Saturday, October 5, 2024

JPDA - Chapter 60

৬০. ইয়ালু নদী



মিন হুয়ের মুখ লাল হয়ে উঠলো, চোখে ওর অল্প হতাশা, কিন্তু এমনটাই হবে যেনো ও আগে থেকে জানতো, অপ্রস্তুত হয়ে হাসলো, মাথা নিচু করলো, আর চুপ করে গেলো।

মিন হুয়ে চোখ তুলে তাকাচ্ছেই না, নিজের আঙুলগুলোকে মোচড় দিয়ে রেখেছে অনেক ক্ষণ, ব্যাপার দেখে প্রসঙ্গ বদলালো শিন ছি, “আসলে, তোর থেকে আমার কিছু চাওয়ার আছে।”

“ওহ্‌?" মুখ তুললো মিন হুয়ে, ওর মুখে রক্তিমা এখনো হালকা হয়ে যায় নি, ওর চোখ গিয়ে পড়লো জানলার হাতায় রাখা এক পাত্র অর্কিডের ওপর।

“আমি পিতৃত্বের পরীক্ষা করাতে চাই, যেমন পরীক্ষা আদালতে গ্রাহ্য হয়।”

ও ওর ব্যাগ থেকে একটা ফর্ম আর অনেকগুলো ছাপা কাগজ বার করলো, “এইটা দরখাস্ত করার ফর্ম আর পরীক্ষার অনুমতি দেবার চুক্তি। তোর সই দরকার। তারপর আমরা একটা সাক্ষাতের সময় নেবো। সাক্ষাতের সময়ে আমাদের তিনজনকে ফরেন্সিক সনাক্তকরণ কেন্দ্রে যেতে হবে একসাথে আমাদের নমুনা জমা দেওয়ার জন্য। তোর কী মনে হয়, এটা ঠিক আছে?”

ওর গলার স্বর নরম, তাতে ফুটে উঠেছে একটা বিরল ভদ্রতা আর বিনয়।

মিন হুয়ে কাগজগুলো নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়লো। তারপরে জানতে চাইলো, “আমাদের তিনজনকেই যেতে হবে? শুধু তুই আর সু ছন গেলে হবে না?”

“আমি গুরুত্ব দিয়েই জিজ্ঞেস করেছি। কেবলমাত্র দু ধরনের পিতৃত্বের পরীক্ষা হয়ঃ ‘ব্যক্তিগত পরীক্ষা’ আর ‘আদালতের পরীক্ষা’। ব্যাপার হলো যে একমাত্র আদালতের জন্য করানো পরীক্ষারই আইনি স্বীকৃতি পাওয়া যায়। যখন সু ছন বড়ো হবে, ওকে হয়তো অনেকগুলো পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে, যেমন ভিসা, বিদেশে পড়াশোনার জন্য, অভিবাসন, বিদেশে চিকিৎসা, অথবা উত্তরাধিকার। আমার একটা শক্তপোক্ত প্রমাণ চাই পিতা-পুত্র সম্পর্কের।”

“উত্তরাধিকার?”

মিন হুয়ে হতবাক, “কার উত্তরাধিকার? তোর?”

“হ্যাঁ।”

শিন ছি ঘাড় নাড়লো, “আমি ওকে আমার উইলে রেখেছি। আমি বিবাহিত নই, আমার মা-বাবা আর ভাই অবস্থাপন্ন, ওঁদের আমার সম্পত্তিতে প্রয়োজন নেই। তাই আমার যা কিছু আছে তার একমাত্র উত্তরাধিকারী সু ছন। যদি সু তিয়াঁ বেঁচে থাকে, তাহলে সেও।”

“এখনই … বড্ডো তাড়াহুড়ো হয়ে যাচ্ছে না?”

মিন হুয়ে তাকালো শিন ছির জোয়ান মুখটার দিকে, ওর মাথা ঝিম ঝিম করে উঠলো এক মূহুর্তের জন্য, “তোর তো মাত্র তিরিশ বছর বয়স।”

“না তাড়াহুড়ো করছি না। আমার যদি হার্ট অ্যাটাক হয়, তাহলে যে কোনো মূহুর্তে আমি মরে যেতে পারি।”

মিন হুয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে বললো, “ওকে।””

একটা কলম তুলে নিয়ে ঝটপট সই করে দিলো, “আমাকে আগে থেকে জানাস, কবে আর কখন অ্যাপয়েন্ট নিচ্ছি আমরা।”

শিন ছি আশা করে নি যে মিন হুয়ে এতো সোজাসুজি কথা বলবে। ও একটু অবাকই হয়েছে, “হ্যাঁ। ধন্যবাদ।”

সু ছন ফেরার পরে ওর সাথে মিন হুয়ে এক ঘন্টাটাক খেলা করে চলে গেলো।

বাচ্চাটা চটপট বদলে যাচ্ছে। ও আর ততো গায়ে লেপ্টে থাকে না। আর বুকের দুধ খাওয়ার অভ্যেসটা উবে গেছে।

খাবার পরে নিজেই খাবার থালা আর বাসন রেখে দেয় বাসন ধোবার জায়গায়। খেলার পরে খেলনা তুলে গুছিয়ে রাখে। নিজে নিজে জামা পরে, বাথরুমে যায়, এমন কী রোজ কুড়ি মিনিট করে পিয়ানো বাজায় …

মিন হুয়ে একটু লজ্জা না পেয়ে পারে না। মা হিসেবে ওর যেনো বিশেষ যোগ্যতাই নেই। বাচ্চাটা জন্মে ছিলো রুগ্ন, দূর্বল, ও নিজের কাজে ব্যস্ত থাকতো, বাচ্চার শিক্ষাদীক্ষার কোনো পরিকল্পনাই ওর ছিলো না, বাচ্চাকে আহ্লাদ দিয়ে নষ্ট করার মতো অনেক কিছুই করেছে, ওর ধৈর্যও নেই একদম।

যেমন যতো বার সু ছন নিজে নিজে জুতো পরতে চেয়েছে, ও এতো ধীরে ধীরে পরে, প্রায়ই ডান বাম পাটি গুলিয়ে ফেলে, তাই কখনোই মিন হুয়ে ওকে নিজে নিজে জুতো পরতে দেয় নি, মিন হুয়ে নিজেই পরিয়ে দিয়েছে।

“এর কারণ তুই জানিস বাচ্চাকে কিভাবে শেখাতে হয়।” দীর্ঘশ্বাস না ফেলে পারলো না মিন হুয়ে, “মনে হচ্ছে রাতারাতি ছন ছন বেড়ে উঠেছে অনেকটা।”

“তার কারণ তোর বংশের বীজ যার জোরে তোর বাচ্চা বুদ্ধিমান হয়েছে আর যে কোনো জিনিস শিখে ফেলে তাড়াতাড়ি।" বললো শিন ছি।

কিছু না বলে হাসলো মিন হুয়ে। দুজনে পরস্পরের প্রশংসা করলো - এই প্রথম বার।

বেরোবার আগে শিন ছি এগিয়ে এলো মিন হুয়ের সঙ্গে এলিভেটর অবধি, দুম করে বললো, “মনে হচ্ছে তোর ঝামেলা চলছে অনেক। আমি কী কোনো ব্যাপারে কোনো সাহায্য করতে পারি?”

