

ব্যাগের ভেতর থেকে ওষুধের একটা ছোটো বোতল বার করলো সাও মু, “একটা বড়ি, প্রতিদিন।”

“এটা তোমাকে শান্ত করতে পারে?”

“শান্তর থেকে বেশি কিছু করে। আমি আর কিছুতে উৎসাহ পাই না। আমি শুনেছি আমেরিকান মহিলারা ডিভোর্সের পরের মানসিক পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠেন এটার জোরে।”

মিন হুয়ে বোতলের ভেতরের সাদা বড়িটাকে দেখে হাসলো, “এটা তো চমৎকার। আমিও চাই এটা।”

সাও মু ওষুধের বোতলটা ছিনিয়ে নিয়ে গম্ভীর মুখে বললো, “একদম খাবে না। অনেক সাইড এফেক্ট আছে। আমাকে করতেই হবে -”

“য়িন শু গ্যগ্যকেই দাও না ভালো করে তোমার খেয়াল রাখতে।”

“ও আমাকে কিছুতেই ওষুধ খেতে দেবে না। সব বন্ধ হয়ে যাবে।”

সাও মু বাঁকা হাসি মেখে বললো, “ও তো আমরা যে কাজটা করি সেটা করে না, ও কী করে বুঝবে চাপটা কী।”

মিন হুয়ে বলতে চাইলো কী দেখেছে টেনিস ক্লাবের পার্কিং লটে, কিন্তু ও গিলে নিলো নিজের কথাগুলো।

হয়তো বলে দেওয়াটাই ঠিক কাজ, কিন্তু কাজটা ভালো না খারাপ সেটা ও জানে না। যদি সাও মু বিশ্বাস না করে, ওর হাতে কোনো জোরালো প্রমাণ নেই। হতে পারে যে বর-বউয়ের মধ্যেকার প্রেমটা কবেই গেছে, যে বন্ধুত্বটুকু আছে সেটাও যাবে, মিন হুয়ে কিছু বললে।

অফিসে ফিরে, প্রায় কোনো শব্দ না করে মিন হুয়ে ফোন করলো ঝৌ রু জিকে, প্যাক্সিল সম্পর্কে জানার জন্য। 

“একটা অ্যান্টিডিপ্রেসান্ট, অ্যাংসাইটি আর সোশ্যাল ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা করতেও ব্যবহার করা হয়।”

ঝৌ রু জি জানালো, “ফলাফল বেশ ভালোই।”

“সারা বছর খাওয়া কী ঠিক? শরীরে অন্য কোনো ক্ষতি হবে না তো?”

