Thursday, August 29, 2024

JPDA - Chapter 23

  ২৩. সাদা লাল জামা


মোটেই কোনো মেলানোমা নেই। মিন হুয়ে যখন এই প্রজেক্টে কাজ করতো গুয়ান ছাও-এর হয়ে তখন ও নানান আকারের মেলানোমার ছবি দেখেছে, সেগুলোকে বিভিন্নভাবে বড়ো করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছে, অনেকরকম তুলনা করেছে নানা রকমের মেলানোমার, বিশ্লেষণও করেছে। যদিও অবাক হবার কিছু ছিলো না, তবুও কী ভীষণ খারাপ যে লেগে ছিলো প্রথমবার দেখতে সে কথা মনে আছে মিন হুয়ের। সমস্ত চেতনা যেনো অবশ হয়ে গিয়ে ছিলো।

“আমি শুধু এই চাই যে আমার শরীরটা তুমি পরখ করো। এটা ছিলো সামনের দিকটা।” বলতে বলতে উল্টে গেলো ঝৌ রু জি, “আর এই হলো পিঠের দিক।”

“ও কে। তোমার সব কিছু স্বাভাবিক।” ঝৌ রু জির মাথা চাপড়ে দিয়ে বললো মিন হুয়ে, “এখন চটপট করে জামাকাপড় পরে নাও। না হলে ঠাণ্ডা লেগে যাবে।”

“তোমাকে প্রথমবার দেখেই আমি তোমার প্রেমে পড়ে গেছি।”

"কেনো?”

“আমি সুন্দরী মেয়েদের পছন্দ করি।” জামা পরতে পরতে বললো ঝৌ রু জি।

নিজের রূপ সম্পর্কে মিন হুয়ে আত্মবিশ্বাসী। ছোটোবেলা থেকেই ও সৌন্দর্যের ভক্ত, ওর জীবনের একমাত্র শখ জামা কেনা আর নানান প্রসাধনী কেনা। যেহেতু ওর বাবা রূপোর গয়নার কারিগর ছিলেন, ও ছেলেবেলা থেকেই সূক্ষ্ম গয়নার ভক্ত, সব সময়ে যে খাঁটি সোনা রুপোয় হতে হবে তা নয়, ওর পছন্দ হলেই হলো, সেটা কেনার সব রকম চেষ্টা ও করবে। যে ছোট্টো শহরে ও বড়ো হয়েছে সেখানে অনেক সুন্দরী মেয়ে থাকতো। মিন হুয়ে ওর বাবাকে ছেনির ওপরে হাতুড়ি পিটে পিটে সব ধরনের গয়না বানাতে দেখেছে। সেই সব গয়না কিনতো শহরের যে মেয়েরা বিয়ে করবে তারা। রুপো গলানো, ছাঁচে ঢালা, বাঁধানো, ফুল খোদাই করা - পুরো এক সেটের ওজন দশ ক্যাটিস বা ছ কিলো, অনেক সময়েই একলা একজনের বানাতে লেগে যেতো অনেকগুলো মাস। যখন মিন হুয়ে শিশু ছিলো, তখন বাবার পাশে বসে দেখতো, কখনো কখনো আবার হাত লাগাতো রুপোর চাদর থেকে নকশা কেটে বার করার কাজে, কিংবা টিনের ছাঁচগুলো ঝেড়ে ফেলার কাজে। হয়তো তখন থেকেই যা কিছু চকচকে রুপোলি সে সব জিনিসের প্রতি ওর একটা আকর্ষণ তৈরি হয়েছে।

“তোমার প্রথম পক্ষ কী সুন্দরী?”

“সুশ্রী।”

“তোমার মতোই ডাক্তার?”

“নৃত্য শিল্পী।”

মিন হুয়ে দেওয়ালের অয়েল পেন্টিংগুলোর দিকে তাকালো আর হঠাতই যেনো কী একটা বুঝে ফেললো, “ব্যালে?”

“হ্যাঁ।” ঝৌ রু জি তাকালো মিন হুয়ের দিকে, “তোমার যদি অসুবিধে হয় তো ছবিগুলো খুলে নিতে পারি দেওয়াল থেকে।”

“দরকার নেই। ঝোলানো থাক ওগুলো।” হাসলো মিন হুয়ে।

“আমি বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির লোক ছিলাম শুরুর থেকে। ওঁকে বিয়ে করার পরে আমি থেকে থেকেই অপেরা শুনতে যেতাম, আর্ট এক্সজিবিশনে যেতাম। আর ওর প্রভাবে কখন যেনো শিল্প সাহিত্যের অনুরাগী হয়ে পড়েছি।”

“তুমি এখনো চর্চা চালিয়ে যেতে পারো। আমি তাল দিতে পারবো না।”

“গিরগিটি দেখেছো? আমি গিরগিটির মতো। তোমাকে নিজেকে বদলাতে হবে না। ধীরে ধীরে আমি তোমার মতো হয়ে যাবো। দু- এক বছর সময় দিলেই হবে। আমি তোমার নিকট বন্ধু হয়ে যাবো।”

মুখোমুখি বসে ঝৌ রু জি বললো কথাগুলো। 

অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংটা বত্রিশ তলা। ঝৌ রু জি থাকে ঊনত্রিশ তলায়। বাড়ির ভেতরটা খুবই চুপচাপ। জানলার বাইরে তারাগুলোকে আলাদা করে চেনা যায়, যেনো আকাশেই বসবাস।

টিফানি ডেস্ক ল্যাম্প থেকে কমলা আলো পড়ছে ঝৌ রু জির মুখের একপাশে। নানা রঙের কাঁচ অনুভূতিকে নস্ট্যালজিক করে তুলছে। মিন হুয়ে তাকিয়ে রইলো ঝৌ রু জির দিকে, ভাবছিলো একেকটা পুরুষের অভ্যেস একেক রকম, যেনো একটা কঠিন অঙ্কের ধাঁধা, শিন ছি ঢাকা শিন ছির রহস্যে, ঝৌ রু জি আছে ঝৌ রু জির অদ্ভুত স্বভাবে, কেনো যে মিন হুয়ে বুঝতে পারে না?

