Sunday, September 29, 2024

JPDA - Chapter 54

 ৫৪. অ্যাকুইজিসন



পরের দুটো সপ্তাহ কাটলো অবাক নিস্তব্ধতায়।

কোনো খবর নেই হেড কোয়ার্টার্স থেকে। হে হাই শিয়াং-ও রহস্যময় হয়ে উঠছে কেমন যেনো।

বহুবার সাও মু চেষ্টা করেছে হে হাই শিয়াং-এর থেকে খবর বার করার, কিন্তু উত্তরে হে হাই শিয়াং একটাই বাক্য বার বার বলেছে, “আমার পরিস্থিতিতে বলা সম্ভব নয়, আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।”

একই সময়ে হে হাই শিয়াং ক্ষান্ত দিলো ম্যানেজমেন্ট টিমের লোকেদের নানান খুঁত খুঁজে বের করায়। সবাই চুপচাপ টের পেতে লাগলো যে বা’অ্যান একটা মোড়ে উপস্থিত যেখানে চোরা স্রোত চলছে।

কিছুই শোনা যায় না।

ম্যানেজমেন্ট টিম মিটিং-এর পর মিটিং করে চললো। সবাই অস্বস্তিতে।

শুধু মিন হুয়ে ছাড়া সবাই নিজেদের তৈরি করে ফেলেছে। মিন হুয়েই খোলাখুলি জানিয়ে দিয়েছে যে ও কিছুতেই চেং ছিরাং-এর সঙ্গে কাজ করবে না।

একটা সফল এমবিও নিশ্চয়ই একটা নতুন শুরু যে কোনো মানুষের কর্মজীবনে। গুয়ান ছাও কিংবা দং লি  সফল কোম্পানি, কিন্তু শেষে কী হবে তা কিছুতেই বলা যায় না।

ভালো অথবা মন্দ - দুয়ের কথাই ভাবা যেতে পারে। দুটো কোম্পানিই খুব বড়ো। ওরা কর্মীদের চিকিৎসার জন্য যে সাহায্য দেয়, অন্যান্য সুবিধে যা দেয়, শিল্পমহলে ওদের কদর - সবই বা’অ্যানের তুলনায় অনেক বেশি। 

অন্য একটা কোম্পানি অধিগ্রহণ করাটা যেনো একটা পয়সাওয়ালা লোকের বাড়িতে একটা দরিদ্র মেয়ের বউ হয়ে যাবার মতো।

যাই হোক, সমস্ত প্রশাসনিক বিভাগ, কর্মী, প্রজেক্ট - সবই ঢেলে নতুন করে সাজানোর জন্য যা কিছু পরিবর্তন সে সবের মধ্যে দিয়ে যাবে। বলা কঠিন যে কর্তৃস্থানীয়, নেতৃস্থানীয় কর্মীদের রাখা হবে নাকি ছেঁটে ফেলা হবে।

সবাই যে বিষয়টা নিয়ে চিন্তিত সেটা হলো গুয়ান ছাওয়ের সাথে সামিল হয়ে যাওয়া।

গুয়ান ছাও-এর নিজেরই একটা বেশ শক্তিশালী আর অ্যান্ড ডি কেন্দ্র আছে। তিনশোরও বেশি কর্মী নিয়ে। সবাই উচ্চশিক্ষিত, অর্ধেকের বেশি বিদেশ ফেরতা। সহজেই বলা যায় যে প্রতিভার অভাব নেই। ওদের কাজ-কারবার প্রায় সবই বা’অ্যানের মতো। 

দিঁ য়িফঁ, যাকে বা’অ্যান তাড়িয়ে দিয়েছে যৌন হেনস্থার অভিযোগে, সে চেং ছিরাংএর থেকে প্রচুর প্রশংসা পেয়েছে গুয়ান ছাও-তে কাজ করে। যদি বা’অ্যানকে গুয়ান ছাও অধিগ্রহণ করতে পারে তাহলে বা’অ্যানে প্রচুর কর্মী ছাঁটাই হবে, আর যে পদের লোককে সহজে সরানো যায়, যেমন পার্সোনেল ডিরেক্টর এবং সেলস ডিরেক্টর, তাদের বিপদ আরো বেশি।

য়িন শুয়ের মাতলামির ব্যাপারটার পরে, মিন হুয়ে আর শিন ছি আবার আগের মতোই তাল মিলিয়ে চলতে লাগলো। দুজনে এক শহরেই বাস করে, দুজনের একটাই সন্তান, শিন ছির হোটেল আর মিন হুয়ের অ্যাপার্টমেন্ট একই চৌহদ্দিতে, কিন্তু ওরা পরস্পরের মুখোমুখি হতে চায় না।

শিন ছি দুপুরে বা বিকেলে সু ছনের কাছে যায়, কখনো ওর সাথে একবার খেতে আসে, একটা ছোট্টো ঘুম দিয়েও যায় কখনো, কখনো ওকে কোনো মিউজিয়ামে নিয়ে যায় আঁকা ছবি দেখাতে, অথবা কোনো অ্যামিউজমেন্ট পার্কে বাম্পার কার চড়তে যায়। যাতায়াতের ছন্দটা হলো দিনে একবার।

অবশ্যই মিন হুয়েকে ওভারটাউইম করতে হয় কখনো কখনো, অথবা অন্য কাজ থাকে, কাজের জায়গা ছেড়ে বেরোতে পারে না, তখনো শিন ছি এসে সু ছনের দেখাশোনা করে। যদি ও নিজে আসতে না পারে তো ও ইয়ুন লুকে পাঠায় আর বেবি সিটারও।

মিন হুয়ের দায়িত্ব পুরো রাতটার। সপ্তাহান্তের দুটো দিনের দায়িত্ব একদিন করে দুজনের প্রত্যেকের ঘাড়ে।

সমস্ত যোগাযোগ চলে টেক্সট মেসেজে। সহজতম বাক্যে, সব থেকে কম সংখ্যক শব্দে, ঝগড়া নেই, অনুযোগ নেই।

শিন ছি লেখে, “শনিবার দুপুর তিনটে নাগাদ আসবো, সু ছনকে নিয়ে ওসান পার্ক যাবো, পার্কেই রাতের খাবার খাবো, সাতটার সময়ে বাড়ি ফিরবো।”

মিন হুয়ে সম্মতি দেয়, “ওকে।”

***

মিন হুয়ে জানায়, “সু ছনের হলুদ সোয়েটারটা পাচ্ছি না। হারিয়ে গেছে?”

