Thursday, April 23, 2026

Panchpoksho - 20

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



প্রাক্‌পক্ষ

~~~~~~

সুরচিতা বলেছিল, “চা পরে খাবো একদিন, যেদিন তোর বইটা ফেরত দিতে আসব সেদিন। তোর দরকার পড়লে বইটা তুই আনতে পারিস আমার থেকে। রবিবার দুপুরে গেলে আমাকে পাবিই বাড়িতে; বাকি কোনো সময়ের ভরসা নেই।”


অভি আসে নি সুরচিতাকেই আবার যেতে হয়েছিল। সুরচিতা ওর জন্য একটা বই নিয়ে গিয়েছিল। বইটা নেড়ে চেড়ে অভি ফিরিয়ে দিতে পারে নি। বলেছিল, “এর বদলে তুমি কী চাও?” 

সুরচিতা বলেছিল, “তোর বইগুলো পড়তে দিস একে একে।” 

অভি বলেছিল, “এই বইগুলো তুমি পড়ো নি?” 

সুরচিতার হেসে বলেছিল, “কতো বই, কতো লেখা! সব কী পড়া যায়? তার ওপর ক্লাসিকগুলো একেক বয়সে একেক রকম লাগে। তাছাড়া তোর বয়সী কোনো মেয়ে এইসব বই পড়ে না। কার হাতে কোন বই দেওয়া হবে তা নিয়ে বয়ঃজ্যেষ্ঠদের বেশ ছেলেদের-বই, মেয়েদের-বই দুই-দুই ভাবনা আছে বলেই মনে হয়েছে আমার। তাই তোর পড়া বা তাকে রাখা সব বই আমার পড়া নয়।” 

তারপর কিছুক্ষণ সব চুপচাপ। সুরচিতাকেই আবার মুখ খুলতে হয়েছিল, “বদলে তুইও আমার বই পড়তে পারিস। নাহলে একতরফা বই নিতে নিতে আমার ধার বেড়ে যাবে। তার জন্য তোকে আমার বাড়িতে যেতে হবে, নিজেকে বই বেছে নিতে হবে। তোকে হাতে করে বই এনে দিলে তোর পছন্দের সাথে অবিচার করা হবে। তাই সেটা আমি করতে পারব না। এখন তুই সুযোগ নেওয়ার মতো সাহসী হবি না মুখ্যু থাকবি সেটা তোর ব্যাপার”। 

আবার সব চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল। বাইরে একটা ঘুঘু বার দুয়েক ডেকে উঠেছিল। কয়েকটা ছাতারে খ্যাচর খ্যাচর করে উঠেছিল। অভি বলল, “উপকারে আমার দম বেরিয়ে আসে। তোমার মতলবটা কী?” 

সুরচিতা বলেছিল, “যদি তুই আমার আত্মতুষ্টির উপলক্ষই হোস, তাতে তোর কী কোনো ক্ষতি দেখছিস? যদি না দেখিস, তাহলে আমার সাথে ফুচকা খেতে যাস, গঙ্গার ধারে।”


অভির সাথে ফুচকা খেতে যাওয়ার আগে চার-পাঁচবার বই দেওয়া-নেওয়া করতে হয়েছিল সুরচিতাকে। সে যে ছেলেটার সাথে মিশছে শুধুই একটা আত্মসম্মান বোধসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধায় তা ছেলেটা তখন স্পষ্ট করে বুঝেছে কী বোঝেনি তা সুরচিতাও বোঝেনি। 

সে এটাও বোঝে নি যে শান্ত কিশোরের মধ্যে মূর্ত ব্যক্তিত্ব তাকে শুধু অবাক নয় মুগ্ধও করেছে। বিশেষতঃ নিজের বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব, অপ্রতুল আত্মসম্মানবোধ, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের সমঝোতা দেখতে দেখতে সুরচিতার মন যখন ভীষণ ক্লান্ত আর বিষাক্ত তখন ওর থেকে অনেক কম বয়সী একটা ছেলের মধ্যে সে সবের তীব্রতা টের পেয়ে ও অভির সাথে মিশছিল স্বতোৎসারিত শ্রদ্ধায়, অদম্য আকর্ষণে, নির্দ্বিধায়। 

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Readers Loved