Showing posts with label Bengali story. Show all posts
Showing posts with label Bengali story. Show all posts

Monday, May 25, 2026

Panchpoksho - 52

পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

সুরচিতা বলল, “তারপর আর কী? সেই অন্য জনটা কে, তার ঠিকুজি কুলুজি চাইতে লাগল। আমি মুখে কুলুপ আঁটলাম। তখন জানতে চাইল বিয়েতে ওকে ডাকব কিনা। আমি বললাম, ‘বিয়েই করব না তো ডাকার কথা আসছে কী করে?’ ধৃতিকান্ত বিরক্তি নিয়ে চলে গেল। যেন আমার গ্রে ম্যাটার পচে দুর্গন্ধ ছাড়ছে...” 

হাহা করে হাসতে লাগল সুরচিতা। অভিও।


রাতের খাবার এসে গেল। সে রাতের মতো সব কথা তুলে রেখে দুজনে ঘুমিয়ে পড়ল। দুজনের আশা, কথা যখন শুরু হয়েছে তখন সহমত হওয়ার রাস্তাও বেরোবে। একজন ভাবছিল বিয়েটা হবে। অন্যজন জানত বিয়েটা হবে না।


পরদিন সকালে পথে বেরিয়ে সূর্যোদয় দেখা গেল। তারপর চলতে চলতে রোদ মাখা শুকনো একটা দিন পাওয়া গেল ক্রমশঃ। সুরচিতাই কথাটা তুলল, “তাহলে বুঝতে পারছিস দুই পরিবারের কাছে ব্যাপারটা কতো বড়ো আঘাত। অন্য কেউ করলে হয়তো ‘বেশ করেছে’ বলার উদারতা আমাদের বাবা-মায়েদের আছে। কিন্তু নিজের সন্তান করলে চুরমার হয়ে যাবে ভেঙে।” 

“এটা তুমি কখন বুঝলে?”, জানতে চাইল অভি। 

সুরচিতা বলল, “তিনপাহাড়ি এসে। অঞ্জনা যাওয়ার পর ওর বাবা-মাকে দেখে। ওঁদের কাউন্সেলিং দিতে দিতে। মঠের সন্ন্যাসিনীদের চোখের জল দেখে। তাঁদের প্রার্থনা দেখে।” 

অভি বলল, “অঞ্জনা যদি বাচ্চা নিয়ে ওঁদের মিশনে আশ্রয় নিত তাহলে তো ওঁদেরই লাভ। ক্রেডিট পেতেন ওঁদের হায়ারার্কিতে, এখানকার কমিউনিটিতেও।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Sunday, May 24, 2026

Panchpoksho - 51

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

একটু থেমে এক ঢোক জল খেল সুরচিতা। তারপর আবার বলতে লাগল, “মাকে যদি সত্যি কথা বলতাম তাহলে পাড়াতুতো বান্ধবীদের কাছে, দিদার বাড়িতে, জেঠুর বাড়িতে গিয়ে ‘তোমাকে ছাড়া কাকেই বা বলি আমার মেয়ের অপকম্মের কথা’ বলে কেঁদে বুক ভাসাতো। সেসব কথা চালাচালি হয়ে তোর বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছতে সময় লাগত না। তারপর ধাড়ি মেয়ের সাথে কচি ছেলের প্রেমের রসালো গল্প বলে কথা। আর যে কী কী হতো তার ঠিক নেই। তোর বাবা-মাকে হয় তো টুকুন রায়রা ধরত, তারপর ধরত আমার বাবা-মাকে, গায়ে পড়ে সালিশি করতে আসত।”

গলার স্বরে উদ্বেগ নিয়ে এলো বিপ্দের সম্ভাবনাগুলো, “তারপর আমার একটা ভালো বিয়ে দিতে উঠে পড়ে লাগত যাতে তোর সুন্দর ভবিষ্যতের কাঁটাটা ওপড়ানো যায়। না হলে আমাদের সাচ্ছল্যকে শাস্তি দিত তোদের দারিদ্র্যকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। পুরো সম্পর্কটা তোর আমার ভালো লাগা, বেঁচে থাকা, আনন্দ, উপলব্ধির বলয় থেকে গিয়ে পড়ত সমাজ আর রাজনীতির পাঁকে। ওদের মধ্যস্থতার ওস্তাদিতে আমার বাবা এবং মা-ও মাৎ হয়ে যেত। তোর বাবা-মাকে আরেক প্রস্থ গ্লানিতে নাকানি চোবানি খাওয়ানো হতো।”

নিশ্চিন্তি এলো বলার সুরে, “তাই কোনো ঝামেলা না করে আমি পালিয়ে এলাম তিনপাহাড়িতে। শ্যামশরণদার কাছে শুনেছিলাম এখানকার মেয়েদের আর ইস্কুলগুলোর কথা। তাই শ্যামশরণদার সাথে এসে মিশন দেখে ইন্টারভিউ দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়ে বাড়ি ফিরে যাই। সানসাইন অ্যাকাডেমিতে বলি আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে বিদেশে তাই আমাকে যেন ওরা তক্ষুণি ছেড়ে দেয়, দিল্লীতে মাসির বাড়ি যেতে হবে বিয়ের বাজার আর বিয়ে করার জন্য। অন্য চাকরি নিয়ে যাচ্ছি সে কথা ওদের বলি নি কারণ বললে ওরা কম্পেন্সেশন চাইত। তবে শেষ মাসের মাইনেও দেয় নি। বলেছিলাম দিল্লী থেকে ওঁদের নেমতন্নর চিঠি পাঠিয়ে দেব।”


অভি বলল, “পারোও বটে। কিন্তু এখন কেন বলছ আমাকে বিয়ে করবে না? অন্য কেউ এসেছে তোমার জীবনে?” 

সুরচিতা হাসল, “ধৃতিকান্ত এসে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, সে প্রস্তাবে আপত্তি জানালাম যেই, সেও একই প্রশ্ন করেছিল।” 

অভি জানতে চাইল রুদ্ধশ্বাসে, “তাকে কী বলেছিলে?” 

সুরচিতা, “বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ, অন্যকেউ আছে’।” 

অভি ফের প্রশ্ন করল, “তারপর?” 

