Thursday, December 12, 2024

Chapter 8 - ক্রিসমাস

 


ক্রিসমাসের ডেকরেশন করতে করতে অ্যাশলি বলল, হলউইনের ডেকরেশনটা এত্তো ভালো ছিল... খুলতেই হবে তাই না?

নাটালি উত্তর দিল অ্যাশলিকে, আসছে বছর আবার সাজাব, তবে অন্য রকম। এগুলো সবই মাস খানেক করে থাকে রে... উৎসব তো আর রোজ হয় না। 

এদিকে ইয়ারার কান্না আর থামে না। রোজ সকালে ইস্কুল যেতে কান্না। রোজ রাতে ঘুমোতে গেলে কান্না। জেকব আর নিনা হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে তাকে সামলাতে। কেবল অ্যান্থনি তাকে শান্ত করতে পারে কখনও কখনও।

এসব শুরু হয়েছে অক্টোবরের শেষে দিয়া দে লস মুয়েরতস থেকে। সেদিন পরিবারের সব্বাই মামা কার্লোসের পরিবারের সাথে কার্লোসের বাড়িতে প্রার্থনা করেছিলেন সমস্ত মৃত আত্মীয়-বন্ধুদের স্মৃতিতে। তারপর খাওয়াদাওয়া হয়েছিল।

রেনালদো সেদিনের অনুষ্ঠানে হাজির হননি। ফলে ইয়ারার মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বুঝি রেনালদো আর কোনোদিনই আসবেন না। সে আপন মনে বকবক করে খেলার অবসরগুলোতে, যেন সে কথা বলছে রেনালদোর সাথে। অথবা কাউকে কাউকে সে শাসাতে থাকে যে তার বাবা এলেই সে সব বলে দেবে।

পাড়ার সব দরজায় জানলায় হলুইনের সাজ দেখে তার মুখে একটু হাসি ফুটেছিল। কার্টুনের মতো মিষ্টি মিষ্টি দেখতে ভুত সব! দেখলেই নাকি গাল টিপে দিতে ইচ্ছে করে। তার কথা শুনে জেকবও খুব হেসেছিল। 

অ্যাশলি তাদের বাসার সদর দরজাটা রঙীন কাগজে মুড়ে দরজায় একটায় লাল রঙের ভেলভেটের মোজা ঝুলিয়ে দিল যেই, অমনি ইয়ারার মুখ হাঁড়ি হয়ে গেল। সব্বার বাড়িতে ভুতের পাট উঠিয়ে প্লাস্টিকের বরফকুচি আর তুলোর বরফের স্তুপ দেখা দিয়েছে। সব্বার বাড়ি সেজে উঠেছে আলোয়। শুধু তাদেরই সেই যেমনকে তেমন, আলুথালু রান্নাঘর, খাবার ঘর, বসারঘর আর জবরজং জিনিস ভর্তি বারান্দা। এবার তার বায়না, আমারও দরজায় একটা লাল মোজা চাই, স্যান্টা না হলে আমার জন্য প্যারাশুট আনলে আমাকে দেবে কী করে?

এসব বলার সময় তার গলাটা বুজে আসে। সে কথাগুলো বলে কোনো রকমে হেঁচকি তুলে তুলে, আর তার দুচোখ বেয়ে ঝর ঝর করে জল পড়তে থাকে। 

একদিন চার্চ থেকে কয়েকজন মহিলা এসে বাড়ির সবার জন্য জামা দিলেন। জামা, গরমজামা, মোজা জুতো সবই ছিল। কিন্তু ইয়ারা নিজের প্যাকেটের নতুন জিনিস ফেলে চেঁচিয়ে কেঁদে উঠল, আ-আ-ম্মার জামা চাই না-আ-আ, আম্‌-মার ট্র্যাম-, ট্র্যা-ম পো-ও লি-ই-ন চাই-ইইই একটাআআআ।

তার কদিন পরে একটু সময় বার করে একটা সাদা কাগজের প্লেটে রঙ পেন্সিল দিয়ে, আর কাটা কাগজ দিয়ে নিনা একটা স্নোম্যান বানিয়ে দিল ইয়ারাকে। ইয়ারা খুব খুশি হয়ে সেটা ঝুলিয়ে দিল দরজায়। ঝোলাবার জন্য তাকে জেকব একটা লাল রিবন এনে দিল কোথা থেকে কে জানে।

তারপর একদিন ইয়ারা ঘুম থেকে উঠে দেখল যে চিকচিকে লাল কাগজে বানানো একটা মোজা ঝোলানো আছে দরজায়। মোজাটা দেখে সে জড়িয়ে ধরল মারিয়াকে, আদুরে গলায় বলল, বলো, বাবা আসবে ক্রিসমাসে তাই না? আসবেই আসবে...

মারিয়া ইয়ারাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বললেন, আমি জানি না।

ক্রিসমাসের আগের দিন মারিয়া সারাদিন রান্না করলেন মার্সেলার সাথে। তারপর নিনা, অ্যান্থনি, হেক্টর, এমনকি জেকব আর ইয়ারাও ছুটে ছুটে গাড়িতে জিনিস ভরল সন্ধেবেলা। ইয়ারাদের অ্যাপার্টমেন্টের ওপরতলার ভারতীয় ভদ্রলোক আর তাঁর সঙ্গিনীর সাথে জেকব আর ইয়ারার দেখা হয়ে গেল পার্কিং-এ। গাড়িগুলো পাশাপাশি থাকে কিনা।

প্রতিবেশীরা জেকব আর আর ইয়ারাকে ক্রিসমাসে শুভেচ্ছা জানালেন। ওরাও প্রত্যুত্তরে শুভেচ্ছা জানালউত্তেজনায় টগবগ করতে করতে বলে ফেলল, আজ বাবা আসছে মেহিকো থেকে জানো তো! মেহিকো থেকে আরও অনেকে আসবে অলিভিয়া মাসির বাড়িতে। তাই আমরা ওখানে যাচ্ছি!

নিনা এসে পড়ে কথোপকথনের খানিকটা শুনতে পেয়েছিল। তাছাড়া প্রতিবেশিনীর সাথে তার কথোপকথন চলে, মায়েরও চলে। তাই সে বলল, আমাদের বাড়িতে তো ক্রিসমাস ট্রি  নেই, অলিভিয়া মাসিদের বাড়িতে আছে। তাই আমরা ওখানে যাব ক্রিসমাস পালন করতে। ওখানে আমাদের অন্যান্য আত্মীয়রাও আসবে। খুব  মজা হবে।

নিনার উপছে ওঠা খুশিটাও বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে সে ইয়ারা কিংবা জেকবের থেকে বয়স্ক হলেও, এখনও বড়োদের দলে পড়ে না। আর সে বার বার জেকব আর ইয়ারাকে বলছিল, গাড়িতে উঠে বোসো। এত বকবক করছিলে দুজনে! মা শুনতে পেলে কী হতো?