টিফানি ডেস্ক ল্যাম্প

টিফানি ডেস্ক ল্যাম্প

যখন প্রথম চেং ছিরাং-এর সাথে ওর আলাপ হয়ে ছিলো, ও লোকটাকে ভদ্রলোকই ভেবে ছিলো। সুদর্শন, শান্ত, প্রতিভাবান। হুয়াছিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কাছে প্রবাদপ্রতিম। প্রায় মিন হুয়ের মতোই ঝটপট প্রোগ্রাম লিখতে পারে। লোকটা বিবাহিত, না হলে রোম্যান্টিক নায়কের সব গুণই ছিলো লোকটার।

মিন হুয়ে টেরটি পায় নি যে ও কী করছে। হয়তো মিন হুয়ের মন বড্ডো নরম ছিলো কিংবা নির্লজ্জ।

“বাইরে থেকে দেখে মনে হয় আমরা সুখী দম্পতি। আসলে আমি অভাগা।” বলে ছিলো চেং ছিরাং।

এইভাবেই শুরু হয়ে ছিলো।

অজান্তে গভীর ভাবনায় ডুবে রইলো মিন হুয়ে, যতক্ষণ না টুস্কি দিয়ে ওর ঘোর কাটিয়ে দিলো ঝৌ রু জি। 

“তুমি হয়তো ভাবছো আমি কোনো জঘন্য কান্ড করেছি এই অল্প দিনের বিয়েটাতে।”

দেশলাই দিয়ে কফি টেবিলের ওপরে রাখা হাতের মতো মোটা একটা বাতি জ্বাললো ঝৌ রু জি। 

“আমিও কিছু করিনি। ও-ও কিছু করে নি। আমরা শুধু আলাদা হয়ে গেছি, কোনো অশান্তি না করে। ও খারাপ নয়। আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে। বিয়ের আগে, ওর মন পাবার জন্য অনেক পুরুষ চেষ্টা করে ছিলো। ওর ক্লাসে যারা পড়তো তারা হয় ব্যবসাদারের বউ নয়তো দ্বিতীয় প্রজন্মের সরকারী কর্মচারীর বউ। কেবল ওরই পয়সা রোজগার করার চিন্তা ছিলো। অনেক উচ্চাশা ওর ছিলো না, সহজ সরল, সিধে স্বভাবের, আমি ওকে খুবই পছন্দ করি। একসঙ্গে আমরা অনেক আনন্দ করেছি।”

কোনো সন্দেহ নেই যে ভদ্রমহিলাই ডিভোর্স চেয়ে ছিলেন, ঝৌ রু জি এখনো উদাস।

“বুঝতে পারছি।” হালকা হাসলো মিন হুয়ে, “ কখনো বাচ্চার কথা ভাবো নি?”

“ভেবেছি। ওর ভয় ছিলো যে বাচ্চা হলে ওর চেহারা খারাপ হয়ে যাবে। আমার কথা যদি বলো, আমি বাচ্চা পছন্দ করি, তবে আমি খুবই ব্যস্ত। আমি ঝড়ের গতিতে দৌড়োচ্ছি ক্যারিয়ারে। তাই আমরা বাচ্চা পরে নেবো বলেই ঠিক করে ছিলাম।” দীর্ঘশ্বাস ফেললো ঝৌ রু জি, “বাচ্চা থাকলে হয়তো আমরা আলাদা হতাম না।”

ঝৌ রু জিকে দুঃখ পেতে দেখে মিন হুয়ে চট করে বিষয় বদলালো, “তোমাকে কী তোমার মা-বাবার সাথে দেখা করতে হবে? সার্টিফিকেট পাবার আগে?”

“ওঁরা নানজিং-এ থাকেন। ওখানে অনেক আত্মীয়স্বজন থাকে। আমার মা-বাবার অনেক ভাইবোন। তাঁরা প্রায় সবাই কাজ থেকে অবসর নিতে চলেছেন শিগগির। সবাই বাড়ি কিনেছেন এক কমিউনিটিতে, যাতে একে অপরের কাছাকাছি থাকতে পারেন।”

“তা ভালো।” মিন হুয়ের মনের মধ্যেটা আকুল হয়ে উঠলো, “বেশ জমজমাট পরিবার।”

“তোমাকে ওঁদের নিয়ে ভাবতে হবে না। আমার মা-বাবা খুবই মুক্ত মনের মানুষ। আমার ছোটোবেলা থেকেই ওঁরা আমাকে কোনো লাগামে বাধেন নি। আমার ব্যাপারে আমার কথাই শেষ কথা, ওঁরা কখনো সে ব্যাপারে মাথা গলান না। আমারই খুব ইচ্ছে ওদের নাতি-নাতনি দেবার। বাচ্চা জন্মালে ওঁরা খুব খুশি হবেন।”

“কিন্তু,” মিন হুয়ে বিব্রত, “আমার বাচ্চা তোমার নিজের বাচ্চা নয়।”

“তুমি যদি না বলো, আমি কাউকে বলতে যাবো না। কারুর জানার দরকার কী?”

উঠে দাঁড়ালো ঝৌ রু জি, “এখানে আমার একটা হেলথ্‌ পট আছে। আমি তোমার জন্য কিছু বানাই। এক কাপ ফলের চা।”

তারপরে ফ্রিজ থেকে একে একে বেরোল নানান ফল - আপেলো, নাসপাতি, স্ট্রবেরি, লেবু, আনারস, আড়ু, প্যাস্ন ফ্রুট - সেগুলোকে চৌকো করে কেটে, মধু আর কালো চা পাতা দিয়ে হেলথ পটের মধ্যে রেখে ধীরে ধীরে রান্না করতে দেওয়া হলো। দুজনে রান্নাঘরে বসেই কথা বলতে লাগলো আর গান শুনতে লাগলো। ফলের চা-টা খেতে সত্যিই খুব ভালো। একটা বড়ো মগে ঢেলে হাতের মধ্যে ধরে মিন হুয়ে যেনো নিজের বাড়ির আরাম পেলো।

ঝৌ রু জির অ্যাপার্টমেন্টে রাত কাটালো না মিন হুয়ে। ঝৌ রু জিও জোর করলো না। 

দুজনে মিলে বিয়ের ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলে নিলো। সার্টিফিকেট নিতে যাবে সোমবার, শনিবারে বন্ধুবান্ধব অতিথিদের আপ্যায়ন করবে, ঝৌ রু জি হাসপাতাল থেকে কয়েকজনকে ডাকবে, মিন হুয়ে ডাকবে বা’অ্যানে ওর সহকর্মীদের। সব মিলিয়ে তিনটে টেবিল। বিনচেং-এ অনেক কোম্পানি আছে যারা বিয়ের জোগাড় করে। তাদের একটার হাতেই সবটা ছেড়ে দিলে হবে। এসব মিটে গেলে, মিন হুয়ে একবার নানজিং-এ যাবে শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে দেখা করতে। 

সব কিছু সেরে নিতে হবে মিন হুয়ের পেটটা বেড়ে ওঠার আগেই।

সোমবার খুব ভোরে জাগলো মিন হুয়ে। দুপুরে সিভিল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোতে রেজিস্টার করতে যাবে বলে হালকা মেক-আপ করে নিলো। মাথার চুলে একটা খোঁপা করে নিলো। একটা সাদা শার্ট পরল যার হাতাটা শালের, লাল রঙের বুনুনির স্কার্ট পরল, যার তলার দিকটা কয়েক ইঞ্চি কাটা। কয়েক সেন্টিমিটার উঁচু হাই হিল পরে কোম্পানিতে গেলো।

যেই এলিভেটর থেকে বেরিয়ে, ফ্রন্ট ডেস্ক পেরোল, অমনি টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্টের দিঁ য়িফঁর সাথে দেখা হয়ে গেলো। মিন হুয়ে একটু সাজগোজ করেছে দেখে, সে একটা দীর্ঘ সিটি না বাজিয়ে থাকতে পারলো না। তার চোখটা মিন হুয়ের বুকের ওপরে ঘুরে গেলো কয়েকবার, “ওয়াও, বেবি, কী ফূর্তি! এমন সাজ! কাল রাতে কে তোমাকে আদরে তুষ্ট করেছে? তোমার ফিগারটা খাসা, তোমার বয়ফ্রেন্ড কুল নিশ্চয়ই?”

