Thursday, October 10, 2024

JPDA - Chapter 65

৬৫. শু জিয়া ঝুয়াং

 


“আমি আছি এখানে তোর সঙ্গে।” মিন হুয়ের স্বর পালকের মতো নরম। ওর সাহস হচ্ছে না শিন ছিকে ছেড়ে যেতে। ওর আশঙ্কা হচ্ছে যে কিছু একটা অনভিপ্রেত ঘটে যেতে পারে, যদি শিন ছি ধাতস্থ না হতে পারে পরিস্থিতির সঙ্গে।

দু জনের মধ্যে বাতাস চলাচল ক্রমে বন্ধ হয়ে স্থির হয়ে গেলো, যেনো হঠাৎ একটা কুয়াশা ঘিরে ধরেছে, বেশ খানিকক্ষণ পরে মিন হুয়ের দম বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো।

চাঁদনি শীত ঢেলে দিচ্ছে যেনো, দূরের উঁচু বাড়িটার ধূসর ছায়া পড়ে আছে কেবল। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শিন ছি। মিন হুয়ের পাশে ওর কঠিন পিঠটা খাড়া আছে একটা দেওয়ালের মতো। তার ঘন ছায়াতে ঢাকা পড়ে গেছে রাতের আকাশের তারার আলো। 

ব্যাখ্যাতীত আতঙ্কে কাঁপছে মিন হুয়ের হৃদপিন্ড। 

“না, তুই ফিরে যা। সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য জিনিসপত্র বেঁধে নে।”

ওর গলার স্বর অবাক করে দেওয়ার মতো শান্ত, “যদি ওটা সু তিয়াঁ না হয়, তাহলে আমরা তখনি ফিরে আসবো। যদি হয়, তাহলে আমরা কয়েক দিন থাকতে পারি অন্ত্যেষ্টির ব্যবস্থা করার জন্য।”

“ছন ছনও যাবে কী আমদের সঙ্গে?”

মিন হুয়ের নজর পড়ে আছে কফি টেবিলে পড়ে থাকা লেগোর ওপরে। একটা ডাইনোসরের তিন ভাগের দু ভাগ তৈরি হয়ে এসেছে। 

“না, ও যাবে না। ইয়ুন লু আর শেন ল্যান আমার হয়ে নজর রাখবে, আর ওরা ন্যানিদের খবর দিয়ে দেবে।”

মিন হুয়ে খানিক ভাবলো মাথা নিচু করে, ব্যবস্থাটা ঠিক হবে কিনা। মাথা তুলতে তুলতে ওর নজর শিন ছির থুতনি পেরোনোর আগেই শিন ছি মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে অন্য দিকে।

কোনো উপায় নেই দেখে মিন হুয়ে বললো, “কাল সকালে দেখা হবে তোর সাথে।”

“আমরা সাতটা দশ নাগাদ তোকে তুলে নেবো।”

ও মিন হুয়ের সঙ্গে সঙ্গে এলো এলিভেটরের দরজা অবধি।

মিন হুয়ে “ওয়াঁ আন” বলে ফিরে এলো মিংসেন কমিউনিটিতে।

আসলে, সঙ্গে নিয়ে যাবার জিনিসপত্র গোছানোর কোনো দরকার নেই মিন হুয়ের। ও সবে ব্যবসার কাজ সেরে বাড়ি ফিরেছে। ওর বাইরে যাবার জিনিস সব গোছানোই আছে। ও স্যুটকেস খুলে সমস্ত নোংরা কাপড়জামা বার করে নিলো আর ওগুলো পুরে দিলো ওয়াশিং মেশিনে। জামাকাপড় রাখা ক্লোজেট থেকে তিনটে কালো টি-শার্ট আর একটা কালো জামা নিয়ে বাক্সে ভরে নিলো। ওর মনের অবস্থা এলোমেলো, বাড়িটাও অনেক দিন হয়ে গেলো পরিস্কার করা হয় নি। তাই অন্যমনস্কভাবেই ও একটা পাপোশ ধুয়ে ফেললো। টেবিলটাও মুছে ফেললো।

ওর আশা যে যেদিন সত্যিটা প্রকাশ পাবে সেদিনটা যেনো শিগগির আসে। আবার এরকমও চাইছে যে সত্যিটা যেনো কোনো দিনও না প্রকাশ হয়। যাতে এরকম একটা ঘোরের মধ্যেই কাটিয়ে দেওয়া যায়। 

যে চার বছর সু তিয়াঁ নেই, জীবন যেনো কুয়াশার মধ্যে দিয়ে চলেছে, আর মিন হুয়ে কেবল সামনের দশ মিটারই ঠাহর করতে পারে।

ছোটো বড়ো অনেক কিছু ঘটে গেছে একের পর এক। ও যেনো মানিয়ে নিতে নিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। 

সব ঝামেলা পোহানো হতে, দিনও ফুরিয়ে গেলো। ও খুব ক্লান্ত বোধ করতে লাগলো। শুধু ঘুমিয়ে পড়তে চাইছে এখন। কালকের কথা, পরশুর কথা, ভবিষ্যতের কথা ভাবার সময় আর ইচ্ছে কোনোটাই নেই ওর।

যদি সু তিয়াঁ এখনো বেঁচে, তবে যাই হয়ে থাকুক না কেনো, শিন ছি ওকে বিয়ে করবে, ওর সাথে চুটিয়ে ঘরসংসার করবে, ওদের অনেকগুলো বাচ্চা হবে, আর সুখে থাকবে এক সাথে।

যদি সু তিয়াঁ মারে গিয়ে থাকে, তবে তার সমাধিস্তম্ভটা গাঁথা হবে মিন হুয়ে আর শিন ছির হৃদয়ে, আর কেউই সহজে তার ভার থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারবে না। ধীরে ধীরে পরস্পরের থেকে দূরে সরে যাবে, একে অপরের অচেনা হয়ে যাবে।

তবে পরিণতি যাই হোক না কেনো, শিন ছির বিশেষ কিছুই করার নেই মিন হুয়ের ব্যাপারে। যাই হোক, মিন হুয়ে আর সু ছন ওদের নিজেদের জীবন কাটিয়ে দেবে। কিন্তু এই ছেলের জন্য, শিন ছি কিছুতেই ছেড়ে দেবে না …

কথাটা মনে হতেই মিন হুয়ে মনের গহীনে নিজেকে গালি না দিয়ে পারলো না। যাই হোক, মিন হুয়ে এখনো জট পাকাতে পারে আর নিজের পছন্দ মতো বাছাবিচার করতে পারে। কিন্তু সু তিয়াঁর তো জট পাকানোর আর বাছবিচারের সুযোগটাও নেই।

একটা গভীর শ্বাস নিয়ে মিন হুয়ে প্রস্তুত হলো যা ঘটবে তা সহ্য করার জন্য।

বাড়িটা পরিস্কার করা হয়ে যেতে, ওর খুব ক্লান্ত লাগলো। আলো নিভিয়ে দিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো, কিন্তু অনেক ক্ষণ অবধি ঘুমোতে পারলো না। কে জানে কতো ক্ষণ, মিন হুয়ে কেবল এপাশ ওপাশ করতে লাগলো, হঠাৎ ফোন বাজতে লাগলো। দেখলো যে শিন ছি ফোন করছে।

“ঘুমিয়ে পড়েছিস?" শিন ছি জানতে চাইলো।

“না।”

“আমি এখনই বেরোতে চাই। আমি যদি গাড়ি চালাই, তবে আমি চার ঘন্টায় পৌঁছে যাবো।”

শিন ছি বলতে লাগলো, “ট্রেনে গেলে পৌঁছোতে কাল দুপুর হয়ে যাবে। পুরো সকালটা নষ্ট হবে।”

“রাতে গাড়ি চালানো কী নিরাপদ?" মিন হুয়ে মনে মনে সময়টা হিসেব করে নিলো, “আমরা যদি এখন বেরোই তবে আমরা রাতের মধ্যিখানে - দুটোর সময়ে - পৌঁছোবো। থাকবো কোথায়?”

“হোটেল বুক করা আছে।”

শিন ছির গলায় প্রত্যয়ের সুর, “তোকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়াটা আমার জন্য দরকারী। কারণ কেবল মাত্র তুইই ব্রেসলেটটা চিনতে পারবি। আর শরীরের ছবিটাও। তুইই শেষ দেখে ছিলি সু তিয়াঁকে।”

“ওকে। পাঁচ মিনিট অপেক্ষা কর। আমি তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নেবো।”

“আমি তোর বাড়ির নিচে গাড়িতে আছি।”

মিন হুয়ে চটপট জামা বদলে নিলো। ধড়ফড় করে নেমে এলো। কিন্তু এবারে গাড়ি চালাচ্ছে শিন ছি নিজে। বড়ো স্পোর্টস্‌ ইউটিলিটি ভেহিক্লটাতে দেঁ চেন বা চেন জিয়া জুনের কোনো চিহ্ন নেই।

স্যুটকেস তুলে রেখে, মিন হুয়ে বসলো যাত্রীর আসনে, বেঁধে নিলো সিটবেল্ট, “কেবল আমরা দুজন?”

“দেঁ চেন আর জিয়া জুন কাল ট্রেনে যাবে।”

“ছন ছন কোথায়?”

“ইয়ুন লু আর ন্যানি আছে ওর সঙ্গে।”

শিন ছি যেই গাড়ির ইঞ্জিন চালু করতে যাবে, দুম করে মিন হুয়ের চোখ পড়ে গেলো মাঝে রাখা রিয়ারভিউ আয়নাতে, হঠাতই বলে উঠলো, “হুহ্‌?”