ক্রিসমাস ইভে মিগেইল বাড়ি এলেন।

অ্যাশলি এতো দিন পরে, তায় উৎসবের দিনে মিগেইলকে পেয়ে আর ছাড়তেই চায় না। সে আসলে বুঝে উঠতে পারে না কার থেকে বকেয়া আদরটা নেবে বেশি করে। প্রিসিলার থেকে নাকি মিগেইলের থেকে।

মিগেইল প্রিসিলার জন্য খুব খুশি। খুশি এডউইন আর নাটালির জন্যও। সব্বার পড়াশোনার, কাজের আর ভবিষ্যত পরিকল্পনার গল্পের মাঝে মাঝে উপছে আসছিল আগেকার বছরগুলোতে উৎসব উদ্‌যাপণের স্মৃতি। সবার মনেই অনেক অনিশ্চয়তার স্রোত। তবু ন্যাট বলল, আমরা আবার আগের মতোই ক্রিসমাস ট্রি লাগাবো ঘরে। কিচ্ছু ভেবো না তুমি।

পরেরদিন দুপুরে টেরেসা এসে জুটলেন। কথায় কথায় উঠলো বেঞ্জামিন মাইলসের ভিডিওর কথা। তাতে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন মিগেইল। কিন্তু ভেরোনিকা খুব ভরসা দিলেন সক্কলকে, জানো তোমরা, ওই ভিডিওটার জন্যই মিগেইল জানতে পারে যে বেঞ্জামিন এ পাড়াতেই থাকে! ওদের সাথেই জেলে আছে সে। মায়ের অসুখ বলে, নিজের অসুখ বলে বেরোয় জেল থেকে মাঝে মাঝেই। আর সময়ে ফেরে না। তাই তো অমন হেলিকপ্টার আসে।

তারপর মিগেইল নিজেই স্বাভাবিক হয়ে বললেন, বেঞ্জামিনের সঙ্গীসাথীদের থেকে শুনেছি যে ও জেলের বাইরে থাকলে কোভিনা প্লাজাতে রবার্টসন্সের ওয়্যার হাউসে কাজ করে। আমি কোনো দিনই রবার্টসন্সের ওয়্যার হাউসে ডেলিভারি করি নি।

মিগেইল একটু থামলেন। এসব কথার মাথামুন্ডু না বুঝে অ্যাশলি নিজের খেলার মধ্যে মেতে গেছে। বাকিরা সব্বাই রুদ্ধশ্বাসে শুনছে।

মিগেইল বলে চললেন, বেঞ্জামিনের ওখানে কাজ করার কারণ রবার্টসন্সের ট্রাকের ফেরিতে করে ওর নিজের ব্যবসার মাল দেওয়া নেওয়া করা। ওর ব্যবসাটা হলো চোরাই নিষিদ্ধ রাসায়নিকের, মাদকের। বেঞ্জামিন ট্রাক থেকে মাল নামানোর কাজই বেশি করে রবার্টসন্সের ওয়্যার হাউসে। ফলে নিজের জিনিসটা রবার্টসন্সের মালের ভেতর থেকে বার করে নিতে ওর অসুবিধে হয় না। ওর মেক্সিকান যোগানদারেরা রবার্টসন্সের ট্রাকে ওর বায়না করা চোরাই নিষিদ্ধ রাসায়নিক ভরে দেয়। যে ট্রাকে সাধারণত ওরা এগুলো ভরে, সেগুলো হাইওয়ে দিয়ে আসে না। আসে মাঠ আর জলা পেরিয়ে, কাস্টমস্‌ আর বর্ডার পেট্রোলের চেকপোস্ট এড়িয়ে। 

টেরেসা আশঙ্কায় শিউরে উঠলেন, কী সাঙ্ঘাতিক কথা! পুরো সীমানা জুড়ে তো আর কাস্টমস্‌ পোস্ট বানানো যায় না। আবার বর্ডারর সব বিন্দুতে বিন্দুতে সারাক্ষণ পেট্রোল কারও থাকে না। সুতরাং পেট্রোল কারের রাউন্ডের সময় এড়িয়ে মেক্সিকোর সীমানা পেরিয়ে আমেরিকায় ঢুকে পড়ে এরা নিশ্চয়ই......

ভেরোনিকা বললেন, সে সব আর আমরা জানব কোথা থেকে!

নাটালি জানাল, ইউটিউব থেকে। 

প্রিসিলা কৌতুহল গোপণ করতে পারল না, ইউটিউবে এসব ভিডিও কারা আপলোড করে?

এডউইন ফোড়ন কাটল, অপরাধীরা নিজেরাই করে নিশ্চয়ই ওস্তাদি ফলাতে।

খোঁচাটা গায়ে না মেখে নাটালি জানাল, আমি ভক্স বা ভাইস বা ওরকম কোনো নিউজ এজেন্সির চ্যানেলে দেখেছি। কয়েকটা ইংরেজিতে, কয়েকটা এস্প্যানিয়লে।

মিগেইল বললেন, এখন তোমরা কত কী নিজেরাই ইন্টারনেট থেকে জেনে নিতে পারো। আমি যদি জানতাম তাহলে এমন বিপদে পড়তাম না।

ভেরোনিকা বললেন, ফোনে তোলা ভিডিও আর ইন্টারনেটের জন্যই তো আমরা এতো কথা জানতে পারলাম। শুধু তাই বা কেনো... প্রযুক্তির জন্যই তো বিচার ব্যবস্থাও মানুষের সাক্ষ্য প্রমাণের থেকেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মানুষের যে স্বতঃস্ফুর্ত আচরণ ক্যামেরায় ধরা পড়ছে বা সোস্যাল মিডিয়ায় ফুটে উঠছে সেই সবকে।

ভেরোনিকার মতামত কিভাবে মিগেইলের বলা বেঞ্জমিনের ব্যপারের সঙ্গে মেলে সেটা প্রিসিলা বা এডউইন বুঝতে পারেনি। এডউইন জিজ্ঞেস করল, মানে?

প্রিসিলা বলে উঠল, বেঞ্জামিনের কারবার বা বাবার পরিস্থিতির সাথে বিচার ব্যবস্থা আধুনিক প্রযুক্তিকে কিভাবে কাজে লাগাচ্ছে তার কী সম্পর্ক?

ভেরোনিকা বললেন, আছে সম্পর্ক। আগে মিগেইল বেঞ্জামিনের সম্বন্ধে যা বলছিল বলে নিক। তারপর আমি বলব।

এটা বলেই তিনি আর কাউকে কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে অনুরোধ করলেন, বলো মিগেইল, জেলে তুমি বেঞ্জামিনের কথা যা শুনেছ.........