মিন হুয়ের মুখটা নিচু হলো হঠাৎ। দিঁ য়িফঁকে অবজ্ঞা করে মিন হুয়ে ঘুরে দাঁড়ালো। গেলো ফ্রন্ট ডেস্কে। ইয়াং বেই বেইকে জিজ্ঞেস করলো, “বেই বেই, আপনি কী শুনতে পেলেন আমাকে এইমাত্র দিঁ য়িফঁ যেসব কথা বললো?”

ইয়াং বেই বেই বাকরুদ্ধ যেনো, ঘোরের মধ্যে মাথা নাড়লো, “শুনুন, আমি শুনেছি।”

“আমাকে পরে সাহায্য করবেন এটা প্রমাণ করতে।”

“মিন হুয়ে জিয়ে, আপনি করবেনটা কী?”

“মামলা করবো।”

দশ মিনিট পরে মিন হুয়ে আর দিঁ য়িফঁ দু জনেরই ডাক পড়লো কনফারেন্স রুমে। ডেকেছেন ডিরেক্টর মা শিন শুয়াং। বা’অ্যান একটা ছোটো কোম্পানি। ব্যবস্থাপত্র আর কর্মচারীদের দেখার জন্য একটাই অফিস। মা শিনের বয়স পঁয়তাল্লিশ বছর, ফর্সা, অল্প দাড়ি আছে। তাঁর মুখটা চিনে লিপির একটা অক্ষরের মতো। হে হাই শিয়াং হেড কোয়ার্টার থেকে যে বিশ্বস্ত জনেদের আনিয়েছেন, মা শিন তাঁদের একজন। মিন হুয়ে জানে না মা শিন কেমন লোক, সে তো কোম্পানিতে সবে এসেছে আর কখনো তাকে মা শিনের মুখোমুখিও হতে হয় নি এতো দিন। 


ডিরেক্টরের সামনে মিন হুয়ে বললো কী হয়েছে। বেই বেইও এলো প্রমাণ করতে যে মিন হুয়ে সত্যি বলছে। দিঁ য়িফঁ কোম্পানির আরেকটা প্রজেক্টের টিম লিডার। পদমর্যাদায় সে মিন হুয়ের সমান। যদিও কাজ করছে পাঁচ বছর। হে হাই শিয়াং কোম্পানির টেকনিক্যাল কাজ করার উপযোগী লোকেদের দূর থেকে নিয়ে এসে ভরেছেন আর অ্যান্ড ডি ডিপার্টমেন্টে। লোকটা বেশ চালাক চতুর। প্রোগ্রাম ভালোই লেখে। বয়স প্রায় ত্রিশ। কোনো কারণে সিঙ্গল, হরমোনের বেসামাল অবস্থা, মুখ ভর্তি ব্রণ। কোম্পানিতে মহিলা সহকর্মী খুব বেশি নেই। কিন্তু যেখানে মহিলা আছে, সেখানেই দিঁ য়িফঁ আছে। এমন কী ঝাড়ুপোঁছার কাজ করেন যিনি, তাঁরও নিস্তার নেই দিঁ য়িফঁয়ের হাত থেকে। দিঁ য়িফঁয়ের কোনো কাজ না থাকলে সে ফ্রন্ট ডেস্কে ইয়াং বেই বেই-এর সাথে গল্প করার চেষ্টা করে। দুলে দুলে হাসে, হাসিটা বিরক্তকর। মিন হুয়ে কাজে যোগ দেবার তিন সপ্তাহের মধ্যে বহুবার সে মিন হুয়েকে প্রেম নিবেদন করেছে, আধা সত্যি, আধা মিথ্যে বলে। মিন হুয়ে ঠাট্টা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। অনেকবার ডেটে যেতে বলেছে মিন হুয়েকে, মিন হুয়ে প্রত্যেকবারই তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।

“দিঁ য়িফঁ, এটা আপনার দোষ।” ভাবলেশহীন মুখে উচ্চারণ করলেন মা শিন, “আপনি কী করে একজন মহিলা সহকর্মীর সাথে এভাবে কথা বলেন?”

“ঝংজিয়ে মা শিন, আমি কিছুই বলি নি, বেই বেই আর মিন হুয়ে বোনের মতো। আমি নিশ্চয়ই ওঁদের সাথে কথা বলেছি।” দিঁ য়িফঁ হাসলো, আচরণ হিসেবে সেটা যদিও অসঙ্গত, “আজকে ও কেমন জামাকাপড় পরে এসেছে দেখুন! বুক দুটো উঁচিয়ে আছে যেনো, কলারটা অনেক নিচে, স্কার্টটা খুব টাইট আবার স্কার্টের তলার দিকটা পিছনে কাটা বেশ বড়ো ফাঁক করে - নির্ঘাৎ ও আমাদেরকে উস্কাচ্ছে। আমার মনে হয়, ঝংজিয়ে, আপনার শও মিনকে বোঝানো উচিৎ যে কাজের জায়গায় এমন সেজে আসা যায় না। আমাদের কোম্পানিতে কম করে কুড়ি জন প্রোগ্রামার আছে যারা সিঙ্গল। ও যদি আমাদের আশেপাশে এমন ন্যাকার মতো সেজে ঘুরে বেড়ায়, তবে আমি তো অন্তত, মন দিয়ে কাজ করতে পারবো না। খুব সহজে অন্যমনস্ক হয়ে যাবো!”

রাগে চেঁচিয়ে উঠলো মিন হুয়ে, “দিঁ য়িফঁ, আমি কী পরে আসবো কাজে, সেটা আপনার মাথাব্যাথার বিষয় নয়।”

মিন হুয়ের স্তন তুলনামূলকভাবে বড়ো। যে কোনো জামাই তার গায়ে আঁটোসাঁটো লাগে। তবে সে তন্বী, এক্সএস, তার এক্সট্রা স্মল দেহ তো আর রোজ এক্সট্রা লার্জ জামা পরে কাজে আসতে পারে না, তাই না?