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Saturday, May 23, 2026

Panchpoksho - 50

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

অভি গম্ভীর গলায় বলল, “যেদিন বুঝেছিলাম তুমি আমার প্রেমে পড়েছ আর লুকোতে চাইছ কিন্তু পারছ না, সেদিন কিন্তু আমি জানতে চাই নি কেন লুকোতে চাইছ। তোমার সাথে দিনের পর দিন মিশে আমি বুঝে গিয়েছিলাম ক্লাস নাইনে পড়া ছেলেটার ফ্রিতে তোমার টিউশন না নেওয়ার সিদ্ধান্তটা তুমি সম্মান করেছ। তারপর বুঝেছিলাম যে আমার সাথে মিশে আমাকে তোমার ভালো লেগেছিল শুধু আমার স্বভাব, মেধা, ব্যক্তিত্ব নিয়ে সব মিলিয়ে আমি যা ছিলাম সেই জন্যই।”

সুরচিতা চুপচাপ শুনছিল, “আরও মনে হয়েছিল যে তোমার প্রেমটা লুকোতে চাইছিলে যদি আমি তার থেকে তোমাকে ধান্দাবাজ, অপ্রকৃতিস্থ, বদ বা অসুস্থ এসব ভাবি সেইজন্য; কিংবা এই ভেবে যে যদি আমি মনে করি আমার পারিবারিক আর্থিক দৈন্যের সুযোগে তুমি আমাকে ব্যবহার করছ নিজের কোনো ব্যর্থতা থেকে, শূন্যতা পূরণের সাময়িক তাৎক্ষণিক অভিলাষে। কিন্তু ভাবতে পারিনি কারণ তুমি আমাকে কখনও ফ্রি টিউশন দিয়ে উদ্ধার করে দিতে চাও নি। আমরা বন্ধুর মতো মিশেছি। দুজনের যাবতীয় জ্ঞানগম্যি আর অজ্ঞানতা ভাগাভাগি করেছি। ঋদ্ধ হয়েছি সু। আর তুমি যে আমাকে উদ্ধার করে না দিয়ে আমার বন্ধু হয়েছিলে তাই হয়তো একসময় আমিও ভেসে গেছি তোমার প্রেমে। তখন আর নিজের কাছেই কোনো বাধা কোনো আড়াল জরুরি মনে হয় নি। তুমিও কোনো ভান ছাড়াই স্বীকার করেছিলে আমাকে। তাহলে আজ কেন এমন করছ?” 

সুরচিতা বলল, “আমাদের এসব কথার কোনোটাই আমার অজানা বা অবোধ্য নয় অভি। আমি যখন এখানে এসেছিলাম, তখন বাড়ি থেকে পালানো জরুরি হয়ে উঠেছিল। সকাল বিকেল মায়ের কেবল আমার বিয়ের পরিকল্পনা। দরজাতেও সুপাত্রদের ভার্চুয়াল লাইন দেখাতে লাগল আমাকে মা। অমুকের বোনপো, তমুকের মেজ ছেলে, কার ভাগনা, কার ভাইপো নিজবাটি হলেই হলো; যেমন তেমন চাকুরে হলেই হলো; বাপমায়ের একমাত্র ছেলে হলে তো কোনো কথাই নেই সে রাজপুত্র। শুধু আমি স্বয়ংবরা হলেই হয়। আমি বলতে পারি নি মাকে যে আমার বর পছন্দ করা হয়ে গেছে। তোর সামনে তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সবচেয়ে কঠিন, সবচেয়ে পিচ্ছিল ধাপগুলো। আমি তখন তোকে বিয়ে করলে তোর ভবিষ্যৎ চুরমার হয়ে যাতে পারত; তার সাথে সাথে তোর স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন, আমার স্বপ্ন তোকে সম্মানিত হতে দেখার--সে সব ভেঙে যেত।”

গলায় জমে ওঠা বাষ্প কাটিয়ে বলতে লাগল, “তোর বাবা-মায়ের দুজনকার জীবনের স্বপ্ন আর সম্ভ্রম ফিরে পাওয়ার লড়াই জুড়ে আছে তোর জীবনের ঐ সময়টায়। নিজেদের ঐ বয়সেই ওঁরা সর্বস্ব খুইয়েছিলেন, ধন, মান আপনজন।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Friday, May 22, 2026

Panchpoksho - 49

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

বিকেলের চা এলো। অভিকে জাগালো সুরচিতা। খিদে মিটল মাংসে পুর দিয়ে বানানো পুলি পিঠে আর নুডলের সুপ খেয়ে। সন্ধের অন্ধকার ঘনিয়ে আসতে একটা জলন্ত বাতি দিয়ে গেলেন ডর্মিটরির মালকিন এক দিদি। সঙ্গে আরেকটা মোমবাতি। সুরচিতার বালিশের পাশে একটা সার্চলাইট রাখা ছিল। সুরচিতা বাতিটা নিভিয়ে দিল ফুঁ দিয়ে। অভি বলল, “এখন কী অন্ধকারে থাকব নাকি?” 

সুরচিতা খিলখিলিয়ে হেসে উঠল, “তোর ভয় করছে নাকি? স্থানীয় লোকেরা অবশ্য কেবল ভূত দেখে সন্ধে হলেই।” 

অভি বলল, “যাহ্‌, অন্ধকারে বিরক্ত লাগে। তোমার কাছে লাইটার আছে?” 

সুরচিতা বলল, “আছে। টয়লেট গেলে সার্চলাইট নিয়ে যাবি। বাতি জ্বালাবো ঘরে খেতে দিলে। কারণ এখন বাতি জ্বেলে ফুরিয়ে ফেললে তখন যদি বলে ওদের আর বাতি নেই? তাছাড়া ঘরে কার্বন মনোক্সাইড জমা হবে। তাই আলো নিভিয়ে রাখাই রেওয়াজ এখানে।” 

অভি বলল, “বলিহারি, অ্যাডভেঞ্চার। দামটাও সস্তা। সার্ভিসটাও ঘাটিয়া।” 

সুরচিতা বলল, “সেই জন্যই এখানে মেয়েরা আসে দল বেধে, অন্তাক্ষরী খেলে। আর ছেলেরা নেশা করে পড়ে থাকে বা টর্চের আলোয় তাস খেলে।” 

অভি বলল, “আমাদের তো অনেক কথা আছে। আমরা নাহয় সেগুলোই বলি।” 

সুরচিতা বলল, “বলো।” 

তারপর ঢক ঢক করে কিছু আওয়াজ হলো। সুরচিতার হাঁটুর ওপর হাতড়াতে লাগল অভির হাত। সুরচিতা অভির হাত ধরে ফেলল। অভি গলা সাফ করে বলল, “প্রিয়ে আমাকে বিয়ে করবে?” 

সুরচিতা বলল, “না।” 

অভি বলল, “ঠাট্টা হচ্ছে?” 

সুরচিতা সুর করে বলল, “না-আ।” 

অভি বলল, “কেন?” 