মিগেইল শুরু করলেন, বেঞ্জামিনের বন্ধুরা মনে করে যে বেঞ্জামিন বেশ চালাক। সে যা করে সেটা সে খুব নিষ্ঠার সঙ্গে করে। আর সে কাজে সে খুবই দক্ষ। তারা বেঞ্জামিনের ওস্তাদির গল্প বলে বেশ বীরগাথা বলার মতো করে। তাদের গল্প-গাছার থেকেই কানে এসেছিলো যে বেঞ্জামিন ব্যবসা বাড়ানোর জন্য নতুন যোগানদারের সাথে কাজ শুরু করেছিল। সেই যোগানদার রবার্টসন্সের ট্রাক চেনে না। ফলে যে ট্রাকে সে নিষিদ্ধ রাসায়নিক চোরাচালানের জন্য ভরেছিল সীমানা পেরোনোর ট্রাকের লাইনে, সেই ট্রাক চেকপোস্টে ধরা পড়ে। বেঞ্জামিনের কনসাইনমেন্ট সরকারী হেফাজতে জমা পড়ে। ওর প্রচুর টাকার ক্ষতি হয়। তাই তো ওকে বারবার জেল থেকে বেরোনোর ফিকির করতে হচ্ছে ...... তাড়াতাড়ি ক্ষতিপূরণ করে পাওনাদারদের সন্তুষ্ট করতে হবে যে।

এডউইন বলল, বুঝত পারছি, মানে আন্দাজ করতে পারছি, কিন্তু......

প্রিসিলা গভীর মনোযোগী গলায় বলল, ভাবছিলাম এসব কথা তুমিই বা জানলে কী করে বাবা! তার মানে তুমি ওদের কানাকানি শুনেছ। 

নাটালি গলায় জমাট দলাটাকে গিলতে গিলতে বলল, কিন্তু এসব প্রমাণ করা যাবে না, তাই তো?

টেরেসা সাবধানী গলায় বললেন, না, হানি, যাবে না। বেঞ্জামিনকে দিয়ে কোর্টে এসব কবুল করানোর কি মাশুল দিতে হবে আমরা তা জানি না। তাছাড়া ওদের কাছেও প্রমাণ নেই যে তোমার বাবার ট্রাকেই ওদের জিনিস আসছিল। তারওপর এসব নিয়ে ওর সাথে বেশি আলোচনা করলে ও তোমাদের বাবাকে কাজে বহাল করার চেষ্টা করতে পারে, মানে, বাবাকে ওদের দলে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। ওদের দলে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু ওদের কথা এতটা জেনে গেছে যে মিগেইল সেটা ওরা জানতে পারলে আমরা সব্বাই বিপদে পড়তে পারি। তাই আমরা বেঞ্জামিনের সাথে কোনো লেনদেন করব না।

মিগেইল বললেন, সরকার কেসদুটোকে জুড়ে সাজালে তবে সম্ভাবনা আছে যে আমি যে নির্দোষ সে কথা প্রমাণ হওয়ার। কিন্তু এখনও সরকার পক্ষ এসব কথা জানে বলে মনে হয় না। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম আমার উকিলকে আমি চিঠি লিখে জানাব এসব। ভেরোনিকার সাথে পরামর্শ করে দেখলাম যে সে ভারি বিপজ্জনক ব্যাপার। কথাটা কোনোভাবে বেঞ্জামিনের দল তাদের নিজের নিজের উকিল মারফৎ জানতে পারলে আমরা সবাই বিপদে পড়ব। আমার উকিল যদি এসব জানান ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি, ফেডেরাল অ্যাটর্নি আর সব সরকারী কৌঁসুলির দপ্তরে, যারা এই মামলার বাদী পক্ষ, তাতে তদন্ত করতে হবে আন্তর্জাতিক সীমা পেরিয়ে। যে লোকটি ভুল ট্রাকে বেঞ্জামিনের বেআইনি মাল তুলেছিল তাকে দিয়ে কবুল করাতে হবে যে সে ভুল ট্রাকে বেঞ্জামিনের মাল তুলেছে। তারওপর তাকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব ব্যাপার। খুঁজে পেলেও সে নিজের ভুল স্বীকার করবে কিনা তার কোনো নিশ্চয়তা নেই......।

নাটালি জানতে চাইল, তাহলে বেঞ্জামিন জেলে গেছে কী অন্য কোনো অপরাধে?

ভেরোনিকা উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। প্রাথমিক ভাবে একটা নাইন-ওয়ান-ওয়ান কলে পুলিশ নালিশ পায় যে ও নাকি ওর মায়ের ওপর অত্যাচার করছে। তার তদন্তে এসে দেখে যে ওর অ্যাপার্টমেন্টে নানা রকম মাদকের আর নিষিদ্ধ রাসায়নিকের ব্যবসা চলছে। এই দুটো অপরাধের তদন্তের সাথে আমাদের কেসের কোনো যোগাযোগ নেই। তাছাড়া আমাদের শুনানি চুকে গেছে। মিগেইল আগে কখনও কোনও বেআইনি কাজ করে নি। কোনো কারণে জেলেও যায় নি। যে জিনিসটা মিগেইলের ট্রাকে পাওয়া গেছে সেই জিনিসটার সাথে যে পয়সা-কড়ির লেনদেন চলেছে তার সঙ্গে মিগেইলের কোনো যোগাযোগ ছিল এমনটাও প্রমাণ করা যায় নি। তাই নিঃসন্দেহভাবে মিগেইলকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় নি। তবে নিজের ট্রাকে না জেনে নিষিদ্ধ মাদক বওয়াটাও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বলে ধরা হয়েছে। তাই কিছুদিনের হাজতবাস হলো আর কি। একটু ভুলের জন্য, অপরাধীর মতো সাজা ..... তাও নয়। শুধু একটা বিপজ্জনক ব্যবস্থার খপ্পরে পড়ে গেছে মিগেইল.....

এডউইন জানতে চাইল, আর ট্রাকটা?

মিগেইল বললেন, ওটা আর পাওয়া যাবে না বোধ হয়। ওটা তো মামলার প্রমাণ। ওটার জেরে হয়তো মাদক আর অন্যান্য নিষিদ্ধ রাসায়নিকের চোরাচালানে জড়িত অপরাধীদের ধরার চেষ্টা করবে সরকার। আমিও আর নিজের ট্রাকে মাল বইব না। কোনো কনভেনিয়েন্স স্টোর বা গ্রসারি চেনে ড্রাইভারের কাজ নেব। নিজের ট্রাকটার পুরো লগ্নিটা গেল তো...... আর এতোদিন বিনা রোজগারে থাকার পর, ট্রাক কেনার ক্ষমতাও নেই আমার। তাছাড়া কোম্পানির বাধা চাকরিতে ঝুঁকি কম। শুধু ইউনাইটেড স্টেটস্‌-এর মধ্যেই মাল ফেরির কাজ করব ...... আমার ছোট্টো ভুলে এতো বড় অপরাধের শাস্তি ......। আমি আসলে ক্রেটের মধ্যের জিনিস তো আর ঘেঁটে দেখি না। সেটা আমার কাজ নয় বলেই এতোদিন জানতাম...... 