“ঝংজিয়ে, আপনাকে এই ব্যাপারটার প্রতি নজর দিতেই হবে। আমাদের কোম্পানির ড্রেসকোড বদলানোর প্রয়োজন যাতে ও এরকম জামাকাপড় পড়ে আর কখনো না আসে।”

মা শিন কোনো কথা বলছেন না দেখে দিঁ য়িফঁ আরো উন্মত্ত হয়ে উঠলো যেনো, “আমি শুনেছি ওকে গুয়ান ছাও ইন্টারন্যাশন্যাল থেকে বের করে দেওয়া হয়ে ছিলো কারণ ও ওর বসকে পটানোর চেষ্টা করে ছিলো, আর অন্যান্য অশালীন আচরণও করে ছিলো। এমনকি ওর বিরুদ্ধে মামলাও হয়ে ছিলো। আপনি যদি চান আমি বলতে পারি -”

মিন হুয়ে উঠে দাঁড়ালো, দিঁ য়িফঁকে কষে একটা থাপ্পড় লাগাবে বলে। দিঁ য়িফঁ কোনো মতে একটা ফোল্ডার তুলে যথাযময়ে চড়টা আটকে দিলো। ফোল্ডারের ভেতরের কাগজপত্র সব ছড়িয়ে গেলো সারা মেঝেময়। 

“ঠিক আছে।” চেঁচিয়ে উঠলেন মা শিন, “আমি ব্যাপারটা হে জঁ-কে জানাবো। উনি যা বলবেন তাই হবে। আপনার নিজের নিজের কাজে চলে যান।”

“ঝংজিয়ে মা, আমার অনুরোধ দিঁ য়িফঁকে কাজের থেকে বরখাস্ত করা হোক।”’

“ঠাট্টা! আমাকে বরখাস্ত করে দেবে কোম্পানি? যান গিয়ে কোম্পানির নিয়মকানুন দেখুন গে। কোন নিয়ম ভেঙেছি যে আমাকে বরখাস্ত করা হবে?”

হয়তো ব্রণ, চুলকানি এসবের কারণে দিঁ য়িফঁ নিজের মুখটাকে প্রায় আঁচড়ে ফেললো নিজের নখ দিয়ে, “ঠাট্টা করেছি তো, দড়ি দেখে সাপ ভাবার কী আছে?”

“ঠাট্টা নয়, যৌন হেনস্থা।”

“এরকম জামা পরে এসে আপনি আমাকে হেনস্থা করেছেন। আপনি কোম্পানির সমস্ত পুরুষ কর্মীকে হেনস্থা করেছেন, ক্যালানে চো*!”

“দিঁ য়িফঁ, যেহেতু ইয়াং বেই বেই সাক্ষী দিয়েছে, আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে মিন হুয়ের কাছে। এরপর কী হবে সে সব আমরা একটা মিটিং-এ আলোচনা করবো।”

“আমি কিছুতেই ক্ষমা চাইবো না। বরং বলব - এ ধরনের মেয়েদের যাদের নীতিবোধের অসুবিধে আছে, তাদেরকে মোটেই কাজে নেওয়াই উচিৎ নয় কোম্পানির।”

“ঠিক আছে, বরখাস্ত হওয়াই ভালো।” মিন হুয়ে মেজাজ হারালো, সরাসরি বলে দিলো, “তাহলে আমি চললাম। মোদ্দা কথা হলো, আমি বিকৃতমনস্ক লোকেদের সঙ্গে কাজ করবো না। ঝংজিয়ে মা, আপনি হে জঁকে জানান। যদি দিঁ য়িফঁ বা’অ্যান না ছাড়ে, তাহলে আমি এখনই রিসাইন করবো।”

“শাওফু, মাথা গরম করবেন না।”

মিন হুয়েকে রেগে যেতে দেখে মা শিন তাঁকে শান্ত করতে চাইলেন, “তোমরা দুজনেই কোম্পানির প্রযুক্তি বিভাগের মেরুদন্ড। এটা একটা তুচ্ছ ব্যাপার। দিঁ য়িফঁ, তুমি পুরুষ মানুষ, তোমাকেই আগে ক্ষমা চাইতে হবে -”

“আমি কোনো পুরুষকে উস্কাই নি। আমি কেনো ক্ষমা চাইব?”

“সেক্ষেত্রে, মিন হুয়ে আপনি যান, শান্ত হোন। এটা এমন কোনো বড়ো ব্যাপার নয়, কিন্তু আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখবো ব্যাপারটা। আসছে সোমবার আমরা একটা প্রশাসনিক মিটিং করবো। তাতে কোম্পানির মাথারা সবাই আসবেন, তখন দেখা যাবে যে এই ব্যাপারটা নিয়ে কী করা যায় -”

“আমি তোয়াক্কাই করি না আপনারা ব্যাপারটা নিয়ে কী করবেন। যদি আজকেই দিঁ য়িফঁ না যায়, তবে আমি কাজ ছেড়ে দেবো।”

মিন হুয়ে বললো, “হ্যাঁ আমার কাজ তো এখনো পাকা হয় নি। তাই আমার পক্ষে যাওয়া সোজা।”

“বেশ, তাহলে যান, আপনার জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে, শিগগির বাড়ি চলে যান। ঝংজিয়ের কথাই যখন মানছেন না …” খানিকটা উপহাস করেই বললো দিঁ য়িফঁ, “ছেড়ে চলে যাওয়াই ভালো।”

“দিঁ য়ি ফঁ - -”

“মিন হুয়ে,” মা শিন ভ্রূ কোঁচকালেন, “কোম্পানির নিজের পদ্ধতি আছে সব রকম পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য। যে ব্যাপারটা আপনি জানালেন এখন তাই নিয়ে আলোচনা হোক। অভিযোগ করার যেমন অধিকার আছে, অভিযুক্তেরও অধিকার আছে অভিযোগ খন্ডণের। আমাদেরও তদন্ত করার সময় লাগবে, কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছোনোর আগে, নিশ্চিত করার আগে যে এই ব্যাপারটা নিয়ে কী করা যায়। শুধু অভিযোগ মেনে নিয়ে এটা করা যাবে না। তাই না? আমি জানি আপনি ক্ষুব্ধ। আপনি যতোই ক্ষুব্ধ হোন না কেনো,আপনি কোম্পানির কর্তৃদের ওপরে রাগ দেখাতে পারেন না! কর্তৃরা নানা কাজে ব্যস্ত, সব সময়। বলা মুস্কিল যে রোজই তাঁদেরকে সব সময়ে পাওয়া যাবে, তাই না?”

“ঠিকই। পাগলামি করবেন না। আপনি নিজেকে ভাবেনটা কী?” তাল দিলো দিঁ য়িফঁ।

“আমি ভেবে ছিলাম যে আমিও কোম্পানির মূল প্রতিযোগিতামূলক কাজগুলো করি।” মিন হুয়ে ব্যাগ উঠিয়ে নিয়ে, চোখ পাকিয়ে, ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলো।



দু ঘন্টা পরে, দিঁ য়িফঁ একটা বড়ো কার্ডবোর্ডের বাক্স দুহাতে জড়িয়ে ধরে বা’অ্যান ছেড়ে বেরিয়ে গেলো। তখনই সবাই ইমেল মারফত জানতে পারলো যে “ব্যক্তিওগত কারণে কাজ ছেড়ে দিয়েছেন” দিঁ য়িফঁ।

ইয়াং বেই বেই চুপি চুপি দেখা করলো মিন হুয়ের সাথে চা খাবার ঘরে। খুশিতে ডগমগ করতে করতে বললো, “সাও জঁ জান লড়িয়ে দিয়েছেন আপনাকে ধরে রাখার জন্য। যখন হে জঁ আর অন্যদের সঙ্গে একটা মিটিং চলছিলো তখন আমি কফি দিতে গিয়ে ছিলাম। সেই সময়েই আমার কানে আসে কথাগুলো।”