বললো শিন ছির ডান চোখ তাক করে, “তোর চোখে একটা বড়ো লাল দাগ, কী হয়েছে? রক্তনালী ফেটেছে?”

লাল দাগটা ওর চোখের সাদা অংশের অর্ধেকের বেশি ঢেকে দিয়েছে। বেশ ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে।

গাড়ির আয়নায় দেখলো শিন ছি, কিন্তু গুরুত্ব দিলো না, “চোখের ওপরের পাতলা পর্দার নিচে কয়েকটা রক্তনালী ফেটেছে। ঠিক আছে। কয়েক দিনে রক্তটা শুষে নেবে ভেতরে।”

ওর চোখগুলো লাল আর ফুলে আছে, অবশ্যই কান্নাকাটি করেছে, কিন্তু এই প্রথম মিন হুয়ে ওর চোখের মধ্যে রক্তনালী ফাটতে দেখলো। মিন হুয়ে একটু দুশ্চিন্তা না করে পারলো না, “তোর দৃষ্টিতে প্রভাব পড়বে?”

“শিন ছি," মিন হুয়ে জানতে চাইলো, “তোর ড্রাইভার কোথায়?”

“আমি ওকে ডাকি নি। আমি নিজে গাড়ি চালাতে চাই।”

“আমার মনে হয় ড্রাইভারকে ডেকে নেওয়া ভালো। কিংবা দেঁ চেনকে।”

“এখন অনেক রাত। আমাকে দয়া কর। পারবি?”

গলার স্বরের অন্ধকারটাতে রাগ স্পষ্ট। 

“আর তোর চোখ," সাবধানে বললো মিন হুয়ে, “তোর কী হাসপাতালে গিয়ে একবার দেখিয়ে নেওয়া উচিৎ? যেমন বলছিস তেমন যদি না হয়? যদি আরো গুরুতর কিছু হয়?”

মিন হুয়ের দুশ্চিন্তা হচ্ছিলো। এরকম করে রক্ত বেরোতে থাকলে ইনফেকসন হয়ে যাবে না তো? ওর একটা ভারি রকমের হার্টের অসুখ আছেই। আবার যদি চোখেও না দেখে তবে কেমন করে বাঁচবে ভবিষ্যতে?

“আমি যাবো না।" শিন ছি গর্জন না করে পারলো না, “একটু কম কথা বলতে পারবি?”

মিন হুয়ে চুপ করে গেলো। গাড়ি হাইওয়েতে উঠে সবচেয়ে বেশি গতিতে চলতে লাগলো। যতো বার গাড়ির গতি পথের নির্ধারিত গতিসীমার কুড়ি কিলোমিটার ওপরে গেলো, ততো বার মিন হুয়ে নিচু গলায় মনে করিয়ে দিলো শিন ছিকে।

আর কোনো কথা হলো না।

এক্সপ্রেসওয়েটা একদম নতুন, মাস ছয়েক হলো এটা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এতো রাতেও অনেক গাড়ি রাস্তায়। বিশেষ করে বড়ো ট্রাক।

শিন ছি লেন বদলে বদলে গাড়ি চালাতে লাগলো। প্রত্যেক বাঁকে আগুপিছু করছে গাড়ি, প্রত্যেকটা ছোটো গাড়িকে পেরিয়ে যাচ্ছে। 

দৃশ্যটা থেকে মিন হুয়ের মনে পড়ে যাচ্ছিলো যে রেসিং কারের খেলাগুলো ও কম্পিউটারে খেলতো সেগুলোর কথা। ও কোনো কথা বলতে সাহস করলো না, নিজের হাত দিয়ে শক্ত করে হাতল ধরে রইলো, ওর হাতের তালু ঘামছিলো আতঙ্কে।

শিন ছির গাড়ি চালায় বেশ ভালোই। প্রত্যেকবার লেন বদলের সময় ও সিগন্যাল দিচ্ছিলো। অবশেষে দু ঘন্টার হাইওয়ে উতরে গেলো কোনো বিপদ ছাড়া।




রাতের অন্ধকারে গাড়ি বাঁক নিলো একটা গ্রামের রাস্তায়। সেখানে নটা মোড় আর আঠারটা বাঁক। গাড়ি আস্তে চালানো ছাড়া কোনো উপায় রইলো না শিন ছির।

সারা রাস্তায় গাড়ির নিজের হেডলাইট ছাড়া কেবল মাথার ওপরে তারা জ্বলছে।

আধঘন্টাটাক চলার পরে একটা সাদা গিলি বয় দেখা দিলো সামনে। কোনো একটা কারণে ওটা চলছে খুব ধীরে ধীরে। শিন ছি ওটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গতি কমাতে বাধ্য হলো।

ব্যাপারটা চললো দশ মিনিট। গিলি বয় চলেছে ধীর বেগে, গতি ঘন্টায় পঞ্চাশ কিলোমিটারেরও কম।

যদি না চালক ঘুমিয়ে পড়ে থাকে, তবে পিছনের কালো এসইউভিটা ওর নজরে পড়ার কথা।

আরো দশ মিনিট একইভাবে চলার পরেও গিলি গতি বাড়ানোর কোনো লক্ষণ দেখলো না। 

“Fuক।”

রাগে শিন ছির মুখ লাল হয়ে উঠেছে। ও হিংস্রভাবে গাল দিতে লাগলো।

মিন হুয়ে চারপাশে দেখতে লাগলো, “আমরা কী গতিসীমা ভুল পড়েছি?”

“না। গতিসীমা এই রাস্তাতে ঘন্টায় সত্তর কিলোমিটার।”

নিশ্চিত ভঙ্গীতে বললো শিন ছি।

একদিকে যাওয়ার জন্য একটাই মোটোর গাড়ি চলার লেন। মধ্যে একটাই গোটা হলুদ লাইন, মানে উল্টোদিক থেকে গাড়ি আসার লেনে গিয়ে সামনের গাড়িকে পেরিয়ে যাবার উপায় নেই শিন ছির।

“ওকে মনে করিয়ে দিলে কেমন হয়?" পরামর্শ দিলো মিন হুয়ে।

শিন ছির আলোর ঝলকানি গিলিকে মনে করালেও, গাড়িটা সেই সংকেত উপেক্ষা করলো। শিন ছি মরিয়া হয়ে হর্ন বাজাতে লাগলো।

গিলির চালক মনে হলো বুঝি রেগে গেলো আর গাড়ির গতি আরো কমিয়ে দিলো।


গিলি বয়


আরো পনেরোমিনিট এরকম করে চলার পরে শিন ছি এতো রেগে গেলো যে ও দুহাতে পাকড়ে ধরলো স্টিয়ারিং-টা, ওর রগের শিরা দবদব করতে লাগলো। ব্যাপার দেখে, ওর মনে হতে লাগলো ও যদি ধাক্কা দিয়ে সামনের গাড়িটাকে জোরে ছোটাতে পারতো - এমন সময়ে হঠাৎ মিন হুয়ে বললো, “দ্যাখ, সামনে লাইনটা ভাঙা, মানে সামনের গাড়িকে পেরিয়ে যাওয়া যাবে।”

এক সেকেন্ডের মধ্যে শিন ছি চটপট গাড়িটাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেলো। যখন গতি বাড়িয়ে এগিয়ে যাবে এমন সময় হঠাৎ গিলির যেনো ঘুম ভেঙে গেলো, ও পেছন পেছন তাড়া করতে লাগলো। সামনের হলুদ দাগ উপেক্ষা করে। আর সমানে বরাবর চলতে লাগলো। এমনকি গাড়ির ড্রাইভার জানলা দিয়ে মাথা বার করে ধমকও লাগালো, “হেড মাস্টারের গাড়ি বুঝি? নিকুচি করেছে, তোর কী পুনর্জন্মের সাধ হয়েছে যে আমাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেলি?”

কামানো মাথা আর মাংসল মুখের লোকটা মিন হুয়ের দিকে থুথু ছুঁড়ে দিলো।

চমক কাটিয়ে শিন ছি আর মিন হুয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর আগেই গিলি ওদের পেছনে ফেলে এগিয়ে গেলো আর আবার ধীর গতিতে চলতে লাগলো।

শিন ছিও বাধ্য হলো গতি কমাতে। আর রেগে গিয়ে বললো, “এটা কী ধরনের অসভ্যাতা!”

কথা বলতে বলতেই গিলি গাড়িখানা দুম করে থেমে গেলো।

শিন ছি দুম করে ব্রেক লাগাতে বাধ্য হলো। রাগে ধাক্কা দিলো গাড়ির দরজায়, এমন কী দৌড়ে বেরিয়েও যাচ্ছিলো তর্ক-ঝগড়া করার জন্য। কিন্তু ওকে চেপে ধরলো মিন হুয়ে, “যাস না! ডাকাতি হতে পারে!”

হাতে একটা লোহার রড ধরে গিলির চালক এগিয়ে আসছিলো হিংসুটে ভঙ্গীতে।

মিন হুয়ে চেঁচিয়ে উঠলো, “শিন ছি! চল!”

শিন ছি দ্রুত বেগে গাড়ি পিছিয়ে নিলো, গিয়ার বদল করলো, দুই লেনের মাঝে জোড়া হলুদ লাইন নাকি একটা সে সবের তোয়াক্কা না করে, ঝড়ের বেগে পেরিয়ে গেলো গিলিকে। 

গিলি আসতে লাগলো প্রায় ঘাড়ের ওপরে। 



মিন হুয়ে ফোন বার করে, ম্যাপের ওপরে চটপট জুম ইন করতে লাগলো। চটপট দেখতে দেখতে বললো, “আমরা নেভিগেসন মেনে চলতে পারবো না। দু শো মিটার গিয়ে বাঁ দিকে যেতে হবে, তারপর চলতে হবে খানিকটা, তাতে এই হিংসুটে গিলি বয়ের পিছু ধাওয়া করার ব্যাপারটা থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে।”

“তুই নিশ্চিত জানিস যে আমরা এর থেকে ছুটকারা পাবো?”