“সাইড এফেক্টঃ এক গাদা। ইন্সমনিয়া, দুঃস্বপ্ন, মাথাব্যাথা, বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘামা, চুলকানি, ওজন বেড়ে যাওয়া … এগুলো সবই ওষুধ নির্ভর, ফলে ওষুধটা চট করে বন্ধও করা যায় না। তাছাড়া যেটা খুব বেশি দেখা যায় সেটা হলো -” যোগ করলো ঝৌ রু জি, “যৌন ক্ষমতা চলে যাওয়া।”




~~~~~~~~~~~~

সম্পূর্ণ বই বিনামূল্যে : https://dl.bookfunnel.com/lcj5vznt96

Link to Previous Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/09/jpda-chapter-40.html

Link to following Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/09/jpda-chapter-42.html

Sunday, September 15, 2024

JPDA - Chapter 40

৪০. ভালুক ছানা


 শব্দগুলো উচ্চারণ করা মাত্রই মিন হুয়ে বুঝতে পারলো যে ওর কথাগুলো অসংলগ্ন। 

যখন ওর সাথে সু তিয়াঁর দেখা হয়ে ছিলো, তখন ও নিজে জীবনের তোলপাড়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলো। প্রথমত, ও নিজে এতো অসহায় বোধ করছিলো যে আত্মহত্যাই করবে স্থির করে নিয়ে ছিলো। তারপর নিজেকে দোষ দিতে দিতে প্রায় পাগল হয়ে গিয়ে একের পর এক বেপরোয়া কান্ড করে বসেছে।

পরে বাচ্চা কী করে জন্মাল তাই নিয়ে ওর নিজের বিভ্রান্তির সীমা ছিলো না, ও নিজেও কোনো সচেতন পরিকল্পনা নেয় নি।

যদি ও এ নিয়ে কথা বলতে যায় যে এসব ঘটলো কী করে, তাতে মনে হয় যে শিন ছির সাথে দেখা হবার জন্যই হয়েছে হয়তো।

তার আগে, মিন হুয়ের কোনো সম্পর্ক ছিলো না। আর শিন ছির সাথে কাটানো সময়টাই ওকে সাহস আর আশা জুগিয়েছে বেঁচে থাকার। যদিও ও জানে যে শিন ছির প্রেমটা ওর প্রতি ছিলো না, তবুও ও সেই স্মৃতিটা ভুলতে পারে না কিছুতেই।

অবচেতনে, ও ভেবেছে যেনো শিন ছির প্রেম ওর জন্যই। যেনো ওরা এখনো প্রেমমগ্ন। ও ঢং করতে পারে, ছল করতে পারে, শিন ছি এতো দুষ্টু যে ওকে অযৌক্তিক ব্যবহার করতে হয় সুবিধে পাবার জন্য …ও শিন ছিকে জানিয়েছে যে শিন ছির একটা ছেলে আছে, কারণ ও শিন ছির থেকে কথাটা লুকোতে চায় নি, শিন ছি দায়িত্ব নেবে এমন আশা ও করে নি। সব থেকে কঠিন সময়টা পেরিয়ে গেছে। ওকে এখন কোম্পানিতে উঁচু দরের কর্মকর্তাদের মধ্যেই ধরা হয় এখন। যদি না জিয়া জুনকে জুড়ে নিতো জীবনে, তাহলে ওর আর্থিক ক্ষমতা একটা বাচ্চাকে মানুষ করতে যা লাগে তার চেয়ে অনেক বেশিই হতো।

“এমন করলে কেমন হয়,” বললো শিন ছি, “পরের পাঁচ দিনের জন্য আমি আর সু ছন বেজিং-এ রইলাম। তোর কাজ হয়ে গেলে, তুই বেজিং-এ এসে সু ছনকে নিয়ে আসবি। চলবে?”

“বেজিং?”

“তোর সহযোগিতা করার সব রকম চেষ্টা আমি করলাম।” মিন হুয়ের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বললো শিন ছি, “আমিও বেশ কিছু কাজ পিছিয়ে দিয়েছি বাচ্চার দেখাশোনা করবো বলে। আমিও আরো কিছুদিন বিনচেং-এ থেকে যেতে চেয়েছি। কিন্তু আমি সত্যিই পারবো না।”

ওর গলার স্বরে আলোচনার সুর। মিন হুয়ে বিব্রত বোধ করবে, রাজি হতে না পারলে। তবুও ও অরাজি হলো, “তাহলে আমি তোকে আর বিরক্ত করবো না। বাকি পাঁচ দিনের জন্য আমি একটা ব্যবস্থা করে নেবো।”