সুরচিতা বলল, “বলেছিস কাউকে তুই আমাকে বিয়ে করতে চাস?” 

অভি বলল, “না। তুমি রাজি না হলে অন্য কাউকে কী করে বলব? তাছাড়া আমার কোনো সন্দেহই ছিল না মনে আমাদের প্রেম নিয়ে। যাদের সন্দেহ থাকে তারা অন্যলোকের সাথে আলোচনা করে। আমি ভাবলাম তুমি আমার অপেক্ষায় এতো দিন আছো, তাই বাড়ি নয় আমার প্রায়োরিটির টপে ছিল আমাদের বিয়ে।” 

সুরচিতা বলল, “আস্তে কথা বল। এখানে সবাই বাংলা বোঝে।” 

তারপর অভি আর কিছু বলছে না দেখে সুরচিতা বলল, “আমাদের প্রেম তো অনেক দিনের। সন্দেহ ছিল না প্রেমের সততা নিয়ে তাও মানি। কিন্তু আমরা তো আগে কথাই বলি নি বিয়ে করব কিনা তাই নিয়ে। তাই না?” 

অভি বলল, “বলে যাও।” 

সুরচিতা বলল, “আজ কথা উঠল। আমি আমার মত জানালাম। আমরা পরস্পরের প্রেম সশ্রদ্ধভাবে গ্রহণ আর রক্ষণ করেছি। গোপনীয়তা রেখেছি যথাসম্ভব। বাস্তবে তুই আর আমি ছাড়া একথা কেউ জানেও না। তার ভিত্তিতেই আমি আশা করছি তুই আমার সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দিবি।” 

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Thursday, May 21, 2026

Panchpoksho - 48

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

কতো ছবি যে তুলল তার ঠিক নেই। সুরচিতা বুঝিয়ে পারে না ফেরা পর্যন্ত ইলেক্ট্রিসিটির সাথে মোলাকাত হবে না। অতএব যখন তখন ছবি আর ভিডিও তুলে ব্যাটারি খরচ করা চলবে না। দু-এক জায়গায় ওরা দাঁড়িয়ে চা, কোলড্রিঙ্ক খেল। এটা সেটা কিনল। দুপুরের আগে হিংরু নামে গ্রামটায় পৌঁছতে পারলে ভালো হয়। কিন্তু অভিকে সে কথা বোঝায় কে।


ঘুরেফিরে সেই প্রশ্ন এলো, “তুমি মিশন ছেড়ে গেলে প্রজেক্টের কী হবে?” 

সুরচিতা অভিকে বলল, “আমি মিশন ছেড়ে যাব কেন?” 

অভি দম নিতে নিতে বলল, “আমরা কী কখনও একসাথে থাকব না?” 

সুরচিতা বলল, “না”। 

অভি থমকে গেল। কিন্তু সুরচিতা তখন অনেকটা এগিয়ে গেছে। রংপুকুর দেখে অবশ্য কথারা আবার পুকুর, খাদ, পাহাড় আর উপত্যকায় ফিরে গেল। আন্তর্জাতিক সীমা এড়িয়ে সরকারি নার্সারির মধ্যে দিয়ে কখনও জঙ্গলের বুনো গন্ধের মধ্যে দিয়ে, কখনও ন্যাড়া পাহাড়ের গা বেয়ে চলা মেঠো রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে দেখা হতে লাগল নানা অভিযাত্রীদলের সাথে। 

অসংখ্য চূড়াওয়ালা বেঁটে মন্দির হাঁটু মুড়ে বসে যেন প্রার্থনা করছে নৈঃশব্দ আর নির্জনতা। সেই মন্দিরগুলোকে ঘিরে রেখেছে জাগরুক পাহারাদারের মতো মন্ত্রমাখা পতাকার ঝাঁক। কোথাও সে পতাকার রং উজ্জ্বল নীল হলুদ, কোথাও ঘোলাটে সাদা। তারপর মেঘেরা যখন কুয়াশার মতো ঘিরে ধরতে লাগল, জ্যাকেটের গায়ে বিন্দু বিন্দু জমে ওঠা জলের কণা মুহূর্ত পরেই সপসপে করে গেল জ্যাকেট তখন বোঝা গেল হিংরু এসে গেছে। 

এই সময় হঠাৎ মেঘ সব জল হয়ে ঝরে গেল বা জোরালো হাওয়ায় উড়ে গেল। রাস্তার ধার বরাবর খাড়া নেমে যাওয়া উপত্যকায় ফুলন্ত রডোডেনড্রন বন যেন সবে স্নান সেরে দাঁড়িয়েছে রোদে। তার গা থেকে ঝরে পড়া জলে, গায়ে লেগে থাকা জলে ঠিকরে পড়া রোদ পুরো উপত্যকাকে রূপসী করে তুলেছে। 

তাদের ফুলপাতার ঠাসাঠাসি বুনোট দেখে মনে হয় যেন কেউ ধানগমের মতো রডোডেনড্রন চাষ করেছে উপত্যকাময়। মুগ্ধতা কাটিয়ে জ্যাকেটের গভীর থেকে ক্যামেরা বার করে ছবি তোলার প্রস্তুতি নিতে নিতে উপত্যকার আধখানা ঢেকে গেল নিচে থেকে হু হু করে ছুটে আসা মেঘের লেপের নিচে। ক্যামেরার লেন্স বন্ধ করা মাত্র হয়ে গেল আরেক প্রস্থ ধারাস্নান।


অবশেষে হিংরুতে ভাত ডাল বাঁধাকপি দিয়ে লাঞ্চ। তারপর তিন প্রস্থ কম্বলের নিচে ডরমিটরিতে। সুরচিতা পিট্‌ঠু থেকে পত্রিকা বের করে পড়তে লাগল। দিনের আলো থাকতে ঘুমোতে পারবে না সে। আর করতে লাগল পায়ের পাতার ব্যায়াম। অভি ঘুমিয়ে পড়ল কিছুক্ষণের মধ্যেই।

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Wednesday, May 20, 2026

Panchpoksho - 47

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

একটু থেমে কী যেন ভাবল সুরচিতা, ফের বলল, “তাও ঝামেলা আছে। কারণ ইলোপ করার পর তারা না পায় প্রেসক্রিপশন, না পায় ডাক্তার। ভরসা শুধু সঙ্গে থাকা টাকাপয়সা, থাকলে ব্যবস্থা করতে পারে মেয়েগুলো, আর ফুরোলে ফিরে আসে। তবে অপেক্ষাকৃত গরীব মেয়েগুলোর সমস্যাই এটা যে ওরা প্রেগনেন্সি নিয়ে ফেরে। আপাতত কাজ চলছে ওরা যাতে অন্তত আমাদের জানায় ওদের রিলেশনশিপ তৈরি হলে আর রোমা ওদেরকে পিলের বিকল্প ব্যবস্থা করে দিতে পারেন তখনই। তারপর গায়েব হোক আর না হোক। ওদের আর্থিক ক্ষমতা না এলে...।”


অভি বলল, “তুমি এখান থেকে চলে গেলে তখন?” 