সব্বাই চুপচাপ হয়ে যেতে ভেরোনিকা বললেন, নাটালি আর অ্যাশলি যেদিন প্রথম হেলিকপ্টারের কথা বলেছিল আমাদের সেদিন অ্যাশলির জ্বর হয়েছিল। মনে আছে তোমাদের?

টেরেসা বললেন, মনে আছে হেলিকপ্টারের জন্য। নাহলে জ্বর তো অ্যাশলির থেকেই থেকেই হয়...

ভেরোনিকা নিজের কথায় ফিরলেন আবার, সেদিন আমি থাকতে পারি নি। জরুরী মিটিং-এর জন্য। নাটালি ছিল অ্যাশলির দেখাশোনায়।

এডউইন গলায় সমবেদনা মিশিয়ে মনে করাল সবাইকে, আমি না জানি কিনা কী বলেছিলাম নাটালিকে, হেলিকপ্টারের ব্যাপারে......

ভেরোনিকা কথার সূত্র টেনে নিলেন, সেই মিটিং-টা ছিল সরকারী কৌঁসুলিদের সাথে। তাঁরা জানিয়েছিলেন যে মিগেইলের নির্দোষ প্রমাণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সে সম্ভাবনার কারণ জেলে কিছু আসামীর কথোপকথন, যেটা তাঁদের শক্তিশালী ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ডিং হয়েছে। সে জন্য ওঁরা আমাকে এটাও বলেন যে মিগেইলের সঙ্গে দেখা করার সময় আমি যেন জানতে চাই যে জেলের মধ্যে মিগেইল কিছু শুনেছে কিনা। এর ফলে মিগেইল অন্য আসামীদের কথা চালাচালি শুনতে শুরুর করবে, সে সব আমাকে বলতে শুরু করবে। আমি সে সব রেকর্ড করে ওঁদের জানাতে থাকব...

মিগেইল বলে উঠলেন, তুমি যে বলতে ছেলেমেয়েদের শোনাবে আমাদের কথা, আমার গলার স্বর; তাই রেকর্ড করছ!

ভেরোনিকা বললেন, না হলে তুমি ভয় পেতে পারতে।। জেলের ভিতর তোমার বিপদের কথা, জেলের বাইরে আমাদের বিপদের কথা ভেবে......

টেরেসা উৎসুক হয়ে জানতে চাইলেন, তুমি কী সেসব সরকারী কৌঁসুলিদের দিয়েছ?

ভেরোনিকা শান্ত গলায় বললেন, দিয়েছি। তার থেকেই ওঁরা ঠাহর করতে পেরেছেন যে কোন কোন আসামীদের নিজেদের কারবারের মধ্যে যোগাযোগ আছে। সেই সব আসামীদের প্রত্যেক মূহুর্তের কথোপকথন,  আচার- আচরণ, লেনদেন বিশেষভাবে ভিডিওতে রেকর্ড করা হয়েছে জেলের ভেতরের নানান ক্যামেরায়। এমনকি লুকোনো ক্যামেরা দিয়েও। তার থেকেই ওঁরা দিন তারিখ, সময় মিলিয়ে প্রমাণ পেয়েছেন যে মিগেইলের ট্রাকে নিষিদ্ধ মাদক ভরা হয়েছিল মিগেইলের অজান্তে। সীমান্তের ওপারের আইন রক্ষার অব্যবস্থার জন্যই মিগেইল নিজের অজান্তে অপরাধী হয়ে গেছেন।

এই অবধি বলে সবার, এমনকি মিগেইলেরও হতবাক চেহারার দেখে তাকিয়ে ভেরোনিকার ঠোঁটে হাসির একটা আভাস খেলে গেল। খানিকটা খুশিতে। খানিকটা সক্কলকে নিশ্চিন্ত করতে পারার তুষ্টিতে।

তারপর তিনি আবার বলতে লাগলেন, এখন ট্রাক ড্রাইভারদের সচেতন করা হচ্ছে যে তাঁরা যেন ইলেকট্রনিক তালা লাগান কন্টেনারে, যাতে কোনোভাবে কন্টেনারে চোরাই মাল ভরতে গেলে অ্যালার্ম বাজে ড্রাইভারকে সচেতন করার জন্য। ড্যাশক্যাম দিয়ে যেমন ট্রাকের সামনের সব পরিস্থিতি ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়, তেমনই কন্টেনারে রিয়ার ভিউ, ইনার ভিউ ক্যামেরা দিয়ে নজরদারির ব্যবস্থা করতে বলা হচ্ছে। আর সীমান্তের যেখানে পাকা রাস্তা নেই, চেকপোস্ট নেই, সেসব জায়গা দিয়ে যেহেতু ট্রাক পেরোতে পারে সেহেতু সেসব জায়গাতে ড্রোন দিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

নাটালি আবার তার অধৈর্য কৌতুহলে লাগাম পরিয়ে প্রশ্ন করল, তাহলে কী প্রমাণ হলো বাবা নির্দোষ?

ভেরোনিকা বললেন, হ্যাঁ হলো তো। নতুন বছরে জুরিদের সামনে আবার পুরো ব্যাপারটা পেশ করা হবে। সঙ্গে অনুরোধ থাকবে মিগেইলকে সসম্মানে মুক্তি দেওয়ার জন্য।

প্রিসিলা তর্ক জুড়ল, জুরিরা বাবাকে নির্দোষ না মানলে বাবাকে হাজতবাস করতে হবে?

ভেরোনিকা বললেন, সে সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। সরকারী কৌঁসুলিরা শুরুর থেকে আন্দাজ করেছিলেন যে তোমাদের বাবা একটা আইনি অব্যবস্থার শিকার। তাঁরা সন্তোষজনক প্রমাণও জোগাড় করেছেন। তাঁদের যেমন দায় অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা, তেমনই নিরপরাধ যেন শাস্তি না পায় সেইটা নিশ্চিত করাও তাঁদের শপথ নেওয়া কর্তব্যের একটা। তাই সরকার মিগেইলের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা খারিজের দরখাস্ত করবে। তাতে জুরির মত যাই হোক, বিচারক মিগেইলকে মুক্তি দিতে পারবেন।

সব্বার মুখে একসাথে হাজার ওয়াটের আলো জ্বলে উঠল। প্রিসিলা এডউইনকে জড়িয়ে ধরে চেঁচিয়ে উঠল, ইয়ে...