শিন ছি আশ্বস্ত করে, “আমার কাছে আছে।”

***

শিন ছি জানায়, “কাল থেকে পরের দু দিন আমি বেজিং-এ থাকবো। এই উইকেন্ডে তোকে একলা বাচ্চা সামলাতে হবে, ওকে?”

মিন হুয়ে আশ্বস্ত করে, “ওকে।”

***

মিন হুয়ে জানায়, “সু ছনের আর্ট ক্লাসে পরের টিউশন ফি দিতে হবে, বত্রিশশো য়ুঁআ।”

শিন ছির প্রশ্ন, “কার্ডটা কী হারিয়ে গেছে?”

মিন হুয়ে উত্তর দেয়, “না হারায় নি, আমি জানাচ্ছি তোকে।”

শিন ছির প্রত্যুত্তর, “বুঝলাম।”

***

মিন হুয়ে জানালো, “একটা মিটিং-এর জন্য ঝৌ রু জি গেছে গুয়াংঝৌ। আমাকে হাসপাতালে যেতে হবে ঝি ঝুকে দেখার জন্য।”


শিন ছি মনে করিয়ে দেয়, “এসব কথা আমাকে বলার দরকার নেই।”

মিন হুয়ে ব্যাখ্যা করে, “তার মানে আমি বুধবার রাতে হাসপাতালে থাকবো। তুই কী সু ছনকে তোর সঙ্গে রাখতে পারবি?” 

শিন ছি কাজের কথায় এলো, “কটার সময়ে আসতে হবে বল?”

মিন হুয়ে উত্তর দিলো, “সাতটায়।”

শিন ছি সম্মত হলো, “ওকে।”

****

মিন হুয়ে ইয়াও ঝি ঝুয়ের সঙ্গে রইলো পরপর চার দিন। ঝি ঝুয়ের স্তনের ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে বড়ো করে লিভারে থাবা বসিয়েছে, সেটাকে বাগে আনার জন্য কেমোথেরাপি চলছে। তার সঙ্গে তলপেটের গহ্বরেও মেটাস্ট্যাসিস হয়েছে। ক্যান্সার ধরেছে কোমরে নিচের দিকে মেরুদন্ডেও। ও যেনো রোগা হতে হতে হাওয়াতে মিশে যাবে প্রায়, কেবল মাত্র ব্যাথা আর বমি ছাড়া প্রায় কিছুই বলতে পারছে না, ওর খিদেও নেই একদম। কেমোথেরাপিতে ওর বমি আর ডায়ারিয়া শুরু হয়েছে, পাকস্থলীতে টান ধরেছে, খুব জ্বর, কোমা, সারা শরীরে জলাভাব, কিছুতেই ঘুমোতে পারছে না ব্যাথা মারা ইনজেকশন না দিলে। ঝি ঝুকে দেখতে দেখতে মিন হুয়ের কেবল মনে পড়ে যাচ্ছিলো ওর নিজের মায়ের শেষের দিনগুলোর কথা, কিছুতেই ও নিজেকে রুখতে পারছিলো না সেই দিন গুলোর কথা না মনে করে, যখন মায়ের ওপর অত্যাচার চলছিলো কেমোথেরাপির যাতে মায়ের বেঁচে থাকাটা মৃত্যুর থেকেও দুর্বিষহ হয়ে যায়।




এক রাতে ঝি ঝু হঠাৎ জেগে উঠলো, যদিও প্রায় সারা দিনই ও ঘুমিয়ে থাকে, মিন হুয়ের হাতে হাত রেখে বললো, “শও হুয়ে, আমার হয়তো খুব বেশি দিন নেই …”

“কী যা-তা বলছো, তাই কী করে হয়! রু জি তোমার জন্য সব থেকে নতুন নতুন ওষুধ ব্যবহার করছে বলে কথা …”

“কোনো কাজে লাগে না।”

ওর মুখটা ফ্যাকাসে, খুব কষ্ট করে হাসলো, “আমি তৈরি।”

ঝি ঝু – –”

“যারা তৈরি তারা কেউই এই ব্যাপারটার জন্য তৈরি নয় …”

মিন হুয়ে জানে না যে কী বলা যায়। 

“আমি শুনেছি যে তোমার মা-ও ক্যান্সারে মারা গেছেন। সব কিছুর মধ্যে দিয়ে যাবার পরে বলা যায় যে তোমার এসবের অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে।”

“তা বটে …” বাঁকা হাসি নিয়ে বললো মিন হুয়ে।

“ছিং, আমাকে সাহায্য করো তৈরি হতে।”

যদিও ঝি ঝু ভীষণ অসুস্থ আর বিকট দেখতে হয়ে যাচ্ছে সমানে, তবুও মিন হুয়ের মনে হলো যেনো এখনো ঝি ঝু সুন্দরী। ওর মুখশ্রীর সূক্ষ্ম অংশগুলো আর ত্রিমাত্রিক রৈখিকতা, বিশেষ করে একজোড়া আমন্ডের মতো চোখ, রোগা মুখে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যেনো।

মিন হুয়ে মাথা নিচু করে খানিকক্ষণ ভাবলো, তারপর বললো, “যদি তেমন সময় ঘনিয়ে আসে তো, আমি কথা দিলাম।”

“শিয়া শিয়া।” ঝি ঝু হাত চেপে ধরলো মিন হুয়ের, “আমি সব সময়ে ভেবেছি যে ও ওর ক্যারিয়ারটাকে আমার থেকেও বেশি ভালোবাসে, কিন্তু ব্যাপারটা সে রকম নয়। আমি ওর জীবনের একটা অংশ, আর আমার ক্যারিয়ারও ওর জীবনের একটা অংশ, আর এই দুটোর মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা নেই।”

দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, “আমি যদি প্রতিযোগিতায় না যেতাম, তাহলে আমি জীবনের আরো চারটে বছর ওর সাথে কাটাতে পারতাম …”

“সবারই কম বেশি মেজাজ আছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রতিযোগিতা স্বাভাবিকও।”

“শও হুয়ে, আমি যাবার পরে, তুমি কী ওর সঙ্গে থাকতে পারবে?” হঠাৎ জানতে চাইলো ঝি ঝু।

“না।” মিন হুয়ে ওর দিকে তাকিয়ে হাসি মুখে বললো, “আমার যে অন্য এক জন আছে।”

“ওকে।”

দীর্ঘশ্বাস ফেললো ঝি ঝু, “তাহলে আমার রু জির জন্য রইলো কেবল ঐ নার্সদের একজন কেউ।”