“হে জঁ কী বললেন?” মিন হুয়ে জানতে চাইলো।

“সাও জঁ যাই বলুন না কেনো, হে জঁ যেতে দিতে রাজি ছিলেন না দিঁ য়িফঁকে। প্রথমত, দিঁ য়িফঁ হচ্ছে সেই লোক যাঁকে হে জঁ নিজের উদ্যোগে হেডকোয়ার্টার্স থেকে আনিয়েছেন। ও যেনো হে জঁর নিজের লোক। দ্বিতীয়ত, তুমি অন্তঃস্বত্ত্বা। কয়েকমাসের মধ্যেই তোমার বাচ্চা হবে। বাচ্চার জন্ম দেবার পরেও কী তুমি তোমার কাজ ঠিকঠাক করতে পারবে? - হে জঁ এই যুক্তিতে অনেকক্ষণ তর্ক করেছেন। এমনকি সাও জঁকে আপনার কাজ করে নিতে বলেছেন যাতে দুজনকেই রাখা যায়। সাও জঁ উত্তরে বলেছেন যে আপনাকে এখানে কাজ দিয়ে রাখা সহজ নয় আর এমন নয় যে এই প্রথমবার দিঁ য়িফঁ অসভ্যতা করলো। যদিও বা’অ্যানে মহিলা কর্মীর সংখ্যা বেশ কম, তাহলেও মহিলা ও পুরুষের যে সাম্যের ব্যবস্থা সেটাকে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। আর দিঁ য়িফঁ যেনো ঠিকই করে নিয়েছে যে ও মহিলা ও পুরুষদের সাম্যের ব্যবস্থাটা মানবে না। অনেকক্ষণ তর্ক করার পরে, সাও মু ভাবতে বললেন হে জঁকে যে আপনি চলে গেলে যদি MIST-এর কিছু হয়, তবে উনি কাকে ডাকবেন ঠিক করতে। হে জঁ-এর মেনে না নিয়ে কোনো উপায় রইলো না। তারপরে দিঁ য়িফঁ-এর কাছে গিয়ে অনেকক্ষণ কী সব বললেন হে জঁ। ঠিক কী বলেছেন আমিও জানি না। দিঁ য়িফঁ তখনই নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে, ঝড়ের বেগে কোম্পানি ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন।”

মিন হুয়ে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো। 

“এতো খুশি হবেন না। দিঁ য়িফঁ চলে গেছেন। ওঁর টিমের দেখাশোনা করার কেউ নেই, ওঁর কাজগুলো করারও কেউ নেই। সেগুলো কী আপনার ঘাড়ে পড়বে?”

“আমার তো কাজ ভর্তি। সাও জঁ-এর অন্য কাউকে বহাল করতে লাগবে সব কাজ সময়ে শেষ করতে হলে। অথবা কাউকে প্রোমশন দিয়ে দিঁ য়িফঁর জায়গায় আনতে হবে। যতো দূর দিঁ য়িফঁর কাজের কথা আসে, ও প্রোগ্রাম লিখতে পারে। কিন্তু বা’অ্যানে এখনো এমন অনেক লোক আছে যারা দিঁ য়িফঁ-এর মতোই প্রোগ্রাম লিখতে পারে। এমন ভাবার কোনো কারণ নেই যে দিঁ য়িফঁ-এর কাজটা করার কোনো লোক নেই।”

“মিন হুয়ে জিয়ে, ঝ্যাং শও হান আপনার খুব ভক্ত। উনি বলছিলেন যে আপনি যে প্রোগ্রাম এক দিনে লেখেন, সেটা বাকি সবাই লিখতে একমাস সময় নেয়। আপনার মতো কেউ পারে না, আপনি মাস্টার।”

“যাহ্‌” মিন হুয়ে হাসলো, “তা ঠিক।”

“বেই বেই আমি বিয়ে করছি। একটা ম্যারেজ সার্টিফিকেটও পাবো। কাকে দেবো?”

“ঝংজিয়ে মা কে জিজ্ঞেস করলেই হবে। এসব উনিই দেখাশোনা করেন।”

বলেই গল্পের ছলে জানতে চাইলেন, “জিয়ে, আপনি বাচ্চার জন্য বাবা এতো চটপট খুঁজে ফেললেন?”

“হ্যাঁ।”

“কে, আমি চিনি নাকি তাঁকে?”

“ঝৌ রু জি।”

বেই বেই অনেকক্ষণ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে বললেন, “ঝৌ রু জি?”

“হ্যাঁ, কোনো সমস্যা আছে?”

“আমি পুরো মন জুড়ে খুশি হয়েছি।” বেই বেই হেসে তালি দিয়ে বলে উঠলেন, “ঝৌ রু জি খুব ভদ্রলোক। তবে অনেক সময়েই ওঁর কাজকর্মের কোনো মাথামুন্ডু থাকে না। যদিও উনি একজন ডাক্তার। উনি মোটেই বিনয়ী নয়। উনি আমাদের সবার সাথে খুবই ভালো ব্যবহার করেন। উনি ঠাট্টা করতে ভালোবাসেন। তবে লাগামছাড়া করেন কখনো কখনো। উনি হাসিখুশি থাকতেই পছন্দ করেন। কে-পপ মানে জনপ্রিয় কোরিয়ান গান গাইতে পারেন। সমস্ত পার্টিতে ডাকা হয় ওঁকে। দিঁ য়িফঁর মতোই উনিও এসেছেন হেডকোয়ার্টার্স থেকে। শোনা যায় যে ওঁর মেন্টর ওঁকে পাঠিয়ে ছিলেন সাও জঁর কাছে। সাও জঁ, আপনি জানেন নিশ্চয়ই, খুব বেছে বেছে তবে কাজে রাখেন সকলকে। ওঁর নজর কাজের দক্ষতায় আর নীতিবোধের প্রতি। ঝৌ রু জি এখানে তো একটা পার্ট-টাইম কাজ করেন। ওঁর পয়সার অভাব নেই। উনি শুধু ওঁর মেন্টরের খাতিরে আমাদের সাহায্য করছেন। ওহ্‌ কথায় কথায় অন্যমনস্ক হবার কোনো উপায় নেই, তাই না?”

“ভালো কথা, আপনি ওঁর আগের পক্ষের বৌকে দেখেছেন?”

“আমি আগেই দেখেছি, হেড কোয়ার্টার্সে, ইয়াও ঝি ঝু, ব্যালে শিল্পী, খুবই সুন্দরী। আপনি যদি কখনো ব্লু ওসান গ্র্যান্ড থিয়েটারে যান, যেটা ছিং নিয়ান রোডে, যেখানে ওঁর ব্যালে ট্রুপ প্রায়ই পারফর্ম করে, সেখানে উনি লিড ডান্সার, সোয়ান লেক করেন খুব ভালো, ওঁর একটা পোস্টারও আছে থিয়েটারে।”

বেই বেই খুব আনন্দের সাথে বলছিলেন, মিন হুয়ে মন দিয়ে শুনছে দেখে। তারপর বিব্রত হয়ে বলে ফেললেন, “মিন হুয়ে জিয়ে, আপনিও সুন্দরী। বিশেষ করে আজকে আপনাকে খুব সুন্দর লাগছে।”

দুপুর পার করে, ঝৌ রু জি এলো মিন হুয়েকে নিয়ে যেতে। গেলো সিভিল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোতে রেজিস্টার করতে। ঝৌ রু জি একটা লাল রঙের তাং স্যুট পরে ছিলো। অবাক হয়ে মিন হুয়ে জিজ্ঞেস করলো, “তুমি লাল শার্ট পরেছো কেনো আজকে?”