নাটালি ভেরোনিকার হাত ধরে ঝাঁকুনি দিতে দিতে বলতে লাগল, থ্যাংক ইউ মা, ইউ আর দ্য বেস্ট।

টেরেসা মিগেইলের হাত ধরে নিজের দুই তালুতে জড়িয়ে ধরে বললেন, কন্‌গ্রাচুলেসনস।

মিগেইল ভেরোনিকার দিকে হাসি মুখে ছলছল চোখে তাকিয়ে বললেন, তুমি আমাকে বাঁচালে।

খুশির আবহাওয়া আঁচ করে অ্যাশলি মিগেইলের কোলের ওপর ঝাঁপিয়ে এসে বলল, আমরা কি মুভি দেখব এবার?

উত্তর দিলেন টেরেসা, চলো সব্বাই সিনেমা দেখি। আমি অনেকগুলো ডিভিডি এনেছি।

~~~~~~~~~~~~~

Read at your own pace. On Browser the whole book FREE OF COST from this link. সম্পূর্ণ বই নিজের গতিতে পড়ার জন্য ইন্টারনেট ব্রাউজারে বিনামূল্যে এই লিঙ্ক থেকে : https://read.bookfunnel.com/read/9cq7a4tl7h
Read at your own pace. On Browser or Download the whole book FREE OF COST from this link. সম্পূর্ণ বই নিজের গতিতে পড়ার জন্য ইন্টারনেট ব্রাউজারে বা ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে বিনামূল্যে এই লিঙ্ক থেকে : https://dl.bookfunnel.com/9cq7a4tl7h
~~~~~~~~~~~~~
Link to Previous Post আগের পোস্ট: https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/12/chapter-7.html
Link to Following Post পরের পোস্ট: https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/12/chapter-9.html

Wednesday, December 11, 2024

Chapter 7 - আবার হেলিকপ্টার

 


এক শনিবার দুপুরে ইস্কুলের প্রজেক্ট নিয়ে মশগুল এডউইন। অ্যান্থনিদের বাড়ি থেকে ভেসে আসছে লাতিনো গান। সে সময় আবার হেলিকপ্টারের ঘড়ঘড়ানিতে কালা হওয়ার দাখিল হলো সবার। সব্বার।

অ্যাশলি তিড়িং বিড়িং লাফাতে লাফাতে ভেরোনিকাকে বলল, মা-আ! শুনতে পাচ্ছ? মা-গো এটার আওয়াজে আমার কেমন ভয় করে! কেন? তোমার ভয় করে কি? নাটালি বলেছে ওর ভয় করে না...... নাটালি, নাটালি-ই 

নাটালিকে ডাকতে ডাকতে অ্যাশলি ঢুকে পড়ল নাটালির ঘরে। রাতে এই ঘরেই সে আর নাটালি ঘুমোয় দুটো সরু খাটে। প্রিসিলা এলে অ্যাশলিকে মায়ের সাথে ঘুমোতে হবে মায়ের বড়ো খাটে, এমনটাই ভেরোনিকা বলেছেন। 

এমন সময় দৈববাণির মতো ভেসে এলো, বেঞ্জামিন মাইলস তুমি আত্মসমর্পণ করো।

নাটালি অ্যাশলির দিকে তাকায় চোখ গোল গোল করে। আর অ্যাশলি দৌড়ে বসার ঘরে চলে আসে, তার লাগোয়া খাবার টেবিলে বসে ভেরোনিকা নিজের পড়াশোনা, হিসেব, ফর্দ এসব দেখছিলেন। আর সে চেঁচাতে থাকে, মা-আ, শুনছো-ও, ও মা আমার ভয় করছে কেন, কেন মনে হচ্ছে কিছু একটা হবে, সাংঘাতিক মতো!

ততক্ষণে এডউইন ছুটে বেরিয়ে গেছে বারান্দায়। হাতের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে নিচ্ছে ছাদের কিছু ওপর দিয়ে ঘুরপাক খেতে থাকা হেলিকপ্টারটাকে। রেকর্ড করে নিচ্ছে গমগমে ঘোষণা, বেঞ্জামিন মাইলস তুমি আত্মসমর্পণ করো। আমাদের অফিসাররা সশস্ত্র। তুমি পালানোর চেষ্টা করলেই তোমাকে দেখা মাত্র গুলি করা হবে। 

তাই দেখে অ্যাশলি আশ্বস্ত হলো। কিন্তু এতক্ষণে উত্তেজনা পেয়ে বসেছে ভেরোনিকাকেও। তিনি টেবিল ছেড়ে ছুট্টে গেলেন এডউইনের পাশে। এডউইনকে বললেন, ভালো করে ভিডিও করে রাখো। এরকম জিনিস চট করে দেখতে পাওয়া যায় না। পরে কাজে লাগতে পারে, প্রজেক্টে বা প্রেজেনটেশনে।

কিন্তু এডউইন মায়ের সব কথাটা শুনতে পেল না কারণ তখন আবার হেলিকপ্টার থেকে গমগম করে ভেসে আসছিল ফেরারের প্রতি নির্দেশ , বেঞ্জামিন মাইলস তুমি আত্মসমর্পণ করো। আমদের শিকারী কুকুর তোমাকে খুঁজছে।

এই চক্কর আর ঘোষণা চলল প্রায় আধ ঘন্টাটাক। উল্টোদিকের বারান্দাতে গোল ভুঁড়িওয়ালা ভারতীয় লোকটাও ক্যামেরা হাতে দাঁড়িয়ে । তার সঙ্গিনী জানলা দিয়ে হাত নাড়ল এডউইনের বারান্দার নিচে থাকা কাউকে। ওখানে অবশ্য আরেকটা ভারতীয় পরিবার থাকে।

তার পাশের বারান্দায় হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ম্যাট বা ম্যাথিউ।  ম্যাটের চোখ মুখে একটাই ভাব, যাচ্চলে, এ কোথায় এসে পড়লাম! 

হেলিকপ্টারটা যেমন হঠাৎ এসেছিল, তেমনই হঠাৎ চলে গেল। তাই ভিডিও করা বন্ধ করে এডউইন আর ভেরোনিকা ঢুকে পড়ল বসার ঘরে। এডউইন ভিডিওটা নিয়ে উত্তেজিত হয়ে নাটালির ঘরে ঢুকে বলল, ন্যাট, এই দেখ কী জিনিস বাগিয়েছি!

নাটালি কোনো উত্তর দিল না। নিজের খাতা বইতে যেমন মুখ গুঁজে ছিল, তেমনই রইল। কিন্তু কৌতুহলে অ্যাশলি অস্থির হয়ে গেল। সে এডউইনকে বলল, এড, আমাকে দেখাও না, প্লিজ।

এডউইন অ্যাশলিকে ভিডিওটা দেখাতে শুরু করল। দেখতে দেখতে অ্যাশলি কেবল কেবল উত্তেজিত হয়ে বলে উঠতে লাগল, আররে সেদিনও এরকম হয়েছিল...। এসবই বলছিল... আমি তো বুঝতে পারছিলাম না...। ন্যাট আমাকে ফিস ফিস করে বলে দিয়েছিল......