সুরচিতা দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়েছিল। সেদিকে তাকিয়েই বলল, “সে কথা কাল হবে। আজ এখন খাব আর ঘুমোব। কাল ভোর চারটের সময় উপাসনাকেন্দ্রের পাড়াজাগানিয়ে ঘন্টা বাজবে। উঠে পড়ব। ছটার সময় রুবিনজা ওমনি নিয়ে আসবে। বেরিয়ে পড়ব।” 

অভি বলল, “এই রাত নটার সময় খেয়ে ঘুমোতে যেতে হবে?” 

সুরচিতা মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করতে দিল। অভি আবার বলল, “কাল যাচ্ছি কোথায়?” 

সুরচিতা বলল, “সে অনেক দূর। ক্যামেরা এনেছিস?” 

অভি সাড়া দিল না। সুরচিতা বলল আবার, “তাহলে চার্জ দিয়ে নিস।”


খাওয়ার পরে অভিকে একটা স্নোজ্যাকেট আর মোজা, গ্লাভস এসব পরে দেখে নিতে দিল সুরচিতা। অভি বলল, “এগুলো বেশ কাজের জিনিস, সু।” 

সুরচিতা বলল, “হুঁ। গ্লাভস, মোজা সব তোর ব্যাগে পুরে নিস।” 

ওগুলো ব্যাগে রেখে অভি একটা পারফিউমের বোতল বার করে সুরচিতাকে দিল। সুরচিতা বলল, “থ্যাঙ্ক ইউ-উ। আজকালে তার মানে শপিং মলে যাচ্ছিস।” 

অভি বলল, “ছাত্রাবস্থাতেও গেছি। তবে কিনিনি কিছু। সব দেখতে হয়, না হলে পিছিয়ে পড়তে হয়।” 

সুরচিতা বলল, “বটে! বেশ বোধোদয় হয়েছে দেখছি।”


সুরচিতা শোওয়ার ঘর থেকে বেরিয়ে বসার ঘরে এলো। পেছন পেছন অভিও এলো। সুরচিতা বলল, “যা-আ ঘুমিয়ে পড়।” 

অভি বলল, “তুমি এখানে ঘুমোবে?” 

সুরচিতা বলল, “বটে।”


সকালে রুবিনজার ওমনি ওদের বেসক্যাম্প জংলাবসতিতে ছেড়ে দিল। ওরা চড়তে শুরু করল শৃঙ্গের দিকে। সারা দিন ধরে যেতে যেতে অভির একটাই কথা, “এতো উঁচু পাহাড়ের মাথায় এরকম পুকুর আর মিডো কক্ষণো দেখি নি!” 


~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Tuesday, May 19, 2026

Panchpoksho - 46

পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটু চুপ করে গেল সুরচিতা। তারপর আবার শুরু করল, “মেয়েটার বাচ্চাটাকে প্রথমে মায়ের পেটেই মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তাহলে মেয়েটা আবার পুনর্বিবাহযোগ্য হয়, না হলে বাড়ির লোকের গলার কাঁটা হয়ে যাবে। সে উপায় না থাকলে তিনপাহাড়ির আশ্রম বা গুহামন্দির তো আছেই। তবে অঞ্জনার এত ঝঞ্ঝাট হয় নি বলেই জানি। মেয়েটার না ছিল কাঁচা পয়সা যোগানের অভাব, না ছিল ভাগীদার কোনো ভাইবোন। পারিবারিক সাচ্ছল্য, দায়িত্ববোধের অভাব, অবিবেচনা, সামাজিক রীতি সবের প্রভাবে মেয়েটা পালিয়ে গেল প্রথম প্রেমিকের সাথে। মিশনে ফিরল তিনবছর পর।” 

অভি গলায় দ্বিধা নিয়ে বলল, “এই যে এদের পড়াশোনার খেয়াল রাখার নামে এদের কন্ট্রাসেপটিভে অভ্যস্ত করছ, সেটা এদের বাড়ির লোক জানতে পারলে--” 

সুরচিতা কথা কেড়ে নিল, “মিশনের ছাত্রীদের আমি কনট্রাসেপ্টিভ যোগাই না। ওদের জ্ঞান দিয়ে ছেড়ে দি। প্রেম ভালোবাসা প্রাকৃতিক ঘটনা। তার পরিণামের দায়িত্বভাগ পুরুষ নিতে না চাইলে নারীর একার ঘাড়ে এসে পড়ে। সন্তান জন্মের আগে থেকেই মা শরীরের অংশ হিসেবে সন্তানকে বহন করেন। সন্তানের মায়ের পরিচয় সন্তানের জন্মের আগে থেকেই সমাজ জেনে যায়। অপরদিকে পুরুষের শরীরই পুরুষকে সুযোগ করে দিয়েছে সন্তানের দায় অস্বীকার করার। তাহলে নারী নিজে স্বাধীন ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠার আগে যদি সন্তানের মতো দুরূহ দায়িত্বের ঝুঁকি না নেয়, তাতে নারীরই লাভ।”

হিসেবের পরে এলো অসল কাজের কথা, “এই যুক্তিটা গ্রহণ করতে পারলে, মিশনের মেয়েদের দরকার পড়লে ওরা পকেটমানি থেকে কিনে নেয় কন্ট্রাসেপ্টিভ, আমার থেকে বা মিশনের ডাক্তারের থেকে অকপটে ব্র্যান্ড জেনে নেয়। আর পঞ্চায়েত স্কুলের মেয়েরা হেলথ সেন্টারে যায়। না পেলে আমি সঙ্গে করে নিয়ে যাই দোকানে, ও কেনে আমি ফান্ড করি। এসবের জন্যে প্রেসক্রিপশন যোগান মিশনের ডাক্তারবাবু বা বাজারের রোমা ডাক্তারনি। ওঁদের সাপোর্ট না পেলে ইস্কুলপড়ুয়া মেয়েদের স্বাস্থ্য সচেতনতার ওয়ার্কশপের নামে অনভিপ্রেত সন্তানসম্ভাবনা এড়ানোর উপায় বাতলানোর কাজটা আমি করতেই পারতাম না।” 