 শিন ছি এক ঝলক দেখলো মিন হুয়ের দিকে, “রাস্তা থেকে নেমে যাবো … পাহাড়ী রাস্তা … সেটা কী খুব নিরাপদ হবে?”

“কলেজে পড়ার সময়ে আমি একটা কোম্পানিকে সাহায্য করে ছিলাম গাড়ি চালানোর উপযোগী সব চেয়ে ভালো রাস্তা দেখানোর নমুনা তৈরির কাজে। আমার অভিজ্ঞতার ওপরে ভরসা করতে পারিস।”

শিন ছি আর কিছু বললো না। মিন হুয়ের কথা শুনে চলতে লাগলো, গাড়ির পথ বদলাতে লাগলো, গিয়ে পড়লো একটা খানাখন্দ ভর্তি রাস্তায়। পুরো সময়টা মিন হুয়ে ম্যাপ দেখে দেখে পথ বলে দিতে লাগলো।

  • “সোজা একশো মিটার গিয়ে ডান দিকে বাঁক নে।”

  • “সোজা চল, সোজা চলতে থাক।” 

  • “যখন চার মাথা মোড়টাতে পৌঁছোবি, তখন ডান দিক নিবি। তারপর সোজা গিয়ে বাঁ দিক পরের ছ শো মিটারে।”

  • “তার পরের চার মাথা মোড়ে পৌঁছে আবার বাঁ দিক নিবি।”

গিলিটা পিছন পিছন আসছিলো। কয়েকটা বাঁকের পরে গায়েব হয়ে গেলো।

শিন ছি রিয়ার ভিউ মিরর দিয়ে দেখে জানতে চাইলো, “তুই কী আমাদের গাড়িটা ওটার হাত থেকে বার করে এনেছিস?”

“ এখনো না।”

মিন হুয়ে বললো, “ও খুব কাছাকাছি ছিলো। আমি ওর ইঞ্জিনের আওয়াজ পাচ্ছি এখনো। ও এখনো কাছাকাছিই আছে।”

শিন ছি মিন হুয়ের কথা মতো গাড়ি চালিয়ে যেতে লাগলো, আর বাঁকের পরে বাঁক নিতে লাগলো। এভাবে দশ মিনিট যাওয়ার পরে, মিন হুয়ে সামনের ঘন ছায়াটা দেখিয়ে বললো, “তুই কী সামনের জঙ্গলটা দেখতে পাচ্ছিস? ওটার পাশ দিয়ে চুপচাপ চল।”

ওই জঙ্গলটার পাশেই লুকিয়ে পড়ার মতো একটা প্রাকৃতিক খাঁজ ছিলো। সেটার মধ্যে শিন ছির গাড়ি ঢুকে পড়লো নিঃশব্দে।

“থাম, ইঞ্জিন বন্ধ করে দে, আলো নিভিয়ে দে।”

ঘাপটি মেরে অন্ধকারে পড়ে রইলো ওরা পাঁচ মিনিট, আর গিলি গাড়িটা এলো, ওদের পেরিয়ে চলে গেলো, আরো সামনে চলে গেলো। 

গাড়িটাকে দূরে চলে যেতে দেখে ওরা আস্তে আস্তে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এলো, রাস্তা বদলে বদলে চললো আরো আধঘন্টা। তারপর আবার জাতীয় সড়কে উঠে পড়লো।

ধীরে ধীরে শিন ছি শান্ত হলো। এক চুমুক জল খেলো, জানতে চাইলো, “তুই আই কিউ টেস্ট করিয়েছিস কখনো?”

“হ্যাঁ, একশো একত্রিশ। তুই করিয়েছিস কখনো?”

“একশো কুড়ি। অবশ্যই তুই আমার থেকে বেশি বুদ্ধিমান।”

“দুঃখ করিস না, তুই আমার থেকে অনেক বেশি বড়োলোক।”

শিন ছি নাক দিয়ে বিদ্রুপের আওয়াজ করলো আর হেসে উঠলো।

*****



ভোর দুটো দশে নেভিগেসন ওদের এনে পৌঁছে দিলো শু জিয়া ঝুয়াং যে গ্রামে থাকে তার দোর গোড়ায়। দুজনে গাড়ি থেকে নেমে চারপাশটা দেখতে লাগলো।

ও যা বলে ছিলো সেটা ঠিকই। গ্রামটা খুবই ছোটো। মুশুই নদীর পাশে।

মিন হুয়ে কয়েক পা এগোলো শিন ছির পিছু পিছু। রাতটা ভয়ঙ্কর চুপচাপ, মিন হুয়ে খামচে ধরে রইলো শিন ছির জামার হাতা। ওর বুকের মধ্যে দুড়দাড় করে কেঁপে চলেছে হৃদপিন্ড, কিন্তু ওর মগজটা একদম খালি।

তারার আলোয় নিঃশব্দে বয়ে চলা মুশুই নদী চকচক করছে চাঁদের আলোয়, ঠিকরে দিচ্ছে চাঁদের আলোর কণা।

গাছের পাতার কিনার দিয়ে হাওয়া বয়ে চলেছে, বীণার ঝঙ্কার তুলে।

বাঁ দিকের পাড়ে, একটা নিচু বিল দেখা যাচ্ছে অস্পষ্টভাবে, লম্বা লম্বা নলখাগড়ায় ঢাকা। যদি মিন হুয়ের অনুমান ঠিক হয়, তবে ঐ বিলেই পাওয়া গিয়ে ছিলো সু তিয়াঁর দেহ।

“যে হোটেলটা তুই বুক করেছিস সেটা কী এই গ্রামেই?”

মিন হুয়ের খুব ঘুম পাচ্ছে, বড়ো বড়ো হাই তুলছে। ও এক ঝলক তাকিয়ে একটা খামার বাড়ি দেখতে পেলো নাবালে, কিন্তু সেটাকে কোনো ভাবেই হোটেল বলে মনে হলো না।

“চল, আগে শু ঝি হুয়ার সাথে দেখা করে নি। নিশ্চিত হয়ে নি যে মানুষটার দেহ ও তুলে ছিলো নদীর থেকে সেই মানুষটা সু তিয়াঁই কিনা। তারপরে আমরা হোটেলে যাবো। এখান থেকে উত্তরে, কুড়ি মিনিটের পথ, গাড়িতে।”

অবাক হয়ে বললো মিন হুয়ে, “সেটা কী ঠিক হবে? এখন রাতের মধ্যিখান, দুটো বাজে, সব লোক ঘুমোচ্ছে, ও-ও নিশ্চয়ই ঘুমোচ্ছে।”

“তাহলে ওকে জাগাবো ঘুম থেকে।”

“শিন ছি, এরকম রাতে ওকে ওস্কানোর কী আছে? লোকটার অপরাধ করার নজির আছে আগে।”

“তাতে কী?”

শিন ছির কথার সুর ভয়ানক, “চুপ কর। লোকটা একটা মানুষকে যা হোক তা হোক করে পুঁতে দিয়েছে। আর আমি লোকটার সাথে এখনো বোঝা-পড়া করি নি।”

“তাহলে তুই কী চেক নিয়ে এসেছিস?”

মিন হুয়ে আবার জিজ্ঞেস করলো, “ও তো এখানে এসেছে তোর দেওয়া পুরস্কার নেবে বলে।”

“হ্যাঁ। ও সোজা ভাঙানোর চেক চেয়েছে, যার থেকে ও নগদ টাকা পাবে, যেটা থেকে টাকা পেতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লাগবে না। এবং, এও বলেছে যে আমরা যদি সনাক্ত করি যে দেহটা সু তিয়াঁরই তাহলে আমরা যেনো পুলিশে না যাই। যদি একান্ত করতেই হয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ, তাহলে যেনো ওর কথা কিছু না বলি। যেনো বলি যে দেহটা আমরা নিজেরা খুঁজে পেয়েছি।”

“তুই রাজি হয়েছিস?”

“বেশ, আমি শুধু যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ততো তাড়াতাড়ি নিশ্চিত হতে চাই যে ও যার কথা বলছে সে সু তিয়াঁ কিনা।”

অপরিচিত মানুষের পায়ের শব্দে গ্রামের কুকুর চেঁচিয়ে উঠলো। হঠাৎ ঘরে ঘরে আলো জ্বলে উঠলো।

গ্রামে ঢোকার মুখের শু ঝি হুয়ার বাড়ি। দু জনে ফ্ল্যাশ লাইট জ্বেলে বাড়ির নম্বর পড়ে খুঁজতে লাগলো শু ঝি হুয়ার বাড়ি। চটপট খুঁজেও পেয়ে গেলো।

শিন ছি দরজায় জোরে জোরে ঘা দিলো। খানিক পরে একটা লম্বা লোক বেরিয়ে এলো। পরনে ডেনিম জ্যাকেট। হাই তুলতে তুলতে জিজ্ঞেস করলো, “এ তো মাঝ রাত! আপনারা কাকে খুঁজছেন?”

“আমি শু ঝি হুয়া কে খুঁজছি।”

এক মূহুর্তের জন্য লোকটা চমকে উঠলো, “আমিই শু ঝি হুয়া।”

“আমি শিন ছি, এ মিন হুয়ে। দেঁ চেন আমাদের বন্ধু। গতকাল আমাদের কথা হয়ে ছিলো।”

“আপনারা কী সেই মেয়েটিকে খুঁজছেন? কী যেনো নাম তার, সু তিয়াঁ?”

