Tuesday, April 28, 2026

Panchpoksho - 25

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



প্রাক্‌পক্ষ

~~~~~~

তখন সুরচিতা ইউনিভার্সিটি পেরিয়ে একটা আদ্যপ্রান্ত বাণিজ্যিক ইস্কুলে চাকরি নিয়েছে। তাতে না ছিল অযথা পোষণের ভরসা, না ছিল পেনশনের অঙ্গীকার। বাবা-মা দুজনেই বিরক্ত ছিলেন। তারওপর আবার ইস্কুলের কয়েকজন মাস্টারের সাথে মিলে সুরচিতা একটা সংস্থায় কাজ করত যেখানে ইস্কুল ছেড়ে দেওয়া বাচ্চাদের পড়ানো হতো। তাতে কোনো উপরি রোজগার ছিল না; উল্টে নিজের পকেট থেকে খরচ দিতে হতো। সকালের টিউশনি বন্ধ করে সন্ধের কয়েকটা টিউশন রেখেছিল সপ্তায় দুদিন আর শনিবার দুবেলা। আর সোম-বুধ-শুক্র সন্ধেবেলা ছিল অভির সাথে ঘন্টা দুয়েক কাটানো। রুটিন অভি ঠিক করত। দরকার পড়লে সুরচিতা অভির পড়াশোনায় অংশ নিত। না হলে নিজের বই পড়ত বা রিসার্চের কাজ এগোত।


উপায়ান্তর পাওয়া অবধি অভির সমস্যার একটা চলনসই সমাধান হয়েছিল। রোজ সকালে ও চলে আসত সুরচিতার কাছে। তারপর হয় ইস্কুল যেত নয়তো যেদিন ইস্কুল থাকত না সেদিন ট্রেনে চেপে চলে যেত সুরচিতাদের সংস্থায়। দুপুরে কয়েকজন বাচ্চার পড়াশোনা দেখত; নিজের পড়া পড়ত। বিকেলে বাড়ি ফিরত। 

তারপর হয় সুরচিতা আসত না হলে ও যেত সুরচিতার কাছে। বসত বাকি ছাত্রদের সাথে। তাতে দু চারজন সমবয়সীর সাথে ওর চেনাশোনা হতো; ওপর ওপর মেলামেশা, হাসি ঠাট্টার একটা অভ্যেস হতো; বাকি ছেলেমেয়েরা কি পড়ে; কতক্ষণ পড়ে; কখন পড়ে, এসবও জানতে পারত। 

যতো সম্বর্ধনা আর বক্তৃতার নেমন্তন্ন পেত তার সবেতে অভি যেতো না। পরে কেউ জবাবদিহি চাইলে ও খুব নম্রভাবে জানাত যে বাবা বা মা কেউই সময় বার করতে পারেন নি ওকে সভায় নিয়ে যাওয়ার। 

কথাটার সত্যতা প্রশ্নাতীত। কিন্তু এটাও সত্যি যে বাবা-মা জানতেনও না ছেলের কোথায় কোন আসরে নেমন্তন্ন। ছেলেটা একটা পরীক্ষা পাশ করেছে মাত্র। হতে পারে প্রতিযোগিতায় সে সামনের সারিতে থেকে সবার নজর কেড়েছে। কিন্তু সেই পরীক্ষা পাশের স্বাভাবিক আর সাধারণ ঘটনাটাকে উদ্‌যাপনের হিড়িকে কৃত্রিম অভিকর্ষে ফাঁপিয়ে তোলা হচ্ছিল। 

ছেলেটার সামনে আরও অনেক পরীক্ষা বাকি তখনও; তার জন্য প্রস্তুতি প্রয়োজন ছিল। তাই উচ্ছ্বাসের উড়ান নয়, দরকার ছিল বাস্তবের মাটিতে দাঁড়ানোর। সেই তাগিদে অভি কিছু ছল আর কৌশল শিখে গিয়েছিল।


এর মধ্যে একদিন সন্ধেবেলা ফন্টে এসেছিল চিলেকোঠায়। তখন ফন্টে পাড়ার মাস্তান থেকে শহরের নেতা হওয়ার পথে; সে অভির কাছে পড়তে চেয়েছিল রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করতে চায় বলে। সুরচিতা বলেছিল, “ফন্টে, মাথার ঘা-টা শুকিয়ে গেছে বুঝি?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Readers Loved