এবার এডউইনের মনে পড়ল যে আগেও অ্যাশলি বলেছিল এরকম একটা ঘটনার কথা বটে। সেদিন সে নাটালিকে যা নয় তাই বলেছিল। মনে পড়তেই সে নাটালির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলতে লাগল, আয়াম সরি, ন্যাট। ফরগিভ মি। আয়াম আ ফুউল দ্যাট আই ডিডন্ট বিলিভ ইউ... প্লিজ।

ততক্ষণে ভেরোনিকারও মনে পড়ে গেছে যে মেয়েরা বলেছিল তাঁকে এরকম কিছু হয়েছিল বলে। তিনি চকোলেটের বাক্স নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। তিনজনকে চকোলেট দিলেন আর বললেন, এড, ভিডিওটা ন্যাট আর প্রিসিলার সাথে শেয়ার কোরো যাতে দরকারে ওরাও এটা ব্যবহার করতে পারে। আমাকেও দিও হোয়াট্‌স অ্যাপে। আমি টেরেসাকে আর মিগেইলকে দেখাব। 

এরপর ভেরোনিকা যেদিন গেলেন মিগেইলের সাথে দেখা করতে, সেদিন ভিডিওটা তিনি দেখালেন মিগেইলকে। মিগেইল সেটা দেখে গম্ভীর হয়ে গেলেন। থমথমে গলায় ভেরোনিকাকে বললেন, আমার ভুলে বাচ্চাদের কোথায় এনে ফেলেছি!

এরপর দুজনেই মনের দুঃখে খানিকক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন।

বাড়ি ফিরে সেকথা ভেরোনিকা বলেও ফেললেন ছেলেমেয়েদের। তবে সে দুঃখ সক্কলকে খুব একটা গ্রাস করতে পারল না। কারণ খবর পাওয়া গেল যে প্রিসিলা দারুণ গ্রেড পেয়ে হাইস্কুল পাশ করেছে। সে সিট্রাস কলেজে ক্লাস শুরু করবে। বায়োলজি আর কেমিস্ট্রি হবে তার ডাবল মেজর। দু বছর পরে সে কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েসন করলেই তার কলেজ গ্রেড ট্রান্সফার হয়ে যাবে ইউনিভার্সিটিতে, তার নার্সিং ব্যাচেলর ডিগ্রি কোর্সে।

আরও ভালো খবর হলো যে প্রিসিলা কাজও পেয়েছে তার কলেজ-ইউনিভার্সিটির পাড়াতে, চিক-ফিল-আ নামে একটা রেস্টুরেন্ট চেন-এ। শুধু প্রিসিলা নয়, ভেরোনিকার কোর্সও প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। খুব স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে আসছে গ্রীষ্মে তিনিও ডিগ্রিটা পেয়ে যাবেন। চেষ্টা করলে হয়তো, বার কাউন্সিলের মেম্বারশিপের পরীক্ষাটাও পাশ করে যাবেন। 

~~~~~~~~~~~~~

Read at your own pace. On Browser the whole book FREE OF COST from this link. সম্পূর্ণ বই নিজের গতিতে পড়ার জন্য ইন্টারনেট ব্রাউজারে বিনামূল্যে এই লিঙ্ক থেকে : https://read.bookfunnel.com/read/9cq7a4tl7h
Read at your own pace. On Browser or Download the whole book FREE OF COST from this link. সম্পূর্ণ বই নিজের গতিতে পড়ার জন্য ইন্টারনেট ব্রাউজারে বা ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে বিনামূল্যে এই লিঙ্ক থেকে : https://dl.bookfunnel.com/9cq7a4tl7h
~~~~~~~~~~~~~
Link to Previous Post আগের পোস্ট: https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/12/chapter-6.html
Link to Following Post পরের পোস্ট: https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/12/chapter-8.html

Tuesday, December 10, 2024

Chapter 6 - নতুন দিনকাল

 


গরমের ছুটির পর ইস্কুল শুরু হয়েছে সবে। নতুন ক্লাস, নতুন বই খাতা, নতুন শিক্ষক, নতুন সহপাঠী সবকিছুর মধ্যে নতুন করে শুরু করার আমেজটা আবার আঁকড়ে ধরেছে হেক্টরকে। নতুন সবকিছুর মধ্যে সব থেকে বেশি নাড়া দিচ্ছে তাকে তার নতুন জনপ্রিয়তা। 

সে বরাবরই কম কথা বলত। তার ওপর নতুন দেশে লুকিয়ে আসার ব্যাপারটা তাকে এমন গিলে খেয়েছে, যে সে অনেক সময় নিজের থেকেও লুকিয়ে বেড়ায়। কারোর সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে বাধে তার। লজ্জা, সঙ্কোচ আর ভয়ের ঘেরাটোপে সে যেন আটকা পড়ে থাকে।

শুধু পায়ে বল পেলে সে সব ঘেরাও ভেঙে অন্য মানুষ হয়ে ওঠে। তার খেলা দেখে ইস্কুলের কোচেরা তাকে ইস্কুলের দলে জায়গা দিয়েছিলেন। তাকে বরাবর ভালো খেলায় উৎসাহিত করে চলেছেন। তাকে ইস্কুলের কোচ এবং প্রিন্সিপ্যাল বুঝিয়েছেন যে ভালো খেলার জোরেই সে কলেজে পড়ার স্কলারশিপ পেতে পারে। কারণ এখনও ইউনাইটেড স্টেটস্‌ সকারে ভীষণ দূর্বল। প্রতি বছর কলেজগুলো সকার স্কলারশিপ দিয়ে ইউরোপের নানান দেশ থেকে সকার খেলোয়ার আমদানি করে যাতে কলেজের সকার টিম জবরদস্ত হয়। ক্রমে জাতীয় সকার টিম পোক্ত হয়ে উঠবে এই আশায়।

হেক্টরের এতো কথা মনে থাকে না। সে শুধু টের পায় যে পায়ে বল পড়লে তার সব বাধা খুলে যায়। মাঠটা তার কাছে খোলা আকাশের মতো অনন্ত সম্ভাবনার আশা হয়ে দাঁড়ায়। সে আশা করে না যে অনেক কিছু ঘটবে। কিন্তু পায়ের নিচে মাঠ, গায়ে জার্সি আর বলের ওপর তার দখল তাকে জাদুকর করে তোলে। জাদু সে নিজে টের পায় না। কিন্তু সে টের পায় বলের পিছে আর বল পায়ে নিয়ে দৌড়োনোর আনন্দ। তার সকার দলের সমর্থকদের সাড়া পেলে সে একটা তৃপ্তিও টের পায়।

সকার মাঠের জাদু তাকে ইস্কুলের সকার দলের ক্যাপ্টেন করে দিয়েছে। এখন সারা ইস্কুল তার নাম জানে। তার চেহারা চেনে। প্রায় সব্বাই তার বন্ধু হতে চায়। সে সবাইকে সলজ্জ বিনয়ে সাড়া দেয়। কিন্তু বন্ধু হতে পারে না কারোরই। 