“হ্যাঁ। আমরা বুঝে উঠতে পারি নি আপনার কাছে যে প্রমাণ আছে সেটা সু তিয়াঁর স্মারক কিনা।”

“দেঁ দেন বলে ছিলেন যে আপনারা আগামী কাল এসে পৌঁছোবেন।”

“আমি অপেক্ষা করতে পারবো না।”

শু ঝি হুয়া এক ঝলক চোখ বুলিয়ে নিলো শিন ছির মুখের ওপরে। ওর চোখ দুটো ফুলে আছে, লালও হয়ে আছে। তারপরে ও শিন ছির পিছনের দিকে তাকালো, নিশ্চিত হয়ে নিলো যে পিছনে আর কেউ নেই। তারপর বললো, “আসুন।”

ঘরের ভেতরের আলো খুবই নিস্তেজ। কংক্রিটের মেঝে ভর্তি অনেক গর্ত। দুটো বেতের চেয়ার, একটা টেবিল, আর চারটে বেঞ্চ ছাড়া বসার ঘরের ভেতরে আর কোনো ভদ্রস্থ আসবাব নেই।

শু ঝি হুয়া ওদের বসতে বললো। ভেতরের ঘরে গেলো, একটা ছোটো বাক্স নিয়ে বেরিয়ে এলো। তার থেকে একটা ব্রেসলেট আর একটা ছবি বার করলো।

“ছবিটার কথা বলি - মেয়েমানুষের এই ছবি না দেখাই ভালো।”

লোকটা সোজাসুজি বললো, “নদীতে অনেক মাছ। মুখটা চেনাই যায় না, জামাকাপড় অবশ্য আছে। আপনি একবার দেখবেন নাকি?”

শিন ছি ব্রেসলেটটা মিন হুয়ের হাতে দিলো, বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলো, ছবির দিকে একবার তাকালো, আর পরের মূহুর্তেই ছবিটা উল্টে রাখলো।

মিন হুয়ে পকেট থেকে বার করলো একটা কাপড়ের টুকরো যেটা দিয়ে রুপোর জিনিস পরিষ্কার করা যায়। ভালো করে ব্রেসলেটের রুপোর মাছটাকে মুছলো কাপড়টা দিয়ে। ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় ভালো করে দেখলো রুপোর মাছটাকে। তারপরে ঘাড় নেড়ে বললো, “ব্রেসলেটটা সেইটাই। ঠিক আছে একদম।”

“জানলি কী করে?”

“আমার বাবা আমার জন্য যে ব্রেসলেটটা বানিয়ে ছিলেন তাতে চুনো মাছের গায়ে সতেরটা আঁশের টুকরো ছিলো। স্বাভাবিক চুনো মাছের গায়ে সাতটার বেশি আঁশের টুকরো থাকে না। চোখের মণিগুলো ফেটে যেনো বেরিয়ে আসছে। অন্য চুনো মাছের চোখ ঢোকা হয়।”

শিন ছি নিজের হাতের আঙুল দিয়ে ছবিটা ঢেকে সেটা বাড়িয়ে দিলো মিন হুয়ের দিকে, “এই জামাটা কোথা থেকে এলো? ঐ দিন কী ও এরকম জামাকাপড় পরে ছিলো?”

মিন হুয়ে অনেক ক্ষণ ধরে ছবিটা দেখলো, নরম সুরে বললো, “আমি তো খেয়ালই করি নি ও কেমন জামাকাপড় পরে ছিলো সেদিন … আমি শুধু জানি, ও একটা হলুদ জ্যাকেট পরে ছিলো।”

শরীরের ওপরের অংশটা একটা সাদা টি-শার্টে ঢাকা। সাধারণ ধরনের, কোনো বিশেষ চিহ্ন কিছু নেই। কোমরের নিচের অংশ একটা ঢিলে ডোরা কাটা খাটো ঝুলের প্যান্টে ঢাকা। মিন হুয়ের মনেই নেই যে ঐ প্যান্টটা সু তিয়াঁ বাসে পরে ছিলো কিনা। পায়ের জুতো নেই। কেবল এক জোড়া খালি পা পড়ে আছে - সম্ভবত মাছে খাওয়া, গর্ত আছে, ক্ষত আছে।

“তার মানে তোর কোনো স্মৃতিই নেই যে সে দিন ও কী ধরনের জামাকাপড় পরে ছিলো?”

বিদ্রুপ না করে পারলো না শিন ছি।

“আমার মনে হয় না যে বাসে ও এই জামাকাপড় পরে ছিলো।" বিড়বিড় করে বললো মিন হুয়ে।

“কী রঙের প্যান্ট পরে ছিলো?" জোর করলো শিন ছি।

“আমার মনে নেই।”

অনেক মনে করার চেষ্টা করলো মিন হুয়ে, অনেক ক্ষণ ধরে। অবশেষে মাথা নেড়ে বললো, “হোটেলে থাকার সময়ে, ও স্নানে গিয়ে ছিলো। স্নান সেরে কেবল একটা গা মোছা তোয়ালে পরে ছিলো, যখন আমার সাথে কথা বলছিলো। তারপরে ও ঘুমিয়ে পরে ছিলো, কেবল শরীরের ওপরে জামা পরে ছিলো।”

“এক জোড়া সাসপেন্ডর ছিলো উপরের অংশে। আর নিচে অন্তর্বাস …”

মিন হুয়ে মন দিয়ে ছবির জামাকাপড় দেখতে দেখতে বিড়বিড় করলো, “এই তো, সাদা টি-শার্টে এক জোড়া সাসপেন্ডর আছে, দেখা যাচ্ছে। এই প্যান্ট জোড়া …”

হঠাৎ কিছু যেনো মনে পড়ে গেলো ওর। ফোন বার করে ছবি দেখতে লাগলো। মোমেন্টস্‌-এ সু তিয়াঁর ছবির পর ছবি উল্টে যেতে যেতে, শেষে একটা ছবি দেখিয়ে বললো, “দ্যাখ, ওর এরকম প্যান্ট ছিলো।”

ছবিতে সু তিয়াঁর শরীরের অর্ধেক দেখা যাচ্ছে।

একটা ম্যাগনোলিয়া গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে। হাতের আঙুল দিয়ে একটা ‘V’ চিহ্ন করেছে। ছবির ফোকাস শরীরের ওপরের অংশে, তাই প্যান্টের যেটুকু ছবিতে ধরা পড়েছে, সেটা এক সেন্টিমিটারেরও কম। শিন ছি ছবিটা বড়ো করে দেখলো। দুটো ছবিতে যে প্যান্ট দেখা যাচ্ছে সুগুলোর ডুরের তুলনা করলো। মিন হুয়েও নিজের মাথাটা বাড়িয়ে দিয়ে দেখছিলো। প্যান্টের ডুরেতে তিন রকমের রঙ আছে - একটা কালির নীল, আরেকটা হালকা বেগুনী আর অন্যটা বালির হলুদ, ডুরেগুলো চওড়ায় সমান নয়। শিন ছি ছবিটাকে বড়ো করে ছোটো করে দুটো ছবির ডুরেগুলোর অনুপাত সমান করলো।

“এটাই ঠিক।”

মিন হুয়ে ঘাড় নাড়লো, “এটা ওরই প্যান্ট। চুলের ধরনটাও একই রকম। ওর চুল কোঁকড়া ছিলো। ভিজে গেলে খুব কুঁকড়ে যেতো প্রায় স্প্রিং-এর মতো।”

“যদি তোমরা নিশ্চিত না হও, তবে তোমরা ডিএনএ দেখতে পারো।”

বলে উঠলো শু ঝি হুয়া।

“দেখবো আমরা।”

লোকটার দিকে তাকিয়ে শিন ছি জিজ্ঞেস করলো, “কোথায় কবর দিয়েছেন ওকে?”

শু ঝি হুয়া এক মূহুর্ত চুপ করে থাকলো, তারপর বললো, “গ্য, আমি বুঝতে পারছি তোমার কেমন মনে হচ্ছে। কিন্তু ঐ জায়গাটা পায়ে হেঁটে যাওয়া সহজ নয়। তারওপর এখন আবার মাঝরাত। অন্ধকার, পথটাও পিছল। কেউ পড়ে গেলে ভালো হবে না। ভোর অবধি অপেক্ষা করো। তাছাড়া আমি খামারে কাজ করেছি সারা দিন। আমার খুব ঘুম পেয়েছে। আমি কিছুক্ষণ ঘুমোতে চাই।”

ও খুব উঁচু স্বরে কথা বলছে। মিন হুয়ের মনে হলো যে লোকটা যেনো ঠারে ঠোরে বোঝাতে চাইছে শিন ছি ওকে চেক দেবে একটা, যতো ক্ষণ না ও চেক দেখছে, ততো ক্ষণ ও কিছুতেই বলবে না যে ওর গ্রাম থেকে বেরিয়ে কোন দিকে গেলে পাওয়া যাবে সু তিয়াঁর দেহ।

শিন ছিও বুঝলো, বিদ্রুপের ভঙ্গীতে বললো, “আমাকে আগে বললে টাকাটাও আগে পাবে। সেটাই ভালো নয় কী? আমরা ওর দেহটা এখনই নিয়ে যেতে চাই।”

“ব্যাপারটা টাকার নয়, গ্য। ও ওখানে শুয়ে আছে, তা আজ চার বছরেরও বেশি। আরো দুয়েক দিন বেশি থাকলে ওখানে আমার কিছু যায় আসে না। এটাই কী কারণ নয়?”

