পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রত্নপক্ষ
~~~~~~
বাবা যেদিন বলেছিলেন, “মামন, দিলীপের ছেলেটাকে একটু পড়াস তো।” সেদিন সুরচিতা মায়ের কাছে গজগজ করেছিল, “কেন পড়াবো? একটা টিউশনও কি বাবা দেখে দিয়েছে? কলেজের সিনিয়ররা দিয়েছে না হলে মাস্টারমশাইরা; কিংবা আমার রেজাল্ট ভালো, আমি পড়াই ভালো শুনে বাচ্চাদের বাবা-মায়েরা নিজেরাই এসেছেন। তাঁরা মাস গেলে পয়সা দেন। তাই তুমি আমার ট্রেনের কোয়ার্টার্লি টিকিটের ভাড়া দাও না। আর বাবা ইলেকট্রিক বিলের প্রত্যেক মাসের পয়সা নিয়ে নেয় যেহেতু বাবার বাড়ির ইলেকট্রিসিটি আর বারান্দা ব্যবহার করি টিউশন পড়ানোর জন্য। দিলীপ মানে তো কাগজওয়ালা?”
মা তেড়ে এসেছিলেন, “ফের অমন করে কথা বলছিস ঝগড়াটে মেয়ে? বাপ-মা লেখাপড়া না শেখালে এতো হিসেব দেখাতিস কী করে? দিলীপকে বলে কিনা খবরের কাগজওয়ালা! কেন? না ও রবিবারগুলোতে পার্টির কাগজটা বিলি করে। অসভ্য মেয়ে কোথাকার। এই ব্যবহার হবে বলে পেটে ধরেছিলাম তোকে!”
সুরচিতাও ফুঁসে উঠেছিল, “সে পার্টির হোক আর ভাটির, সপ্তায় সাতদিন হোক আর একদিন, খবরের কাগজ বিলি করলে তাকে কাগজওয়ালাই বলে। শেখার কথা কী বলছ? কতটা বাস্তব চিন্তা করেছ আমার শিক্ষা নিয়ে? পার্টির শিক্ষা অক্ষরে অক্ষরে মেনে তোমরা আমাকে না পড়িয়েছ ইংলিশ মিডিয়ামে না পড়তে দিয়েছ ইঞ্জিনিয়ারিং, পাছে তোমাদের পার্টির লোকে তোমাদের অপছন্দ করে, আত্মীয়রা মিথ্যুক বলে বা পাড়াপড়শিরা তোমাদের দ্বিচারণ দেখে মুখ বেঁকিয়ে হাসে, গুছিয়ে তোমাদের নিন্দে করে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে আমার স্বার্থপর আর আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখে। আরও বেশি করে ভয়ে; যদি আমি তোমাদের লাগামছাড়া হয়ে যাই আর তাতে তোমাদের এই সব আত্মীয়-বন্ধু-পার্টি-পরিজন যাদের আপনজন বলার ভান করে সাজানো আনন্দে বেঁচে আছো তারাও তোমাদের ত্যাগ করে তোমরা ভণ্ড বলে--”।
মা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন, “তুই কী চান্স পেয়েছিলি এন্ট্রাসে?”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