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Monday, May 18, 2026

Panchpoksho - 45

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~


আত্মপক্ষ

~~~~~~

সুরচিতা বলল, “হ্যাঁ তার আগে তো সবার মতো ভেবে নিয়েছিলাম এরা এরকমই, মাথায় বুদ্ধি নাকি পোস্তদানার মতো আর রগচটা। আমার একজন কলিগ, ভুপেনজা আর ব্যাঙ্ক ম্যানেজার মিস্টার দাসাং বা টেলিফোন কেন্দ্রের কর্মী ফুংহোজা ব্যতিক্রম বলেই জানতাম। অঞ্জনাকেও সেই ব্যতিক্রমের দলেই রেখেছিলাম। ফের সে মেয়ে ইলোপ করতে আমার মনে হলো ব্যাপারটা এতো সহজ নয়। অঞ্জনা মিশনের ছাত্রী। বাবার হোটেল আছে দু-তিনটে। তাহলে আর্থসামাজিক পরিবেশ নয়, বয়ঃসন্ধির অচেনা উত্তেজনা, শরীর, মনই কী কারণ? কিন্তু যে অঙ্কে একশো পায়, ক্লাসে প্রথম তিনে থাকে, তারও এমন দুর্মতি, চঞ্চলতা বা প্রবৃত্তির কাছে সমর্পণ কেন?”

উত্তরটা সুরচিতা নিজেই দিল, “খুঁজতে খুঁজতে দেখলাম যে ওর কম্পিটিটরদের বাবা-মায়েরা বিবেচক। কিন্তু ওর বাবা-মা বেশ অবিবেচক। দুজনেরই স্খলন অনেক। তিনপাহাড়ি অরফ্যানেজ বা আমাদের মিশনের গুহামন্দিরে ওঁদের দুজনেরই একটি দুটি সন্তান জায়গা পেয়েছিল ওঁদের সেই বয়সে যে বয়সে ওঁরা নিজেরাই নিজেদের জীবনযাপনের দায়িত্ব নেওয়ার উপযুক্ত ছিলেন না। বলাবাহুল্য, অঞ্জনার মায়ের সেই সব সন্তানের বাবা আর অঞ্জনার বাবা একলোক নন, আর অঞ্জনার বাবার সেই সব সন্তানদের মা-ও অঞ্জনার মা নন।”

বলে চললো, “অঞ্জনার ঠাকুর্দা আর দাদামশায় দুজনেই ব্যবসাদার আর খাতায় কলমে এক সন্তানের পিতা। তাঁদের একমাত্র উত্তরসূরী যে সন্তান সেই সন্তানকে তাঁরা কখনও তাড়িয়ে দেন নি। তাছাড়া এঁদের সামাজিক রীতিই হলো পাত্র-পাত্রীকে ইলোপ করতে হবে, তারপর পারিবারিক সমঝোতা হবে, তারপর দুজনে ফিরে আসবে পরিবারে ধুমধাম করে। পারিবারিক সমঝোতা না হলে বা ইস্কুল পেরোবার আগে বাড়ি ছাড়লে, যা হয়, প্রথম মোহটুকু কেটে গেলে পেটের টান বড়ো হয়ে দাঁড়ায়। রোজগারের চেষ্টা দেখতে হয়। ততোদিনে হয়তো সংসার বাড়ার সম্ভাবনাও দেখা দেয়। অমনি দুজনের সহ্যশক্তির টানাপোড়েন তৈরি হয়। তারপর একদিন সব ঝামেলা ঝঞ্ঝাট এড়াতে ছেলেটা মেয়েটাকে ফেলে চলে যায়। আর মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে আসে।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Sunday, May 17, 2026

Panchpoksho - 44

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

সুরচিতা বলল, “তোর বাবা-মাকে এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া জরুরি। বয়সের কারণে ওঁরা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এদিকে তুই স্বাধীন হয়েছিস, সুরোজগেরে হয়েছিস। আর তোর ওপর টুকুন রায় এণ্ড কোম্পানির কোনো খবরদারি চলে না। এতে তোদের ওপর টুকুন রায়ের হিংসে আরও বেড়েছে। এরপর তোর বাবা-মাকে উৎপীড়ন করে তোকে শোষার একটা রাস্তা খুঁজবে। তুই ওখানে ফ্ল্যাট কিনলে সেটাই ওরা একটা ছুতো করবে হয়তো। তাই ভাবছিলাম একটু শান্তিতে থাকার জন্য না-হয় দুপয়সা বেশিই খরচ করলি বাড়ি ভাড়াতে; না হয় কদিন দেরিই হলো অ্যাসেট বানাতে, নিজেদের বাড়ি হতে, গাড়ি হতে। তোর মামার বাড়ির প্রসঙ্গ সেই জন্যই তুললাম যে যদি এখানকার বাস উঠিয়ে দিলীপকাকুরা ওখানে যেতে পারেন। কিন্তু সে-পথ যখন বন্ধ তখন না হয় তোর ওখানেই নিয়ে যা। ভাষায় অসুবিধে হবে কদিন। তবে সিয়াপুরা এখন বেশ কসমোপলিটান শুনেছি। অসুবিধে নাও হতে পারে। তাছাড়া তোর বাবা-মা ইন্টেলিজেন্ট। ভাষা শিখে নেবেন জলদি। একটু উৎসাহ দিবি, হেল্প করবি না-হয়।” 

অভি বলল, “থ্যাঙ্কস, তুমি আমার বাবা-মার নির্বুদ্ধিতাটার, অল্পবয়সের খেয়ালটারই শুধু সমালোচনা করেছ বরাবর। কিন্তু তাঁদের চটপট টিঁকে থাকার উপায় শিখে ফেলার ক্ষমতা, চরম দুর্গতিতেও আত্মীয়পরিজনের কাছে গিয়ে না দাঁড়ানোর জেদ এবং নিজেদের পরিস্থিতি নিঃশব্দে সহ্য করে যাওয়ার ক্ষমতা, নিজেদের মধ্যে কোনো ফাটল না জাগিয়ে তোলা এসব নজর করেছ বলে মনে হয় নি আমার। কিন্তু আজ যখন মানলে যে তাঁরাও বুদ্ধিধর তখন ভালো লাগল।” 