মিন হুয়ে মাথা নাড়লো, “না।”

“বু খু ছি।" এলিভেটর এসে গেলো, শিন ছি এলিভেটরের দরজা ধরে দাঁড়ালো যাতে ওটা বন্ধ না হয়ে যায়, তারপর গম্ভীর মুখে বললো, “তুই জানিস, আমি তোকে সাহায্য করার ক্ষমতা রাখি।”

“না সত্যিই দরকার নেই। নিজের লড়াই নিজেরই করা উচিৎ।”

“কিন্তু ইঁট ব্যবহার করিস না।”

“হ্যাঁ।”

“মাথা গরম করিস না, মাথামোটার মতো কাজ করিস না।

“বুঝেছি।”

এলিভেটরের দরজা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেলো। মিন হুয়ের ঔদাসীন্য শিন ছিকে আরো চিন্তায় ফেললো।

***

পরের দিন দুপুরে দেঁ চেনের সাথে শিন ছি দেখা করলো কোম্পানিতে। দুজনে কিছুক্ষণ কথা বললো। হঠাৎ শিন ছি জানতে চাইলো, “আপনার কাছে কোনো নতুন সূত্র আছে মিন হুয়ের সঙ্গে চেং ছিরাং-এর মামলাটার ব্যাপারে?”

দেঁ চেন মাথা নাড়লো, “আমি তোমাকে সব জানিয়েছি যতো আমি জানতে পেরেছি। কাজের জায়গায় যৌন হেনস্থা হলে সত্যিটা বার করা খুব মুস্কিল হয়। কারণ ঘটনাটা ঘটে হঠাৎ করে, বেশির ভাগ সময়েই ঘটে আড়ালে, বদ্ধ জায়গায়, প্রমাণ পাওয়া খুব মুস্কিল।”

যদিও শিন ছি ব্যাপারটার আগাপাশতলা তদন্ত করতে বলে ছিলো দেঁ চেনকে, কিন্তু ও কোনো উৎসাহ দেখায় নি আর। দেঁ চেন যে তথ্য দিয়ে ছিলো তার কয়েকটার মাত্র উত্তর দিয়ে ছিলো শিন ছি। এই প্রথম ও ব্যাপারটা নিয়ে কিছু জানতে চাইলো আবার।

“কোনো সাক্ষী নেই?”

“একটা সাক্ষাৎকারে মিন হুয়ে বলে ছিলো একটা সাক্ষীর কথা। একজন নাকি চেং ছিরাং-এর অফিসে ঢুকে পড়ে ছিলো, আর দেখেও ছিলো চেং ছিরাং কী করছে। কিন্তু কোনো কারণে সেই মানুষটা সাক্ষী দিতে চায় নি। অথবা, সাক্ষী দিয়ে ছিলো কিন্তু আদালতে গৃহীত হয় নি সেই সাক্ষী।”

শিন ছি ভ্রূ কোঁচকালো, “কেউ যদি নিজে চোখে দেখে থাকে আর সাক্ষ্যও দিয়ে থাকে, তাহলে সেই সাক্ষ্য কেনো গৃহীত হবে না?”

“কারণ সব সাক্ষীরাই কর্মচারী। আদালত মনে করতে পারে যে সাক্ষ্য নেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা যাবে না কারণ সাক্ষীর বিশেষ স্বার্থ আছে অপরাধীর সঙ্গে কিংবা অপরাধের শিকারের সঙ্গে।" বললো দেঁ চেন।

“সাক্ষীটা কে? আমি জানতে পারি কী?”

“যেহেতু সাক্ষী গোপণীয়তা রক্ষার আবেদন করে ছিলো, তাই কোনো প্রতিবেদনে বা অন্য কোনো নথিতে সাক্ষীর পরিচয় জানানো হয় নি। আমি একজনকে পাঠিয়ে ছিলাম গুয়ান ছাওতে, ব্যাপারটা নিয়ে খোঁজখবর করার জন্য। তার থেকে তিন রকম ধারণা পাওয়া যাচ্ছেঃ কেউ কেউ বলেছে সাক্ষী ছিলো মি কি’এর, চেং ছিরাং-এর তখনকার সচিব। ও বার বার চেং ছিরাং-এর ঘরে যায় আর আসে। সব থেকে বেশি সম্ভাবনা ওই ঘটনাটা চাক্ষুষ দেখেছে।”

দেঁ চেন কফিতে একটা চুমুক লাগিয়ে বললো, “কেউ কেউ বলে সাক্ষী ছিলো দং য়ুয়ে , চেং ছিরাং-এর সে সময়কার সহকারী, ওয়েই ইয়ং চেং-এর পূর্বসুরী। ইনি একজন সফ্‌টওয়্যার বিশেষজ্ঞ এবং এঁর যৌনতা বোধটা সন্দেহজনক। গুজব ছিলো যে উনি চেং ছিরাং-কে পছন্দ করতেন। দুজনের ব্যক্তিগত সম্পর্কও খুব ভালো ছিলো। দং য়ুয়ে -ও বার বার যেতো চেং ছিরাং-এর অফিসে।”

“...”