“আমার যায় আসে।”

শিন ছি গর্জে উঠলো নিচু গলায়, “আমি আর একদিনও শুয়ে কাটাতে পারবো না।”

ও একটা খাম বার করে গুঁজে দিলো লোকটার হাতে, “এই তোমার ক্যাশ করে নেবার বেয়ারার চেক।”

শু ঝি হুয়া খামটা খুলে দেখে নিলো একবার ভেতরে কী আছে। সব ঠিক আছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে, ও উঠে দাঁড়ালো, নিয়ে নিলো বেলচাটা আর একটা বালতি, দরজার পেছন থেকে, “আমার সঙ্গে এসো।”




~~~~~~~~~~~~

সম্পূর্ণ বই বিনামূল্যে : https://dl.bookfunnel.com/lcj5vznt96

Link to Previous Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/10/jpda-chapter-64.html

Link to following Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/10/jpda-chapter-66.html



Wednesday, October 9, 2024

JPDA - Chapter 64

 ৬৪. রুপোলি মাছ



আরো এক সপ্তাহ পরে, ধীরে ধীরে কমে গেলো খরিদ্দারদের থেকে ফোন কল আসা তংগুয়াং প্ল্যাটফর্ম নিয়ে অভিযোগ ইত্যাদি। মিন হুয়ে সমস্ত খরিদ্দারের অ্যাপ্লিকেশন সারিয়ে ফেললো। শেষ কাজটার পরে একটা ট্রেনে চড়ে বিনচেং-এ ফিরলো মিন হুয়ে। 

ততো দিনে বিনচং-এ হেমন্ত শেষ হয়ে এসেছে প্রায়।

মিন হুয়ে কাজে এতো ব্যস্ত ছিলো যে শিন ছি একাই বাচ্চার দেখাশোনা করছিলো।

একটা প্রায় ঘোরের মধ্যে মিন হুয়ের মনে হচ্ছিলো যে ও জীবনের সেই সময়টাতে ফিরে গেছে আবার যখন ও একদম একলা ছিলো। যদিও কাজের জন্য এতো ঘুরে বেড়ানোটা খুব পরিশ্রমের, কিন্তু এভাবে দিঁ য়িফঁ আর চেং ছিরাং-কে এড়াতে পারাটা তিক্ততার মধ্যেও খুব আনন্দ এনে দিলো।

হেমন্তের হাওয়া বইছে ধীরে ধীরে, সঙ্গে নিয়ে আসছে অনিবার্য শৈত্য। স্টেশনের বাইরে পা রেখেই মিন হুয়ে টের পেলো যে ওর গায়ে যথেষ্ট গরম জামা নেই। তাই তাড়াহুড়ো করে পিঠের ব্যাগ থেকে একটা উড়নি বার করে জড়িয়ে নিলো গলায়।

সন্ধে সাতটায় সব আলো জ্বলে উঠতে বিনচেং বরাবরের মতো প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠলো।

চেনঝঁ বিল্ডিং-এর পাশ দিয়ে যাবার সময় মিন হুয়ের মনে হলো যে কয়েকটা কাগজপত্র নেবে অফিস থেকে। তাই ট্যাক্সি থামিয়ে নেমে পড়লো।

চলতি মাসে আর অ্যান্ড ডি ডিপার্টমেন্টের তিনটে জরুরী ডেডলাইন আছে। তবে মিন হুয়ের টিম ঐ ডেডলাইনের দলে নেই।

দিঁ য়িফঁ জানিয়ে ছিলো যে কাজগুলো তোলার জন্য লোক কম পড়েছে। তাই ওদেরকে সাহায্য করার জন্য মিন হুয়ে ডেকে ছিলো ঝ্যাং শও হান আর তাং শিন নিংকে। 

বিল্ডিং-এ ঢোকার আগেই মিন হুয়ে ওপরের দিকে মুখ তুলে দেখলো যে দশতলায় যেখানে আর অ্যান্ড ডি ডিপার্টমেন্ট বসে সে জায়গাটা আলোয় ঝলমল করছে।


যেই এলিভেটরের দরজা খুললো, মিন হুয়ে কিউবিক্ল-এ পৌঁছোনোর আগেই চড়া গন্ধ পেলো, খুব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বলতে গেলে পিজ্জা, মুর্গি ভাজা আর অ্যালকোহলের গন্ধ।

“মিন হুয়ে জিয়ে, আপনি ফিরলেন বুঝি?”

ঝ্যাং শও হানের কিউবিক্ল এলিভেটরের সব চেয়ে কাছে। যেই ও মিন হুয়েকে দেখলো অমনি ও চট করে উঠে দাঁড়িয়ে মিন হুয়ের সাথে কুশল বিনিময় করলো।

“এই ট্রেন থেকে নামলাম।”

ওর টেবিলে তিনটে বিয়ারের বোতল, যার দুটো এর মধ্যেই খালি হয়ে গেছে, ব্যাপার দেখে মিন হুয়ের ভ্রূ কুঁচকে উঠলো, জিজ্ঞেস না করে পারলো না, “তুমি মদ খাচ্ছো?”

মিন হুয়ের টিমের পাঁচ সদস্যের মধ্যে ঝ্যাং শও হানের মদ খেয়ে হজম করার ক্ষমতা সব চেয়ে কম। ও আর সোজা দাঁড়াতেও পারছে না, “গত পাঁচদিন ধর প্রত্যেক দিন আমি ওভারটাইম করছি। প্রত্যক দিন রাত কাটিয়ে ভোর একটা বা দুটোয় বাড়ি পৌঁছোচ্ছি। দিঁ জঁ বলেছেন যে সব্বার কঠিন পরিশ্রমের তো আর আলাদা পুরস্কার হয় না, তাই খাবার আর মদ পাওয়া যাবে যতো চাই ততো।”

মিন হুয়ে মাথা তুলে দেখলো। যেমন ভেবে ছিলো তেমন, সবটাই প্রায় ভর্তি, প্রত্যেক ডেস্কেই অনেকগুলো করে মদের বোতল। সবাই মদ খেতে খেতেই কোড লিখছে। কেউ মাথা ঝাড়া দিচ্ছে, কেউ আপনমনে বিড়বিড় করে বকছে, প্রত্যেকে ডুবে আছে আপন আপন জগতে, আর কখনো জোরে, কখনো দ্রুত, কখনো ধীরে, কখনো আস্তে ভেসে আসছে কীবোর্ডে আঙুল ঠোকার শব্দ।

কয়েকটা মেয়ে প্রোগ্রামারও আছে। ঠাসাঠাসি করে বসানো ছেলেদের মধ্যে। ওরা কেউ মদ খাইনি দেখা যাচ্ছে। ওরা সবাই স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে মন দিয়ে।

“এটা খারাপ না? তুমি কী ভুলে গেছো যে গত মাসেই সেলস্‌ ডিপার্টমেন্টের শও দং দুম করে মারা গেছে হার্ট অ্যাটাকে, বেশি মদ খাওয়ার জন্যই। ভুলে গেছো?”

মিন হুয়ে বোঝানোর চেষ্টা করলো। ও শুনে ছিলো যে রাতের শিফ্‌টে যারা কাজ করে তাদের মধ্যে ডেস্কে বসেই মদ খাওয়ার চল আছে। কিন্তু ও আশা করে নিযে ব্যাপারটা এরকম মেলার মতো হবে।

“কিসের গন্ডগোল?”

প্রশ্নটা ভেসে এলো একপাশ থেকে। মাথা ঘুরিয়ে মিন হুয়ে দেখলো দিঁ য়িফঁকে। একটা গাঢ় ধূসর রঙের স্যুট পরে আছে। গলার থেকে ঝুলে আছে গিঁট খোলা টাই, “আমাদের ডিপার্টমেন্টের কাজটা সৃজনশীল কাজ। মদ খেয়ে আর কী প্রেরণা পাবে তুমি? যদি তুমি প্রেরণা নাই পেলে তবে অবসাদ কাটানো ভালো - এটা আর অ্যান্ড ডিতে কাজ করার একচেটে সুবিধে।”

 কথা বলতে বলতে এগিয় এলো মিন হুয়ের দিকে। মিন হিয়ে দু পা পিছিয়ে গেলো দিঁ য়িফঁ-এর মুখ থেকে মদের গন্ধ বেরোচ্ছে বলে।

“এখানে শুধু ছেলেরা কাজ করছে না। মেয়েরাও কাজ করছে।”

মিন হুয়ে আন্তরিকতা দিয়েই বললো, “তুমি সকলকে যতো খুশি ততো মদ খেতে বলেছো, কী হবে যদি কেউ মাতাল হয়ে গিয়ে ঝামেলা পাকায়?”

“হতেই পারে না!”

“ঠিক আছে তোমরা মদ খাও। কিন্তু সব কটা মেয়ে এখনই কাজ বন্ধ করে এখান থেকে চলে যাবে।" জোর দিয়ে বললো মিন হুয়ে, “আমরা লুকিয়ে থাকতে পারি, যদি আমাদের ওস্কানো না হয়। নেতৃস্থানীয় কর্তৃ হিসেবে তোমার খেয়াল রাখা উচিৎ এখানে যে মেয়েরা কাজ করছে তারা নিরাপদ কিনা।”

আর অ্যান্ড ডিতে যে অনেক মেয়ে প্রোগ্রামার কাজ করে তেমন নয়। সব মিলিয়ে কুড়ি জনও হবে না। আজকের রাতে প্রজেক্টে পাঁচ থেকে ছ জন আছে।

মিন হুয়ে চোখের কোণ দিয়ে দেখে নিলো মেয়েগুলোকে। ওরা চলে যায় নি। বাকি সকলের সঙ্গে রয়ে গেছে, ওভারটাইম করছে।

“তুমি নিজেকে কী মনে করো? এখনো আমাকে আদেশ করছো?”

