Thursday, April 30, 2026

Panchpoksho - 27

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



প্রাক্‌পক্ষ

~~~~~~

কিন্তু এক বিপদের মোকাবিলা করতে গিয়ে মেয়েদের অন্য বিপদ ঘনিয়ে ঊঠেছিল। প্রথম যেবার ফন্টের মতো কাউকে থানায় নিয়ে গিয়েছিল সুরচিতারা সেবার তো ওদের বলা হয়েছিল, “ছিছি, ছিছি, ছিছি! তোমরা ইস্কুলে যাও, লেখা পড়া শেখো আর এটুকু জানো না যে মারপিট করে আইন হাতে তুলে নিতে নেই?” 

কিন্তু তাতে লজ্জা পাওয়ার উপায় ছিল না সুরচিতাদের। উপদ্রব এতো বেড়েছিল, বিশেষতঃ বাড়ি থেকে ইস্কুল যাওয়ার সময় আর ইস্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময়। সময়দুটো নির্দিষ্ট হওয়ায় সেই সময়দুটোতে উপদ্রব হতো নিয়মিত। 

কখনও একমুখ কাঁচাপাকা দাড়ি নিয়ে একটা লোক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পড়ত প্যান্টের চেন খুলে। কখনও তার সাথে চীৎকার করে মেয়েদের শরীর নিয়ে ছড়া কাটত। কখনও শরীরের নানা অংশে খিমচে দিয়ে, খাবলে দিয়ে চলে যেত সাইকেল চেপে সাঁ করে। 

মেয়েরা একেক দিন দলে দলে ওঁত পেতে থেকে মোকাবিলা করত এসব আক্রমণের। কখনও নিয়মিত আক্রমণকারীকে দেখা মাত্র উলু দিয়ে রাস্তার সকলকে সচকিত করে দেওয়া হতো। আক্রমণ হলে “বাঁচাও” “বাঁচাও” চীৎকারে জানান দিত আক্রান্ত। আর তার আগে পিছের মেয়েরা গুলতিতে ঢিল নিয়ে তৈরি হয়ে যেত। আক্রমণকারীকে দেখা মাত্র ঢিল মেরে তার মাথা ফাটিয়ে দিত। ধরাশায়ী করা গেলে হাত-পা কিছু একটা ভেঙে দেওয়া হতো। তারপর তাকে নিয়ে যাওয়া হতো থানায়।


এরকম আরেকবার হতে যে মেয়েরা থানায় গিয়েছিল তাদেরকে দায়িত্বে থাকা পুলিশরা বলেছিল, “বাঁদর মেয়ের দল, ফের যদি এমন করবি তো তোদের জেলে ভরে দেব।” 

বলাবাহুল্য আলাদা করে ভয় পাওয়ার কিছু ছিল না সুরচিতার বা তার সতীর্থদের। তারপর একবার তো থানায় আটকেও রাখা হয় কিছু মেয়েকে। কিছু মেয়ে পালিয়ে গিয়ে ইস্কুলে খবর দিয়েছিল। কারণ সেসময়টা ইস্কুল বসার সময় ছিল। 

বড়দি নিজে থানায় এসে ডিস্ট্রিক্‌ট ম্যাজিস্ট্রেটের চিঠি দেখিয়ে বলেছিলেন, “এই অর্ডার পাওয়ার পরেও আপনারা মেয়েদের ইস্কুল যাতায়াতের পথে টহলের ব্যবস্থা নেন নি।” 

জবাবে থানার বড়োবাবু কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হতাশ, ক্লান্ত বড়দি হাত তুলে বলেছিলেন, “থাক আর বলতে হবে না; আমি জানি, আপনাদের নাকি সব মেয়েকে বাড়ির থেকে ইস্কুলে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া ছাড়াও আরও বেশি জরুরি কাজ আছে। তা আমার মেয়েরা নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য যদি একটা লোফারকে দুঘা দিয়ে ফেলে সেটা আইনভঙ্গ হলো, আর সাক্ষী সমেত দশ-বারোটা মেয়ে আপনাকে আসামী এনে দিলে আপনি মেয়েগুলোকেই জেলে ভরেন? আপনি নিশ্চয়ই মেয়ের বাবা নন। বোধ হয় মায়ের পেটেও জন্মান নি।” 

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

Readers Loved