“আজ একটা উৎসব উদ্‌যাপণের দিন।”

“আমি আজ একটা ছবি নেবো রেজিস্ট্রেশনের। পিছনের বোর্ডটা লাল। সেই জন্য আমার জামাটা সাদা হওয়া উচিৎ।”

“তাহলে আমি অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে বদলে নিচ্ছি।”

ছ্যুনতাং গার্ডেন বা আইভি গার্ডেন অ্যাপার্টমেন্টস্‌ কমিউনিটি পড়বে বা’অ্যান থেকে সিভিল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো যাবার পথেই। দুজনেই ওপরে গেলো জামা বদলানোর জন্য। কিন্তু দরজা দিয়ে যেই ঢুকলো, অমনি দেখলো যে দরজাটা খোলা। ভিতরে কেউ হাঁটছে। মিন হুয়ে চমকে গেলো, ঝৌ রু জি স্বাভাবিক স্বরে বললো, “সব ঠিক আছে, ঝি ঝু।”

“আহ্‌”

“আমার প্রাক্তন স্ত্রী। আমি আজ সকালেই এ ব্যাপারটা নিয়ে ভেবেছি। ঐ অয়েল পেন্টিংগুলো এখানে ঝোলানো উচিৎ নয়। ফেলে দেবো? খারাপ লাগছিলো। গাদা করে রাখারও জায়গা নেই। তাই আমি ঝি ঝুকে জিজ্ঞেস করে ছিলাম যে এই ছবিগুলো ও নেবে কিনা। এর মধ্যে দুটো পেন্টিং ওর নিজে হাতে করা। ও বলে ছিলো যে ও একটা নতুন বাসায় আছে। সেটা সাজাতে গোজাতে ওর কিছু বাকি আছে। তাই ওকে বলে ছিলাম যে আজ এসে নিয়ে যেতে।”