ঝৌ রু জিকে নার্সেরা ভালোবাসে তার ভালো স্বভাবের জন্য, কোনো অহঙ্কার নেই, ঠাট্টা করতে ভালো বাসে।



যখন ওর আর ঝি ঝুয়ের ডিভোর্স হয়ে গিয়ে ছিলো, তখন ওর মন পাবার জন্য অনেক নার্স চেষ্টা করেছে। একেক সময় খুব বাড়াবাড়ি হলে, ওকে পাঁচজন নার্স একসাথে ভালোবেসে দুপুরের খাবার দিয়ে গেছে।

“অমন কথা ভেবো না।” মিন হুয়ে কেবল ওকে স্বান্তনা দিলো মাত্র, “তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে।”

মিন হুয়ে রাত নটার সময়ে অ্যাপার্টমেন্টে ফিরলো। নিচের হলে মুখোমুখি হয়ে গেলো লিন শি য়ুয়ের। এক কোণে সোফায় বসে ছিলো ও। মন দিয়ে ল্যাপটপে কিছু খুঁটিয়ে দেখে চলে ছিলো, নিচু স্বরে একটা ব্লুটুথ হেডসেটে কথা বলে চলে ছিলো।

ও এতো মনোযোগ দিয়ে কাজ করছিলো যে মিন হুয়ে পাশ দিয়ে চলে যেতেও ও খেয়াল অবধি করলো না। মিন হুয়ে এলিভেটরে পা রাখলো মাথা ভরতি অনুমান নিয়ে, চাবি ঘুরিয়ে দরজা খুললো, আর দেখলো যে শিন ছি বসার ঘরের সোফায় বসে আছে, আর কম্পিউটারে কাজ করছে। ওর চারপাশে নানা ধরণের চিহ্ন, বিটস হেডসেট পরে আছে কানে, মনে হচ্ছে একটা মিটিং-এ আছে। ও নিচু স্বরে ইংরেজিতে কথা বলছে। ও যেই মিন হুয়েকে আসতে দেখলো, অমনি ও ওর ফোনটা মিউট করে দিলো, হেডফোনটা খুলে ফেললো, বললো, “নি খো লাইলে মা?”

“হ্যাঁ।” পায়ে চপ্পল গলিয়ে নিলো মিন হুয়ে।

শিন ছি নিজের ব্যাগে কাগজপত্র পুরে নিলো, ওর দিকে এক ঝলক দেখলো, বললো, “ছন ছন এর মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েছে। আমার কিছু কাজ আছে। আমাকে কোম্পানিতে ফিরে যেতে হবে।”

“আমি এই মাত্র নিচে লিন শি য়ুয়েকে দেখলাম।”

“আমরা একটা এগ্রিমেন্ট খুঁটিয়ে দেখছি। ওর তাড়া আছে। ও ওপরে আসতে পারবে না। তাই ফোনেই কথা বলতে হলো।”

“শিন ছি, আমি লিন শি য়ুয়েকে এই বাড়িতে দেখতে চাই না।” বললো মিন হুয়ে খুব গম্ভীর ভঙ্গিমায়।

“ও আমার সেলস্‌ ডিরেক্টর, এটা একটা সেলস্‌ ডিল, এটা একটা কাজ।”

“আমি ওকে দেখতে পারি না।” চেঁচিয়ে উঠলো মিন হুয়ে।

“সেই জন্যই আমি ওকে ওপরে আসতে দিই নি।” শিন ছির স্বর শান্ত।

“এটা ঠিক নয়। আমি ওকে আমার চোখের সামনে দেখতে চাই না!”

“তোর কথা আমি শুনব কেনো?” ঠান্ডা স্বরে বললো শিন ছি, “তুই নিজেকে কী মনে করিস?”

“লিন শি য়ুয়ে মিথ্যেবাদী।”

“হতে পারে। তুইও নস কী?”

মিন হুয়ে নিজের শোবার ঘরে ঢুকে গিয়ে দরজাটা জোরে বন্ধ করে দিলো।

দশ মিনিট পরে ও দরজা খুললো। ততোক্ষণে শিন ছি চলে গেছে।

****

হপ্তা দুয়েক পরে একটা ভালো খবর এলো।

এএআর জানালো সাও মুকে যে য়ুআঁলাই একটা উত্তর দিয়েছে আর ওরা ম্যানেজমেন্ট টিমের দরে আর শর্তে সন্তুষ্ট। এমনকি ওরা একটা কাঁচা বিক্রির চুক্তিও সই করেছে।

সমস্ত কাগজপত্র তৈরি হলে পর, দুটো কোম্পানি প্রথাসিদ্ধ চুক্তি সই করতে পারবে দিন তিনেক পরে।

একটা বড়ো পাথর যেনো নেমে গেলো ঘাড় থেকে মাটিতে। সবাই উল্লাস না করে থাকতে পারলো না। ব্যাক্তিগত পুঁজির দলও খুব খুশি। সমস্ত কোম্পানি মিলে দুটো মিটিং করলো ভবিষ্যতে কোম্পানির কাজ কী হবে আর কিভাবে হবে সেই সব ঠিক করার জন্য যার মধ্যে ছিলো ম্যানেজমেন্ট টিমের কী অবস্থান হবে, বার্ষিক বেতনই বা কতো হবে এইসব আর কী।

তৃতীয় দিনের সকালে এএআর সই করার জন্য সমস্ত নথি তৈরি করে ফেললো। কিন্তু অন্যদিকে কোনো সাড়া শব্দ নেই।

শেষে সাই বিঁ জিয়ে ফোন করে বললেন, “দুঃখিত, আমি আজকে চুক্তি সই করতে পারবো না। একজন ক্রেতা হঠাৎ এসে বেশি দর দিয়েছে।”

“কিন্তু আমরা তো কাঁচা চুক্তি সই করেই ফেলেছি।” , রাগের সঙ্গেই বললো এএআরের তরফে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি। 

“সেটা তো একটা কাঁচা চুক্তি। পাকা কিছু নয়।” খুব ধীর ভাবে সাই বিঁ জিয়ে বললেন, “তোমরা যদি দর বাড়াতে রাজি না থাকো।”

সবাই ব্যাপারটা অনেক ক্ষণ ধরে আলোচনা করলো। তিন ব্যক্তিগর পুঁজির মালিক ভয়ানক চটে গেলেন। তবে এএআর খেলতে লাগলো, “তেরো কোটি কুড়ি লাখ আমাদের শেষ দর।”

“খুবই দুঃখের কথা।” সাই বিঁ জিয়ে বললেন হালকা স্বরে।

দু দিন পরে গুয়ান ছাও ইন্টারন্যাশন্যাল ঘোষণা করলো প্রথামাফিক যে ওরা বা’অ্যান কিনেছেন তেরো কোটি তিরিশ লাখে।

যখন সাও মু সংখ্যাটা শুনলো, তখন ও চমকে উঠলো।

“ওদের দর আমাদের থেকে মাত্র দশ লাখ বেশি!" সাও মু বললো, “কী করে এটা সম্ভব যে ওদের দরটা আমাদের দরের এতো কাছাকাছি?”

