পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রাক্পক্ষ
~~~~~~
মহিলা ঠোঁট উল্টিয়ে বলেছিলেন, “এমনি খাওয়া-শোওয়ার সময় সব দোতলার ঐ কোণের ঘরটাতে থাকে। তা বাদে কত্তা-গিন্নী তো থাকেন না। ছেলেকে তিনতলার চিলেকোঠায় পেতে পারো।”
সুরচিতার আর কিছু জানার ছিল না। সদর দিয়ে বেঁকে চুরে ভিতরে আসা পুরুষটিকে কাটিয়ে রাস্তায় নেমে সে তালা খুলে সাইকেলটা তুলেছিল উঠোনে। সেটাকে সদরের একপাশে দেওয়ালে ঠেকিয়ে চাবি দিয়ে রেখে সিঁড়ি বেয়ে উঠে গিয়েছিল অন্ধকারে।
চারপাক খেয়ে যখন ছাদে পৌঁছেছিল তখন হৃদপিণ্ড দবদবিয়ে প্রায় গলায় উঠে এসেছিল। তাও দৌড়ে গিয়ে চিলেকোঠার ঘরের দরজায় ধাক্কা দিয়েছিল দুমদুম করে। ভেতর থেকে কোনো সাড়া আসে নি। কয়েক মুহূর্ত নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছিল সুরচিতা। তারপর যেই ভাবছিল যে ফিরে যাওয়াই ভালো, তখনই দরজা খুলে অবাক গলায় অভি জানতে চেয়েছিল, “কাকে চাই?”
সুরচিতা খুব স্বাভাবিক গলায় বলেছিল, “তুই আমাকে চিনতে পারছিস না? আচ্ছা পরীক্ষাটা দিয়ে এলি তার কী হলো জানতেও গেলি না?”
অভি কোনো উত্তর দেয় নি। দুই হাতে দরজার দুই পাল্লা ধরে সোজাসুজি তাকিয়ে ছিল সুরচিতার চোখের ভিতরে। সুরচিতার বলেছিল, “আমি সুরচিতা। তুই আমার কাছে অঙ্ক পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলি। মনে আছে?”
অভি অস্ফুটে বলেছিল, “হুঁ।”
সুরচিতাই আবার বলেছিল, “চল ঘরের ভেতরে যাই।” তখন অভি ইতস্তত করে বলেছিল, “ভেতরে খুব গরম।” তবে দরজা ছেড়ে একপাশে সরে দাঁড়িয়েছিল। সুরচিতা ঘরের ভেতরে পা রাখতে রাখতে বলেছিল, “গরম তো তুই ছিলিস কী করে ভেতরে?”
অভি খুব জোরের সঙ্গে বলেছিল, “আমার অভ্যেস আছে।”
সুরচিতা হেসে বলেছিল, “আমার যে অভ্যেস নেই সে কথা তোকে কে বলল?”
অভি উত্তর দেয় নি কোনো।
ঘরের মধ্যে প্লাই দিয়ে বানানো একটা বইয়ের তাক ছাড়া কোনো আসবাব ছিল না। একটা পুরোনো রঙচটা কিন্তু পরিষ্কার মাদুরে একটা নীল ওয়াড় লাগানো বালিশ আর অনেক খাতাবই ছড়ানো ছিল। সুরচিতা মেঝেতেই বসে পড়েছিল। অভিও বসতে বাধ্য হয়েছিল। তারপর দুজনে অনেক কথা হয়েছিল।
কেন পঁচানব্বই হলো, কেনই বা একশো হলো না; অভির অঙ্ক ছাড়া আর কী পড়তে ভালো লাগে। প্রিয় লেখক কে; প্রিয় খেলা কী; কোন সাবজেক্টে অভি দুর্বল এবং আরো অনেক কিছু। কথায় কথায় সন্ধের অন্ধকার যখন ঘরের আনাচে-কানাচে জমতে শুরু করেছে, তখন অভি একটা কেরোসিনের ল্যাম্প জ্বালিয়েছিল। বলেছিল, “মা ফিরলে এক কাপ চা আপনাকে খাওয়াতে পারতাম, কিন্তু--”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
