পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রত্নপক্ষ
~~~~~~
বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিলেন, “একরকম তাই-ই। ওকে কোনোদিনই টুকুন বা পার্টি—কেউই--ছাপার কাজগুলোর পয়সা দেয় নি, টুকুনের জনসেবায় বা পার্টির জনপ্রিয়তা-বর্ধনের কাজে উদ্যোগী স্বনিযুক্ত সফল যুবকের চাঁদা বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল সেসব। তারওপর গত পাঁচবছরে কাগজের বিক্রি বাবদ যা দাম হয়, সবই ওকে একসাথে চোকাতে হলো, নিজের পকেট থেকে।”
আবার প্রশ্ন করেছিল সুরচিতা, “যেসব লোকে কাগজের দাম দেয় না তাদের কাগজ দেওয়া বন্ধ করে দিলেই তো হতো, তাই না?”
বাবা একটু যেন অন্যমনস্ক হয়ে গিয়ে বলেছিলেন, “দিয়েছিল। কিন্তু ওর কোটার কাগজ ওকে তুলতে হতো। পার্টির শিক্ষা হচ্ছে যে লোকে দাম না দিলেও কাগজটা লোককে দিতে হবে, তাদেরকে না হলে আদর্শ বোঝানো যাবে কী করে? কী করে তাদের ঠিক-ভুল বাছতে শেখানো যাবে? পার্টির আদর্শ কর্মীকে তাই লোকের বাড়ি বাড়ি কাগজ পৌঁছে দিয়ে জনসেবা করতে হয়, পার্টিকে জনপ্রিয় করার কাজ করতে হয়, পার্টির আদর্শ প্রচার করতে হয়। কিন্তু পার্টির কাগজ আর কেউ পড়তে চাইছে না। যাদের জোর করে কাগজ দিচ্ছে দিলীপ, তারা দাম দিতে চাইছে না। তবুও কিছু কাগজ বিলোচ্ছে ছেলেটা; কিন্তু বেশিরভাগ কাগজই ও আর বিলোচ্ছে না। সেই জন্যই ও বিষ-নজরে পড়েছে। ওকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে যে ও নিয়ম মানছে না বলে ওর ওপরে নেতৃত্ব বিরক্ত। তার মাশুল হিসেবেই পার্টির প্রতি দিলীপের নিষ্ঠার প্রমাণ চাওয়া হলো। ওকে একসাথে পাঁচ বছরের কাগজের দাম চুকিয়ে দিতে বলা হলো। তাই প্রেসটা বেচতে হলো।”
সুরচিতা বেশ অবাক হলো। রোজগারের একমাত্র উপায় বলতে যে প্রেসটা সেটা বেচে দিলে এতো বড়ো খরচের ধাক্কা দিলীপ চোকাবে কী করে? প্রেসটা থাকলে যা হোক রোজগার হতো। কাগজের দাম বাবদ যদি ধারও করতে হতো সেটাও শোধ করতে পারত সেই রোজগার থেকে। কিন্তু এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছিল না সুরচিতা। সেই কথা সে বাবাকে বলেও ফেলেছিল। বাবা বললেন, “দলের প্রতি নিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মানে এবার ওকে ভাতে মারার আরও অনেক চেষ্টা হবে, যাতে ও আরও বেশি করে দলের ওপর নির্ভরশীল আর তার ফলে দলের আরও বাধ্য হয়ে পড়ে। সুরোজগারের আত্মবিশ্বাস আর তার ফলে জেগে ওঠা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য যাতে ভেঙে পড়ে তার ব্যবস্থা করা হবে--”
সুরচিতা অধৈর্য হয়ে জানতে চাইল, “মানে?”