দিঁ য়িফঁ নিজের নাকের দিকে তাক করে বললো, “আমি ল্বব্যাঁ, আমার কথাই শেষ কথা। কাজ এখনো শেষ হয় নি। আমি সায় দি নি, আর কেউ যেতেও চায় না। তোমার জন্যও একই কথা খাটে, ফিরে এসো তুমি কাজে, তোমার জন্য অনেক কিছু অপেক্ষা করে আছে। তংগুয়াং-এর খরিদ্দারদের ঝামেলা মিটে গেছে? জিএস২.০-এর অবস্থা কী? আমার অফিসে এসো, আমি বিশদে রিপোর্ট চাই।”

মিন হুয়ে উপহাস করলো নিজের স্যুটকেস দেখিয়ে, “কাজ কতোদূর এগিয়েছে, সে ব্যাপারে আমি তো রোজ রিপোর্ট দিয়ে যাচ্ছি ইমেল করে। ইমেল খুললেই রিপোর্ট পেয়ে যাবে। যে কাজটা দিয়ে ছিলে, সেটা শেষ করে ফেলেছি। আমি সবে ট্রেন থেলে নেমেছি, আমি খুব ক্লান্ত। আমার বাড়ি যাওয়া দরকার, বিশ্রামের দরকার।”

কথা শেষ করে মিন হুয়ে হাঁটা দিলো নিজের অফিসের দিকে। ড্রয়ার থেকে কাগজগুলো নিলো আর ঠুসে দিলো ব্যাগে। মুখ তুলে দেখলো যেই ওর চোখে পড়লো যে দিঁ য়িফঁ ওর পিছন পিছন এসেছে নিঃশব্দে। ওর পাশে দাঁড়িয়ে একটা আধখানা হাসি দিয়ে বললো, “আমার ইমেল পড়ার সময় নেই। আমি তোমার মুখ থেকে রিপোর্ট শুনতে চাই। তুমি একটা মেয়েছেলে, নরম করে কথা বলতে পারো না? খ্যাঁকখ্যাঁক করতে শুরু কোরো না যেনো, সবাই সহকর্মী, কেউ শত্রু নয়, কেউ তোমার ক্ষতি করতে চায় না।”

মিন হুয়ে হতবাক হয়ে দেখতে লাগলো।

“মেয়েদের খুব কাজ করার দরকার নেই। প্রোমোশন চাইলে তোমার লিডারকে খুশি করলেই হবে -”

মিন হুয়ে কোনো তর্ক করছে না দেখে, দিঁ য়িফঁ হাত রাখলো মিন হুয়ের কাঁধে, চাপড় মারলো যেনো মিন হুয়ের জন্য ওর প্রচুর সমবেদনা। মিন হুয়ের শরীর স্থির দাঁড়িয়ে আছে দেখে, দিঁ য়িফঁ খাবলে ধরতে লাগলো মিন হুয়ের হাত, আর মিন হুয়ে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে একটা ঝটকা দিলো!

“ক্র্যাক!”

দিঁ য়িফঁ-এর গালে লাগালো এক চড়, তক্ষুণি দিঁ য়িফঁ-এর মুখের রং বদলে গেলো। ও ফেটে পড়তে যাচ্ছিলো, কিন্তু দরজার বাইরে থেকে একটা চিৎকার ভেসে এলো -

“বাঁচাও! এখানে নোংরা লোক আছে।”

শুনেই মিন হুয়ে দৌড়ে দরজায় গেলো। ওর দিকে একটা কেউ দৌড়ে এলো বাথরুমের দিক থেকে, চোখে মুখে তার আতঙ্কের ছাপ, আর পালালো এলিভেটরের দিকে -

মিন হুয়ে চেপে ধরলো তাকে আর বলে উঠলো, “শিন নিং?”

“... একটা লোক, মেঝেতে শুয়ে আছে আর উঁকি দিচ্ছে!”

একদল লোক যারা কোড লেখায় ব্যস্ত ছিলো, তারা সবাই মুখ তুলে তাকালো একসাথে, দুটো ছেলে তখনই উঠে এলো আর বললো, “ভয় পেয়ো না। আমরা ওকে এক্ষুণি ধরে আনছি, পালাতে পারবে না ও!”

মিন হুয়ে জড়িয়ে ধরলো তাং শিন নিং-কে। ওর ওপর নজর রাখলো। নরম সুরে ওকে স্বান্তনা দিতে লাগলো। মোবাইল ফোন বার করে বললো, “আমি পুলিশ ডাকছি।”

“দাঁড়াও!”

দিঁ য়িফঁ চটপট বাধা দিলো মিন হুয়েকে, “আগে ব্যাপারটা বুঝে দেখা দরকার।”

অনেকগুলো প্রজেক্ট বাকি পড়ে আছে দেখে ও ডিরেক্টর হিসেবে ব্যস্তই ছিলো। এই সময়ে পুলিশ এলে কাজ কিছুতেই শেষ করা যাবে না।



কিছুক্ষণ পরে দুটো ছেলে বাথরুম থেকে টানতে টানতে একটা মাতাল লোককে নিয়ে এলো। মিন হুয়ে দেখলো যে লোকটা আর কেউ না ওয়াং তং য়ুআঁ, ওর চার বছর আগেকার শত্রু। মিন হুয়ে বুঝে উঠতে পারছিলো না যে ও ইচ্ছে করে মাতাল হবার ভান করছিলো নাকি ও সত্যিই মাতাল হয়ে গিয়ে ছিলো। ও মেঝেতে শুয়ে ছিলো মাতাল হয়েই ভুল বকে চলে ছিলো আর মদ খেয়ে চলে ছিলো। 

গুয়ান ছাও থেকে মিন হুয়েকে তাড়িয়ে দেবার পরে চেং ছিরাং ব্ল্যাক ডট প্রজেক্টের কর্ণাধার করে ফিরিয়ে এনে ছিলো ওয়াং তং য়ুআঁকে। ওয়াং তং য়ুআঁর বয়স পঁয়ত্রিশ আর এখনো অবিবাহিত। বলা হয় যে ওর স্বভাব একটুও বদলায় নি, সমস্ত মহিলা সহকর্মীদের প্রতি ওর ছোঁক ছোঁক করা অভ্যেস, বিশেষ করে যারা কাজের জায়গায় নতুন, সবে কাজে যোগ দিয়েছে, ইনটার্ন। এতো বছর পরেও, কারুর সঙ্গে ওর বনিবনা হয় নি।

প্রথম যেদিন তাং শিন নিং কাজে এসে ছিলো, সেদিন ওর পিছু নিয়ে ছিলো ওয়াং তং য়ুআঁ। আর নতুন করে প্রেম জানাতে শুরু করে। নরম মেজাজের তাং শিন নিং-এরও অসহ্য লাগতে শুরু করে, ওর মুখের ওপরে আপত্তি জানানো কঠিন লাগে, তাই ও বাধ্য হয়ে ওয়াং তং য়ুআঁর সাথে বার দুয়েক খেতে গেছে। ব্যাপারটা ভালো, তাই ওয়াং তং য়ুআঁ তক্ষুণি মোমেন্টস্‌-এ ছবি পোস্ট করে দেয়। তাং শিন নিং নাকি ওর বান্ধবী এমন ইঙ্গিত দিতে কিছুই বাকি রাখে না।

এটা জানা মাত্র মিন হুয়ে খুব বিরক্ত হয়ে ছিলো। তাং শিন নিংকে ডেকে সাবধান করে দিয়ে ছিলো। অমনি তাং শিন নিং সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় ওয়াং তং য়ুআঁর সাথে, এমন কি এইচ আরের কাছেও গিয়ে ছিলো ওয়াং তং য়ুআঁর নামে নালিশ করতে, তাতে আবার ওয়াং তং য়ুআঁ খুব বিরক্ত হয়।

ঝ্যাং শও হান এক ঘুঁষি মারলো ওয়াং তং য়ুআঁর মুখে। অনেকগুলো ছেলে তখনই দৌড়ে গেলো ওকে মারতে। ছোটো কাজের জায়গাটা মূহুর্তে একটা মারপিটের আখড়া হয়ে উঠলো যেনো, দিঁ য়িফঁ বার বার মারপিট থামাতে গেলো, কিন্তু ওর কথা কেউ শুনলোই না।

ওয়াং তং য়ুআঁ নিজেও সহকর্মীদের চক্ষুশূল। অধস্তনদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। ভীষণ প্রতিশোধ নেয় ওর ইচ্ছে পূরণ না করলেই। কয়েকটা ছেলে তো ওকে মারলো শুধু নিজেদের গায়ের জ্বালা মেটাতে। ওয়াং তং য়ুআঁর মুখটা এতো জনের মার খেয়ে রক্তে ভেসে যাচ্ছে দেখে সিকিউরিটি গার্ড দৌড়ে এসে সকলকে ঠেলে সরিয়ে দিলো।

হয়তো নেশা ছুটে গিয়ে ছিলো মারের চোটে, তাই ওয়াং তং য়ুআঁ অভিযোগ করতে লাগলো, “আমি কিছুই করি নি! আমি ভুল জায়গায় চলে গিয়ে ছিলাম, মদের ঘোরে, বেশি মদ খেয়ে ফেলে ছিলাম!”

“যতো বাজে কথা! আমি যখন কিউবিক্ল-এ ছিলাম আমি বাইরে নড়াচড়ার শব্দ শুনতে পাই, নিচু হয়ে দেখার চেষ্টা করি আর দেখতে পাই যে ও মেঝেতে শুয়ে প্রস্রাব করছে আর মাথাটা তার মধ্যেই কিউবিক্ল-এর মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে। আমি এতো ভয় পেয়েছি যে আমার আত্মা উড়ে গেছে! নির্লজ্জ চোর!”

ঝ্যাং শও হান দৌড়ে এলো রাগে আগুন হয়ে। ও আবার মারতে চাই ছিলো ওয়াং তং য়ুআঁকে। কিন্তু দিঁ য়িফঁ ওকে চেপে ধরে রাখলো, “বাদ দাও, ও বেশি মদ খেয়ে ফেলেছে, এই আর কি। তাং শিন নিং তুমি ঘাবড়ে গেছো। তুমি কাজ বন্ধ করে চলে যাও শিগগির, ফিরে যাও, ভালো করে বিশ্রাম নাও। কাল শুক্রবার, আমি তোমাকে একটা ছুটি দিলাম।”

