Monday, April 20, 2026

Panchpoksho -17

পাঁচপক্ষ

~~~~~~



প্রত্নপক্ষ

~~~~~~

প্রত্যেকটা নতুনরকম ব্যবসা যেই শুরু করতে যাবে মণিবাবুর নাতি-নাতনিরা অমনি তাদের জালে ফেলা হবে দিলীপের মতো করে। এইসব ছেলেমেয়েরা নিজেদের পছন্দের দোসর খুঁজে নিলে যদি পারিবারিক অসন্তোষের কারণ দেখা দেয়, তখন টুকুন রায়রা তার মধ্যে নিজেদের জড়াবে। যতগুলো পক্ষ থাকবে এই বিবাদে সব পক্ষকেই মাজা ভেঙে বসাবার জন্য মিথ্যের পর মিথ্যে বলবে। মিষ্টি কথায় কাজ না হলে ভয় দেখাবে। যে মিষ্টি কথায় ভুলে যাবে বা ভয় পাবে তাকেই নিজেদের তাঁবেতে নিয়ে বাকিদের শাসানি আর হুমকি দিতে থাকবে তাদের অপকর্ম খুঁজে বার করে বা নিছক অপকর্মের গুজব ছড়িয়ে।


সে রাতে সুরচিতার মতো রুক্ষ, উদ্ধত মেয়ে নিজের কাছে নিজেই দূর্বোধ্য হয়ে উঠেছিল। ভীষণ লজ্জা করছিল সেদিন ওর, নিজের অক্ষমতা দেখে। যত লজ্জা করছিল তাকে ছাপিয়ে উঠেছিল নিয়তির পরিহাসে পাওয়া দুঃখ। 

নিয়তি মানে মৃত্যু নয়, জন্ম। না হলে অমন তীক্ষ্ণ মেধার ছেলে কেন এমন করে এক অর্বাচীনের ঔরসে আরেক নির্বোধের গর্ভে জন্মাবে আর তার তুচ্ছ জীবনের একান্ত যাপনটা কিছু লোকের জীবনধারণের প্রকোপে অনন্ত নরকযন্ত্রণা হয়ে দাঁড়াবে? নিজের শৈশব, কৈশোর উপভোগ করতে পারবে না? কেন? কেন? কেন? ইচ্ছে করছিল টুকুন রায়কে ছিঁড়ে কুটি কুটি করে ফেলতে; নিদেনপক্ষে ওদের কাগজগুলো।


সেই থেকে নিয়তির সাথে যুদ্ধ শুরু সুরচিতার। জীবন যেমন করে আসে তাকে সেইভাবে না মেনে নিয়ে, তার সাথে পাঞ্জা কষে লড়াই করার শুরু জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য। আক্ষেপ আর হাহাকার করা ছেড়ে দিয়ে প্রতিকারের খোঁজ শুরু। প্রথমবার, নিজের ইচ্ছেয়।

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Readers Loved