শিন ছিকে বিব্রত করার জন্য এসব বলে নি। সু ছনের বয়স মাত্র তিন বছর, ও কখনো ওর মাকে ছাড়া থাকে নি। মিন হুয়ে ভাবতেও পারে না যে একটানা পাঁচদিন ছেলেকে না দেখে কাটবে কী করে - ও হয়তো হতবুদ্ধি হয়ে বসে থাকবে আর কাজেও মন দিতে পারবে না। পুরো জীবনে জানুয়ারির ভয়ানক শীতল আবর্ত নেমে আসবে।

“তুই কী আমাকে বিশ্বাস করতে পারছিস না, মিন হুয়ে?” ভ্রূ কুঁচকে জানতে চাইলো শিন ছি, “তোর অনুমতি ছাড়া আমি সু ছনকে দূরে কোথাও নিয়ে যাবো না। আমি আইন ভাঙবো না।”

“আমি তোকে নিশ্চয়ই বিশ্বাস করি।” মিন হুয়ে জানে যে শিন ছির উদ্দেশ্য খারাপ নয়, ও শিন ছিকে চটাতে চাইলো না, “কিন্তু আমি আমার ছেলেকে ছেড়ে অতগুলো দিন থাকতে পারবো না। যদি দিনে এক ঘন্টার জন্যও আমি ওকে দেখতে পাই, তাও চলবে, কিন্তু রোজ এক ঘন্টা অন্তত ওর সাথে দেখা হওয়া চাই।”

“এই মূহুর্তে, তুই জানিস, আমার ছেলের যা লাগবে তা এক ঘন্টা নয়, চব্বিশ ঘন্টা।”

“তুই কী বলতে চাইছিস? আমিও আমার পরিবারের খরচ চালানোর জন্য কাজে যাই - বাড়ি ভাড়া আছে, জল, ইলেক্ট্রিসিটি, ইন্টারনেটের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের খরচ আছে, চিকিৎসার খরচ আছে … সবের জন্যই টাকা লাগে।”

“আমার কোনো ধারণাই নেই। বাচ্চার তোকে দরকার, তুই যদি না পারিস ওর খেয়াল রাখতে, তুই ওর ব্যাপারটা আমার ওপরে ছেড়ে দিতে পারিস। কিন্তু তুই আমাকে বাধ্য করতে পারিস না যেভাবে তুই চাইছিস ঠিক সেভাবে আমি কাজটা করবো। যাই হোক, আমরা তো আর দম্পতি নই, আমরা একসাথে, এক ছাদের তলায় থাকিও না, এমন কী এক শহরেও থাকি না। এই অসুবিধেগুলোর সঙ্গে তোকে মানিয়ে নিতে হবে।”’

“না, সু ছন আমাকে ছেড়ে যেতে পারবে না। এটাই শেষ কথা।”

মিন হুয়ের জেদ যাবে না দেখে শিন ছি কম্পিউটারটা বন্ধ করে ব্যাগে পুরে রাখলো, বললো, “তাহলে তুইই ব্যবস্থা দেখ যা হোক।”

কথা বলে শেষ করে, ও হাঁটা লাগালো ওয়ার্ডের দিকে।

মিন হুয়ে জানতো যে শিন ছি রেগে আছে। তাই বিব্রত হলেও, মিন হুয়েও চললো ওয়ার্ডে শিন ছির পিছু পিছু। ওর অনেক কথা বলার আছে, চার বছরের ব্যবধান, জীবন কেমন চলছে, সার্জারির পর শরীর কেমন আছে … যাই হোক ওদের দুজনের নৈকট্য চামড়ার গভীরে, যতোই ঝগড়া করুক না কেনো, ওরা কোনো দিন পরস্পরের অপরিচিত তো হবে না আর। ও যদি মিন হুয়েকে কথা দেয় যে ও মিন হুয়ের ছেলেকে কেড়ে নেবে না, তাহলে কী ফিরে আসবে ছেলের সঙ্গে দেখা করতে? নাকি ও যে চলে যাবে আর কোনো দিনও ফিরে আসবে না? 

যাই হোক, এসব কথার কোনোটাই মিন হুয়ে মুখে বললো না। ও শুধু চেয়ারে বসে রইলো ক্যাবলার মতো, বেখাপ্পা, হাতের তালু আর পিঠে বিনবিনিয়ে উঠলো ঘাম। যবে থেকে ও মা হিসেবে একলা হয়ে গেছে, তবে থেকে সব কিছুর দায়িত্ব ও নিজেই নিয়েছে, কখনো ভাবে নি অন্য কারুর ওপর নির্ভর করবে। কোনো একটা কারণে শিন ছিকে দেখা মাত্র ওর মনে হয়েছে যে ওকে আর একলা দায়িত্ব নিতে হবে না আর বোঝাটা শিন ছির ওপরেও ফেলে দেওয়া যায়। ও নিজেও টের পায় নি যে ও কখন এতোটা দূর্বল হয়ে গেছে …

ও দেখলো শিন ছি বাথরুমে গেলো একটা দাঁত মাজার বুরুশ নিয়ে, মুখ ধোবার জন্য। যখন ফিরে এলো তখন ওর মুখটা ভিজে, টপটপ করে জল পড়ছে। কারণ হয়তো ও মুখ মোছার তোয়ালে নিয়ে যেতে ভুলে গিয়ে ছিলো। ও মুখে হয়তো ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিয়েছে কয়েকবার। ও টেনে সোজা করে নিলো একানে সোফাটা। কোটটা খুলে রাখলো, একটা পাতলা কম্বল চাপা দিলো গায়ে, মিন হুয়েকে উপেক্ষা করে ঘুমিয়ে পড়লো চোখ বন্ধ করে।