“এর মধ্যে ঘোটালা কিছু নিশ্চয়ই আছে।” ভ্রূ কুঁচকে বললো ইয়ান চেং লি।

“এমন কী হতে পারে যে হে হাই শিয়াং আমাদের দরটা বলে দিয়েছে চেং ছিরাং-কে?” মিন হুয়ে তার অনুমান প্রকাশ করলো।

“হতে পারে। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া, ও কিছুতেই স্বীকার করবে না।” শু গুয়াং জিয়াঁ বললো।

সব্বাই ঘ্যানঘ্যান করলেও, সব্বাই চটপট বাস্তবটা মেনে নিলো। যাই হোক সবার পরিবার আছে তাদের ভরসায়, কেউই কাজ ছেড়ে দিতে চাইলো না, মিন হুয়ে ছাড়া।




~~~~~~~~~~~~

সম্পূর্ণ বই বিনামূল্যে : https://dl.bookfunnel.com/lcj5vznt96

Link to Previous Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/09/jpda-chapter-53.html

Link to following Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/09/jpda-chapter-55.html

Saturday, September 28, 2024

JPDA - Chapter 53

  ৫৩. হাস্কি



অনেক ক্ষণ চুপ করে রইলো শিন ছি। খানিক পরে উপহাস ঠেলে বেরোলো দাঁতের ফাঁক দিয়ে, “এতো বুড়ো?”

য়িন শু মোটেই বুড়ো নয়। এ বছরে ওর বয়স হলো একচল্লিশ। ও এখনো খুবই প্রাণবন্ত, খেলাধূলো ভালোবাসে, ওর পুরো বিবাহিত জীবনটাতে ওকে কোনো চাপ নিতে হয় নি। ওকে দেখতে পর্দার নায়কদের মতো, বয়স তিরিশের শুরুতে বলেও চালিয়ে দেওয়া যায় দিব্যি। অনেকবার ও সাও মুয়ের সঙ্গে স্কুলে গেছে বাচ্চাদের আনতে, আর ওকে সবাই সাও মুয়ের বড়ো ছেলে ভেবেছে।

“মোটেও বুড়ো নয়।” বিয়ারের ওপরে, মিন হুয়ের জিভটা জড়িয়ে গেছে, “গং ফু, গং ফু বেশ ভালো।”

“কী?” শিন ছি ভাবলো যে ও ভুল শুনেছে, ভ্রূ কোঁচকালো, হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে, সু ছনকে নিয়ে বড়ো বড়ো পা ফেলে দরজার দিকে গেলো।

পাশের ঘরে পা রেখে, ও ঝট করে পিছন ফিরলো, তীক্ষ্ণ চোখে মিন হুয়েকে দেখতে দেখতে প্রশ্ন করলো, “তুই কী বললি এখনই?”

“আমার …” মিন হুয়ের হেঁচকি উঠছে, “বিছানায় … তোর থেকে ভালো।”

ঘাড় নাড়তে নাড়তে মিন হুয়ে ছাদের ক্যামেরার দিকে দেখিয়ে বললো, “পরের বার, পরের বার মনে করে … ক্যামেরাটা চালু রাখিস … আমি, আমি তোকে দেখিয়ে দেবো।”

“তোর এতো সাহস হয় কী করে!”

শিন ছি নিচু স্বরে গর্জে উঠলো, “এটা আমার ছেলের শোবার ঘর। তুই যদি এখানে ফস্টিনস্টি করার সাহস দেখাস, আমি -”

“ - আরে, তোর ব্যাপারটা কী?’” চাপা হাসি নিয়ে মিন হুয়ে জানতে চাইলো, “মেরে ফেলবি, আমাকে? বাদ দে, তোর আর আমার তো কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো সম্পর্কই নেই। তোর তো কিচ্ছু যায় আসে না, আমি কার সাথে থাকি না থাকি তাতে। তোর কিচ্ছু যায় আসে না।”

“আমার কিচ্ছু যায় আসে না, এর সঙ্গে আমার কোনো লেনাদেনা নেই। তুই যদি এই বুনো লোকটার প্রেমে পড়ে থাকিস -” শিন ছি চীৎকার করতে লাগলো মিন হুয়ের কানের পর্দা ভোঁ ভোঁ করে ওঠা অবধি, “দয়া করে জায়গাটা বদলা। আমার ছেলের চোখের সামনে নোংরামি করিস না।”

“শিন ছি, তুই দয়া করে একটু ভদ্রভাবে কথা বল। আমি এই লোকটার প্রেমে পড়েছি, আমি এই লোকটাকে বিয়ে করবো, লোকটা তোর ছেলের নতুন বাবা হবে।”

“আমি তোকে বিয়ে করতে দেবো না!”

শিন ছির যেনো বিস্ফোরণ হলো, “শুনলি, না? আমার ছেলের জন্য বাবা খোঁজার অনুমতি নেই তোর। আমি এখনো বুঝি না কেনো ঈশ্বর আমাকে তোর কাছে পাঠালেন! শুধু এই দেখতে যে মানুষ কতোটা নির্বোধ হতে পারে!”

"কেনো পারবো না? তোর কী অধিকার আছে?”

কথা বলতে বলতে মিন হুয়ে কয়েকবার ওয়াক তুললো। প্রত্যেকবারই সোজা মাটিতে পড়ে যাচ্ছিলো, কেবল শিন ছি ওকে ধরে নিচ্ছিলো খপ করে।

ও কেবল টের পাচ্ছিলো ওর বুকের মধ্যে শক্ত হয়ে কী একটা যেনো পাকিয়ে উঠছিলো, যেনো গলায় কিছু একটা আটকে গেছে আর চট করে ও মুখে হাত চাপা দিলো। ঝট করে শিন ছি পাশেই টেবিলের ওপরে রাখা কাচের বাটি তুলে নিয়ে ধরলো ওর মুখের সামনে। মিন হুয়ে অনেক ক্ষণ ধরে বাটির ওপরে বমি করার চেষ্টা করলো, কিন্তু কিছুই বেরোল না …

