পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রাক্পক্ষ
~~~~~~
ফন্টে যখন মাস্তানও হয় নি তখন ইস্কুল ফেরতা মেয়েদের টোন টিটকিরি করত, সুযোগ পেলে গায়েও হাত দিত। ওর বিশ্বাস হয় নি যে ওর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর লোকেরা ইস্কুলের মেয়েদের হাতেই মার খেয়ে হাড় ভেঙেছে।
একদিন ওর এলাকায় সুরচিতা অ্যাণ্ড কোম্পানি হাজির হয়েছিল। ও স্বভাব মতো টোন, টিটকিরি করে যখন বুঝে নিয়েছিল যে দুটো মেয়েই ভীতু তখন মেয়ে দুটোর কাছে গিয়েছিল রাস্তার ধারের মেয়েটার থুতনি নেড়ে বুকে ধাক্কা দিয়ে চলে যাবার মতলবে।
কিন্তু থুতনিতে হাত দিতেই মেয়েটা ওর হাত ধরে এমন প্যাঁচ দিয়েছিল যে ও সাইকেল সুদ্ধ পড়েছিল মাটিতে। তারপর রে রে করে আরও কিছু মেয়ে ছুটে এসে মেরে ওর হাত ভেঙে দিয়েছিল, সাইকেলের দুটো চাকার রিম ভেঙে দিয়েছিল, সিট খুলে নিয়ে গিয়েছিল; সব শেষে নালার জলে মুখ গুঁজে দিয়ে নাকানি চোবানি খাইয়ে বলিয়েছিল আর কোনোদিন যদি ও কোনো মেয়েকে জ্বালিয়েছে তো মেয়েগুলো নাকি ওর এমন হাল করবে যে ও নিজের বউকে ছুঁতেও ভয় পাবে।
তারপর ফন্টেকে ওরা নাকে খত দিতে দিতে থানায় জমা করে দিয়েছিল। সে বাবদে ফন্টের মাথায় যে ঘা-টা হয়েছিল সেটা শুকোতে বছর ঘুরে গিয়েছিল। এখন ওর ভাগনেটা সেই ঘায়ের গর্তে হাতের আঙুল ঢুকিয়ে আঙুলটা পাকাতে পাকাতে জিজ্ঞেস করে, “তোমার পিস্তলের গুলি কি এখানেই লাগাবো?”
শুনলেই ফন্টের পায়খানা পেয়ে যায়। যাই হোক ফন্টে আর আসে নি অভির কাছে কখনও।
কিন্তু সেই জখম তৈরি হওয়ার পরেই ফন্টে ক্রমশঃ এলাকার ত্রাস হয়ে ওঠে। কারণ সেদিন ফন্টের নামে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয় নি। শুধু ফন্টের বেলাই এমন হয়েছিল তাতো নয় তার আগে বা পরেও যাদেরকে সুরচিতারা থানায় নিয়ে গিয়েছিল তাদের কারুর বিরুদ্ধে কখনও অভিযোগ নেওয়া হয় নি।
ফন্টেরা ক্রমে জেনে গিয়েছিল যে তারা অবধ্য। তাদেরকে থানায় দাখিল করা হলেও তাদের কোনো ক্ষতি নেই। বরং যতো বেশিবার যেতে পারবে ততো লাভ, কোনো না কোনো ভাবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে, ক্ষতিপূরণে। ফলে ফন্টেরা ক্রমশঃ খুচরো অন্যায় থেকে বড়ো অপরাধে হাত পাকাতে থাকে নির্ভয়ে। হয়তো সেই মেয়ের দলকে নিয়ে ব্যক্তিগত অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল কারুর কারুর মনে। কিন্তু তাদের অধিকাংশেরই স্বভাব বদলায় নি, তারা শুধু মেয়েদের আক্রমণের এলাকা বদলে ছিল।
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