“যৌন হেনস্থার ঘটনাটা ঘটার পরে এই লোকটাকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ইউরোপের হেডকোয়ার্টার্সে বদলি করে দিয়েছেন ঝেং য়িতিং। এটা আসলে পদোন্নতি। কিন্তু লোকে বলে যে উনি খুবই অখুশি হয়ে ছিলেন যখন ওকে যেতে হয়। গুয়ান ছাও ওঁর জন্য একটা বিশেষ বিদায় সম্বর্ধনা আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে অতো বড়ো মানুষটা চেং ছিরাং-কে জড়িয়ে ধরে খুব কান্নাকাটি করে ছিলো। খুব অপ্রস্তুত করে ছিলো চেং ছিরাং-কে।”

শিন ছি নাক ডাকিয়ে উপহাস করে হাসলো, “এই চেং জঁ-এর ব্যক্তিগত জীবনটা বেশ বর্ণময়।”

“শেষ মত হলো লিন শি য়ুয়ে , যে তখন সেলস্‌ বিভাগে কাজ করতো। মিন হুয়ে গুয়ান ছাওতে যোগ দেবার আগেই, লিন শি য়ুয়ে  আর চেং ছিরাং খুব ঘনিষ্ঠ ছিলো। ওদের নিয়ে কোম্পানিতে গুজবের অন্ত ছিলো না। কিন্তু কারো কাছে কোনো প্রমাণ ছিলো না। চেং ছিরাং-এর অফিসে তো যে কেউ যখন তখন যেতে পারে না, লিন শি য়ুয়ে  ওর বিশ্বাসের পাত্রী ছিলো। ঐ সময়ে লিন শি য়ুয়ে  কাজের কথা প্রায়ই জানাতে যেতো চেং ছিরাং-কে। হতে পারে যে ও কিছু দেখে ছিলো। কিন্তু চুপ করে থাকার পথ নিয়ে ছিলো।”

“লিন শি য়ুয়ে ?” শিন ছি না ভেবে পারলো না, ভাব ছিলো কথাটা খুব বেশি দিন আগেকার নয়। যখন কদিন আগে বেজিং-এ মিন হুয়ে দেখে ছিলো লিন শি য়ুয়ে -কে, তখন খুব বিরক্ত হয়ে ছিলো।

“আমি এই তিন জনকে আলাদা আলদা করে জিজ্ঞেস করেছি। মি কি’এর আর লিন শি য়ুয়ে  দুজনেই বলেছে যে তারা গুয়ান ছাও-এর সঙ্গে গোপণীয়তার চুক্তি সই করেছে তাই এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে পারবে না। দং য়ুয়ে  আমাকে বলেছে যে সেদিন চেং ছিরাং-এর সঙ্গে দেখা করতে ও গিয়ে ছিলো, বার বার ওদের কথার মধ্যে ব্যাঘাত ঘটে ছিলো। কিন্তু ও মিন হুয়েকে কখনো দেখে নি। আর ও আদালতে সাক্ষী দিতেও যায় নি।”

“আমার মনে হয় লিন শি য়ুয়ে -রই সাক্ষী হবার সম্ভাবনা সব চেয়ে বেশি।" বললো শিন ছি।

"কেনো?”

“মিন হুয়ে আমাকে বলেছে যে ও আর লিন শি য়ুয়ে  দুজনে বন্ধু ছিলো। কিন্তু এখন আর বন্ধুত্ব নেই। ওদের মধ্যে নিশ্চয়ই কিছু হয়েছে।”

“দুজনেরই পদোন্নতি করে ছিলো চেং ছিরাং। দুজনেই চেং ছিরাং-এর ঘনিষ্ঠ ছিলো। দুজনের মধ্যে বোধ হয় প্রতিযোগিতাও ছিলো।”

“হ্যাঁ।" শিন ছি হেঁটে জানলায় গেলো, তাকিয়ে রইলো রাস্তার উল্টো দিকের চেনঝঁ বিল্ডিং-এর দিকে, আপন মনে কী যেনো ভাবতে লাগলো।

“যৌন হেনস্থার মামলায় যদি কোনো স্পষ্ট প্রমাণ না থাকে, তাহলে মামলা জেতা মুস্কিল। তাছাড়া, গুয়ান ছাও ইন্টারন্যাশন্যাল একটা ব্যাক্তি মালিকানার কোম্পানি। চেং ছিরাং একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে আছে, তার ওপর ও চেয়ারম্যানের জামাই। ও যতোই খরচের কারণ হোক না কেনো, গুয়ান ছাও ওকে রাখতে বাধ্য। মিন হুয়ে একলাই লড়ে ছিলো। খুবই কঠিন একটা এতো বড়ো সংস্থার বিরুদ্ধে লড়ে সুবিধে করা। ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে সত্যিটা ফাঁস করার চেষ্টা করে ছিলো। ও খুব সাহসী, সাহসের সঙ্গে কাজটা করে ছিলো। আমি শুনেছি তখন বাজারে ওঠা-পড়া হয়ে ছিলো, গুয়ান ছাও-এর স্টকের দামও পড়ে ছিলো কয়েক দিন ধরে। শেষে ঝেং ল্যান নিজে উদ্যোগ নেয় সংকট কাটানোর জন্য। উকিল ভাড়া করে মিন হুয়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে। তারপর মিন হুয়েকে বদনাম করতে শুরু করে। মিন হুয়ের তো লড়াই-এর কোনো অভিজ্ঞতাই ছিলো না। গোহারা হারে, বলাবাহুল্য। তারপর ওর বিবৃতি বলে ‘হ্যাঁ আমি রক্ষিতা হতে চেয়েছি, পারি নি তাই ঘুরে কামড়াচ্ছি।’ -এই সব রটানো হয়।”

উদ্বিগ্ন হয়ে পায়চারি করতে থাকে শিন ছি, বেশ খানিক ক্ষণ পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে জানতে চায়, “আপনার মত কী? এতো দিন ধরে তদন্ত করে আপনি কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন?”

“আমি মিন হুয়ের দিকটাই বিশ্বাস করতে চাই। এটা আমার ব্যক্তিগত মত, বিচারও বটে।”

“এর কারণ?”

“কোনো কারণ নেই। শুধু মনে হলো।" দেঁ চেন নিজের মাথার দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, “যে ভাবে ও সু তিয়াঁর হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটাতে কাজ করেছে, তাতে আমার মনে হয়েছে যে ওর একটা তীব্র ন্যায়নীতি বোধ আছে। দায়িত্ববোধও আছে। ও যদি অনেক খোঁজখবর না করতো তবে ওর সাথে তোমার ইয়ং’আন সাঁকোতে দেখা হতো না।”

শিন ছি চুপ করে রইলো।

“যা হোক,” হঠাৎ দেঁ চেনের যেনো কথাটা মনে পড়লো, “কাল মিন হুয়ে বেজিং যাচ্ছে, চেং ছিরাং-এর সঙ্গে ব্যবসার কাজে।”

শিন ছি মাথাটা তুললো দুম করে, “আপনি জানলেন কী করে?”

“ও আমার থেকে একটা দেহরক্ষী চেয়েছে।”

“কী?”

শিন ছি জানে না হাসবে না কাঁদবে, “খোলাখুলি?”

