Sunday, April 19, 2026

Panchpoksho - 16

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~


প্রত্নপক্ষ

~~~~~~

তখন সুরচিতা যেন হাঁফ ছেঁড়ে বেঁচেছিল নটে গাছ মুড়োতে। আজ জানে যে এরকম নটে গাছের মুড়ো হয় না, সবটাই ধড়; তো মুড়োবে কী! সেদিন অবশ্য বেশ নাটুকে কায়দায় বলেছিল, “তা হলে তো এবার টুকুন রায়দের খপ্পর থেকে মুক্তি আসন্ন, যাক বাঁচা গেল।” 

বাবা ঠোঁটের কোণে মলিন হাসি মেখে বলেছিলেন, “দারিদ্র্য বড়ো কঠিন অভিশাপ। তার সাথে যদি অবিমৃষ্যকারিতা যোগ হয় তাহলে বেঁচে থাকা কঠিনতর হয়ে যায়। দিলীপ যদি ওর ছাত্রী দীপ্তিকে নিয়ে এখানে পালিয়ে না আসত, অন্তত লেখাপড়া শেষ করে একটা চাকরি করা অবধি অপেক্ষা করত--তা না, দীপ্তির বাবা নাকি ওকে অন্য লোকের সাথে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিলেন। এখন দীপ্তির হেল্‌থ সেন্টারের কাজটাও তো ধামা ধরে। নিজেরা জোরালো হওয়ার আগেই জমকালো হয়ে গেল--যাক বাদ দে। আমি আমার মতো করে ভাবছিলাম যদি ওদের ছেলেটাকে ওদের ভুলের মাশুল দেওয়ার জোয়াল থেকে বাঁচানো যায়।”


সুরচিতার মাথাটা ভোঁ ভোঁ করছিল। এরকম হতো মাঝে মাঝে, যখন বাবাকে ওর বেশ ভিনগ্রহের লাগত। কিন্তু ও তখনও জানত যে অভিকে বাবা ভালোবাসেন কিনা বা অভির জন্য খামকা বাবা কেন ভাবছেন এসব কথা ও বাবাকে জিজ্ঞেস করলে বাবা উত্তর দিতে পারতেন না। এটাও সত্যি সেই প্রশ্নের উত্তর সেদিন তার নিজেরও জানা ছিল না। সেই উত্তর সে আজ জানে যে শুধু নিজের ভালো লাগবে বলে, কখনও নিজেকে নিজের খুব খারাপ লাগবে না বলে, বা নিজেই নিজের চোখে হীন হয়ে পড়লে নিজেকে অন্তত একটু ভালো লাগার মতো একটা কীর্তি খুঁজে পাবেন বলেই বাবা অভিকে সহজতর একটা জীবন দিতে চেয়েছিলেন।


সেদিন অবশ্য সুরচিতা বাবার থেকে টাকাটা ফেরত নেয় নি। বলেছিল, “টাকাটা আমাকে দিতে হবে না। আমার রোজগার বাড়লে পুরো বিলটাই আমি দেব। তোমার এই ব্যবস্থাটা আমাকে দায়িত্বশীল করেছে। অন্তত আমি বুঝে গেছি যে খেয়ে পরে বাঁচার, এমনকি রোজগার করারও কিছু খরচ আছে।” 

সব যন্ত্রণা ছাপিয়ে বাবার মুখে ফুটে উঠেছিল শান্তির হাসি।


আর সারা রাত সুরচিতা কেঁদে ভাসিয়েছিল। কেন? অভির জন্য। তার নিজের জন্য। কিছুটা দিলীপের জন্য, কিছুটা মণিবাবুর জন্য। দিলীপের শুধু উদ্যমটুকুই ছিল। কিন্তু মণিবাবুর পয়সা আর বনেদীয়ানাও আছে। তবু যে ছকে সক্কলে বাধা পড়েছে তাতে মণিবাবুর ব্যবসাটা চেটে চুষে চিবিয়ে খেতে টুকুনদের বেশি দিন লাগার কথা নয়। 

#sanhitamukherjeeoriginals
পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রত্নপক্ষ
~~~~~~
তখন সুরচিতা যেন হাঁফ ছেঁড়ে বেঁচেছিল নটে গাছ মুড়োতে। আজ জানে যে এরকম নটে গাছের মুড়ো হয় না, সবটাই ধড়; তো মুড়োবে কী! সেদিন অবশ্য বেশ নাটুকে কায়দায় বলেছিল, “তা হলে তো এবার টুকুন রায়দের খপ্পর থেকে মুক্তি আসন্ন, যাক বাঁচা গেল।”
বাবা ঠোঁটের কোণে মলিন হাসি মেখে বলেছিলেন, “দারিদ্র্য বড়ো কঠিন অভিশাপ। তার সাথে যদি অবিমৃষ্যকারিতা যোগ হয় তাহলে বেঁচে থাকা কঠিনতর হয়ে যায়। দিলীপ যদি ওর ছাত্রী দীপ্তিকে নিয়ে এখানে পালিয়ে না আসত, অন্তত লেখাপড়া শেষ করে একটা চাকরি করা অবধি অপেক্ষা করত--তা না, দীপ্তির বাবা নাকি ওকে অন্য লোকের সাথে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিলেন। এখন দীপ্তির হেল্‌থ সেন্টারের কাজটাও তো ধামা ধরে। নিজেরা জোরালো হওয়ার আগেই জমকালো হয়ে গেল--যাক বাদ দে। আমি আমার মতো করে ভাবছিলাম যদি ওদের ছেলেটাকে ওদের ভুলের মাশুল দেওয়ার জোয়াল থেকে বাঁচানো যায়।”