এটা শুনে মিন হুয়ে আবার রেগে গেলো, “দিঁ য়িফঁ, এ ব্যাপারটা এতো সহজে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। ওয়াং তং য়ুআঁ একটা মেয়ের সম্ভ্রম কেড়ে নিতে গিয়ে ছিলো।”

“কিছুতেই না।”

দিঁ য়িফঁ চোখ রাঙালো মিন হুয়েকে, “তুমি দেখতে পাচ্ছো না? ও আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না, আঙুলের একটা ছোঁয়া দিলেই ও উল্টে পড়ে যাবে, ওর কি আর গায়ের জোর আছে যে অন্য কাউকে কিছু করবে ও? তবে লাইন পেরোনোও ঠিক না! তুমি যদি অনেক মদ খেয়ে থাকো আর ভুল জায়গায় চলে যাও নেশার ঘোরে, তাহলে ঠিকই আছে! আমি ওকে বকাঝকা করবো, শিক্ষা দেবো। না হয় তোমরা দুজনে চলে যাও এখন, তুমি সবে ট্রেন থেকে নেমেছো, তোমার বিশ্রামের দরকার, তোমরা দুজনেই যাও!”

দিঁ য়িফঁ-এর লক্ষ্য একটাই, সকলকে শান্ত করা আর সবাই যেমন কাজ কর ছিলো তেমনই যেনো কাজ চালিয়ে যায়।

“আমি এখানে যতো মেয়ে আছে সবাইকে বলবো আমার সঙ্গে নিজের নিজের বাড়ি চলে যেতে।” মিন হুয়ে শান্ত চোখে তাকালো দিঁ য়িফঁ-এর দিকে, “সবাই প্রচুর মদ খেয়েছে। কোনো ভরসা নেই যে কোনো দূর্ঘটনা আবার ঘটবে না আজ রাতে।”

“আজকে রাতের মধ্যে অনেকগুলো প্রজেক্ট ডিবাগ করতে হবে। সবাই মূলো আর গর্ত, মানে সব্বার নিজের নিজের কাজ আছে। কেউ যেতে পারবে না।”

“তাহলে আমিও যাবো না। এখানেই থাকবো আর পুলিশ ডাকবো। যখন পুলিশ আসবে তখন তদন্তে সহযোগিতা কোরো।" বললো মিন হুয়ে।

“পুলিশ আসলে হবেটা কী?” ঘড়ি দেখলো দিঁ য়িফঁ রাগ দেখিয়ে, “তাং শিন নিং কী প্রমাণটা দিতে পারবে?”

“কোনো প্রমাণ নেই। পুলিশ যখন আসবে তখন তদন্ত করবে, প্রমাণ সংগ্রহ করবে। এ ব্যাপারে জানতে পারে এমন সব লোকেদের একে একে খুঁজে খুঁজে বার করে প্রশ্ন করবে একে একে।”

মিন হুয়ে নিজের কোমরের ওপর হাত রেখে সোজা তাকিয়ে রইলো। বললো, “যাই হোক আজকের পরিশ্রম গুণতিতে আসবে না। কিছুতেই ডেডলাইনের আগে কাজ শেষ করে দেওয়া যাবে না।”

দিঁ য়িফঁ দাঁত কিড়মিড় করতে লাগলো, কিন্তু কিছু বললো না। মনে মনে হিসেব কষতে লাগলো, শেষে গ ঝিজিয়াঁকে বললো, “মহিলা সহযোদ্ধারা সবাই এখন কাজ বন্ধ রেখে চলে যেতে পারেন।”

****



তাং শিন নিং-কে ওর নিজের বাসায় পৌঁছে দিয়ে মিন হুয়ে ফিরে গেলো নিজের অ্যাপার্টমেন্টে। মালপত্র রেখে দিয়ে, চটপট স্নান করে নিতে।

সু ছনের সাথে দেখা করতে যাবে বলে যেই জামা কাপড় বদলাতে গেলো, দেখতে পেলো যে শিন ছির বার দুয়েক ফোন করে ছিলো ওকে। আজকাল বার বার বেজিং-এ যাতায়াত করছে ও।

মিন হুয়ে জানতো যে ও নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছে। ওকে আর বিরক্ত করতে চায় নি। শেষ কাজের জায়গা ছেড়ে বেরোনোর আগে মিন হুয়ে ওকে শুধু বলে ছিলো যে সপ্তাহান্তে মিন হুয়ে বিনচেং-এ ফিরবে, তবে নির্দিষ্ট সময় কিছুই জানায় নি।

ও চটপট শিন ছির ফোনের জবাবে ফোন করলো, “শিন ছি, তুই কী আমাকে খুঁজছিস?”

“তুই কোথায়?”

ফোনের অন্য প্রান্তে শিন ছির স্বর কেমন নিষ্প্রাণ শোনালো, যেনো খুব মন খারাপ।

“আমি ফিরেছি, সবে বাড়িতে ঢুকেছি।”

“তুই কী আমার অ্যাপার্টমেন্টে আসতে পারবি? তোর সাথে কিছু কথা ছিলো।" জানতে চাইলো শিন ছি।

“ব্যাপারটা কী এমন যে ফোনে বলা যাবে না?” - মনে মনে ভাবলো মিন হুয়ে। ওর প্রথম প্রতিক্রিয়া হলো, “ছন ছন কোথায়?”

“ও ভালোই আছে। ঘুমিয়ে পড়েছে।”

শিন ছির গলার স্বর এর আগে কখনো এতো গম্ভীর শোনায় নি। মিন হুয়ের আবছা অনুভূতি হলো যেনো ভয়ানক খারাপ কিছু একটা হতে চলেছে, “কী হয়েছে?”

ফোনের অন্য পাড়ে শিন ছি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো, বললো, “আমরা হয়তো সু তিয়াঁকে খুঁজে পেয়েছি।”

“তুই শিগগির এখানে আয়।”

ফোনটা রেখেই মিন হুয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো দরজা দিয়ে, জুতো বদলানোর কথাটা ওর মনেও এলো না।

ছ্যুনতাং গার্ডেন মিংসেন কমিউনিটির কাছেই। বাড়ির থেকে দৌড়ে বেরিয়ে মিন হুয়ে রাস্তা পেরোলো, একটা চড়াই ভাঙলো, শিন ছির অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে গেলো, দরজার ঘন্টি বাজালো - দশ মিনিটও লাগলো না। 

দরজা খুললো দেঁ চেন।

বসার ঘরে পা ফেলে মিন হুয়ে দেখতে পেলো যে চেন জিয়া জুনও ওখানে আছে, সোফায় বসে, হাঁটুজোড়া জড়িয়ে ধরে। 

মধ্যিখানের কার্পেটে শিন ছি পায়চারি করছে, অস্থিরতা স্পষ্ট ওর চলাফেরায়। 

দৌড়ে আসার কারণে মিন হুয়ে তখনো হাঁপাচ্ছিলো। ওকে দেখে চেন জিয়া জুন ওর হাতে এক কাপ চা তুলে দিলো। 

মিন হুয়ের চা কেনো জল খাবার কথাও মাথায় নেই। হুড়মুড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, “অবস্থাটা কী? সু তিয়াঁ কোথায়?”

শিন ছি ওর খুব কাছে এসে দাঁড়ালো, ফিসফিসিয়ে বললো, “একজন দাবি করছে যে চার বছর আগে আটাশে জুন, মানে সু তিয়াঁর দূর্ঘটনাটা ঘটার দু দিন পরে, ওর শরীরটা পাওয়া যায় একটা নদীর কিনারায়, মুশুইহে ব্রিজ থেকে পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণে।”

“নদীর কিনারায়? কোন নদীর কিনারায়?”

মিন হুয়ে মাথা নাড়তে লাগলো জোর দিয়ে, “এরকম হওয়া প্রায় অসম্ভব। আমি তো সমস্ত নদীর কিনারা ধরে খুঁজেছি, সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে। শিন ছি, আমার কথা বিশ্বাস করতে হবে না তোকে, কিন্তু মনে হচ্ছে তুই কোনো ঠগের পাল্লায় পড়েছিস।”

“এটা সত্যি।”

একবার শিন ছি পুরস্কার ঘোষণা করে ছিলো দশ লাখের দেঁ চেনের কোম্পানির সাহায্যে সু তিয়াঁর খোঁজখবর পাবার জন্য। গত চার বছর ধরে মানুষের ঢল দেঁ চেনকে সুত্র দিয়ে চলেছে। যেহেতু একটা হলুদ জ্যাকেটের কথা বলা হয়ে ছিলো নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া মানুষটার বিবরণে, এমনকি জ্যাকেটটা কেমন দেখতে তাও বলা হয়ে ছিলো, সেহেতু পুরস্কার পাবার জন্য অনেকেই দেঁ চেনের কাছে এসে হলুদ জ্যাকেট নিয়ে, দাবি করেছে যে তারা জানে সু তিয়াঁ কোথায় আছে, যাতে দেঁ চেনকে ঠকিয়ে পুরস্কার নিয়ে যাওয়া যায়। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে যে সু তিয়াঁর জ্যাকেটের মতো জ্যাকেট আর একটাও পড়ে নেই তাওবাও-তে, সব বিক্রি হয়ে গেছে। ঘটনা হলো যে হাজার হাজার যে সূত্র দেঁ চেন পেয়ে ছিলেন তার কোনোটাই নির্ভরযোগ্য নয়।