 ফ্যালফ্যাল করে শিন ছির দিকে তাকিয়ে বললো, “তুই আমাকে চাস না, কিন্তু তবু তুই আমাকে বিয়েও করতে দিবি না? তুই কী আমার বাবা, নাকি! একটা কথা বলি শিন ছি, আমি তোকে বিয়ে করতে চাই না।”

“তোর কাছে আমার কোনো দেনা আছে নাকি? তুই যদি সু তিয়াঁর সাথে থাকতে চাস, তবে যা খুঁজে নিয়ে আয় ওকে! সারা পৃথিবীতে খোঁজ, তোর মোহ দিয়ে, তুই ওকে খুঁজে পেতে ভয় পাস না! আমাকে বিরক্ত করিস না, আমার ছেলেকে বিরক্ত করিস না, ঠিক আছে? বেরিয়ে যা!”

এক ঝলক দেখলো এআইম্যাক্স পার্টিতে পরা জামাটা, রাখা আছে সোফার ওপরে, ওটাকে খাবলে নিয়ে ছুঁড়ে দিলো শিন ছির হাতে, “আর এটাও নিয়ে যা!”

“তুই মাতাল হয়ে গেছিস!” দীর্ঘশ্বাস ফেললো শিন ছি।

“আমি মোটে মাতাল নই।” গলা চড়লো মিন হুয়ের। উল্টে বললো, “আমি শুধু তোকে পছন্দ করি। যেহেতু তোকে পছন্দ করি, তাই আমার মনে হয় প্রত্যেক ঘন্টায় আমি বুড়িয়ে যাচ্ছি। আর এখন আমি যেনো প্রত্যেক মিনিটে বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। আমাদের এভাবে একে অপরের সাথে কথা না বললেও চলে। অত্যাচার এটা, এখনই চলে যা, আমি ক্লান্ত, আমি শুতে চললাম!”

এই মূহুর্তে ও একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেলো, পরনে ছিলো একটা বড়ো বাথরোব, যার ভেতরে আর কিছু ছিলো না। বেল্ট আলগা করে, রোবটা ও বিছানায় রেখে দিলো আগে, তারপর তার ওপরে শুয়ে পড়লো। ওকে শিন ছি তুলে নিলো আবার।

বেল্টটা বেধে দিলো আবার। শক্ত করে বাধলো পিঠের দিকে। মিন হুয়েকে ধরলো নিজের দু হাতের বাঁধনে, “তুই শুবি পাশের ঘরে, যেখানে আমার ছেলে শুয়ে আছে।”

“আমি এখানেই শোবো, আমার বুনো মরদের সাথে, একসাথে শোবো, তোর কী!”

মিন হুয়ে মারলো শিন ছিকে এক ঘুষি, টেনে ওর জামা ছিঁড়ে দিলো। শিন ছির দু হাতের বাঁধনে ফুঁসতে লাগলো একটা পাগল হিংস্র ছোট্টো জন্তুর মতো।

নিতান্ত অনিচ্ছেতেও শিন ছি জড়িয়ে ধরলো মিন হুয়েকে, পায়ে পায়ে পাশের ঘরে গেলো, শুইয়ে দিলো ওকে বড়ো বিছানাটাতে। ঠিক যখন ও কম্বলটা চাপা দিতে যাবে গায়ে, মিন হুয়ে কামড়ে ধরলো শিন ছির হাত। শিন ছি কাতরে উঠলো যন্ত্রণায়। তাই ওকে একহাতে শক্ত করে ধরতে হলো মিন হুয়ের শরীরটা। অন্যহাতে মিন হুয়ের মুখটা ছুঁয়ে নিচু স্বরে বললো, “ঠিক আছে, ঠিক আছে, ঝামেলা পাকাস না, ঘুমিয়ে পড়।”

প্রথম দুটো শব্দে গলার স্বরটা কঠিনই ছিলো। তারপর ধীরে ধীরে গলার স্বর গভীর হলো, নরম হলো। তারপরে অসহায়ের মতো ভোলাতে লাগলো।

বেশ খানিক ক্ষণ পরে, মিন হুয়েকে শান্তিতে ঘুমোতে দেখে, শিন ছি নিশ্চিন্তির শ্বাস ফেললো। ওর পাশে সু ছনকে দেখছিলো, এতো হট্টোগোলের মধ্যেও বাচ্চাটা জেগে ওঠে নি। পাশ ফিরে ও একটা হাত রাখলো নিজের মায়ের হাতে, ওর ছোট্টো মুখটা মিন হুয়ের মুখের পাশে ঠেসে ধরে রাখা যেনো। স্বপ্নের ঘোরে ও নিজের ঠোঁট চেটে নিলো। একটা মিষ্টি হাসি জেগে উঠলো।

শিন ছি চুপ করে বসে অনেক ক্ষণ দেখতে লাগলো ওদের। শ্বাস ফেললো, মা আর ছেলেকে একটা সুতির চাদরে ঢাকা দিয়ে দিলো। তারপর দরজা বন্ধ করে দিলো।

বসার ঘরে এসে ও ভাবছিলো কী করে য়িন শুকে জাগাবে, আর ওকে বাড়ি পাঠাবে, এমন সময়ে শুনতে পেলো দরজায় যেনো কে টোকা দিচ্ছে।

দরজা খুলে দেখলো ঝৌ রু জি এসেছে। দুজনের কেউই আশা করে নি পরস্পরকে এই জায়গায় দেখবে। দুজনেই চমকে উঠলো।

“মিন হুয়ে কী এখানে আছে?”

“ও প্রচুর মদ খেয়ে ছিলো, ঘুমিয়ে পড়েছে।" বললো শিন ছি।

“য়িন শু কোথায়?" ঝৌ রু জি ঘরের মধ্যে দেখলো, “চলে গেছে?”

“য়িন শু?" শিন ছি মগজের মধ্যে হাতড়াতে লাগলো নামটা, কিন্তু মনে করতে পারলো না যে মিন হুয়ে একবারও নামটা ওর কাছে কখনো বলেছে।

“সাও মুয়ের বর, না, সাও মুয়ের ছেড়ে দেওয়া বর, ওদের সবে মাত্র ডিভোর্স হয়েছে -" ঝৌ রু জি জানেও না যে কোথা থেকে শুরু করবে, মাথা চুলকে বললো, “ও প্রচুর মদ খেয়ে এখানে এসে ছিলো মিন হুয়ের খোঁজে -”

“ও যায় নি" শিন ছি ঘরের ভেতরে ঢুকতে দিলো ঝৌ রু জিকে, দেখালো সু ছনের ঘরের দিকে, “উনি ঐ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছেন।”

“সাও মু আমাকে বললো ওকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে।” 