সুরচিতার মাথাটা ভোঁ ভোঁ করছিল। এরকম হতো মাঝে মাঝে, যখন বাবাকে ওর বেশ ভিনগ্রহের লাগত। কিন্তু ও তখনও জানত যে অভিকে বাবা ভালোবাসেন কিনা বা অভির জন্য খামকা বাবা কেন ভাবছেন এসব কথা ও বাবাকে জিজ্ঞেস করলে বাবা উত্তর দিতে পারতেন না। এটাও সত্যি সেই প্রশ্নের উত্তর সেদিন তার নিজেরও জানা ছিল না। সেই উত্তর সে আজ জানে যে শুধু নিজের ভালো লাগবে বলে, কখনও নিজেকে নিজের খুব খারাপ লাগবে না বলে, বা নিজেই নিজের চোখে হীন হয়ে পড়লে নিজেকে অন্তত একটু ভালো লাগার মতো একটা কীর্তি খুঁজে পাবেন বলেই বাবা অভিকে সহজতর একটা জীবন দিতে চেয়েছিলেন।

সেদিন অবশ্য সুরচিতা বাবার থেকে টাকাটা ফেরত নেয় নি। বলেছিল, “টাকাটা আমাকে দিতে হবে না। আমার রোজগার বাড়লে পুরো বিলটাই আমি দেব। তোমার এই ব্যবস্থাটা আমাকে দায়িত্বশীল করেছে। অন্তত আমি বুঝে গেছি যে খেয়ে পরে বাঁচার, এমনকি রোজগার করারও কিছু খরচ আছে।”
সব যন্ত্রণা ছাপিয়ে বাবার মুখে ফুটে উঠেছিল শান্তির হাসি।

আর সারা রাত সুরচিতা কেঁদে ভাসিয়েছিল। কেন? অভির জন্য। তার নিজের জন্য। কিছুটা দিলীপের জন্য, কিছুটা মণিবাবুর জন্য। দিলীপের শুধু উদ্যমটুকুই ছিল। কিন্তু মণিবাবুর পয়সা আর বনেদীয়ানাও আছে। তবু যে ছকে সক্কলে বাধা পড়েছে তাতে মণিবাবুর ব্যবসাটা চেটে চুষে চিবিয়ে খেতে টুকুনদের বেশি দিন লাগার কথা নয়।
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

Readers Loved