মিন হুয়ে হালকা পায়ে বিছানার কাছে গেলো, ছেলের কপালে একটা চুমু খেলো, তারপর চুপচাপ বেরিয়ে গেলো।

***

পরের দশ দিনে মিন হুয়ের সাথে শিন ছির প্রায় দেখাই হলো না। কারণ প্রত্যেক দিনই ও এতো ব্যস্ত রইলো যে প্রায় মাঝরাত পার করে দৌড়ে দৌড়ে ও হাসপাতালে গেলো সু ছনের কাছে।

সেই সময়ে শিন ছি হয় ঘুমিয়ে থাকে, নয়তো কাজ করে খেলাধূলোর ঘরে। মিন হুয়ে কেবল ছেলেকে একটা চুমু খেতে পারে, ছেলের হাতটা ধরতে পারে, আর নার্সকে একবার জিজ্ঞেস করে যে ছেলে কতোটা সুস্থ হয়েছে, তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে আসার আগে।

যে দিন সু ছন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলো, সেদিন মিন হুয়ে খানিকটা বেশি সময় বার করে দৌড়ে গেলো হাসপাতালে। ঝৌ রু জি জানালো যে ও নিজেই মিন হুয়ের হয়ে ডিসচার্জের সমস্ত কাজ সেরে রেখেছে। নার্সেরা ওয়ার্ড পরিষ্কার করে গুছিয়ে রেখেছে। মিন হুয়ে শুধু ছেলেকে নিয়ে গেলেই হবে।

“ওভারটাইম কাজ শেষ হয়েছে তোমার?” ঝৌ রু জি জানতে চাইলো, “তোমাকে তো কোনো ওয়ার্ড রাউন্ডের সময়েই আমি দেখলাম না। শিন ছি কেনো সব সামলাচ্ছে?”

“ডেডলাইনের জন্য। আমি যদি দাঁতে দাঁত চেপে কাজ করি, খুব খাটি তো চালিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু আমার ওপরওয়ালা রোজ আমার সঙ্গে যাচ্ছেতাই করছে। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। দিনে তিন ঘন্টারও কম সময় ঘুমোচ্ছি রোজ।”

“এতো চাপের মধ্যে টিকে থাকা সম্ভব? বেশি খাটনির সময়ে খেয়াল রেখো শরীরের।” পরামর্শ দিয়ে চলে গেলো ঝৌ রু জি। 

মিন হুয়ে দেখতে পেলো যে ঝৌ রু জি অন্যমনস্ক। হঠাতই দেখা গেছে যে ঝি ঝুয়ের ক্যান্সার ছড়াতে শুরু করেছে। ওকে রোজ হাসপাতালেও যেতে হচ্ছে। ওর মেজাজও এলোমেলো। মিন হুয়ে জানে যে রুগীর খেয়াল রাখার কাজটা কী কঠিন। মিন হুয়ে আর বিরক্ত করলো না ঝৌ রু জিকে।



নার্স বললো যে শিন ছি নিচের বাগানে নিয়ে গেছে সু ছনকে একটু হাঁটাহাঁটি করানোর জন্য। সু ছনের জামা কাপড় চটপট একটা ব্যাগে ভরে নিলো মিন হুয়ে। অনেক খেলনা জড়ো হয়েছে দেখতে পেলো। ওর মাথায় এলো না অতো খেলনা কী করে বাড়ি নিয়ে যাবে। যে অ্যাপার্টমেন্টে ও আর সু ছন থাকে সেটা এতো ছোটো যে তাতে এতো খেলনা আঁটবে না।

হাসপাতালে বচ্চাদের খেলার একটা জায়গা আছে। মিন হুয়ে ভাবছিলো যে যে সব খেলনাগুলো নিয়ে যাওয়া যাবে না, সেগুলো হাসপাতালকে দিয়ে দেবার কথা। কিন্তু ওর ভয় হচ্ছিলো এতে শিন ছি কিছু মনে করতে পারে। যাই হোক খেলনাগুলো সস্তা নয় মোটেই। শিন ছির অ্যাসিস্ট্যান্ট শেন হান একজন অবিবাহিত জোয়ান ছেলে। তার ধারণাই নেই যে অনেক কিছু নিয়েই তিন বছরের বাচ্চারা খেলতে পারে না। সু ছন যেমন কেবল লেগো, গাড়ি আর জানোয়ারের পুতুল পছন্দ করে। অন্য কিছু দুবার ছুঁয়ে দেখে হয়তো, কিন্তু তারপরে আর ঘুরেও দেখে না।