“ও খুব গভীর ঘুমের মধ্যে আছে। আমার মনে হয় যে আপনি ওকে নিয়ে যেতে পারবেন না।”

দুজনে মিলে একসাথে অনেক চেষ্টা করলো য়িন শুকে জাগানোর। দুজনে একের পর এক জোরালো চড় কষাতে লাগলো য়িন শুয়ের মুখে বিছানার ওপরেই। যতো জোরেই মারা হোক না কেনো, য়িন শুয়ের ঘুম এতো গভীর যে ওকে কিছুতেই জাগানো গেলো না। কোনো উপায় নেই দেখে, শিন ছি বলতে বাধ্য হলো, “ফিরে যান। রাতটা ওঁকে এখানে ঘুমোতে দিন। কাল সকালে জাগলে পরে উনি না হয় চলে যাবেন।”

“সেটা কি সুবিধের হবে?”

“আমি আছি এখানে, ঠিক আছে।”

***

পরদিন সকালে মিন হুয়ের ঘুম ভাঙলো জানলার পাশে বারান্দা থেকে ভেসে আসা পাখির গানে। চোখ খুলে জানলার কাচ পেরিয়ে দেখলো একটা হলুদ পাখি বারান্দার রেলিং-এ দাঁড়িয়ে আছে, হাতের তালুর মাপের পাখি, ডেকে চলেছে “চালিয়ে যাও, চালিয়ে যাও, গুও য়া, গুও য়া ” ।

ঘুম পরোপুরি ভাঙার আগেই মিন হুয়ে ঠান্ডা ঘামে ভিজে উঠলো, ভাবলো হলুদ পাখিটা সু তিয়াঁ, ওখানে দাঁড়িয়ে যেনো কিছু বলতে চায়, আর ওকে হয়তো দোষ দিচ্ছে।

ভাবা মাত্র ও জেগে উঠলো আতঙ্কে, উঠে বসলো, চোখ বুলিয়ে নিলো চারপাশটাতে। সু ছন শুয়ে আছে ওর পায়ের কাছটাতে, কপাল ভালো যে বিছানাটা বড়ো, না হলে ও আবার মেঝেতে পড়ে যেতে পারতো।

ছেলেটা খুব রেগে আছে যেনো, মাথাটা ঘামে ভিজে আছে ঘুমের মধ্যেই, চুল ভিজে, কতকগুলো চুলের লাছি আটকে আছে কপালে। 

বিছানার উল্টোদিকে একটা জোড়া সোফা, তার ওপরে শিন ছি ঘুমোচ্ছে। ওর স্যুটের জ্যাকেটটা ঢাকা দেওয়া আছে সোফার পাশের চেয়ারে, ওর পরনে তখনো রয়ে গেছে শার্ট আর টাই।

পাগুলো খুব লম্বা, রাখার যথেষ্ট জায়গা নেই, কষ্ট করে মুড়ে রাখা, যেনো চিংড়ির মতো বাঁকা। মাথা রাখারও কোনো জায়গা নেই, মাথাটা প্রায় মেঝেতে পড়েই যাচ্ছে।

মিন হুয়ে হালকা জামাকাপড় পড়ে নিলো, উবু হয়ে মেঝেতে বসলো, নিজের হাঁটুতে রাখলো শিন ছির মাথা, একটা বালিশ দিয়ে, রেখে দিতে গেলো শিন ছির মাথা।

যা আশা করে নি তাই হলো, শিন ছি হঠাৎ জেগে উঠলো। ও যখন চোখ খুলল তখন ওর মাথাটা মিন হুয়ের কোলের বালিশে, ধড়মড় করে উঠে বসে পড়লো।

মিন হুয়ে ঘুরে দেখলো এক ঝলক জানলা দিয়ে, হলুদ পাখি এর মধ্যেই উড়ে চলে গেছে।

মিন হুয়ে মনে করতে পারলো না আগের রাতে কী হয়ে ছিলো, ও জানতে চাইলো, “তুই এখনো এখানে কেনো?”

“য়িন শু এখনো যায় নি।" বললো শিন ছি, “আমার ভয় যে মদ খাবার পরে ও যৌনতা চাইবে।”

“ভয় পাস না, দেখ -”

মিন হুয়ে দুম করে একটা সব্জি কাটা চাকু বার করে আনলো বিছানার গদির তলা থেকে, নিজের নাকের নিচে ঝাঁকিয়ে বললো, “আমার এটা আছে।”

শিন ছি চমকে উঠে, নিজের অজান্তেই এক পা পিছিয়ে গেলো।

“কেউ আমার ওপর জোর খাটাতে এলেই আমি তাকে কেটে ফেলবো।" বলেই মিন হুয়ে চাকুটাকে রেখে দিলো ওটার জায়গায়।

বাতাসে ভাজা ডিমের গন্ধ। 

“তুই কি বাইরে থেকে খাবার আনিয়েছিস?” জানতে চাইলো শিন ছি, “ইয়ুন লু এখন বেজিং-এ।”

টোস্টের সঙ্গে বেড়ে রাখা আছে ডিম আর বেকন ভাজা, সবই কাচের ঢাকা দেওয়া, মধ্যিখানে একটা বড়ো বাটিতে ফ্রুট সালাড। 

কফিও তৈরি, একটা তাপ ধরে রাখা পাত্রে রাখা আছে। টেবিলের ওপরে একটা কাগজের টুকরো, তাতে লেখা, “তোমাকে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। – য়িন শু।”

এই মূহুর্তে মিন হুয়ের মনে পড়ে গেলো আগের রাতে কী কী হয়েছে। টেবিলে বসে পড়লো, বড়ো বড়ো গ্রাসে খেতে শুরু করলো। ডিম ভাজাটা নরম, বেকনটা মুচমুচে, টোস্টটা মাখনে ভাজা, কফিটা কড়াও নয়, পাতলাও নয়, একদম ঠিকঠাক।

শিন ছি এক ঝলক মোবাইলের দিকে দেখে বললো, “আগের বার বলেছিলি তোদের এখনো তিন কোটি য়ুঁআর লগ্নি লাগবে। তোরা কী দর বাড়িয়েছিস?”

মিন হুয়ে মাথা ঝাঁকালো, “তুই কী সিদ্ধান্ত বদলেছিস?”

“না।”

“তাহলে জানতে চাইছিস কেনো?”

“শেন ল্যান টেকনোলজি জানিয়ে দিয়েছে যে ওরা নিলামে থাকছে না।”

ও নিজের ফোনটা তুলে দেখালো, “এখন তো খুব সকাল। তাহলে সেকেন্ড রাউন্ডে রইলো তিনটে কোম্পানি, গুয়ান ছাও, দঁ লি, আর নিমন্‌।”