“হ্যাঁ। ও বলেছে যে চেং ছিরাং ওকে আদেশ করেছে নাম ধরে যে ওকে বেজিং যেতেই হবে। ওদের সঙ্গে আর কেউ যাবে না, শুধু ওরা দুজন যাবে। তাও ও নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে।”

“ওকে।" শিন ছি হাত ঘড়ি দেখলো, “আপনি এখন আসুন। আমার এখন একটা মিটিং আছে।”

***



মিটিংটা ও আধঘন্টায় শেষ করে নিলো। অফিসে ফিরলো। একগ্লাস জল খেলো। সচিব এসে জানালো, “লিন শি য়ুয়ে  এসে গেছেন।”

“ছিং, ভেতরে পাঠান।”

হঠাতই অফিসের ভেতরে একটা গন্ধ ভেসে এলো। লিন শি য়ুয়ে  অফিসের ভেতরে এলো হালকা পায়ে। 

পরনে তার একটা ঝিলের মতো সবুজ জামা, লম্বা চুল খোলা, কোমর অবধি ঝুলছে।

ও কাজ করে চেন য়ুআঁর কাছে। বিবিজিতে ওর দু বছর হলো। সেরা কর্মীর জায়গা ধরে রেখেছে পর পর দু বছর।

ওর সম্পর্কে শিন ছির ধারণা ভালোই ছিলো।

“শিন ল্বব্যাঁ, আপনি আমাকে খুঁজছিলেন?" হাসি মুখে প্রশ্ন করলো।

যদিও বয়স একত্রিশ পেরিয়েছে, কিন্তু লিন শি য়ুয়ে-এর ত্বক এখনো পেলব, মসৃণ, ছোটোখাটো চেহারা, বাচ্চা মেয়ের মতো রোগা রোগা হাত আর পা।

চেন য়ুআঁ ওকে যে কোনো কাজেই বাইরে বাজারে পাঠাক না কেনো, ও অধিকাংশ সময়েই সমস্ত হেরে যাওয়া বোঝাপড়াকে জয়ে বদলে নিয়ে ফেরে।

“হ্যাঁ, ছিং, বসুন।" বিনয়ের সঙ্গে বললো শিন ছি, “কী নেবেন? চা? কফি? জুস?”

“জুস।”

শিন ছি নিজের সচিবকে ডেকে বললো এক বোতল ফলের রস আনতে। লিন শি য়ুয়ে  বোতলের ছিপি খুলে একটা চুমুল দিলো। কৌতুহলের সঙ্গে শিন ছির মুখের দাগগুলোকে দেখতে দেখতে বললো, “শিন জঁ, আপনার মুখ ঠিক আছে?”

“ঠিক আছে।”

“... গাড়ির জানলার কাচ …" থেমে যেনো জমে পাথর হয়ে গেলো এক মূহুর্তের জন্য লিন শি য়ুয়ে , “আমি ঘটনাটা দেখেছি।" নরম স্বরে বললো ও। ওর গলার স্বরে ভরপুর সহানুভূতি, “আমিও তখন রাস্তার ধারে ছিলাম। আমি দেখেছি মিন হুয়েকে …”

শিন ছি কাশলো। বুঝতে পেরে লিন শি য়ুয়ে থেমে গেলো।

“শি য়ুয়ে , আমি আপনাকে মিন হুয়ের ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন করতে চাই।”

তখনই ও সোজা হয়ে বসলো। “ছিং, বলুন।”

“আপনি আগে থেকেই চেনেন মিন হুয়েকে, তাই না? আপনি জানেন ওকে?”

শিন ছি বসেছে উল্টো দিকের সোফাতে মুখোমুখি। চোখ কুঁচকোলো, হালকা স্বরে বললো, “ওর আর চেং ছিরাং-এর ব্যাপারে … আমি কিছু জানতে চাই।”

লিন শি য়ুয়ে  একটু চমকে উঠলো, হাতের জুসের বোতলটা রাখলো সামনের কফি রাখার টেবিলে, খুব যত্ন করে গলা পরিষ্কার করলো, “শিন জঁ, আপনার কোনো প্রশ্ন আছে? আমি নির্দ্বিধায় যে কোনো প্রশ্ন করতে পারেন, আমি সব জানি।”

ওকে সামান্য ঘাবড়ে যেতে দেখে শিন ছি হাসলো আর ওকে স্বান্তনা দিলো, “খুব চিন্তার কিছু নেই। যদিও মিন হুয়ে আমার ছেলের মা, কিন্তু ওর সঙ্গে আমি খুবই অল্প সময় কাটিয়েছি। আমরা একে অপরকে ভালো জানি না। আমরা পরস্পরকে জানি না, আমাদের একটা বাচ্চা হয়ে যাওয়াটা একটা দূর্ঘটনা মাত্র।”

লিন শি য়ুয়ে  এসব কথার ভেতরের মানেটা বোঝার চেষ্টা করতে লাগলো।

শিন ছি বলে চললো, “মিন হুয়ে আর আমি - এখন আমাদের নিজের নিজের জীবন আছে। কিন্তু আমরা দুজনেই বাচ্চাটার সম্পূর্ণ অধিকার পাবার জন্য লড়াই করছি। আমি শুনেছি যে আপনি ওর সাথে গুয়ান ছাওতে এক সাথে কাজ করতেন। তাই আমি আগে আপনার থেকেই এই মানুষটা সম্পর্কে জানতে চাই। তাহলে আমার কিছু চাল সাজাতে সুবিধে হবে ওর সাথে ভবিষ্যতে লড়ার সময়ে।”

“বুঝেছি।" লিন শি য়ুয়ে  একটু ভাবলো, বললো, “গুয়ান ছাও-এর কর্মীদের মধ্যে মহিলা মাত্র দশ শতাংশ। তাদের বেশির ভাগই প্রশাসনিক কাজে কিংবা সহায়কের কাজে। সে বছরে গুয়ান ছাও অনেক জন স্নাতককে নিয়ে ছিলো হুয়ছিং ইউনিভার্সিটি থেকে। মিন হুয়ে ছিলো সব চেয়ে সেরা। ওকে দেখতেও খুব সুন্দর। ও খুব জনপ্রিয় হয়ে গেলো যেই গুয়ান ছাওতে পা রাখলো। ছেলেরা ওর মন আর মনোযোগ পাওয়ার জন্য কাতার দিলো, কারুর হালকা আকর্ষণ ছিলো, কারুর কারুর গভীর আকর্ষণ ছিলো ওর প্রতি। ওকে সব চেয়ে বেশি উত্যক্ত করতো ওয়াং তং য়ুআঁ, ওর টিম লিডার। ওয়াং তং য়ুআঁ প্রায় পাগল ছিলো ওর জন্য, নিজের পদের জোর খাটিয়ে মিন হুয়েকে নানান ঝামেলাতেও ফেলতো। ওকে আটকে রাখতো ওভারটাইমের নামে, নিজের সাথে অনেক ক্ষণ রাখবে বলে আজে বাজে কাজ দেখিয়ে। মিন হুয়ে খুব বিরক্ত হতো, ও তো ভয়ও দেখিয়ে ছিলো ওয়াং তং য়ুআঁকে যে এইচআর-এর কাছে নালিশ করবে। এতে ওয়াং তং য়ুআঁ একটু সংযত হয়, কিন্তু ও মিন হুয়ের থেকে কাজ কমিয়ে দিতে থাকে আর ওকে অপদস্থ করতে থাকে সমানে। আমি জানি না কেনো চেং ছিরাং আমাকে এতো কথা বলে ছিলো ওদের ব্যাপারে। আর ওয়াং তং য়ুআঁকে বদলি করে দেওয়া হয় কয়েক দিনের মধ্যে। হ্যাঁ মিন হুয়েকে টিম লিডার করে দেওয়া হয়। আপনার জানা উচিৎ যে ও মাত্র তিন মাস কাজ করেছে তখন। তখনো ও নৈমিত্তিক কর্মীও হয়ে ওঠে নি, সাময়িক কর্মী ছিলো। টিমটাও গুয়ান ছাও আর অ্যান্ড ডির সোনার পদক জেতা টিম ছিলো। মিন হুয়ের নিয়োগটা খুবই অযৌক্তিক ছিলো … ”