সুরচিতা বলল, “তুই তো আকাশ থেকে পড়িস নি। তোর বাবা-মার মেধাটাই তোর মধ্যে বর্তেছে। হয়তো আত্মসম্মানবোধটাও। কিন্তু মেধার সঙ্গে লাগে ঠিকঠাক করে ভাবতে পারার, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা; আবগকে বশ করার ক্ষমতা, আবেগের সংতুলন। সেসব তৈরি হয় পারিপার্শ্বিকের সাথে মেলামেশা থেকে, কোনো একটা উদাহরণ থেকে। ইস্কুলে টিচাররা আর বাড়িতে আপনজনেরা পড়ুয়াদের মধ্যে এইসব ক্ষমতা তৈরি করার চেষ্টা করলে তবে হয়। তোর বাবা-মায়ের বুদ্ধি থাকলেও ওঁদের বিবেচনাটা গড়ে তোলার জন্য কেউ হয়তো ছিলেন না। সেটা তো ওঁদের দোষ নয়। ওঁরা কোথায় জন্মাবেন বা কোন পরিবেশে বেড়ে উঠবেন সেটা ওঁরা ঠিক করেন নি। তবু তোর ব্যাপারে ওঁরা খুবই যত্নবান ছিলেন। এতটা আমি বুঝতাম না যদি না এখানে আসতাম।” 

অভি বলল, “মানে? এখানে তোমার সেই বুদ্ধিমতী ছাত্রীর ইলোপ করার পরে বুঝেছ?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Saturday, May 16, 2026

Panchpoksho - 43

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

তারপর আবার শুরু করল, “হ্যাঁ, যা বলছিলাম; তোর মামাবাড়িতে দাদু আর মামা। দাদু এখনও বেঁচে থাকলে তোকে আর তোর মাকে আটকে রাখতে পারেন। মামা লোক দেখানে দেখভাল করতে পারেন আর তোর বাবার বাড়ির লোকেদের ভিলেন বানাতে পারেন--তোর বাবাকে ওঁদের হাতে তুলে দিয়ে বা নিজেরাই তোর বাবাকে মেরে ফেলে দোষটা তোর জ্যাঠাদের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে। আর দাদু না থাকলে তোদের মেরে ফেলতে তোর মামার কোনো বাধা নেই। তারপর বাবার বাড়ির লোকেরা মামার বাড়ির লোকেদের আর মামার বাড়ির লোকেরা বাবার বাড়ির লোকের দোষারোপ করে সমাজের সুপুত্তুর হবেন না হয়।” 

তারপর একটু থেমে বলল, “যদিও বিয়ের যুগ্যি সুচাকুরে একটা ছেলেকে নিয়ে মা-বাবা তাঁদের সাফল্যটা দেখাতে গেলে মারপিট, গুম করে রাখা বা গুমখুনের সম্ভাবনা কম। তবে তোকে দেখলে তোর কথা জানলে ওঁদের খুব হিংসে হবে। রাগও আরও বেড়ে যাবে। দেশে ঘরের ব্যাপার। কী হতে কী হয়ে যায় আর ওখানকার টুকুন রায়রা কেমন পাকিয়ে তোলে কে জানে। তাহলে ওদিকে গিয়ে কাজ নেই। আমি ভাবছিলাম এসব লোকেদের মুখে ঝামা ঘষা উচিৎ নাকি এড়িয়ে যাওয়া--” 

অভি বলে উঠল, “তাহলে রেজাল্ট পেলে কস্ট-বেনেফিট অ্যানালিসিসের?” 

মুচকি হাসল সুরচিতা। তারপর বলল, “আসলে তোর টাস্ক লিস্টে এরপর একটা বাড়ির ব্যবস্থা করা জরুরি। আমি সাইট সিলেকশনের চেষ্টা করছিলাম।” 

অভি প্রশ্ন করল, “আগে বাড়ি?” 

তারপর বলল, “বেশ তোমার যখন ওটাই প্রায়োরিটি তবে তাই হবে।” 

সুরচিতা বলল, “আমার প্রায়োরিটির কথা নয়। এটা তোর প্রয়োজন। বাবা-মাকে রাখবি কোথায়? ঐ বাসাবাড়িতেই?” 

অভি বলল, “এখনও ভাবি নি। তবে ভাবাচ্ছ যখন, তখন বলতে পারি, না বাসাবাড়িতে রাখব না। কিন্তু এই বাজারে বাড়ি কোথায় পাব? যেখানে জমি কিনে বাড়ি বানানো যাবে, বাবা-মা কী সেখানে গিয়ে থাকবে? মানে ঐ দেশে ঘরে বা সেরকম কোথাও। নাকি সেখানে ভাগের জমি এতদিন পরে চাইতে গেলে উজিয়ে থাকা হাতগুলো না মারধর করে হ্যান্ডশেক করবে? আর যেখানে এতকাল কাটাল সেখানে আমি একটা ফ্ল্যাট কিনতে পারি বড়ো জোর।” 

সুরচিতা বলল, “ভালো হয় যদি তোর কাছে নিয়ে গিয়ে ওঁদের রাখতে পারিস।” 

অভি বলল, “তাহলে তো মেসে থাকতে পারব না, অনেক বেশি বাড়িভাড়া দিতে হবে। নিজের বাড়ি বানাতে বা নিদেনপক্ষে একটা ফ্ল্যাট কিনতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। তারওপর আমার কবে কোথায় ট্রান্সফার হবে তার ঠিক নেই।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Friday, May 15, 2026

Panchpoksho - 42

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

তারপর সুরচিতা প্রেমিকটির আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে পরল। মাফিন আর কফি খেতে খেতে দুজনের অনেক হাসি ঠাট্টা হলো। এখন অনিশ্চয়তাগুলো অনেকটাই ওদের দুজনের নিয়ন্ত্রণে; আত্মবিশ্বাসও অনেক বেশি, দুজনেরই। 

শেষ যখন ওরা মুখোমুখি হয়েছিল তখনও এমন হাসিঠাট্টার অবকাশ ছিল না। এমন একান্ত যাপনের সুযোগও ছিল না তখন। 

সন্ধের মুখে সুরচিতার মায়ের ফোন এলো। মা জানতে চাইলেন, “কী করে কী খাওয়ালি অভিকে?” 

সুরচিতা বলল, “সেটা তুমি অভির মুখ থেকেই শোনো।” 

অভি উচ্ছসিত হয়ে বলতে লাগল এসে থেকে ও কী কী খেয়েছে। তারপর খুশি খুশি গলায় “গুড নাইট” বলে মা ফোনটা রেখে দিলেন।


সুরচিতা অভিকে জিজ্ঞেস করল, “বাড়িতে খবর দিয়েছিস?” 

অভি বলল, “না। দিচ্ছি।” 