ও যখন বাগানে পৌঁছোলো তখন দূর থেকে দেখতে পেলো ফুলের সারির পাশ দিয়ে সু ছনকে হাত ধরে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শিন ছি। ওরা হাঁটতে হাঁটতে কথা বলছে, হাসছে, একটা ছোট্টো বাদামী রঙের বিড়াল বেরিয়ে এলো ফুলের সারি থেকে, মিন হুয়ে জানে না কোন পরিবার থেকে এসেছে বিড়ালটা তবে ওটার গলায় একটা নামের ফলক ঝুলছে। বেড়ালটার ডাকাডাকিতে অনেক বাচ্চা ওর চারপাশে জড়ো হয়েছে।

মিন হুয়ে হেঁটে গেলো শিন ছির কাছে, বললো, “নি হাও!” ফের জানালো, “হাসপাতাল ছেড়ে বেরোনোর সব কাজ হয়ে গেছে। তুই এবার চলে যেতে পারিস।”

সু ছনের চিকিৎসার খরচ কম নয়, যদিও সবটাই মিন হুয়ের কোম্পানির মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স থেকে হয়ে গেছে, তবুও মিন হুয়েকে তিরিশ হাজার য়ুআঁর বেশি দিতে হবে। টাকার পরিমাণটা নিয়ে মিন হুয়ে একটু চিন্তায় ছিলো। টাকাটা মেটাতে গিয়ে মিন হুয়ে টের পেলো যে শিন ছি টাকাটা আগেই দিয়ে দিয়েছে। 



শিন ছি বললো, “হুম্‌" আঙুল দিয়ে বাচ্চাদের ঝাঁকটাকে দেখিয়ে বললো, “ও ওদিকে আছে।”

মিন হুয়ে গম্ভীর চোখে শিন ছির দিকে তাকিয়ে বললো, “এই কদিন খুব চাপে কেটেছে। তোর সব কাজেরও অনেক দেরি হয়ে গেলো। ফিরে গিয়ে ভালো করে বিশ্রাম নে খানিক। তুই যে কোনো সময় এলেই সু ছনের সাথে দেখা করতে পারবি।”

“তোর কাজ এখনো হয় নি তো?” জানতে চাইলো শিন ছি।

“আশা করছি পাঁচ দিনে হয়ে যাবে।”

“তাহলে এই পাঁচ দিন কে আসবে সু ছনের দেখাশোনা করতে? কোনো ব্যবস্থা করেছিস?” 

“সাও মু, আমার ল্বব্যাঁ, কথা দিয়েছে যে একদিন দেখবে সু ছনকে। জিয়া জুন দেখবে দু দিন। বাকি দু দিনের জন্য আমি একটা কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে ডেকেছি। ও আসলে জিয়া জুনের টিউটর। ঐ দুদিনে ওর কোনো ক্লাস নেই। আমার মনে হয় যে মেয়েটা নরম স্বভাবের আর কাজের। তাই আমি ওকে একটু বেশি পয়সা দিয়েছি। ন্যানি পাওয়া সোজা, সব জায়গাতেই পাওয়া যায়, কিন্তু আমি তাড়াহুড়ো করে যে কোনো একজনকে নিতে পারবো না। উল্টোদিকে কলেজ পড়ুয়ারাই মানানসই। যাই হোক, লেখাপড়া করে তো। যদি কোনো বিপদ আপদ ঘটে তো আমি ওকে বলে দিয়েছি রু জিকে ফোন করতে। আমি রু জিকে বুঝিয়ে বলে দেবো।”

মিন হুয়ের ভয় হচ্ছে যে শিন ছির মনে হবে ব্যবস্থাটা যথোপযুক্ত নয়। তাই মিন হুয়ে অনেক কথা বললো শিন ছিকে, শিন ছি হেসে বললো, “তোর জীবন তো সত্যিকারের জোড়াতালি বন্দোবস্ত। তোর আত্মীয় বন্ধুর দল তো বেশ জোরালো, বসকেও তুই তোর মতো কাজে লাগাতে পারিস। নেমে পড় তোর আর্বি ঘোড়ার পিঠ থেকে।”

সুরটা সেই বিদ্রুপেরই, চোখের তারায় বিরক্তি।

“ল্বব্যাঁ নয়, ল্বব্যাঁর ল্বগোঁ।” বলেই মিন হুয়ে একটা ব্যাপক পরিচিতি হাজির করল য়িন শুয়ের : সারাদিনের জন্য রাঁধুনি, বাচ্চা দেখাশোনায় ওস্তাদ, অবসর প্রাপ্ত টেনিস খেলোয়াড় …।

“উনি ভীষণ কাজের। এইতো কদিন আগে দৌইনে খাবার আর অভিভাবকত্ব নিয়ে একটা চ্যানেল তৈরি করেছেন। শয়ে শয়ে হাজারে হাজারে ভক্ত ওঁর! আমি তো খুবই নিশ্চিন্ত ওঁর কাছে সু ছনকে রাখতে পেরে। ওঁদের পরিবারে আরো দুটি সন্তান আছে। দুজনেই সু ছনের থেকে বয়সে বড়ো। তিনজনে প্রায়ই একসাথে খেলা করে। ছন ছন তো খুব খুশি হয় ওদের ওখানে যেতে পারলে। ওখানে গেলে ওর আর বাড়ি ফেরার কথা মনেই হয় না। রু জিও আসে মাঝে মাঝে সাহায্য করতে। ইদানীং ওর বউয়ের শরীরটা ভালো যাচ্ছে না তাই আমার খারাপ লাগে ওদেরকে বার বার বিরক্ত করতে। “

