পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রথমপক্ষ
~~~~~~
এই দুদলের মেয়েদের কাছেই পূর্ণবয়সে মিশনের সন্ন্যাসিনী হওয়ার বা মিশনের বেতনভুক কর্মী হওয়ার বা মিশন ছেড়ে যাওয়ার রাস্তা খোলা। বলাবাহুল্য প্রথম দলের মেয়েদের জন্য মিশনের শিক্ষা একটা কেনার মতো পরিষেবা, এবং, দ্বিতীয় দলের জন্য জীবনের চরমতম সৌভাগ্য। অন্তত তাদের সেরকম বোঝাতে মিশনের অনেক রকম চেষ্টা ও ব্যবস্থা আছে। অত্যন্ত অভিপ্রেতভাবেই প্রথম দলের মেয়েরা অবলীলায় মিশন ছেড়ে যায়, যখন খুশি তখন, অপূর্ণবয়সেও, শিক্ষান্তে বা তার আগেই এবং দ্বিতীয় দলের মেয়েরা মিশনের বাইরে বেরোতে সাহস করে না যতক্ষণ না কেউ তাদের হাত ধরে আশ্বস্ত করে যে মিশনের থেকেও বেশি নিরাপত্তা সেই হাতের মুঠোয়, পূর্ণ বা অপূর্ণ বয়সে, শিক্ষান্তে বা তার আগেই। তবে সেই হাতের মুঠো আলগা হলে মেয়েরা যে সবাই আবার মিশনে ফিরে আসে তা নয়। অধিকাংশই নিজের খাত খুঁড়ে চলতে থাকে নিজের মতো। কেউ কেউ ফিরেও আসে। তাদের বশ্যতা হয়ে যায় গভীরতর।
এই দুদল মেয়ের কেউ কেউ যে হঠাৎ করে মিশন ছেড়ে পালায় সেই পালানোর ঘটনাগুলোকে মিশন এবং স্থানীয় মানুষ কখনও ভাবেন অনভিপ্রেত অধ্যায়, কখনও মেনে নেন দূর্ঘটনা বলে। তবে মিশনের বাইরে ঘটলে যে ঘটনা নেহাৎ স্থানীয় লৌকিক জীবনের যাপনের অংশ বলে ধরা হয় বা তার অবক্ষয় বলে মনে করা হয়, কখনও কখনও সেই ঘটনাই ত্যাগের আদর্শে মহান, নিয়ম শৃঙ্খলায় আঁটসাঁট এবং অনন্য সংস্কৃতির ধারক বাহক বলে নিজেদের দাবি করে যে-মিশন সেখানে ঘটলে, পরম লজ্জার ঘটনা বলেই দেখা হয়, মিশনের মধ্যেও, মিশনের বাইরেও।
স্থানীয় মানুষের বুদ্ধিকে যেমন প্রয়োজন তেমন প্রভাবিত করার জন্য উপযুক্ত সময়ে এসব ঘটনাকে মিশনের অজুহাতে এলাকার বাইরে থেকে আসা ভিনদেশি, ভিনভাষী মেয়েমানুষগুলোর বয়ে আনা অপসংস্কৃতি বলে চালানোর চেষ্টাও বিরল নয়। এদিকে মিশনেরও লক্ষ্য স্থানীয় সমাজটাতে প্রতিপত্তি পাওয়া। সেখানকার মানুষগুলোর মনের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া।
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