“পরে কী হলো? ওর সাথে চেং ছিরাং-এর ব্যাপার বিগড়ে গেলো কী করে?" জিজ্ঞেস করলো শিন ছি।

“চেং ছিরাং খুব পছন্দ করতো মিন হুয়েকে। ওর নাম করে প্রশংসা করতো নানান কনফারেন্সে। তখন মিন হুয়ে যে প্রজেক্টটায় কাজ করতো সেটা নাম ছিলো ‘ব্ল্যাক ডট’, ওটা গুয়ান ছাও-এর প্রথম প্রজেক্ট যাতে এআই ব্যবহার করে চিকিৎসার কাজ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিলো। চেং ছিরাং চেয়ে ছিলো প্রজেক্টটা খুব নাম করুক, প্রজেক্টটা নিয়ে খুব উৎসাহীও ছিলো। মিন হুয়ের প্রচার আর নাম করার কোনো সুযোগ ও ছাড়ে নি। অবশ্যই মিন হুয়েও খুব উৎসাহী ছিলো, প্রজেক্টটা নিয়ে যেতো ইন্ড্রাস্ট্রির নানান প্রতিযোগিতায়, বড়ো পুরস্কারও পেয়েছে … যা হোক, অনেকেই ব্যাপারটা মানতে পার ছিলো না। তারা মনে করতো চেং ছিরাং-এর সাহায্য ছাড়া মিন হুয়ের পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। অতো ভালো কোড লেখা বিশেষত। গুজবও রটে ছিলো যে দুজনের সম্পর্ক সহকর্মীর সীমা ছাড়িয়ে আরো বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে …”

লিন শি য়ুয়ে  ধীরে ধীরে কথা বল ছিলো, ওর ভঙ্গিমা খুব শান্ত। 

শিন ছিও খুব শান্ত, “আপনার কথা বলুন? আপনি কী ভাবতেন ওদের ব্যাপারে?”

“চেং ছিরাং প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব হুয়াছিং ইউনিভার্সিটিতে। উনি খুব পেশাদার। সশ্রদ্ধ, বিচক্ষণ - গুয়ান ছাও-এর সব মেয়েরাই ওঁকে খুব পছন্দ করে। মিন হুয়েও ওঁকে পছন্দ করতো।”

“তাহলে আপনার আর মিন হুয়ের … সম্পর্ক ভালোই ছিলো?”

“শুরুতে সেই রকমই ছিলো। আমাদের সম্পর্ক সব সময়ে পেশাদার গন্ডিতে ছিলো তাও না। আমরা দুজনেই বাজারে যেতে ভালো বাসতাম, জামাকাপড় কেনাকাটা করতে, আমরা জামা নিয়েই অনেক কথা বলতাম, আমাদের ভাড়া করা বাসাবাড়িও খুব কাছাকাছি ছিলো। আমরা অনেক সময়ে কাজে যেতাম একসাথে, কাজ করে ফিরতাম একসাথে। একসঙ্গে খেতাম, মুভি দেখতেও যেতাম।”

“সব ব্যাপারে কথা বলতেন?”

“আসলে না। ও খুব ঘরকুনো। আমি সামাজিক হইহুল্লোড় ভালো বাসি। ও খেলতে ভালো বাসে, আমি কারাওকে গাইতে ভালো বাসি। আমরা শুধু পরস্পরকে খুব ভালো করে চিনি, কিন্তু আমাদের অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্ব ছিলো না। তখন ওর মা ক্যান্সারে ভুগছে, ও সব সময়ে হাসপাতারলে দৌড়োচ্ছে, ওর মেজাজও ভালো থাকতো না …”

“ও কী আপনার সাথে যৌনহেনস্থা নিয়ে কথা বলে ছিলো?”

“না।" ও ঠোঁট কামড়ে ধরলো বাঁকা করে, “ও সেই সময়ে, ওর তখন অনেক টাকার দরকার। ওর মা অনেক টাকা চিকিৎসার জন্য খরচ করছিলো। যখনই চেং ছিরাং-এর কথা উঠতো, ওর স্বরে কৃতজ্ঞতা ঝরে পড়তো। যদি চেং ছিরাং হতো ওয়াং তং য়ুআঁর মতো, তাহলে ও নিশ্চয়ই খুব বিরক্ত হতো, আর আমাকে সে কথা বলতোও। সব ধরনের নালিশ করতো। তাই … যখন যৌন হেনস্থার ঘটনাটার কথা জানলাম তখন আমি খুবই অবাক হয়ে ছিলাম। মিন হুয়ে আমার সামনে কখনো চেং ছিরাং সম্পর্কে কোনো খারাপ কথা বলে নি। এটা নিশ্চিত যে ও গোপণে চেং ছিরাং-কে পছন্দও করতো … তাই আমার মনে হয় … মাঝে … ম্‌ম্‌ … অল্প কথায় আমি বিশ্বাস করি না যে চেং ছিরাং অমন করতে পারেন। যদি ওঁর অমন করার কথা মনেও হয়, উনি নিজের কোম্পানিতে নিশ্চয়ই করবেন না, ওঁর বউয়ের চোখের সামনে। এই ঘটনার আগে উনি আর মিন হুয়ে প্রায়ই একসাথে ব্যবসার কাজে বাইরে যেতেন, মিটিং-এ যেতেন। তখন কিছু ঘটা অনেক সহজ ছিলো। আমিও ওকে অনেক বুঝিয়েছি চেং ছিরাং-এর থেকে দূরে থাকার জন্য, যাই হোক চেং ছিরাং বিবাহিত আর ঝেন য়ি তিং খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তি …”