দীপ্তি অনেক ধন্যবাদ দিলেন সুরচিতাকে এই জন্য যে অভিকে মানুষ করায় সে ওঁদের সাহায্য করেছে বলে। ফোনটা স্পিকার মোডে ছিল। অভি হাসছিল। দীপ্তির সাথে কথাবার্তা সারা হতে সুরচিতা বলল, “তোর মামার বাড়ির দিকে গিয়েছিলি?” 

অভি বলল, “জন্মে থেকে মা কোনোদিন নিয়ে যায় নি মায়ের নিজের বাড়িতে, সেখানে আমি হঠাৎ যেতে যাব কেন?” 

সুরচিতা বলল, “মা কেন নিয়ে যাননি জানিস?” 

অভি বলল, “ওখানে গেলেই নাকি বাবাকে সবাই মেরে ফেলবে আর মাকে আর আমাকে আটকে রাখবে।” 

সুরচিতা বলল, “কিংবা তোদেরও মেরে ফেলবে। এখন ভাবতে হবে লাভটা কিসে--মেরে ফেলায় না আটকে রাখায়?” 

অভি কিচ্ছু বুঝতে পারছিল না, বলল, “মানে?” 

সুরচিতা বলল, “তোর বাবার চার ভাই, সকলেই বাবার বড়ো তাই তো?” 

অভি বলল, “তাই-ই তো শুনেছি।” 

সুরচিতা বলল, “সবাই-ই সরকারি-আধাসরকারি চাকুরে আর বাড়ির জমিজমার অংশীদার। তোর বাবা ইস্কুলে পড়ার সময়ই ঠাকুর্দা মারা গিয়েছিলেন। বাবা বড়ো হয়েছিলেন মূলতঃ দাদাদের আশ্রয়ে। ফলে তিনি সবার ছোটো হলেও খুব আদরের ছিলেন না। এখন তিনি অবিবাহিত বা নিঃসন্তান মারা গেলে তাঁর অংশীদারিটুকু এঁরা পেয়ে যেতেন। আর তাঁকে সপরিবারে নিকেশ করতে পারলেও তাই।” 

বিরক্ত মুখে ভ্রূ কুঁচকে অভি বলল, “ধুর কী সব শুরু করলে? তোমার সাথে অনেক জরুরি কথা আছে--” 

ওকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে সুরচিতা বলল, “সে তো আছিস কদিন, বলবি না হয়।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Thursday, May 14, 2026

Panchpoksho - 41

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

তারপর প্রায় বছর ঘুরে গেছে। ধৃতিকান্তকে দেখে সুরচিতা খুব হতাশ হয়েছিল। ওর হিসেব মতো ও সেই সময়ে অভিকে প্রত্যাশা করেছিল। যাই হোক আজ অভি আসছে। সুরচিতা ইস্কুলে ছুটি নিয়েছে পাঁচদিন। একদিন গেল প্রস্তুতিতে, তিনদিন যাবে আপ্যায়নে। একদিন যাবে শ্রান্তি কাটাতে। হ্যাঁ, শ্রান্তি, আনন্দের শ্রান্তি।

আজ সারা ঘরময় হাইড্রেনজিয়া ফুল, ধূপ আর মোমবাতি। বসার ঘরের ছোটো গোল টেবিলে ফল, মিষ্টি, কফি রাখা আছে। সুরচিতার পরনের ঢাকাই শাড়িটা কেনা অনেকদিন আগে, কিন্তু গায়ে উঠল আজ। তিনপাহাড়ি এসে প্রথম বসন্তে রডোডেনড্রন দেখে রং মিলিয়ে কেনা। আজ খোঁপাতেও রডোডেনড্রন। হাতের বইটায় মন নেই তার। থেকে থেকে মুখ তুলে দেখছে খুলে রাখা দরজার দিকে। 

তারপর একসময় পায়ে পায়ে বেরিয়ে এলো বাগানে। এতো সেজে বাগানে দাঁড়াতে একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। কিন্তু অ্যাজেলিয়ার ঝোপের পেছনে ছোট্ট বাঁশের তাকে নজর যেতে মন ভালো হয়ে গেল। বেগুনি আর সাদা ভ্যান্ডা তো ফুটেইছে, তার মধ্যে এই প্রথম ফুটেছে লেডিস স্লিপার। প্রাণমনে আনন্দের আবহ ছেয়ে গেল। অনেক খেটে ফল পাওয়ার আনন্দ।


পিছন ফিরতেই দেখল ফুলন্ত রডোডেনড্রন গাছটার গায়ে হেলান দিয়ে অভি দাঁড়িয়ে। প্রাথমিক চমক কাটিয়ে সুরচিতা বলল, “আয়, ভেতরে আয়।” 

ঘরের ভেতর পা রেখেই অভি বলল, “এ বাব্বা! আমি তো ভাবলাম তোমাকে কিচ্ছু লিখি নি বলে তুমি খুব রাগ করেছ। তা না তুমি দেখছি জানতে যে আমি আসব!” 

সুরচিতা বলল, “জানতাম। তুই আসবি।” 

একটু থেমে বলল, “ভেবেছিলাম আরও আগে আসবি।” 

অভি পিঠের ব্যাগটা মাটিতে ধপ করে ফেলে সুরচিতাকে জড়িয়ে ধরল। দুজনের আবেগ কিছু থিতু হতে, সুরচিতার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে অভি বলল, “অভিমান হয়েছে?” 

তারপর উত্তরের অপেক্ষা না করে আবার বলল, “সে তো হবারই কথা। আমিই চাকরির চক্কর ঠিকমতো বুঝতে পারি নি। তাই আসতে দেরি করে ফেললাম।” 

সুরচিতা ওকে এবার ঠেলে সরিয়ে দিল একটু। ওর গলা জড়িয়ে ধরে বলল, “কিন্তু সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে নিজেই সারপ্রাইজড হয়ে গেলি?” 

সুরচিতার কপালে, গালে, গলায় আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল অভি; বলল, “তোমাকে এতো সুন্দর করে সাজতে কখনও দেখি নি। ভীষণ ভালো লাগছে।” 

সুরচিতাও অভির গলায় একটা গভীর চুমু দিয়ে বলল, “আজ কত বছর পরে আমার সাথে আমার প্রেমিকের দেখা হলো! সাজব না?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Wednesday, May 13, 2026

Panchpoksho - 40

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~


প্রতিপক্ষ