“খুব ভালো।” মিন হুয়ে খুব গুরুত্ব দিলো না ব্যাপারটাতে।

“ও বোধ হয় একা আসে নি। সঙ্গে ওর বয়ফ্রেন্ড আছে।”




~~~~~~~~~~~~

সম্পূর্ণ বই বিনামূল্যে : https://dl.bookfunnel.com/lcj5vznt96

Link to Previous Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/08/jpda-chapter-22.html

Link to following Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/08/jpda-chapter-24.html

Wednesday, August 28, 2024

JPDA - Chapter 22

২২. কাঁচি 



মিন হুয়ে যেনো ঘোরের মধ্যে ছিলো। হঠাৎ করে জেগে উঠললো বুঝি। দোকানের কর্মীকে ডেকে জানতে চাইলো, “ফুইয়াঁ, দ্যুইবুচি, আপনাদের এখানে কাঁচি আছে?”

“কয়েক ইঞ্চি লম্বা একটা হবে।” জানালেন কর্মীটি, “দ্যুইবুচি, ছোটো একটা ছিলো বটে। তবে আমি মনে করতে পারছি কিছুতেই … সেটা যে কোথায় রেখেছি। এটা দিয়ে কাপড় কাটা হয়। সাবধান, কিন্তু। এটা খুবই ধারালো।”

“শিয়া শিয়া।” টেনে সেই কর্মীর হাত থেকে কাঁচিটা মিন হুয়ে নিয়ে নিলো। পাকড়ে ধরলো কাঁচিটা দু হাত দিয়ে। তারপর ছুটে বেরিয়ে গেলো দোকান থেকে, দৌড় দিলো নিচের তলার দিকে।

তখন প্রায় রাত দশটা বাজে। মল বন্ধ হবার সময় হয়ে এসেছে। সময়টা সপ্তাহান্ত। মলের ভেতরে মুভি থিয়েটার আছে। তাই তখনও কিছু লোক ভিড় করেছে। 

তা সত্ত্বেও, ধূসর উইন্ডব্রেকারে মানুষটা আর সবার থেকে আলাদা হয়ে নজর কাড়েন, তাঁর লম্বা চেহারা আর ব্যক্তিত্বের আভার জন্য। তাঁর হাতে একটা শপিং ব্যাগ ধরা ছিলো। এলিভেটরের দিকে হাঁটছিলেন, করিডর দিয়ে, তবে তাড়াহুড়ো ছিলো না তাঁর চলনে। 

মিন হুয়ের স্বভাব যেমন, এই মূহুর্তে সে দৌড়ে যেতে চায় লোকটার কাছে। কিন্তু মাঝে অনেক বাধা। ধাক্কাধাক্কি লেগে যাবার ভয় ছিলো মিন হুয়ের। তাই না দৌড়ে, মিন হুয়ে হাঁটতে লাগলো যতো জোরে হাঁটা যায় ততো জোরে। 

উইন্ডব্রেকার পরনে লোকটার একদম পিছন পিছন হাঁটছে মিন হুয়ে এটা মিন হুয়ে টের পেলো যখন, তখন লোকটা ওর হাতার মধ্যে। অমনি ও হঠাৎ করে বড়ো বড়ো পা ফেলে এগিয়ে গেলো। যেই মূহুর্তে কাঁচিটা বার করতে যাবে, অমনি ওকে হঠাৎ পিছন থেকে টেনে, জাপটে ধরে, কানে ফিসফিস করে কেউ বললো, “একদম না। মাথা গরম করবে না।”

বাজল কানে হুঙ্কারের মতো।

মিন হুয়ের ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার দরকার ছিলো না যে ওকে ধরে আছে ঝৌ রু জি। 

“ছাড়ো আমাকে, যেতে দাও।” মিন হুয়ে শরীরকে বাঁকিয়ে চুরিয়ে ভীষণ জোর দিয়ে হাত দুটোর বাঁধন ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলো। কিন্তু ঝৌ রু জির হাত যেনো লোহার গরাদ, কিছুতেই ভেঙে বেরোনো গেলো না।

কয়েকটা ছাত্র, যাদের দেখে ছাত্রই মনে হচ্ছিলো, তারা ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে পড়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে লাগলো ওদের দুজনকে। 

ঝৌ রু জি নিজের দু হাতের মধ্যে জড়িয়ে ধরলো মিন হুয়েকে। মুখে চুমু খেলো। হেসে বললো, “বেবি, রেগে যেও না। আমি কিনে দেবো তোমাকে।”

প্রেমিক প্রেমিকার ঝগড়া - দেখে হাসতে হাসতে ছাত্ররা চলে গেলো। 

ঝৌ রু জি টানতে টানতে মিন হুয়েকে নিয়ে গেলো একটা ফাঁকা কোণে। মিন হুয়ের শ্বাসের ছন্দ স্বাভাবিক হতে আরো মিনিট পাঁচেক লাগলো। তবে ঝৌ রু জি সাহস করে বললো, “আমাকে কাঁচিটা দাও।”

দাঁত কিড়মিড় করে উঠলো মিন হুয়ে। ঝৌ রু জিকে পাত্তাই দিলো না।

“দাও কাঁচিটা।” তখনও ঝৌ রু জির গলার স্বর শান্ত। কিন্তু আগের থেকে একটু বেশি জোরালো।

শেষে বুকের ভেতর থেকে কাঁচিটা টেনে বার করলো মিন হুয়ে। দিয়ে দিলো ঝৌ রু জিকে।

“তোমার অসীম সাহস। জেলে যাবার ভয় নেই?” ঝৌ রু জি দেখতে লাগলো মিন হুয়েকে, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো, “তোমার পেটে একটা বাচ্চা আছে। তোমার রাগ দেখে মনে হচ্ছে বাচ্চাটা ঐ লোকটার, তাই না?”

“না।”

“কাপুরুষ কোথাকার। তুমি যদি একটা মেয়েকে পছন্দই করে থাকো, তবে তাকে খোলাখুলি বিয়ে করো, ওর যা ক্ষমতা তাতে ও যদি গুয়ান ছাও ছেড়েও দেয়, ছেড়েও দেয় ওর বউকে, তাহলেও ও গরীব হয়ে যাবে না। এ সব করার দরকার কী? ও জানে না তুমি প্রেগন্যান্ট -”

“ঝৌ রু জি, আমার আবার বলছি তোমাকে, বাচ্চা এঁর নয়।”

“ওকে ওকে, না না।”

নিচু খোশামুদে স্বরে বলে যেতে লাগলো ঝৌ রু জি, “মন খারাপ করবে না। এমন দুঃসাহসী লোকের ওপরে রাগ করার মানেই হয় না, তো তাকে ছুরি মারা বা কাঁচি মারা। চলো ফিরে যাই। তাকোয়াকির দরকার নেই। খাবারটা গরম বাড়ায়। যতো খাবে, রাগ ততো বেড়ে যাবে। সামনে ফোটানো চায়ের দোকান আছে। তোমাকে এক কাপ কিনে দিচ্ছি। মাথা ঠান্ডা করো।”

মিন হুয়ে টের পেলো না কখন ঝিরঝির করে বৃষ্টি শুরু হলো। রঙীন নিয়ন আলোর নিচে, পপকর্নের গন্ধমাখা, বিনচেং-এর রাত যে এতো আনন্দময় আর উৎসব মুখর হতে পারে, সে কথা মিন হুয়ে জানতো না। তবুও ওর বুকের মধ্যে কুড়ে কুড়ে খেতে লাগলো একটাই অনুভব - এসবের সঙ্গে ওর কোনো সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক নেই ওর শহরটার সাথেও। আবার মাথার ওপরে জ্বলতে থাকা সাদা রুপোলি আলোর ছটা মেখে মনে হতে লাগলো ও যেনো মঞ্চের ওপরে আর অগুণতি চোখের সোজা দৃষ্টি ওকে বিঁধছে মেশিন গানের মতো। আর পাশে থাকা পুরুষটা, যাকে সে বিয়ে করতে চলেছে, সে একটাও বুলেট আটকাতে ওকে সাহায্য করবে কিনা সেটা ওর কাছে স্পষ্ট নয়।

যেদিন থেকে ও শিন ছিকে ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে, সেদিন থেকে ওর সিদ্ধান্ত ছিলো একলা চলার। সারা শরীর বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গেলেও।

গাড়িতে ওঠার পরে মিন হুয়ে চুপচাপ চুমুক লাগালো হাতের দুধ-চায়ে। টের পেলো চা-টাতে আনারসের গন্ধ দেওয়া আছে। কতকগুলো কিউ-বোমের বল দাঁতের নিচে আটকে গেলো। চালের গুঁড়ো দিয়ে বানানো নরম গুলিগুলোকে কিছুতেই চিবোতে পারছিলো না মিন হুয়ে। 

কিউ-বোম

পুরো রাস্তায় কোনো কথা হলো না।

হঠাৎ করে চেং ছিরাং-এর উদয় দুজনকেই আচ্ছন্ন করেছে বিব্রত হবার একটা অদৃশ্য অনুভবে। 