সেকথা তার সহপাঠীরা টের পায় না। বরং তাকে সবাই বেশ সম্মান করে। তাতে তার বিশেষ অহঙ্কার কিছু হয় না। কিন্তু তার জন্মদিনে সবাই মিলে যখন পার্টি দিল তখন সে সত্যিই অভিভুত হয়ে গেল।

সে বন্ধু হওয়ার চেষ্টা শুরু করল। সবাই তাকে বন্ধু করে নিয়েছে বলে কৃতজ্ঞতায়। আর  বন্ধুত্বের টানে। তার ভালো লেগে গেল মিসেলকে, এডউইনকেও।

প্রথমে হেক্টর জানত না যে দুজনেই তাদের অ্যাপার্টমেন্ট পাড়ায় থাকে। সে তো ইস্কুল ফেরতা হয় মাঠে ট্রেনিং-এ যায় নয় তো যায় মামার সাথে, কাজে হাত লাগায়। কখনও কখনও মামা বাড়িতে পৌঁছে কাজ দেন যে জড়ো করে রাখা জঞ্জালগুলো বেছে বস্তায় পুরে তৈরি রাখতে। 

খনির কাজে ছুটির দিনে মামা সেসব বস্তা গাড়িতে বোঝাই করে নিয়ে বিক্রি করে আসবেন রদ্দিওয়ালার কাছে। এমনিতে দুই পরিবারের জল আর কোল্ড ড্রিঙ্কের বোতল মিলিয়েই প্রায় তিরিশ ডলারের মতো প্লাস্টিক জড়ো হয়। তা বাদে আছে কাচের বোতল, ডাকে আসা বিজনেস মেল থেকে জড়ো হওয়া কাগজ আর বেশ কিছু খাবার আর পানীয়ের টিন।

তারওপর খনিতে ছুটির দিনে কার্লোস কনুই ঢাকা গ্লোভস পরে, লোহার আঁকশি দিয়ে খুঁচিয়ে তোলেন পাড়ার সমস্ত ডাম্পস্টারের যত প্লাস্টিক বোতল, টিন, আর কাঁচ। জড়ো করেন ফ্রি খবরের কাগজ, বিজ্ঞাপনের কাগজও। রাস্তার পাশের টিনের বাক্স থেকে তুলে নেন বিনামূল্যের বিজ্ঞাপণের কাগজ অ্যাপার্টমেন্ট ফাইন্ডার আর বিনামূল্যের খবরের কাগজ ফুটহিলস্‌ ক্রনিক্ল। গ্রসারি আর লাইব্রেরি থেকেও জড়ো করা যায় কাগজগুলো।

জড়ো করার কাজে সাধারণত কার্লোস একলা যান বলে কাগজ, প্লাস্টিক, কাঁচ আর টিন মিশে থাকে। হেক্টর আর অ্যান্থনি সেগুলোকে আলাদা করে করে গুছিয়ে রাখে। একটা বস্তায় কাঁচ, আরেকটায় টিন, আরেকটায় কাগজ তো আরেকটায় প্লাস্টিক। কাগজের আর প্লাস্টিকের বস্তা সংখ্যায় একের বেশিই হয়।

তাছাড়াও হেক্টর মারিয়াকে সাহায্য করে ঘরের কাজে, লন্ড্রি করতে। 

নতুন বন্ধুদের সাথে মিশতে মিশতে তার মনের লুকিয়ে থাকা কথাগুলো, সেই কথাগুলোর ভেতরের টনটনে ব্যাথাটা যেন কোথায় লুকিয়ে পড়ল। ভাইবোন আর মাকে দেখলে তার বুক ঠেলে আর দীর্ঘশ্বাস ওঠে না। গলির ফুটবলের মধ্যে তার সোনোরায় কাটানো ফেলে আসা ছেলেবেলাটা মাঝে মাঝে ফিরে আসে। মিসেলের মনোযোগটা তাকে আলাদা ভালো লাগা দেয়।

যদিও তার বাবা আর আসতে পারবেন কিনা তাদের পরিবারে সে কথা হেক্টর জানে না। মা আর ভাইবোনেরা কতোটা বোঝে পরিস্থিতিটা তাও সে জানে না। মেহিকোতে বাবার নিরাপত্তার কথা ভেবে মাঝে মাঝে তার শিরদাঁড়া দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে যায়। সামনের দিনগুলোর অতল অনিশ্চয়তার দিকে তাকালে তার চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে।

হেক্টর জানে যে মিসেল তাকে পছন্দ করে তার ফুটবলের জন্য। তার পরিবারের গোপণ সত্যের কথা জানলে মিসেল কী করবে সে কথা হেক্টর জানে না। সে নিশ্চিত নয় যে বাবার অনুপস্থিতে মা আর ভাইবোনেদের প্রতি তার যে দায়িত্ব সেটা মিসেলকে বুঝিয়ে বলা যায় কিনা।

 ইস্কুলের আর মেয়েরা হেক্টরের নাগাল পায় না ইস্কুলের বাইরে ঘন্টাগুলোতে। অথচ একই পাড়ায় থাকার কারণে সন্ধের খানিকটা সময় হেক্টরের কাছাকাছি থেকে মিসেল জেনে ফেলেছে হেক্টরের অনেক কথা যা আর কেউ জানে না। সেসব মিসেল যখন ইস্কুলে গিয়ে বাকি মেয়েদের বলে তখন বাকি মেয়েদের চোখ সত্যি সত্যিই হিংসেতে সবুজ হয়ে যায়।

মেয়েদের চোখের সবুজ রং দেখে হেক্টরের ভীষণ হাসি পায়। সে বুঝতে পারে যে অনেকেই তার সাথে বন্ধুত্ব চায়।  কিন্তু মিসেল ছাড়া আর কেউই হেক্টরের পাড়াতে থাকে না, তাই হেক্টরের সাথে ইস্কুলের পরেও সময় কাটাতে পারে না। সেই জন্য অনেকেই  মিসেলকে হিংসে করে।

সেই হিংসের আঁচটা মিসেল বেশ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে। সে কথাও হেক্টর টের পায়। সে আরও বুঝতে পারে মিসেলের এই মেশামেশি লোকদেখানো, গয়নার মতো, নিজের অহঙ্কারকে ফাঁপানোর জন্য। হেক্টরের প্রতি সম্মান, সমীহ তেমন নেই তাতে, ভালোবাসা তো নেই-ই। তবু মিসেল মিষ্টি হেসে কথা বললে হেক্টর এড়িয়ে যেতে পারে না।