“যদিও তোদের ডিভোর্স হয়ে গেছে, তবুও তোরা একে অপরের দেখাশোনা করিস। তোদের হৃদয় এতো বড়ো, এতে ওঁর স্ত্রী কিছু মনে করেন না?”

অপ্রত্যাশিতভাবে, শিন ছির মুখটা কালো হয়ে গেলো। মিন হুয়েও কথা হারালো প্রায়, “যদিও আমাদের ডিভোর্স হয় গেছে, তবুও ও তো সু ছনের বাবা বটে। আমাদের সম্পর্কটা খুবই ভালো। ওঁরা ওপরতলায় থাকতেন, আমরা নিচে, আমরা একসঙ্গে তাস খেলতাম।”

“তুই যদি ব্যাপারটাকে এতো সহজ করে দেখিস, তাহলে আর তুই নদীতে ঝাঁপ দিতে গিয়েছিলি কেনো?”

শব্দগুলো অনায়াসে বেরিয়ে এলো শিন ছির মুখ থেকে। মিন হুয়ে যখনই ঝৌ রু জির কথা বলে কোনো কারণে শিন ছি সহ্য করতে পারে না সেটা। শব্দ তিনটে শোনা মাত্র ওর মুখটা নীল হয়ে গেলো। মিন হুয়ে ভাবলো আপন মনে যে হয়তো শিন ছির অন্তরে ও নিজেকেই সু ছনের একমাত্র বাবা বলে মনে করে। এখন ও আবার বেজিং-এ ফিরে যাবে, সু ছন তার আগের পরিবেশে ফিরে যাবে, ফিরে যাবে দ্বিতীয় বাবার কাছে। সেই কথা মনে করে শিন ছি কষ্ট পাচ্ছে, ভাবছে হয়তো সু ছনের মন বদলে যাবে।

সু ছন বিড়ালের সাথে খেলা করছে বেশ খানিক ক্ষণ ধরে। মিন হুয়েকে দেখে ও মিন হুয়ের দিকে দৌড়ে এলো, শিশুসুলভ উত্তেজনায় চেঁচাতে লাগলো, “মা! বাবা! বিড়াল! বিড়াল! ওখানে একটা বিড়াল!”

ওর মুখে রোদ পড়েছে, মুখটা এতো স্পষ্ট যে মুখের কোথাও কোনো রোঁয়া লেগে থাকলে দেখা যাবে। সত্যিই ও ভালো করে সেরে উঠেছে। যদিও ও এখনো খুবই ছোটো, তবুও ওকে এখন স্বাভাবিক বাচ্চাদের মতো দেখাছে। সু ছন ভালোবাসে ইয়ুন লুয়ের রান্না খেতে, হাসপাতালে এসে থেকে ওর ওজন অনেক বেড়ে গেছে। ওর মখটা ফর্সা, কোথাও কোথাও রক্তাভা, কোথাও কোথাও গোলাপী, গায়ের রঙ ভারী মনোহর। সু ছন দৌড়ে ওদের কাছে এলো, একহাতে মিন হুয়ের হাত ধরলো, অন্য হাতে শিন ছির হাত, তিনজনের পরিবার, মনের আনন্দে টানতে টানতে নিয়ে গেলো ওদেরকে ফুলের ঝাড়ের দিকে।

মিন হুয়ে সামান্য বিব্রত বোধ করছিলো, ও এগিয়ে যেতে চাই ছিলো না, ওর পা চলছিলো ধীরে ধীরে। অন্য বাচ্চাদের বাবা-মায়েরাও কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে, ওঁদের সাথে থেকে থেকেই দেখা হয়েছে, যখন ওঁদের বাচ্চারা হাসপাতালে ছিলো, সবাই সবার খুব চেনা।

সবাই ওকে ‘ছন ছনের মা’ বলে ডাকে, ওঁরা জানেন যে মিন হুয়ে একলাই থাকে সু ছনকে নিয়ে। এখন এর মধ্যে একটা অদ্ভুত লোক হাজির হয়েছে, যে নিজেকে ছেলেটার বাবা বলে জানান দিচ্ছে। ও জানেই না যে এর কী ব্যাখ্যা দেবে ও, যদি কেউ ওকে কিছু জিজ্ঞেস করে।

মিন হুয়ে ভাবতে পারে নি যে শিন ছি এর মধ্যেই সবার সঙ্গে আলাপ করে নিয়েছে আর সবার সাথে খুব সহজে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলতে লাগলো। সবাই কলকল করে ডাক দিলো, ‘ছন ছনের মা’। ‘ছন ছনের বাবা’, যেনো ওরা সত্যিকারের দম্পতি। 

দুজনে বাচ্চার সঙ্গে বিড়ালটার সঙ্গে নানান মস্করা করলো অনেক ক্ষণ ধরে। মিন হুয়ের ভীষণ ইচ্ছে করছিলো বিড়ালটাকে ধরতে।