কেউই সু তিয়াঁকে পায় নি। কোনো স্পষ্ট প্রমাণ কেউ দিতে পারে নি।

এই কারণেই মিন হুয়ে আর শিন ছি দু জনেই ভাব ছিলো যে সু তিয়াঁ হয়তো বেঁচে আছে এখনো।

“যে লোকটা ওকে খুঁজে পেয়েছে তার নাম শু ঝি হুয়া। লোকটার বয়স পঁয়ত্রিশ বছর, থাকে শু জিয়া ঝুয়াং-এ, মুশুই নদীর দক্ষিণে। ওদের গ্রামটা মুশুই নদীর পাশে। ও বলছে যে ও মাছ ধরতে নদীর কিনারায় গিয়ে ছিলো ঐ দিন দুপুরে। একটা ভেসে আসা মরদেহ পায়, একটা জোয়ান মেয়ে, মারা গেছে খুব বেশি দিন আগে নয়, ধরা পড়ার ভয়ে ও চুপচাপ একটা জায়গা দেখে মেয়েটার দেহটা মাটির তলায় সমাধি দেয়।”

বললো দেঁ চেন।

“লোকটা মরদেহটার কথা প্রশাসনকে জানায় নি কেনো?”

মিন হুয়ে জানতে চাইলো, “ওর প্রথমে পুলিশ স্টেশনে যাওয়া উচিৎ ছিলো নাকি এক্ষেত্রে?”

“ও সাহস করে নি। লোকটার একটা অপরাধের খতিয়ান আছে। ও প্রথমে দেহটা উদ্ধার করতে চায় নি। পরে ওর মনে হয়ে ছিলো যে মরদেহে দামী কিছু থাকতে পারে। সেই লোভে ও দেহটা বঁড়শিতে গেঁথে তোলে কিনারে। খুঁজেও কিছু পায় নি ও। তাতে ও ঘাবড়ে যায় যে এর থেকে ওকে এই মেয়েটার মৃত্যুর সঙ্গে হয়তো জড়ানো হবে। তাই ও গোপণে দেহটা মাটিতে পুঁতে দেয়।পরের দিনই কাজ করতে চলে যায় গুয়াংঝুতে, সেই থেকে ও নিজের গ্রামে আর ফেরেই নি আর পুরস্কারের কথাও জানতে পারে নি। এ মাসে কোনো একটা কাজে ও গ্রামে গিয়ে ছিলো। কোনো এক আত্মীয়ের মুখে শোনে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষ সম্পর্কে আমাদের বিজ্ঞাপণের কথা। হিসেব করে দেখে যে সময়টা প্রায় মিলে যাচ্ছে। তা বাদে মৃতের লিঙ্গপরিচয় আর বয়সও মিলে যাচ্ছে প্রায়। তাই আমাদের সাথে যোগাযোগ করে।”

দেঁ চেন থামলেন, ফের বললেন, “কিন্তু মরদেহে কোনো হলুদ জ্যাকেট ছিলো না, হয়তো বানের জলে ভেসে গেছে।”

সব শুনে মিন হুয়ের সন্দেহ আরো গাঢ় হলো, “তাহলে ওর কাছে প্রমাণ কী আছে যে ঐ দেহটা সু তিয়াঁরই ছিলো? মুশুই নদীতে অগুণতি মরদেহ ভাসছিলো তখন। আমি নিজেই একটা দেখেছি।”

“মরদেহে একটা রুপোর ব্রেসলেট ছিলো, মাছের নকশা ছিলো তাতে, যেটা ও মরদেহের কব্জি থেকে খুলে নিয়ে ছিলো। একটা মোবাইলে ঐ মরদেহের একটা ছবিও তুলে ছিলো, দেহটা মাটিতে পুঁতে দেওয়ার আগে। তবে ও বলেছে যে ছবিটা বেশ ভয়ানক তাই ওটা পাঠানো অসুবিধেজনক। ও ব্রেসলেটটার একটা ছবি দিয়েছে। একবার দেখো, এটাই কী তুমি ওকে দিয়ে ছিলে?”

কথাটা বলেই দেঁ চেন ওর ফোন থেকে একটা ছবি বার করলো আর ফোনটা দিলো মিন হুয়ের হাতে যাতে ও ছবিটা দেখতে পারে।

ছবিটা দেখে ওর শরীরে কাঁপুনি লেগে গেলো হঠাৎ, ওর মুখ বিবর্ণ হয়ে গেলো।

শিন ছির দিকে তাকিয়ে দেখলো শিন ছিও ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।

প্রমাণ রক্ষার জন্য আর মিথ্যে দাবি কমানোর জন্য পুলিশ চুনো মাছের মূর্তি ঝোলানো ব্রেসলেটটার কথা ফাঁস করে নি তাদের নিখোঁজ মানুষ সম্পর্কিত বিবরণে।

ছবিতে বেসলেটটা নোংরা দেখাচ্ছে, লাল শিকলিটা কালো দেখাচ্ছে। বহু বছরের হাওয়ার ঝাপটায় জং ধরে সাদা চুনো মাছগুলোও কালো হয়ে গেছে। তবে তাদের আকার আকৃতি মাপ সবই অবিকল আছে। 

মিন হুয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়, বিড়বিড় করে বললো, “এটা দেখতে প্রায় একই রকম। আমার ব্রেসলেটটা আমার বাবার নিজের হাতে বানানো ছিলো। প্রত্যেকটা চুনো মাছের লেজে একটা বিশেষ চিহ্ন ছিলো। আমি যদি খালি চোখে ব্রেসলেটটা দেখতে পাই, তবে হাতে নিয়ে পরখ করে বুঝতে পারবো যে জিনিসটা খাঁটি কিনা।”

“তোর বাবা এরকম ব্রেসলেট অনেকগুলো বানিয়ে ছিলেন না? আর প্রচুর বিক্রি করে ছিলেন না?”

শিন ছি প্রশ্ন করলো, “যদি কোনো ভাবে পুলিশের লোকে খবরটা চাউর করে দিয়ে থাকে, তাহলে তো যে কেউ একই রকম একটা ব্রেসলেট খুঁজে পেলেই হবে। অমন ব্রেসলেট খুঁজে পাওয়া কী দুরূহ, নাকি নয়?”

মিন হুয়ে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে ব্রেসলেটটা খাঁটি। আবার শিন ছির কথা শুনে দ্বিধায় পড়লো, “হ্যাঁ। সেটাও সম্ভব। আমাদের শহরে অনেক মেয়েই এরকম ব্রেসলেট পরেছে। আমার বাবার বানানো অন্যান্য রুপোর গয়নার সাথে, এই ব্রেসলেটটাও।”

“সু তিয়াঁ পরিবার খুঁজে বার করার ওয়েবসাইটে যে রক্তের নমুনা, ডিএনএ এসব দিয়ে ছিলো, সেই সবই আছে আমাদের কাছে। যদি দেহটা ওরই হয়, তবে বৈজ্ঞানিক উপয়ায়ে সেটা প্রমাণ করা সহজ।" বললেন দেঁ চেন।

“যাই হোক, আমাদের মুশুইহে-তে যেতেই হবে এই শু ঝি হুয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য।”

মিন হুয়ে বললো, “ওর কাছে মরদেহের যে ছবি আছে তার সাথে চেহারার তুলনাও করা যাবে।”

শিন ছির মুখের রঙ বদলে গেলো, একটা গভীর শ্বাস নিয়ে বললো, “আমি কাল খুব সকালে যাবো। চারটে টিকিট কেটেছি ট্রেনের।”

দেঁ চেন আর জিয়া জুন চলে যাবার পরে, মিন হুয়ে শোবার ঘরে গেলো ছেলেটাকে দেখার জন্য। ও দেখতে পেলো শিন ছি বারান্দায় চেয়ারে বসে দুরের তারাদের দিকে তাকিয়ে আছে, চুপচাপ, একটা ঘোরের মধ্যে।

ও একটা নরম শ্বাস ফেলে বসলো শিন ছির পাশে, একটা সিগারেট ধরিয়ে টানতে লাগলো।

“তোর কী মনে হয়, জলের ঐ মানুষটা সু তিয়াঁ?” প্রশ্ন করলো শিন ছি।

একটু ভেবে বললো মিন হুয়ে, “আমি প্রবৃত্তির তুলনায় বেশি ভরসা করি প্রমাণে। এখন আমি কিছুই বলতে পারবো না।”

“তাহলে, আমাকে তোর প্রবৃত্তির কথাটাই বল।”

কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে মিন হুয়ে একটা সাদা ধোঁওয়ার দলা ছেড়ে বললো, “হ্যাঁ, ওটা সু তিয়াঁই।”

“চলে যা।”

শিন ছি উঠে দাঁড়িয়ে বারান্দার দরজা খুলে ধরলো, “আমি কিছুক্ষণ একলা থাকতে চাই।”




~~~~~~~~~~~~

সম্পূর্ণ বই বিনামূল্যে : https://dl.bookfunnel.com/lcj5vznt96

Link to Previous Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/10/jpda-chapter-63.html

Link to following Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/10/jpda-chapter-65.html

Readers Loved