পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রথমপক্ষ
~~~~~~
সুরচিতা বলল, “কেন? অভিকে গোরা সাহেবের গরমের রাজধানী দেখাতে পারি।”
মা বললেন, “তোর ঢং তুই রাখ। নিজে তো ধিঙ্গি শিরোমণি, ছাত্রকে যে সকাল সকাল সংসারে মন দিতে বলবে তেমন দুরাশা আমি করি না। এবার রাখো।” মা ফোন কখনও রাখেন না। কথা বলতে না ইচ্ছে করলে, সুরচিতাকেই বলেন লাইন ছেড়ে দিতে। মিশনে আসার আগে থেকেই মা-বাবা চাইছিলেন সুরচিতা সংসারী হওয়ার কথা ভাবুক। কিন্তু সুরচিতার যথেষ্ট কারণ ছিল সেসব এড়িয়ে পালিয়ে বেড়ানোর। সেই হেতু সে ধিঙ্গি শিরোমণি ও মা-বাবার শিরঃপীড়ার কারণ। আজ কিন্তু মায়ের কথায় সুরচিতা মোটেই আহত হলো না। বরং এতদিন পরে অভির দেখা পাবে ভেবে কেমন একটা নতুন অনুভূতিতে একসাথে উদ্দীপিত আর আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল যেন।
আজ পূর্ণিমা নয়। পরশু পূর্ণিমা। তাই তারারা সব অস্পষ্ট। কোনো একটা ক্রিপ্টোমেরিয়ার ডালপাতার ঘেরাটোপ থেকে একটা ইন্ডিয়ান ব্রেনফিভার একটানা ডেকে চলেছে “চো-ও-খ গেলো-ও”, “চো-ও-খ গেলো-ও”, “চো-ও-খ গেলো-ও”- - -। সুরচিতা বাগান থেকে ঘরে এসে টান টান শুয়ে পড়ল খাটে।
আজ রাঁধবেও না; খাতাও দেখবে না; বইও পড়বে না। খিদে পেলে? দুধ বিস্কুট খাবে। কিন্তু আজ আর কিচ্ছু না। এতো দিনের অপেক্ষা তার সত্যি হতে চলেছে। যে কিশোরকে সে ছেড়ে এসেছিল তার যৌবনের ফটকে, সে আজ পূর্ণ পৌরুষে প্রেমের দাবি নিয়ে এলো বলে সুরচিতার দরজায়। অবাক সুরচিতা ফিরে দেখতে চাইছিল ফেলে আসা বছর মাস দিন ক্ষণ।
আর শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছিল আসন্ন ঝড়-ঝঞ্ঝার জন্য। তবুও মন জুড়ে সেই প্রথম যৌবনের গোধূলির রক্তরাগ; “সে আসছে, সে আসছে--”। মগজ জুড়ে কঠিন পরীক্ষার উত্তেজনা, আর হৃদয় দ্রবীভূত প্রেমের ম্যাগমা স্রোতে। আর মন? তার জন্যই তো এতো জটিলতা--এতো পেয়েও নিঃস্ব থাকার সাধনা, সর্বস্ব সঁপে দিয়ে স্বার্থপরের তকমা নেওয়া; সব দান, সব উপহার গ্রহণ করতে না পারার অক্ষমতায় অহঙ্কারীর পরিচয়ে বাঁচা; লাভ-ক্ষতির হিসেব না করে, জীবনটা যাপন করে যাওয়া; সত্তাকে ভাগ-যোগ-বিয়োগ না করে, তার কয়েকগুণে প্রকাশ করা; যা গেল তার দুঃখ না পেয়ে যা আছে তার আনন্দে মত্ত থাকা।
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