ঘন্টা খানেক চুপচাপ কেটে যাবার পরে, মিন হুয়ে চায়ে শেষ চুমুকটা দিয়ে মুখ খুললো, “যখন আমি গুয়ান ছাওতে ইনটার্ন ছিলাম, তখন চেং ছিরাং আমার বস ছিলো মাত্র। কোনো দিনই আমি ওকে পছন্দ করি নি।”

যাই হোক, আমরা স্বামী-স্ত্রী হতে চলেছি কয়েকদিনের মধ্যে, পরস্পরের প্রতি আন্তরিক হওয়াই ভালো। ঝৌ রু জিও নিশ্চয়ই খবরাখবর করেছে কিছু।

“হুম্‌” ঝৌ রু জি স্টিয়ারিং হুইলটা ঘুরিয়ে সোজাসুজি জানতে চাইলো, “ও কী তোমাকে পছন্দ করে?”

মিন হুয়ে উত্তর দিলো না। 

“আমি শুনেছি যে ও তোমার বিরুদ্ধে মামলা করে ছিলো? মানহানির?”

মিন হুয়ে দাঁতের সারির ফাঁক দিয়ে কোনো মতে একটা শব্দ বার করে আনলো, “হ্যাঁ।”

“শেষে কতো খেসারত দিতে হয়ে ছিলো তোমাকে?”

“সত্তর হাজার য়ুআঁ।”

“তুমি সেই সবে কাজ শুরু করেছ। ইনটার্ন?”

“ছ মাসের কম। তখনও পাকা চাকুরে হই নি।”

“তাহলে খেসারতের অতোগুলো টাকা পেলে কোথায়?”

“আমার মা … টাকাটা তুলে ছিলো চিকিৎসার জন্য।” মিন হুয়ের গলা অল্প কেঁপে গেলো। “রোগ অবশ্য শেষ পর্যায়ে তখন।”

“ক্যান্সার?”

“লিভার ক্যান্সার। শেষ মাসটা এতো যন্ত্রণায় কেটেছে যে একদম শুতে পারে নি। আমি তখন কপর্দকহীন। যে ওষুধগুলো লাগে, সেগুলোর ব্যবস্থা করতে পারি নি।”

চোখের জল আটকাতে মিন হুয়ে দাঁতে দাঁত চেপে ধরলো, “আসলে আমার কলেজ পাশ করেই কাজ খোঁজা উচিৎ ছিলো। তাতে আমার তিন বছর কাজ করা হয়ে যেতো। কিছু জমানো পয়সা হয়তো থাকতো …”

“আরো ভালো হতো কলেজ পাশ করার পরে যদি আমার সাথে তোমার চেনাশোনা হয়ে যেতো।” ঝৌ রু জি খুব নরম করে বললো, বলার সুরে স্বান্তনা ছিলো, “যাই হোক, আমিও অনকোলজি নিয়েই কাজ করি। তোমাকে অন্য কাউকে বলতে হবে না তোমার মাকে দেখার জন্য।”

“সব শেষ হয়ে গেছে।” মিন হুয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

“ভালো দিন আসবে।” ঝৌ রু জি বললো, “দেখো, সাও মু তোমাকে পছন্দ করে।”

মিন হুয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো ঝৌ রু জিকে। গুরুগম্ভীর স্বরে বললো, “শিয়া শিয়া।”

“কিসের জন্য?”

“আমার বাচ্চার বাবা হবার জন্য।”

“সে তো খুব সম্মানের ব্যাপার। তোমার আইকিউ এতো বেশি। তোমার বাচ্চা খুব প্রতিভাবান হবে নিশ্চয়ই, হতে পারে পরবর্তী ইলন মাস্ক। আমি যখন বুড়ো হবো, হতে পারে তখনো আমি ওর নজরে থাকব। - আমার বাড়ি সামনেই, তুমি কী যেতে চাও? বসবে একটু?”

“বসব?”

মিন হুয়ে চোখ তুলে তাকালো আর চিনতে পারলো, “ছ্যুনতাং গার্ডেন”। বা'অ্যান টেকনোলজির খুব কাছের একটা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স, যেখানে মিন হুয়ে থাকে তার থেকে মাত্র দুটো স্টপ দূরে। মিন হুয়ে দেখে ছিলো ফ্ল্যাটগুলো যখন ও একটা বাড়ির খোঁজ করছিলো। ডেকরেশন, ডিসাইন ওর খুব পছন্দ হয়ে ছিলো। কিন্তু ওকে ছেড়ে দিতে হয়ে ছিলো। জায়গাটা বড্ডো খরচ সাপেক্ষ, বাড়ি ভাড়া ওর নাগালের বাইরে।

“এখানে বাড়ি ভাড়া তো খুব বেশি। তাই না?”

“ঠিক আছে” ঝৌ রু জি মাটির তলার পার্কিং লটে ড্রাইভ করে যাচ্ছিলো, “আমি তো কেবল ঘুমোতে আসি।”

মিন হুয়ে চুপ করে আছে দেখে বললো, “পরে আমি যতো বেশি সম্ভব ততো বেশি বাড়িতে আসব, আমার পরিবারের দেখাশোনা করতে।”

“তার প্রয়োজন হবে না।” মিন হুয়ে হাসলো, “যদি তুমি সত্যিই বাড়িতে বেশিক্ষণ কাটাতে পারতে, তাহলে তোমার ডিভোর্স হতো না।”

***

ঝৌ রু জির ঘরের সাজসজ্জায় খুবই শৈল্পিক রুচির ছাপ। সব কটা দেওয়ালে অয়েল পেন্টিং টাঙানো। তাদের মাপ সব আলাদা আলাদা। কিন্তু সবের বিষয়বস্তু ব্যালেরিনা। মিন হুয়ে জানে না কোন শৈলীতে আঁকা ঐ সব ছবি। সে বিশেষ কিছু বুঝতে পারলো না। ঘরে খুব বেশি আসবাব নেই। যেটুকু আছে তার সবটাই সূক্ষ্ম সৌন্দর্যে ভরা। ক্যাবিনেটের মধ্যে পৃথিবীর নানান কোণ থেকে আনা হাতের কাজের নমুনা আছে। নর্ডিক আবরণের কাজ, আফ্রিকার ভাস্কর্য, জাপানের পুতুল … তা বাদে ঝিনুক আর পোর্সেলিন আছে - যেগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছে বলা মুস্কিল।



মিন হুয়ে দেওয়াল ভরা ব্যালেরিনা দেখতে দেখতে জানতে চাইলো, “তুমি কী অয়েল পেন্টিং পছন্দ করো?”

“আমি ইম্প্রেশনিসম পছন্দ করি, বিশেষত দেগা। এগুলো সব কপি। আমার খালি সময়ে আমি কয়েক পোঁছ আঁচড় টানি। তবে খুব পেশাদারিত্ব নেই তাতে।”

“ছবিগুলো ভালো।” ঠোঁটে হাসি মেখে বললো মিন হুয়ে, “বিনয়ের দরকার নেই, ঝৌ রু জি।”

“তোমার নিশ্চয়ই মনে হয় না যে আমি অনেক সাহিত্য পড়ি?”

“যতক্ষণ তোমার না মনে হচ্ছে যে আমি অনেক পড়ি।”

ঘরে পা রেখেই মিন হুয়ের নজরে পড়ে ছিলো রান্নাঘরের বিশাল স্টেনলেস স্টিল কাউন্টরের দিকে আর তার ওপরে গুছিয়ে রাখা দু সারি ছুরিতে। মিন হুয়ে ভেবে ছিলো সে বুঝি কোনো হাসপাতালের অপেরাশন থিয়েটারে ঢুকে পড়েছে। আবার দেওয়ালে অয়েল পেন্টিং দেখে মনে হচ্ছিলো যে কোনো মিউজিয়ামে এসে পড়েছে বুঝি। সৌন্দর্য সুন্দরই লাগে, কিন্তু কোথায় যেনো আগুনের ফুলকির অভাব আছে।

“তাহলে তোমার খালি সময়ে তুমি কী করতে ভালোবাসো, দাবা আর তাস খেলা ছাড়া?” প্রশ্ন করলো ঝৌ রু জি।

“ডিসাইন করি খানিক। ও, আমি একটা মোবাইল ফোন সফ্‌টওয়্যার ডিসাইন করেছি, বেশ মজার। দেখবে নাকি?”

মিন হুয়ে মোবাইল ফোনটা বার করে আনলো, “আমি কী এর আগে স্কিন ক্যানসার শুরুতেই ধরার ব্যবস্থা করি নি? তিল থেকে ক্যান্সারের রিস্ক বিচার করার কাজ।”

“ওয়াও!” ঝৌ রু জির চোখ চকচক করে উঠলো, “আমি দেখতে পারি?”



“নিশ্চয়ই। নির্ভুল ফলাফল পাবার হারটা বেশ বেশিই।” মিন হুয়ে ঝৌ রু জির মুখের দিকে তাকালো, “তোমার মুখে কোনো তিল নেই।”

“আছে তো। পায়ে আর পাছায়।”

ফোনটা ধরে মিন হুয়ে হাসতে লাগলো বাকরুদ্ধ হয়ে।

সেই মূহুর্তে ঝৌ রু জি জামা কাপড় সব ছেড়ে ফেলে শুয়ে পড়লো সোফার ওপরে। “এসো, প্রত্যেকটাকে স্ক্যান করো। আমি একটু বেশি চিন্তিত এই তিলগুলো নিয়ে। কী হবে এগুলো যদি মেলানোমাস হয়?”




~~~~~~~~~~~~

সম্পূর্ণ বই বিনামূল্যে : https://dl.bookfunnel.com/lcj5vznt96

Link to Previous Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/08/jpda-chapter-21.html

Link to following Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/08/jpda-chapter-23.html

Readers Loved