“তার মানে আপনি কিছুই দেখেন নি?" হঠাৎ বাধা দিলো শিন ছি।

“ঘটনাচক্রে সেদিন আমার একটা কন্ট্র্যাক্ট ছিলো যেটা চেং ছিরাং-কে দিয়ে সই করাতে হতো। উনি বলে ছিলেন কন্ট্র্যাক্ট তৈরি হয়ে গেলে যে কোনো সময়ে উনি সই করে দেবেন। ব্যাপার হলো যে ওঁর সচিব ছিলো না ধারে কাছে, তাই দরজা খুলে আমি ঢুকে পড়ে ছিলাম।”

এই সময়ে ও ইচ্ছে করে থামলো, এক ঝলক দেখলো শিন ছির দিকে, আর টের পেলো যে শিন ছি উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, ও আবার বললো, “আমি দেখলাম মিন হুয়ে কথা বলছে চেং ছিরাং-এর সঙ্গে। মনে হলো ও প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলছে। ওদের বিরক্ত করলে অসুবিধে হতে পারে, তাই আমি চলে আসি। মিন হুয়ে আমাকে পরে বলেছে যে আমি চলে আসার একটু পরেই চেং ছিরাং ওকে হেনস্থা করতে শুরু করে। কিন্তু ও কোনো সাক্ষী পায় নি, তাই ও আমার কাছে গিয়ে ছিলো যদি আমি সাক্ষী হই। আমি ভেবে ছিলাম, আমি অস্বাভাবিক কিছুই দেখি নি, তাহলে আমি কী করে সাক্ষী দেবো? এটা ‘নয় কে হয় করা’ হবে নাকি? আমি অস্বীকার করি, ও খুব রেগে যায়, ওর মনে হয় যে আমি যথেষ্ট ভালো বন্ধু নই। আমি ওকে সংকটের মূহুর্তে সাহায্য করি নি, ও আমার সাথে ঝগড়া করে, উইচ্যাটেও ব্লক করে দেয়। আসলে, আমার সাথেও খুব খারাপ ব্যাপার হয়েছে। তখন এইচআর তদন্ত করছিলো আর খুঁজছিলো কার কার সাথে কথা বলা যায়। মিন হুয়েই জোরের সাথে বলে যে আমি ওর সাক্ষী। এইচআর আমাকে অনেক ক্ষণ ধরে জেরা করে, তারপরে একটা মামলা করে, আমাকে আবার ডাকা হয়, আবার জেরা করা হয় - আমার মনের ছবি অস্পষ্ট হয়ে যায় আমার নিজের কাছেই। সত্যি বলতে কী, ওর সাথে চেং ছিরাং-এর যে রকম ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো, যদি কিছু ঘটেও থাকে, তাতে আমি অবাক হবো না। ”

“তাহলে বলা যেতে পারে যে আপনি কী মনে করেন যে চেং ছিরাং আর মিন হুয়ের এক ধরনের গভীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই ছিলো আর সত্যিই যদি কিছু ঘটে থাকে, তাতে দু জনেরই সায় ছিলো?” প্রশ্ন করলো শিন ছি।

“আমি জানি না, দুজনের মধ্যে কী হয়ে ছিলো। কিন্তু আমি জানি মিন হুয়ের স্বভাব। ও যদি কিছু চায় তো ও সেটা সোজাসুজি বলবে। আর ও সেটা আদায় করেই ছাড়বে।”

“আপনি কী বলতে চাইছেন? মিন হুয়ে কী চায়? চেং ছিরাং ওকে কিছু দেয় নি। আর সেই জন্য মিন হুয়ে যৌন হেনস্থাটা ব্যবহার করে ছিলো ওকে শেষ করে দেবার জন্য?”

“হয়তো তাই।” লিন শি য়ুয়ে  কাঁধ ঝাঁকালো, “ও তো তখন সবে কাজ করতে শুরু করেছে। কাজের জায়গাটা কী নিষ্ঠুর সেটা তখনো বোঝে না। ওর মানসিকতা প্রতিযোগিতামূলক, ও শুধু জিততে চায় ও যাই করুক না তাতে, আর বাকি সকলকে অভিভূত করে দিতে চায়। ওর মেজাজও খুব উগ্র। সমস্ত সমস্যাকে খুব সহজ করে দেখে। দুম করে কাজ করে — আমি ওকে অনেক বার বোঝাবার চেষ্টা করেছি সংযমী হতে বলেছি, আর বলেছি নিজেকে ‘এক নম্বর’ ভাবা বন্ধ করতে …”

শিন ছি কোনো কথা না বলে মন দিয়ে শুনে যেতে লাগলো।

“মিন হুয়ের কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিলো না। চেং ছিরাং-ও ওকে প্রশ্রয় দিতো খুব। কোম্পানিতে অনেক লোকের খুব হিংসে হতো মিন হুয়ের সব প্রজেক্ট সব সময়ে ছাড় পেয়ে যায় বলে। মিন হুয়ে কাজে খুব আত্মবিশ্বাসী, কিংবা কাজের ইচ্ছে খুব, সিটিও-র কৃপা ছিলো ওর ওপরে, সবাই ওর পিছনে পিছনে দৌড়োতো। হতে পারে চেং ছিরাং-এর সঙ্গে একটা ঝগড়া হয়ে ছিলো ওর তাই ও মোকদ্দমাটা করে ছিলো রাগের মাথায়, কিন্তু ও আশা করে নি যে ব্যাপারটা ক্রমশ খারাপ হয়ে যাবে … তার ওপরে তখন ওর মাও ভীষণ অসুস্ত। ওর মনের অবস্থা ঠিক ছিলো না। তখন যে ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবে সেটা খুবই স্বাভাবিক। ছোটো করে বলতে গেলে, মিন হুয়ে মেয়ে খারাপ নয়, কিন্তু ও জানে না যে কাজের জায়গাটা সুন্দর নুয়, পরিষ্কার নয়, ন্যায্য বিচারের জায়গা নয় যেমনটা ও ভেবে ছিলো, কিছু জিনিস ঘটবেই যা কিছুতেই এড়ানো যাবে না, তাই নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের প্রতিক্রিয়া দেওয়া চলে না, না হলে আমাদের তার ফল ভুগতে হবে …”

সচিব দরজায় টোকা দিলো, এলো, বললো, “চেন জঁ আপনার সাথে কোনো একটা বিষয়ে কথা বলতে চান।”