মিন হুয়ে মাত্র আধঘন্টার ছুটি নিয়ে ছিলো ওর বাচ্চাকে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে যাবার জন্য। কারণ বাড়ি, হাসপাতাল আর কোম্পানি সবই খুব কাছাকাছি। অনুমতি পাওয়া গিয়ে ছিলো যে বাচ্চাকে সাময়িকভাবে হাসপাতাল থেকে এনে কোম্পানিতেই রাখা যাবে। কারণ সাও মুয়ের এখনো ছুটি হয় নি আর য়িন শু দুপুরের আগে ওকে নিয়ে যেতে পারবে না।

অনেক কাজ। হে হাই শিয়াং ভয় পাচ্ছে যে কাজটা মিন হুয়ের টিম সময় মতো করে শেষ করতে পারবে না। সেই জন্য তিনি নিজে মিন হুয়েদের সঙ্গে বসে থাকেন একসাথে আর সকলকে অনুনয় করতে থাকেন কাজ করার জন্য, কিন্তু ওঁর হাতে যেনো একটা অদৃশ্য চাবুক আছে। কিন্তু শিন ছি বাচ্চাটার সাথে আরো খানিক ক্ষণ থাকতে চায় নিশ্চয়ই। আন্তরিকভাবেই কথা বলে চলেছে, যাবার কোনো ইচ্ছেই দেখাচ্ছে না।

মিন হিয়ের নজরে এলো যে একটা ছেঁড়াখোঁড়া ভালুক ছানা এক হাতের মুঠোর মধ্যে ধরে আছে সু ছন। কোনো এক সময়ে একটা চোখ খুবলে নেওয়া হয়েছে। আর সাদামাটা করে জায়গাটা কেউ ছুঁচসুতো দিয়ে সেলাই করে দিয়েছে। প্রথমবার চোখ পড়লে ভয়ানক দেখায়। মা ঠিক জানে বাচ্চার হাতের খেলনাটা কোথা থেকে এসেছে। ভালুকটা নিশ্চিত সু ছনের নয়। মিন হুয়ে জানে না ও কোথা থেকে কুড়িয়েছে ওটা নাকি হাতিয়ে নিয়েছে ওটা অন্য কোনো বাচ্চার থেকে। ওর ভয় হলো যে খেলনাটা নোংরা হতে পারে। সেই জন্য ও ভালুকটা সু ছনের হাত থেকে টেনে নিয়ে নিতে গেলো, “ছন ছন, এই ভালুক ছানাটা তোমাকে কে দিয়েছে? আমরা এটা নিতে পারবো না। যার জিনিস তাকে ফেরত দিয়ে দাও।”

অপ্রত্যাশিতভাবে সু ছন পুতুলটাকে জড়িয়ে ধরলো দু হাত দিয়ে, মাথা নেড়ে বললো, “এটা ভালুক। এটা বাবা আমার কাছে রেখে যাচ্ছে। বাবা ব্যবসার কাজে যাচ্ছে তো, সেই জন্য আমাকে দিয়েছে যাতে আমি বাবার হয়ে এর খেয়াল রাখতে পারি, এর যত্ন করতে পারি।”

মিন হুয়ের বিশ্বাস হলো না, ও এক ঝলক দেখলো শিন ছির দিকে, শিন ছি তখনো ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কথা বলে চলেছে। মিন হুয়ে জানতে চাইলো, “বাবা তোমাকে অনেক নতুন খেলনা দেয় নি? এই ছোট্টো ভালুকটা নোংরা আর ছেঁড়া। এটাকে আঁকড়ে থেকো না। একটা পরিষ্কার দেখে খেলনা নাও। ঠিক আছে?”

“না! আমি অন্য খেলনা নেবো না!” সু ছন চেঁচিয়ে উঠলো, “এই ভালুকটা দু নম্বর মা আমার জন্য রেখে গেছে।”

“কী?”

“বাবা বলছে আমার দুজন মা আছে। তুমি এক নম্বর মা, আর আরেক জন আছে, দু নম্বর মা।”

এটা শুনে মিন হুয়ের ভীষণ রাগ হলো, “দু নম্বর মা মানেটা আবার কী!”

“দু নম্বর মা কোনো ভুত নয়। বাবা বলেছে যে দু নম্বর মায়ের নাম সু তিয়াঁ।”

মিন হুয়ের মুখ কালো হয়ে গেলো। ও এতো রেগে গেলো যে ওর হাত কাঁপতে লাগলো। ও রাগ চেপে সু ছনকে বললো, “ছন ছন, ওদিকে গিয়ে হুয়া হুয়া দিদির সাথে খানিক ক্ষণ খেলা করো।”

সেটা শুনে সু ছন দৌড়ে ফুলের ঝাড়ের দিকে চলে গেলো।

সু ছনকে দূরে চলে যেতে দেখে মিন হুয়ে ডাক দিলো, “শিন ছি, এদিকে আয়।”

শিন ছি সবাইকে অভিবাদন জানালো। তারপর মিন হুয়ের দিকে এলো পায়ে পায়ে। ওর হাতে ভালুক ছানা পুতুলটা দেখে বুঝে গেলো যে মিন হুয়ে কেনো চটেছে। চুপ করে দাঁড়ালো, কোনো কথা বললো না।

“তোকে জিজ্ঞেস করছি,” গর্জে উঠলো মিন হুয়ে, “দু নম্বর মায়ের ব্যাপারটা কী?”