বাবা একটা বড়ো শ্বাস ফেলে বললেন, “মানে এরপর কাগজ না তুললে প্রেসে হয়তো ডাকাতি করাবে বা আগুন ধরিয়ে দেবে।” বাবার গলা বুজে এসেছিল ক্ষোভে, দুঃখে।
#sanhitamukherjeeoriginals
পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রত্নপক্ষ
~~~~~~
বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিলেন, “একরকম তাই-ই। ওকে কোনোদিনই টুকুন বা পার্টি—কেউই--ছাপার কাজগুলোর পয়সা দেয় নি, টুকুনের জনসেবায় বা পার্টির জনপ্রিয়তা-বর্ধনের কাজে উদ্যোগী স্বনিযুক্ত সফল যুবকের চাঁদা বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল সেসব। তারওপর গত পাঁচবছরে কাগজের বিক্রি বাবদ যা দাম হয়, সবই ওকে একসাথে চোকাতে হলো, নিজের পকেট থেকে।”
আবার প্রশ্ন করেছিল সুরচিতা, “যেসব লোকে কাগজের দাম দেয় না তাদের কাগজ দেওয়া বন্ধ করে দিলেই তো হতো, তাই না?”
বাবা একটু যেন অন্যমনস্ক হয়ে গিয়ে বলেছিলেন, “দিয়েছিল। কিন্তু ওর কোটার কাগজ ওকে তুলতে হতো। পার্টির শিক্ষা হচ্ছে যে লোকে দাম না দিলেও কাগজটা লোককে দিতে হবে, তাদেরকে না হলে আদর্শ বোঝানো যাবে কী করে? কী করে তাদের ঠিক-ভুল বাছতে শেখানো যাবে? পার্টির আদর্শ কর্মীকে তাই লোকের বাড়ি বাড়ি কাগজ পৌঁছে দিয়ে জনসেবা করতে হয়, পার্টিকে জনপ্রিয় করার কাজ করতে হয়, পার্টির আদর্শ প্রচার করতে হয়। কিন্তু পার্টির কাগজ আর কেউ পড়তে চাইছে না। যাদের জোর করে কাগজ দিচ্ছে দিলীপ, তারা দাম দিতে চাইছে না। তবুও কিছু কাগজ বিলোচ্ছে ছেলেটা; কিন্তু বেশিরভাগ কাগজই ও আর বিলোচ্ছে না। সেই জন্যই ও বিষ-নজরে পড়েছে। ওকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে যে ও নিয়ম মানছে না বলে ওর ওপরে নেতৃত্ব বিরক্ত। তার মাশুল হিসেবেই পার্টির প্রতি দিলীপের নিষ্ঠার প্রমাণ চাওয়া হলো। ওকে একসাথে পাঁচ বছরের কাগজের দাম চুকিয়ে দিতে বলা হলো। তাই প্রেসটা বেচতে হলো।”
সুরচিতা বেশ অবাক হলো। রোজগারের একমাত্র উপায় বলতে যে প্রেসটা সেটা বেচে দিলে এতো বড়ো খরচের ধাক্কা দিলীপ চোকাবে কী করে? প্রেসটা থাকলে যা হোক রোজগার হতো। কাগজের দাম বাবদ যদি ধারও করতে হতো সেটাও শোধ করতে পারত সেই রোজগার থেকে। কিন্তু এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছিল না সুরচিতা। সেই কথা সে বাবাকে বলেও ফেলেছিল। বাবা বললেন, “দলের প্রতি নিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মানে এবার ওকে ভাতে মারার আরও অনেক চেষ্টা হবে, যাতে ও আরও বেশি করে দলের ওপর নির্ভরশীল আর তার ফলে দলের আরও বাধ্য হয়ে পড়ে। সুরোজগারের আত্মবিশ্বাস আর তার ফলে জেগে ওঠা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য যাতে ভেঙে পড়ে তার ব্যবস্থা করা হবে--”
সুরচিতা অধৈর্য হয়ে জানতে চাইল, “মানে?”
বাবা একটা বড়ো শ্বাস ফেলে বললেন, “মানে এরপর কাগজ না তুললে প্রেসে হয়তো ডাকাতি করাবে বা আগুন ধরিয়ে দেবে।” বাবার গলা বুজে এসেছিল ক্ষোভে, দুঃখে।
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
