পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রথমপক্ষ
~~~~~~
একবার কৈশোর যৌবনের এই দ্বন্দ্বে প্রবৃত্তির কাছে বোধের হারটা সুরচিতার কাছে ব্যক্তিগত আঘাত হয়ে উঠেছিল। এই হার তার থেকে কেড়ে নিয়েছিল তার এক মেধাবী ছাত্রীকে। তার স্বভাবগত প্রতিশোধস্পৃহা থেকে সে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে বোধ আর প্রবৃত্তির লড়াইতে বোধকে জিতিয়ে দেওয়ার জন্য সে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে সে ছল আর কৌশলের হাত ধরবে। হয়তো ভাবতো না এমন করে। কিন্তু ঘটনার পারম্পর্যে তার মনে পড়ে গিয়েছিল তার নিজের কৈশোরের অসহায়তার কথা, মরিয়া হয়ে প্রতিকার খোঁজার কথা। তার প্রথম যৌবনের ইচ্ছে আর আবেগ অবদমনের কথা। তার জীবনে পাওয়া যাবতীয় যৌনাঘাতের কথা, সেসব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার কথা। তার প্রেমের কথা।
সেসব কথার নৈর্ব্যক্তিক বিশ্লেষণে সে বুঝেছিল যে নিজের আবেগ আর বুদ্ধি দিয়ে যে জগৎ সে বানিয়েছে, সেদিন থেকে তার বর্তমান অবধি, সেটাই তার আর তার সাথে নানা সম্পর্কে জড়িয়ে থাকা নিকটতম মানুষগুলোর জীবনের বর্ম, সামাজিক আক্রমণের প্রতিরোধে, সামাজিক আগ্রাসন থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্যও। এর থেকে তার বিশ্বাসও জন্মেছে যে দুর্বুদ্ধি যদি মানুষের আবেগকে উস্কে মানুষের মধ্যে দলাদলি আর দাঙ্গা বাধাতে পারে, তাহলে বুদ্ধি দিয়েই মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে বিবেচক আর সংযতও করে তোলা যায়।
এই কৌশলের নাম চরিত্র গঠন বা চরিত্রে গিঁট পাকানো--যাই হোক না কেন। সুরচিতা জীবনকে আরও বোধ, আরও বিবেচনা, আরও স্বস্তি, আরও সন্তোষ দেওয়ার জন্য কোমর বেঁধে নেমেছে সেই থেকে। প্রকাশ্যে অঙ্ক শেখালেও, ভেতরে ভেতরে তার কারখানা যুক্তি বোনে ছাত্রদের ভাবনায়, যথাযথ প্রশ্ন করতে আর যুক্তিভিত্তিক উত্তর উপলব্ধি করতে শেখায়, সামাজিক আগ্রাসনের থেকে ব্যক্তি হয়ে টিঁকে থাকতে শেখায়। শুধু তাই নয়। টিঁকে থাকার এই লড়াইতে কী করে হাতের কাছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অস্ত্র চিনে নিতে হয়, কী করেই বা তা ব্যবহার করতে হয় সে সম্বন্ধেও কাজে লাগার মতো তথ্য ছড়ায়।
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