মিন হুয়ে বললো, “ওহ্‌। অবাক হবার কিছু নেই, শেন ল্যান হয়তো তোর সঙ্গ চায় না।”

“ওরা চায় না। তুই চাস কী?”

“শিন ছি,” মুখের কোনো রেখায় কোনো ভাঁজ না ফেলে বললো মিন হুয়ে, “তুই যদি সাহায্য করতে না চাস, তাহলে বিদ্রুপও করিস না। এমবিও-র জন্য আমরা এমনিই খুব ব্যস্ত আছি।”

“তবুও তোর বসের বরের সঙ্গে কাটানোর মতো সময় তো আছে।” বলে চললো শিন ছি, “তোর ভয় করে না যে টিম ভেঙে যাবে?”

ব্যাপারটা দাঁড়ালো এই যে কারণে মিন হুয়ে এড়িয়ে যাচ্ছিলো অনেক ক্ষণ, ডিম খেতে খেতেই মিন হুয়ে এতো চটে গেলো যে ও প্রায় গিলেই ফেললো পুরো খাবারটা এক গ্রাসে, “আমি তো ঠাট্টা করছিলাম, তুই গুরুতর ব্যাপার ভাবলি। সাও মু আমার এতো ভালো বন্ধু, ওঁকে চটাই কী করে?”
“তুইও খুব ভালো, তাও তুই আমাকে চটিয়েছিলি।”

“শিন ছি – –”

“চার বছর আগে, আমি যদি নিউ ইয়র্ক থেকে উজিয়ে না আসতাম, আমার সব কিছু উজাড় করে দিয়ে তোকে খুশি করার জন্য, তাহলে তুই কী অত ভালো করে সু তিয়াঁর ভূমিকা পালন করতে পারতিস? শেষে তুই আমাকে দোষ দিচ্ছিস যে আমি নাকি যথেষ্ট উদ্যম দেখাই নি, মিন হুয়ে, তোর কোনো লজ্জা নেই, আমি তোর ওপরে ভয়ানক চটে যাবো।”

মিন হুয়ে ওর সাথে তর্ক করতে চায় না। তাই ঘড়ির দিকে তাকালো আর মুখের মধ্যে টোস্ট গুঁজে দিলো, “ইয়ো, আমার সকালে একটা মিটিং আছে। আমি আগে বেরিয়ে যাবো। বাচ্চাকে তোর কাছে রেখে গেলাম।”

“অ্যাই - অ্যাই - মিন হুয়ে --”

“বাই।”

***



মিন হুয়ে তাড়াহুড়ো করে কোম্পানিতে পৌঁছোলো। ওর পথ আটকালো সাও মু, “শেন ল্যান বেরিয়ে গেছে।”

“শুনেছি।”

“এএআর কিন্তু দামটা তেরো কোটি কুড়ি লাখেই বেধেছে আর বোঝাপড়াও চালাচ্ছে হেডকোয়ার্টার্সের সঙ্গে আর খুঁটিয়ে দেখছে লেনদেনের সমস্ত নথি। আমাদের প্রতি হেডকোয়ার্টার্সের মনোভাব বোঝা দায়। যদিও আমাদের সাথে গুয়ান ছাও আর দঁ লির লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি, হয়তো ওদের দরটাও আমাদের থেকে বেশি, কিন্তু ওদের শর্তগুলোও আমাদের থেকে বেশি। বেশি কড়া, বেশি চাহিদার, হয়তো হেডকোয়ার্টার্স সে সব মেনে নিতে চাইবে না। অনেক সময় ধরে হেডকোয়ার্টার্সে কোনো নড়াচড়া নেই। হয়তো এই জন্য যে ওরা আমাদের একটা অগতির গতি করে ঝুলিয়ে রাখতে চায়। এএআর আশা করছে আমরা যদি দরটা আর একটু বাড়াতে পারি। যদি শেষ দর দিতে পারি ষোলোকোটি কুড়ি লাখ, তাহলে আমরা খুবই নিশ্চিত হতে পারবো।”

“আমারও মনে হচ্ছে যে ঐ একই পরিমাণ টাকা দিতে লাগবে।”

“তিন কোটি নিয়ে একটা মিটিং করলে কেমন হয়? ব্যাক্তিগত পুঁজির লোকেরা তো রাজি টাকাটা দিতে যদি আমরা আমাদের ভাগ কুড়ি শতাংশে কমাতে রাজি থাকি, টাকা ওরা দেবে, আমরা আমাদের মতে চলবো। সেদিন ইয়ান চেং লি-র কথার সুর বাকিদের তুলনায় আলগা ছিলো। ওর সাথে একা কথা বলে দেখা যাক, ওকে যদি আমাদের দিকে আনা যায়, দেখি।”

“হ্যাঁ, ইয়ান চেং লি-কে আমাদের দিকে করে নিতে পারলেই আমরা তিন-দুই ভোটে এগিয়ে যাবো।”

পরিস্থিতির টান টান উত্তেজনায় মিন হুয়ের হালকা অস্বস্তি হতে লাগলো। চেং ছিরাং বা ফ্যাং দঁ কুই-কে টেক্কা দিতে পারে কে? জিততে পারে কে? দুটো পালোয়ানের মধ্যে এমবিও নড়াচড়া করার জায়গা পাবে তো? যদি গুয়ান ছাও শেষ পর্যন্ত কিনে নিতে পারে বা’অ্যান, তাহলে তখন মিন হুয়ে কী করবে? ভাবতেই মিন হুয়ের কপাল জুড়ে ঠান্ডা ঘাম ছড়িয়ে গেলো।

কপাল জোরে সাও মুয়ের কথার বিষয়বস্ত একদম বদলে গেলো একদম অন্য খাতে, “আমার ভীষণ খারাপ লেগেছে গত রাতের উৎপাতের জন্য। আমি আশা করি নি যে য়িন শু তোমার দরজায় হাজির হবে। আমি ঝৌ রু জির থেকে শুনলাম যে ও তোমার ওখানেই ঘুমিয়েছে?”

মিন হুয়ের মনে পড়লো না ঝৌ রু জি কখন এসে ছিলো ওর বাড়িতে। হতে পারে শিন ছি দরজা খুলে দিয়ে ছিলো ঝৌ রু জিকে। হাসি মুখে উত্তর দিলো, “সব ঠিক আছে। বাড়িতে থাকার একটা বাড়তি ঘর আছে তো। য়িন গ্য আমাকে কতো সাহায্য করেন সু ছনের খেয়াল রাখতে, এ আর এমন কী।”

“শিন ছি ভুল বুঝবে না?”

“না। তাছাড়া, এখন তো ওর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই …”