“ছিং আসতে বলুন।” শিন ছি উঠে দাঁড়ালো, লিন শি য়ুয়ে -কে দরজা অবধি এগিয়ে দিলো। আর বললো হালকা চালে, “শিয়া শিয়া, আমাকে এতো বিশদে বলার জন্য।”



ঘাড় নেড়ে চলে গেলো লিন শি য়ুয়ে আর ধড়ফড় করে ঢুকল চেন য়ুআঁ। চেন য়ুআঁ বিবিজির এসিয়া প্যাসিফিক বিভাগের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের অধিকর্তা। ইংরেজিতে তাকে ফ্র্যাঙ্ক বলে ডাকা হয়। ও এক গোছা কাগজ ধরে আছে হাতে, “ইথান, এটাই বিবিজি আর গুয়ান ছাও-এর বিনিয়োগ সমঝোতার চুক্তি। আমি এর মধ্যেই জোগাড় করেছি -”

শিন ছি নিজের হাতে উল্টে পাল্টে দেখছিলো কাগজগুলো। তারপর হঠাতই সব কাগজ সরিয়ে রাখলো, আর ফিসফিসিয়ে বললো, “ফ্র্যাঙ্ক, আমি আশা করি যে তুমি একটা কারণ খুঁজে বার করবে যাতে আর তিন মাসের মধ্যে লিন শি য়ুয়ে বিবিজি ছেড়ে চলে যায়।”

চেন য়ুআঁ এক মূহুর্তের জন্য চমকে গেলো, তারপর জানতে চাইলো, "কেনো? ও তো ভালো কাজ করছে এখানে।”

“তাই তুমি সরাসরি পারবে না। তোমাকে একটা কারণ খুঁজে বার করতে হবে ওকে ছাড়িয়ে দেবার জন্য।”

“কিন্তু -”

“আমি তোমাকে তিন মাস দেবো একটা কারণ খুঁজে বার করার জন্য, সেটা কী যথেষ্ট নয়?”

“নিশ্চয়ই যথেষ্ট, ইথান, তুমি যাকেই চাইবে তার ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য একটা দিনই যথেষ্ট।”

“আমাকে যদি কাজটা করতে দাও, এক দিনই যথেষ্ট। কিন্তু ওকে কাজ দিয়ে ছিলে তুমি, তাই তোমাকে আমি সময় দিলাম ব্যাপারটা সাঙ্গ করার জন্য।”

“ওকে।" চেন য়ুআঁও কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞ। শিন ছির কড়া সুর শুনে ও বুঝে গেলো যে এর পেছনে নিশ্চয়ই গভীর কোনো কারণ আছে। ও হয়তো আরো খানিক শব্দ খরচা করে তর্ক করতে পারতো, কিন্তু ও মাথা নেড়ে সায় দিলো, “তাহলে তুমিও ঝটপট চুক্তিটা পড়ে নাও। আমাদের দিক থেকে পুঁজির বিনিয়োগ এখনো খুবই সদর্থক বলেই ধরে নেওয়া যায়।”

“বেশ, ধীরে সুস্থে করা যাক কাজটা।" বললো শিন ছি আবার, “আমাকে ভেবো দেখতে হবে আরো কিভাবে বিবিজি সহযোগিতা করবে গুয়ান ছাওয়ের সাথে।”

“ওকে।”

“আমার জানা প্রয়োজন গুয়ান ছাও-এর এখনকার শেয়ারহোল্ডার কারা আর তাদের কাদের কাদের হাতে কতো পরিমাণ শেয়ার, কার কেমন প্রভাব কোম্পানি চালানোতে এই সব বিষয় আমি বিশদে জানতে চাই। এর কিছু কী জানা আছে তোমার?”

“আছে বৈকি, আমি তোমাকে একখানা কপি ফরওয়ার্ড করে দিচ্ছি এখনই।”

“থ্যাঙ্ক ইউ।”

চেন য়ুআঁ যাওয়া মাত্র দেঁ চেন ফোন করলো, “ইথান, এই মাত্র মিন হুয়ের থেকে একটা টেক্সট মেসেজ পেলাম, ও আর বডিগার্ড চায় না আমার থেকে।”

ইয়ালু নদী

শিন ছি একটু ধাঁধায় পড়ে গেলো যেনো, "কেনো? বেজিং-এ যাচ্ছে না?”

“বডিগার্ড নিয়ে যাওয়াটা একটু বাড়াবাড়ি রকমের ভান হয়ে যাবে না?” ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসা দেঁ চেনের স্বরে যেনো কয়েক ছিটে বিদ্রুপের আভাস।

“আপনার কাছে কী ওর বেজিং-এ যাবার আর ওখানে কাজ করার জায়গার সব সময়সূচী আছে?”

“হ্যাঁ।”

“আমাকে একটা কপি পাঠিয়ে দিন।”

“অ্যাই, ও এই মাত্র একটা মোমেন্টস পোস্ট করেছে।” জানালো দেঁ চেন।

“কী আছে তাতে?”

“একটা পোস্টার ‘দ্য অ্যাভেঞ্জার্স’-এর। একটা মাত্র বাক্য, ‘ইয়ালু নদী পেরোও’, ব্যস।”

শিন ছি চা খাচ্ছিলো। শুনে ও প্রায় বিষম খেলো, “উদ্ধত, চঞ্চল। কী করতে চায় ও?”

“আমি জানি না।”