~~~~~~

সুরচিতা দুদিকে মাথা নেড়ে বলেছিল, “বলতে পারব না। গত কয়েক বছরে জীবনের যে দিশা দেখেছি, যা করে চলেছি, যা করতে চাই আজ সবই এখানে আসার পরে ঠিক করা। যা ভেবে এখানে এসেছিলাম তার সাথে সে সবের কোনো মিলই নেই। আগামী কয়েক বছর কী করব জানি আজ। কিন্তু সেই ‘কয়েক’ বছরের মধ্যে ঠিক কটা বছর, বা মাস, বলতে পারব না। তারপর জীবন যেরকম ভাবাবে সেরকম চলব।” 

ধৃতিকান্ত অধৈর্য হয়ে বলেছিল, “কোনো মানে হয়? দশ বছর পর তোর যদি মনে হয় ‘আমাজনের জঙ্গল দেখি’, পারবি না। তখন শরীরের জোরও থাকবে না। হতাশ হয়ে যাবি--।” 

সুরচিতা সামলে নিয়েছিল তর্কের সেই উত্তপ্ত উন্মত্ততা, “যখন ইচ্ছে হবে তখন চেষ্টা করব এই মিশনের আমাজন শাখায় বদলি নেওয়ার। না হলে যে দেশের কারেন্সি তখন স্ট্রঙ্গেস্ট থাকবে সে দেশে পোস্ট ডক করতে চলে যাব। কয়েক বছরে আমাজন দেখার পয়সা উঠে আসবে।” 

তখন ধৃতিকান্ত শান্ত হয়ে বলেছিল, “তাহলে পিএইচডি করে ফেলেছিস?” 

সুরচিতার চেহারায় ফুটে ওঠা সম্মতি দেখে আবার বলেছিল, “সে অবশ্য পোস্ট ডক করতে তো যখন তখন যাওয়াই যায়--কিন্তু কতদিন করেছিস পিএইচডি? তারপর কী আর অ্যাকটিভলি রিসার্চ করছিস? না হলে--” 

কথা কেড়ে নিয়েছিল সুরচিতা, “পিএইচডি পেলাম তাও বছর পাঁচেক হলো। তারপর থেকে যা কাজ করছি তা নিয়ে গোটা তিনেক পেপারও বেরিয়েছে রে, তবে সেগুলো সবই সোশ্যাল সায়েন্স জার্নালে।” 

ট্রেন তখন তিনপাহাড়ি ঢুকছিল। সুরচিতা সিট থেকে উঠে দরজার দিকে যাচ্ছিল। ধৃতিকান্ত সমাহিত গলায় বলেছিল, “তোর সাথে আবার কবে দেখা হবে?” 

সুরচিতা হেসে বলেছিল, “হবে হয়তো। এত ভাবিস না।” 

তারপর টুক করে নেমে পড়েছিল। ওকে বেশ খানিকটা উজিয়ে গিয়ে চড়াই ভাঙতে হতো। ধৃতিকান্ত এগিয়ে গিয়েছিল জাংশনের দিকে, সেখান থেকে এয়ারপোর্টে গিয়ে ওর রাত্রিযাপন ও উড়ানের পরিকল্পনা ছিল।

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Tuesday, May 12, 2026

Panchpoksho - 39

পাঁচপক্ষ

~~~~~~



প্রতিপক্ষ

~~~~~~

মধ্যে মধ্যে চলছিল টুকটাক কথাবার্তা আর তর্কাতর্কি। সুরচিতা খুব খোলামনেই তার মনের অবাক চেহারাটা মেলে ধরেছিল যে তেরটা বসন্ত ধৃতিকান্ত একলা কাটিয়েছে। ধৃতিকান্ত হেসে বলেছিল, “তুইও তো প্রেমিককে ছেড়ে অনির্দিষ্টকাল নির্বাসন নিয়েছিস। কী করে আছিস?” 

সুরচিতা বলেছিল, “কাজ নিয়ে।” 

ধৃতিকান্ত জবাবে বলেছিল, “আমি কী শুয়ে বসে খেলে কাটিয়েছি এতোগুলো বছর?” 

তারপর প্রায় বুজে যাওয়া স্বরে গলার কাঁপন লুকিয়ে বলেছিল, “একটা জলজ্যান্ত স্বপ্ন থাকলে, সেটা সত্যি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকলে, বছরগুলো চোখের নিমেষে পার হয়ে যায়। যেখানে যা কিছু সুন্দর দেখেছি সব জায়গায় তোকে আমার পাশে টের পেয়েছি। কিন্তু এখন দেখছি সেসব নেহাতই কাঁচা মনের কল্পনা।” 

তারপর মুহূর্তেই গলার উদাসভাবে ঝেড়ে বলেছিল, “পড়ানোর কাজে আর কত সময় যায় তোর? বাকি সময় কিসে যায় তোর?” 

সুরচিতা গলায় দুষ্টুমি জড়িয়ে বলেছিল, “ছক কষে। কীসের ব্যবসায় মূলধন কতো লাগে, লোক কতো লাগে, টেকনোলজি কী লাগে, কতগুলো লোকের কত সময়ের এমপ্লয়মেন্ট হয় এইসব। বাচ্চাদের মনস্তত্ত্বের বই পড়ে। ধেড়েদের মুখে খুড়োর কল ঝোলাবার ফিকির খুঁজে। খুড়োর কল কাস্টমাইজ করার প্ল্যানে। ধেড়েদের মনস্তত্ত্ব আর মন প্রভাবিত করার উপায় খুঁজে।”


ধৃতিকান্তর ফেরার ফ্লাইট ছিল পরদিন ভোরে। তাই খাওয়ার পরেই ওরা ন্যারোগেজ ট্রেনে চেপে বসেছিল। এটা সেটা বকবক করতে করতেই ধৃতিকান্ত বলে ফেলেছিল, “এখানে কী রাজনীতি নেই? ঝগড়া নেই? আমাকে বোঝাতে আসিস না যে প্রতিষ্ঠান আছে আর তাতে ক্ষমতা দখলের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটা এই সব মহিলারা ছেড়ে দিয়েছেন।” 

সুরচিতা অস্বীকার করেনি, “আছে সবই। কালই বললাম তো। কিন্তু আমার সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই। সরকারি গ্রান্ট পায় মিশন, ইস্কুল চালাবার জন্য। তার শর্ত পালনের জন্য আমার মতো দুচারজন অধার্মিককে মাইনে দিয়ে, পেনশনের ভরসা দেখিয়ে ওদের পুষতে হয়। তার সাথে লোভ আছে আমাদের ধর্ম দীক্ষা দিয়ে ইন্সেন্টিভ কামানোর। সিম্বায়োসিস, বন্ধু। আমরা একসাথে আছি।” 

ধৃতিকান্ত জানতে চেয়েছিল, “সারা জীবন এমনই কাটাবি তাহলে?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Readers Loved