“কার সঙ্গে মস্করা করছো? তোমরা দুজনে ঐ রকমই।”

“ওহ্‌। বোঝানো মুস্কিল।”

দুই মহিলা পরস্পরের প্রতি দীর্ঘশ্বাস ফেললো আর চলে গেলো নিজের নিজের কাজে।



আধঘন্টা পরে সাও মু এসে আবারও দীর্ঘশ্বাস ফেললো, “তিন কোটি আরো যোগ দেওয়া যাবে না। জীবন-মরণ পণ করে ইয়ান চেং লি জানিয়ে দিয়েছে যে ও কিছুতেই নিলামের দর আরো তিন কোটি বাড়াতে দেবে না। আমি অন্য দুজনকেও জিজ্ঞেস করতে গিয়ে ছিলাম। কিন্তু ওরা এখনো বিপক্ষেই। এই লোকগুলোর কী হলোটা কী, আমরা তো ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করি একসাথে আলোচনা করে, সবাই উচ্চাকাঙ্খী, কিন্তু পয়সা দেবার সময় এলেই তোমরা আর এগোতে চাও না?”

মিন হুয়ে হঠাৎ বললো, “যদি এটা কাজ না করে, তাহলে ঠিক উল্টোটা করো। আমি ঝেং য়ি তিং-এর সঙ্গে দেখা করে ওকে ওস্কাবো, সেটা কেমন হবে? আমি যখন কিছু পাবোই না, তখন আমি খানিক সমস্যা দিতেই বা ছাড়ি কেনো?”

সাও মু ঠোঁট কুঁচকে সন্দেহ প্রকাশ করলো, “ঝেং য়ি তিং-কে পঞ্চক্লেশ কাবু করতে পারে না। তুমি পারবে ওকে ওস্কাতে?”

পঞ্চক্লেশ


মিন হুয়ে বললো, “আমি চেষ্টা করবো।”

 ঝেং য়ি তিং-এর একটা হাস্কি আছে, সেটাকে ঝেং য়ি তিং ভালোবাসে নিজের জীবনের মতোই প্রায়। রাত আটটার সময়ে শহরে অন্য কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকলে, ঝেং য়ি তিং- হাস্কিকে নিয়ে যায় সেন্ট্রাল পার্কের উত্তর-পশ্চিম কোণে, হাঁটানোর জন্য। ঝেং য়ি তিং-এর এই অভ্যেসের কথাটা মিন হুয়েকে বলেছে চেং ছিরাং।

হাস্কি


চার বছর হয়ে গেলেও মিন হুয়ে সত্যিই পথ আটকাতে পারলো ঝেং য়ি তিং-এর। হাস্কি এখন বেশ বড়ো হয়ে গেছে, দানবাকার নিয়েছে। মিন হুয়েকে চেটে আর শুঁকে দেখছে আর হাঁপাচ্ছে জোরে জোরে। 

ঝেং য়ি তিং বেঁটেখাটো চেহারার মানুষ প্রায় ফুট পাঁচেক লম্বা মাত্র। মুখ তার গোল, সরু কোমর, শরীরের ওপরের অংশটা ছোট্টো। বলা মুস্কিল খুব খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণের জেরে অমন চেহারা নাকি সরু হাড়ের জন্য।

ওর পাগুলো ওর হাতের মতোই সরু। পরনে শরীরচর্চার জন্য তৈরী জামা, ব্র্যান্ডটা লুলুলেমন। কুকুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টগবগিয়ে চলেছে। ঝোপের আড়াল থেকে আচমকা মিন হুয়েকে বেরিয়ে আসতে দেখে ও প্রায় চীৎকার করে উঠলো। 

শরীরচর্চার জন্য তৈরী জামা, ব্র্যান্ড - লুলুলেমন


“চেং থাই থাই, ওয়ানশাং হাও।” মিন হুয়ে তার রাস্তা আটকালো।

“মিন হুয়ে, কী চাই তোমার?”

ঝেং য়ি তিং সতর্ক চোখে মুখে কুকুরটাকে টেনে সরিয়ে নিলো। 

“গুয়ান ছাও কিনতে চাইছে বা’অ্যান। আপনি সে কথা জানেন নিশ্চয়ই?”

“আমি জানি।”

“জেনেও আপনি এই অ্যাকুজিসন সমর্থন করছেন?”

“এটা তো স্বাভাবিক ব্যবসা।”



“অ্যাকুইজিসন সফল হলে, চেং ছিরাং আবার আমার ঊর্ধতন হবেন। আপনি কী মনে করছেন, সেটা ঠিক হবে?”

“আমার মনে হয়, অ্যাকুইজিসন সফল হলে, তোমাকে আবার তাড়িয়ে দেওয়া হবে।”

“আমিই আসল প্রযুক্তিবিদ।”

“সত্যি, মিন হুয়ে?”

তীক্ষ্ণ একটা হাসি ছুঁড়ে দিলো ঝেং য়ি তিং, “এতো আত্মবিশ্বাসের কিছু নেই। তুমি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নও। খুঁজে নেবো কাউকে তোমার বদলে।”

“যদি গুয়ান ছাও সত্যি বা’অ্যান কিনে নেয়, তাহলে পুরো প্রযুক্তিবিদ টিম কাজ ছেড়ে দেবে। আর যতো টাকা খরচ করবে গুয়ান ছাও অ্যাকুইজিসনে তার সবটা নষ্ট হবে। চেং ছিরাং বেশ দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতোই খেলছে আপনাদের পারবারিক সম্পত্তি নিয়ে, তাই না?”

কথাগুলো বলা মাত্রই হাস্কি জোরে ডেকে উঠলো বার দুয়েক, হিংস্র দাঁত বার করে।

মিন হুয়ে ঘুরে দৌড় লাগালো ভয়ে।




~~~~~~~~~~~~

সম্পূর্ণ বই বিনামূল্যে : https://dl.bookfunnel.com/lcj5vznt96

Link to Previous Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/09/jpda-chapter-52.html

Link to following Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/09/jpda-chapter-54.html

Readers Loved