“এই ছোট্টো ভালুকটা আমাকে সু তিয়াঁ দিয়ে ছিলো, আমি যখন অনাথাশ্রম ছেড়ে যাই।” হালকা চালে বললো শিন ছি, “এটা আসলে আমি এনে ছিলাম ওর জন্য। এটা আমার সঙ্গে আছে এতোগুলো বছর। আমি ব্যবসার কাজে কোথাও গেলেও এটা সঙ্গে নিয়ে যাই। এতে আমার গন্ধ লেগে আছে। তাই এটা আমি সু ছনকে দিয়ে গেলাম।”

যেনো ফুটন্ত জলে সেদ্ধ হয়েছে মিন হুয়ে, “সু তিয়াঁ আমার প্রাণ বাঁচিয়েছে। কিন্তু সু ছনের সঙ্গে ওর কোনো সম্পর্ক নেই! আমি সু ছনের একমাত্র মা। দয়া করে বাড়াবাড়ি করিস না। বাবার অভিযোগ অনুযোগগুলো ছেলের মনে পুঁতে দিস না।”

বলেই ও ছোট্টো ভালুকটা ছুঁড়ে দিলো শিন ছির হাতে। 

“কোনো সম্পর্ক নেই? কিছুই যায় আসে না?” শিন ছি বিদ্রুপ করলো, “তাহলে ওকে ‘সু’ পদবীটা দিয়েছিস কেনো? কেনো ওকে ‘মিন’ পদবীটা দিস নি?”

“আমি কখনো ভুলতে চাই না -”

“এই বাচ্চাটা” নিচু স্বরে বললো শিন ছি, “তুই সু তিয়াঁ হবার ভান করে ছিলি, তার ফল - তুই আমার অনুমতি নিস নি যখন তুই ওর জন্ম দিয়েছিস। ও তোর বাচ্চা নয়, মিন হুয়ে। ও আমার আর সু তিয়াঁর বাচ্চা! সু তিয়াঁ হারিয়ে গেছে, মনে করিস না যে এই ব্যাপারটা মিটে গেছে, চেষ্টাও করিস না বাচ্চাকে ব্যবহার করে আমাকে নিয়ন্ত্রণ করার। তুই ওকে কিছুক্ষণের জন্য আমাকে বাবা বলে ডাকতে দিলি, আর আমার সাথে ওকে যেতে দিলি না কিছু দিনের জন্য, আমি এভাবে ছিনিমিনি খেলা পছন্দ করি না। আমাকে বলিস না যে তোর একটা ছেলে আছে! এখন আমি জানি আমার একটা ছেলে আছে কিন্তু আমি কিছুতেই তাকে কাছে পাবো না, তুই কী বুঝিস ব্যাপারটা কেমন? এবার বল আমাকে, আমাকে বল তুই, আমার কী করা উচিৎ।”

ও ক্রমশ গর্জাতে লাগলো, ওর গর্জন যতো বাড়ল, ততো ঘন হলো ওর মুখের বেগুনী মেঘটা। মিন হুয়ে মুঠোতে পাকাল হাত, যেনো ছিঁড়ে ফালা ফালা করে দেবে শিন ছিকে। 

“আমার ভুল হয়েছে।” জোর দিয়ে বললো মিন হুয়ে, “আমার তোকে বলাই উচিৎ হয় নি যে আমার একটা ছেলে আছে। এখন ভান কর যে আমি তোকে কিছু বলি নি! তুই ওর সামনে সু তিয়াঁর নাম বলতে পারবি না। আমি মানা করছি! বাচ্চার সঙ্গে সু তিয়াঁর বিষয়টার কোনো সম্পর্ক নেই, ওকে এর মধ্যে টেনে আনিস না। আমার বাচ্চার জন্ম হতে দশ-দশটা মাস লেগেছে, যদি তুই দশ হাজার ডায়াপারও বদলাস, তাও তুই বাচ্চাকে আমার থেকে কেড়ে নিতে পারবি না! ঝেইজিয়া!”

মিন হুয়ে কয়েক পা গিয়ে জড়িয়ে ধরলো সু ছনকে দু হাতের মধ্যে, বিরক্ত মনে। দ্রুত চলে গেলো হাসপাতালের দরজার দিকে। সু ছনও টের পেলো মিন হুয়ের সারা মুখে ছড়িয়ে থাকা রাগটার আঁচের, কঠিন হয়ে উঠে ফোঁপাতে শুরু করলো।

যখন সু ছন দেখলো যে মিন হুয়ে ওকে নিয়ে শিন ছির থেকে ক্রমশ দূরে চলে যাচ্ছে, ও কাঁদতে শুরু করলো, “বাবা! আমার বাবাকে চাই! বাবা! বাবা!”

সু ছনকে কাঁদতে দেখে মিন হুয়ে নরম সুরে ওকে ভোলাতে লাগলো। আর দ্রুত গেট দিয়ে বেরিয়ে চলে গেলো। একটা ট্যাক্সিতে বসলো আর কোম্পানিতে চলে গেলো।



~~~~~~~~~~~~

সম্পূর্ণ বই বিনামূল্যে : https://dl.bookfunnel.com/lcj5vznt96

Link to Previous Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/09/jpda-chapter-39.html

Link to following Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/09/jpda-chapter-41.html

Readers Loved