পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রত্নপক্ষ
~~~~~~
সুরচিতা ঝলসে উঠেছিল, “তারপরেও এদের তুমি চাঁদা দাও? তোমার লজ্জা করে না? নিজের রোজগারে ক্রিমিনাল পোষো আর আর নিজের মেয়েকে--” থেমে গিয়েছিল বাবার দুই ভ্রূর মাঝে জমে ওঠা যন্ত্রণা দেখে।
তখন বাবা বলেছিলেন, “করে। তাই তো তোর টাকাটা ফেরত দিতে এসেছি। ওদের আমি ছেড়ে দিয়েছি তা বেশ কয়েক বছর হলো। তবু দিলীপের মতো কটা ছেলেকে ছাড়তে পারছি না। হয়তো এই দুর্বল ছেলেগুলোকে দিয়েই ওরা আমাকেও একদিন দুর্বল করতে চাইবে, যদিও আমি ওদের সহমর্মিতা, মধ্যস্থতা, সহৃদয়তার ফাঁদে কখনও পড়ি নি। কিন্তু অনেকেরই দুর্বলতার হদিশ রাখি তো।”
সুচরিতার সন্দেহ ছিল আরও অনেক, “মণিবাবু আর টুকুন রায়ের কোনো--”
বাবা ওকে মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, “মণিবাবু এ শহরে বনেদী আর টুকুন বেনো জল, ভুঁইফোঁড়। মণিবাবু ছাড়া দিলীপের প্রেস কেনার হিম্মত এ শহরে কোনো লোকের নেই এখনও।”
ধাঁধায় পড়ে গেল সুরচিতা, বলল, “তাহলে?”
বাবা বললেন, “দিলীপ কাগজ বেচতে পারুক না পারুক, তোলা কাগজের দাম ওকে চুকিয়ে দিতে হবেই। সে জন্য ধার করলেও ওকে শুধতে হোতো। আবার প্রেসটা থাকলে নামে হলেও ওর রোজগার থাকবে, ফলে ওকে চাঁদাও দিতে হবে, দালালিও দিতে হবে, কৃতজ্ঞতার কর্জের মহাজনি সুদ বাবদ কাগজ তুলতেও হবে; বেচা না গেলে বিলোতেও হবে। তার ওপর নেতৃত্বের কুনজরে পড়েছে বলে, ব্যাপার এমন দেখানো হচ্ছে যেন লোকে যে কাগজ নিতে চাইছে না সেটাও দিলীপেরই দোষে বা ওরই উস্কানিতে, যেন ও যথেষ্ট উদ্যম নিয়ে কাগজটার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারছে না। তার কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে যেন ও নিজের ব্যবসাটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই মাশুল হিসেবে ধরা হচ্ছে ওর ব্যবসা থেকে করা রোজগারটা।”
বাবা বলে চললেন, “যতোদিন প্রেস থাকবে, ততোদিন পরিবার প্রতিপালনের জন্য আর প্রেসটাকে রাখার জন্য ওকে সময় বা শ্রম দিতেই হবে। তাছাড়া ও ভাবছিল যে এবারে প্রেসের খোলনলচে বদলে সমসাময়িক করে তুলবে ছাপাখানাটা। তাহলে হয়তো ও আর ছোটোখাটো ব্যবসাদার থাকতো না অদূর ভবিষ্যতে। ওর বাড়বৃদ্ধি বা স্বাবলম্বী হওয়ার মূলে যে প্রেসটা! তাই দিলীপের প্রেসের রোজগারটাই নিংড়ানোর পরিকল্পনা হচ্ছে, হবেও পরে, ওকে দুর্বল করে নিজেদের তাঁবেতে রাখার জন্য।”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