মিসেলের উচ্ছসিত স্বভাবটা মুগ্ধ করেছে এডউইনকেও। এডউইনের মনে দুঃখ আছে, বাবার জেলে যাওয়া নিয়ে। এডউইনের দুঃখ আছে তাদের সাজানো সুন্দর বাড়ি ছেড়ে, পাড়া ছেড়ে, এই নোংরা পাড়ার আরশোলা ভর্তি বাসাতে এসে বসবাস করার জন্য। সে দুঃখের কথা কাউকে বলা যায় না। এডউইন আশা করে যে একদিন তার সব দুঃখের কথা হয়তো মিসেলকে বলা যাবে।

যে সময়টা মিসেল এডউইনের সাথে কাটায়, একান্ত ঘনিষ্টতায় তখন এডউইনের দুঃখটা মনের গহীনে কোথায় যেন হারিয়ে যায়। তাই এডউইন আজকাল চুলে স্পাইক বানানোর চেষ্টায় একটা ঝুঁটি বেঁধে রাখে। তাকে যেন ক্লাসের বাকি কুউল ছেলেদের মতোই দেখতে লাগে সেই চেষ্টায়।

মিসেল তার সাথে মেশে কেন সে জানে না। সে আন্দাজ করে যে ক্লাসের বাকি সবাই নার্ডি বলে তাকে এড়িয়ে যায় বলে মিসেল বোধ হয় এডউইনের জন্য কষ্ট পায়। মিসেল হয়তো আর সবার থেকে অনেক বেশি সংবেদনশীল।

শুরুতে এডউইনও ক্লাসের কারোর সাথে বিশেষ মিশত না। পড়াশোনাতে ডুবে থাকত। আর অবসরে লাইব্রেরিতে বসত কিংবা কোনো দিদিমণি বা মাস্টারমশাইয়ের কাছে গিয়ে পড়া বুঝে নিত।

 মিসেলই নিজের থেকে এগিয়ে এসে ইস্কুল বাসে এডউইনের পাশে বসে। নিজের থেকে এগিয়ে এসে কথা বলে এডউইনের সাথে। এমনকি ইস্কুলের বাইরে, অ্যাপার্টমেন্ট পাড়াতেও মিসেল এডউইনকে এড়িয়ে না গিয়ে তার সাথে কথা বলতে শুরু করে। এসবের থেকেই এডউইন মিসেলের বন্ধুত্বে ভরসা পেতে শুরু করে।

মিসেলের কাছে নিজেকে আরেকটু আর পাঁচজনের মতোই ফান লাভিং দেখাতে টিফিনের পয়সা জমিয়ে এডউইন কিনে ফেলেছে একটা পুরোনো রং চটা স্কেটবোর্ড। সে আবার স্কেটবোর্ড চড়ছে জুনিয়র স্কুলের দিনগুলোর মতো।

তাদের ক্লাসের অন্য অনেক ছেলেমেয়েরা তার সাথে কথা বলতে শুরু করে তারপর থেকে। তারাই জানায় যে ক্লাসের অনেকেই মিসেলের সাথে একান্তে গল্প করতে চায়, মিসেলের ঘনিষ্ঠ হতে চায়, কিন্তু মিসেল শুধু হেক্টরের কথা ভাবে।

এডউইনের কাছে এটা খবর। খবরটাতে এডউইন চমকে যায়। মিসেল তো তাকে বলেছে, হেক্টরের সাথে আমার শুধুই বন্ধুত্ব। সেটাকেই বাকি সব্বাই হিংসে করে। কারণ হেক্টরও খুব সহজে কারুর সাথে মেশে না তো!

মিসেলের সাথে মেশার পরে থেকেই এডউইনেরও বন্ধুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। কারণটা সে স্পষ্ট করে জানে না। সে মনে করে যে তার কুউল অভ্‌তারের প্রচুর ভক্ত। নতুন বন্ধুদের মধ্যেই সে কানাকানি শোনে যে তার মতো ইউনাইটেড স্টেটস নাগরিকের ঘনিষ্ঠ হতে কে না চায়!

এতে এডউইন বিরক্ত হয়ে যায়। কথাটা সে মিসেলকে বলায় মিসেল বলে, আমার চাওয়ায় তেমন তরবেতর নেই। আমি তোমাকে আমার বার্থ সার্টিফিকেটও দেখাতে পারি যে আমিও এদেশেরই নাগরিক। কিন্তু ভালোবাসায় এসব খটকা আসছে কেন?

এডউইন টের পেল যে ভালোলাগার মধ্যে এসব জাগতিক হিসেবনিকেশ এসে পড়ায় বেশ রেগে গেছে মিসেল। সে কিছুদিন কথা বলাও বন্ধ করে দিল এডউইনের সাথে। এমনকি এডউইনকে এড়িয়েও যেতে লাগল।

এডউইন এই সমস্তটাক্ষণ হতবুদ্ধি হয়ে ভাবতে লাগল যে কি করে আবার মিসেলকে কাছে পাবে। আর হাসিতে, কথায়, আঙুলের, চুলের হালকা ছোঁয়ায় কেটে যাবে অনেকটা সময় হু-উ-শ করে।

অনেকদিন ধরে মিসেলের সাথে কথা না বলার ব্যাকুলতায় এডউইনের মনে একটা আকুল ব্যাথা তার প্রত্যেক রোমকূপ দিয়ে একটা অস্থির উন্মাদনা হয়ে ফেটে বেরোতে চায় একেকটা সন্ধ্যায়। এইসব সন্ধ্যায় মিসেলকে দেখতে পাওয়ার একটা অদম্য খেপাটে ইচ্ছে নিয়ে এডউইন স্কেটবোর্ডে চেপে ঘুরে বেড়াতে থাকে অ্যাপার্টমেন্ট পাড়ার গলিতে গলিতে, পার্কিং-এ।

এরকমই একটা সন্ধেবেলায় মিসেল কাদের সাথে যেন লুকোচুরি খেলছিল পার্কিং-এ। তাই অবশেষে দুজনে মুখোমুখি হয়ে গেল। আর হাই, হেলো, আঙুলের হালকা ছোঁওয়া, পেরিয়ে ভেসে গেল সব অভিমান।

~~~~~~~~~~~~~

Read at your own pace. On Browser the whole book FREE OF COST from this link. সম্পূর্ণ বই নিজের গতিতে পড়ার জন্য ইন্টারনেট ব্রাউজারে বিনামূল্যে এই লিঙ্ক থেকে : https://read.bookfunnel.com/read/9cq7a4tl7h
Read at your own pace. On Browser or Download the whole book FREE OF COST from this link. সম্পূর্ণ বই নিজের গতিতে পড়ার জন্য ইন্টারনেট ব্রাউজারে বা ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে বিনামূল্যে এই লিঙ্ক থেকে : https://dl.bookfunnel.com/9cq7a4tl7h
~~~~~~~~~~~~~
Link to Previous Post আগের পোস্ট: https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/12/chapter-5.html
Link to Following Post পরের পোস্ট: https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/12/chapter-7.html

Readers Loved