পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রতিপক্ষ
~~~~~~
সুরচিতা বলেছিল, “এতো দিন পরে তোর সাথে আড্ডা, তাতে হাড্ডিগুলো জড়ো হলে আমি সহ্য করব না।”
ধৃতিকান্ত সওয়াল করার সুযোগ পেয়েছিল, “আমাকে মিস করেছিস এতোদিন তো যোগাযোগ করিস নি কেন?”
সুরচিতার জবাব যেন শানানো ছিল, “তুইই তো চিঠি লেখা বন্ধ করে দিয়েছিলি, চেন্নাই ছাড়ার পর।”
ধৃতিকান্ত নাছোড়, “ই-মেল ছিল, গ্রুপ মেল ছিল...”
সুরচিতার কারণ জোরালো, “ডিজিটাল ডিভাইড। তোর হস্টেলের ঘরে ইন্টারনেটের প্লাগ ইন ছিল; আমি মাসে একবার সাইবার কাফে গিয়ে যখন লগ ইন করতাম তখন গাদা গাদা বিজনেস মেল মুছে আঙুলে ব্যথা হয়ে যেত, সময় আর পয়সা দুই-ই নষ্ট হতো, তার থেকেও বেশি খারাপ হতো মেজাজ। তার ওপর গুঁইবাবুর নাতি সারাক্ষণ নজরদারির অছিলায় আমার স্ক্রিন পড়তো, গায়েও পড়তো। মফস্বলের গায়েপড়ামি তো আর জীবনে বুঝতে হলো না, হলে বুঝতিস প্রাইভেসির অ্যাইসি কী ত্যাইসি কাকে বলে।”
ধৃতিকান্তর ‘এমনি’ অমলেটও খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। সুরচিতা বলেছিল, “কী খাবি-–আইসক্রিম না চিলড রসগোল্লা?”
ধৃতিকান্তর পছন্দ ছিল অন্য, বলেছিল, “গরম পান্তুয়া পেলে ভালো হতো।”
ফ্রিজ থেকে পান্তুয়া বার করে সুরচিতা মাইক্রোওয়েভে দিয়ে তাতিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ধৃতিকান্ত পান্তুয়া রেখে বাসন মেজেছিল। আর গুম হয়ে গিয়েছিল।
ছেলেটা জামাকাপড় বদলে যখন বসার ঘরে ফিরে এসেছিল, ততক্ষণে ডিভান দখল করে বিছানা পাতা হয়ে গিয়েছিল। সুরচিতা একটা মোড়ায় বসে বই পড়ছিল। ওর সামনে হাঁটু মুড়ে বসে ধৃতিকান্ত বলেছিল, “কেটে যাওয়া দিন আর ফিরবে না। আস্ত আমি তো এসেছি, তোর অভিমান কী করে জিতি বল?”
সুরচিতার গলা বুজে এসেছিল। বলেছিল, “তুই আমার আকৈশোরের একটা স্বপ্নকে সত্যি করে দিলি!”
উৎসাহ পেয়ে ধৃতিকান্ত বলেছিল, “তাহলে তুই আমাকে বিয়ে করবি?”
সুরচিতা এবার খুব স্নেহে ধৃতিকান্তর হাতের তালুতে নিজের হাত বুলিয়ে বলেছিল, “না, করব না। জানি তুই কষ্ট পাবি। কিন্তু তবু--করব না। করতে পারব না। করলে আমি কষ্ট পাব।”
ধৃতিকান্ত বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো নিজের হাত সরিয়ে নিয়ে বলেছিল, “কষ্ট পাবি কেন? তুই কি অন্য কাউকে--” থেমে গিয়েছিল তার প্রশ্নে সুরচিতার ইতিবাচক ঘাড় নাড়া দেখে।
ধৃতিকান্ত ডিভানে ধপ করে বসে পড়তে সুরচিতা নীরবতা ভেঙেছিল, “অন্য কাউকে ভালোবাসি বলে তোকে বিয়ে করব না এমন নয়। জানি একদিন তোর মতোই সে উদয় হবে তার ভালোবাসার দাবি নিয়ে...”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