দেঁ চেনের গলায় যেনো হালকা দুশ্চিন্তার ছাপ, “একটা কথাই জানি, ওর মৃত্যু ভয় নেই, কারণ ও আগেই এক বার মরে গেছে।”




~~~~~~~~~~~~

সম্পূর্ণ বই বিনামূল্যে : https://dl.bookfunnel.com/lcj5vznt96

Link to Previous Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/10/jpda-chapter-59.html

Link to following Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/10/jpda-chapter-61.html

Friday, October 4, 2024

JPDA - Chapter 59

 ৫৯. ফুটি



যদিও সমস্ত মুখটা রক্তে ভেসে যাচ্ছে, তবুও শিন ছি মেজাজ হারালো না। গাড়ির চালকের থেকে একটা নরম কাপড়ের টুকরো নিলো আর সিটের ওপরে পড়ে থাকা কাচের টুকড়োগুলো ঝেড়ে ফেলে দিলো মেঝেতে। এক ঝলক দেখলো জানলার দিকে, বাইরে বৃষ্টির দিকে, বললো, “ভেতরে আয়, কথা আছে।”

মিন হুয়ের মাথা ভোঁ ভোঁ করছে। ও জানে না কেনো যে চেং ছিরাং-এর গাড়ির লোকটা হঠাৎ করে শিন ছি হয়ে গেলো।

একটু ক্ষণ খুব ভালো করে ভাবলো, তবে বুঝতে পারলো যে জায়গাটা কোম্পানির গেটের থেকে খুব দূরে নয়। চেং ছিরাং একটা বড়ো গ্রুপের সিইও-ও বটে। ওর পক্ষে জনসমক্ষে মিন হুয়ের পিছু নেওয়াটা অসম্ভব। হতে পারে যে ও গাড়ি নিয়ে চলে গেছে।

মিন হুয়ের অদ্ভুত অভিব্যক্তি দেখে শিন ছি বোধ হয় ওর পিছু পিছু এসেছে। দুটো গাড়িই কালো রঙের, আর ভারি বৃষ্টির মধ্যে স্পষ্ট করে দেখারও উপায় নেই …

 বাধ্য মেয়ের মতো বসলো মিন হুয়ে, শিন ছির মুখের ওপর রক্তের ফোঁটা দেখে, ওর সাদা শার্টের ওপরে দগদগ করতে থাকা রক্তের ফোঁটা দেখে অপ্রস্তুত মিন হুয়ে বললো, “দ্যুইবুচি, আমি সওয়ারি চিনতে ভুল করেছি, এখনই হাসপাতালে চল।”

বলা হয়ে গেলে, মিন হুয়ে বসে রইলো শিন ছির পাশে, কাঁধগুলো দুমড়ে আছে যেনো, ঠোঁট কামড়ে, চুপচাপ।

সত্যি বলতে কী মিন হুয়ের গায়ে খুব জোর নেই, আর ইঁটের টুকড়োর ঘায়ে যে গর্তটা হয়েছে সেটাও বড়ো নয়। কাচগুলো তৈরি করার সময় গলন্ত লোহা মেশানো আছে কাচে। যদি বাইরে থেকে ঘা দেওয়াও হয়, তাতে কাচটা কয়েক খন্ডে ভাঙার কথা। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, মানুষের শরীরে আঁচড় কাটার কথা নয় এই কাচের ভাঙা টুকড়োর। 

কিন্তু শিন ছিকে বেশ ভয়ানক দেখাচ্ছে। ভালো করে খুঁটিয়ে দেখে মিন হুয়ে বুঝলো যে অনেকগুলো ছোটো ছোটো ঘা আছে, কিন্তু সব কটা থেকে রক্ত বেরোচ্ছে গলগল করে, তাতে মনে হচ্ছে যেনো ‘পুরো মুখটা রক্তে ঢাকা’।

গাড়িতে কোনো ফার্স্ট এইড কিট নেই। শিন ছির মতে ব্যাপারটা তেমন কিছু নয়। তাই ও চালককে বললো যে একটা ওষুধের দোকানে যেতে যেখানে ও ব্যান্ড-এইড কিনে নিলো। সঙ্গে নিলো চিকিৎসায় ব্যবহারের অ্যালকোহল, ক্ষতগুলো পরিষ্কার করার জন্য। তারপর একে একে ক্ষতগুলোতে ব্যান্ড-এইড এঁটে দেওয়া হলো।

মিন হুয়ে একটা ভিজে টিস্যু দিয়ে শিন ছির মুখের বাকি রক্ত মুছিয়ে দিলো। মুখটা পরিষ্কার হয়ে গেলো। কিন্তু খানিক পরে ব্যান্ড -এইড ছাপিয়ে আবার রক্ত গড়াতে লাগলো, পড়তে লাগলো ফোঁটা ফোঁটা করে।

“রক্ত বন্ধ হচ্ছে না কেনো?”

উদ্বিগ্ন স্বরে বললো মিন হুয়ে, “দশ মিনিটের বেশি হয়ে গেলো, তোর একটা হাসপাতালে যাওয়া উচিৎ। ক্ষতগুলো ভালো করে পরিষ্কার করা দরকার। ওগুলোতে কাচের টুকড়ো থেকে যেতে পারে।”

“আমি রোজ অ্যান্টিকোয়াগুলান্ট খাই। রক্ত বন্ধ হতে সময় লাগবে।" বললো শিন ছি, “কিন্তু বন্ধ হবে। চিন্তার কিছু নেই।”

মিন হুয়ে বসে ছিলো শিন ছির পাশে, লজ্জায়, হতাশায়। ভাবছিলো যে মিন হুয়ে উইচ্যাটে ব্লক করে রেখেছে শিন ছিকে, তাই শিন ছির এতো কাছে বসাটা ঠিক নয়। তাই ও জানলার ওপরে হেলে রইলো শক্ত হয়ে। 

শিন ছি তখনো একই জায়গায় বসে আছে যেখানে জানলার কাচটা ভেঙে পড়ে ছিলো। বাইরে থেকে বৃষ্টির ছাট এসে পড়ছে। ওর স্যুটের অর্ধেকটা ভিজে গেছে। কলারে রক্ত লেগে, ওকে অপ্রস্তুত দেখাচ্ছিলো।

মিন হুয়ের নিজের অবস্থা যে খুব সুবিধের তা নয়। ওর চুলগুলো মাথার পেছিনে নুটি নুটি হয়ে জড়ো হয়ে আছে। তার থেকে সমানে জল পড়ে চলেছে।

“আমি সব সময়ে ভেবেছি যে তোর মেজাজ আমার থেকে শান্ত, কিন্তু আমি কখনো ভাবি নি যে রাগলে তুই এমন ভয়ানক হয়ে উঠিস।”

“...”

“তুই বললি যে তুই গাড়ির সওয়ারি চিনতে ভুল করেছিস, আমাকে তুই কে মনে করে ছিলি?”

“... চেং ছিরাং।”

শিন ছি চোখ সরু করে দেখতে লাগলো মিন হুয়েকে, এক মুহুর্ত, তারপরে বললো, “তুই যদি বলতে চাস যে ওর সাথে তোর কী হয়েছে, আমি শুনতে পারি।”

মিন হুয়ে মাথা ঝাঁকালো, “আমি বলতে চাই না, জোর করিস না।”

শিন ছির ফোন বেজে উঠিল। পকেট থেকে একটা ওষুধের বোতল বার করে মুখে একটা বড়ি ঢেলে দিলো, গিলেও ফেললো, বললো, “যা হোক, তুই যে ওকে ঘেন্না করিস, সেটা আমি বুঝতে পারছি।”

“...”

“কিন্তু একটা কথা আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না। তুই যদি ওকে এতো ঘেন্নাই করবি, তাহলে তোকে গুয়ান ছাওতে ফিরে যেতে হলো কেনো কাজ করার জন্য?”

অজান্তেই, ওর গলার স্বরে বিদ্রুপ মিশে গেলো, “কেনো, জুতো বেচছিস না? তুই তো তুই সুখে ছিলিস, তাই না?”

“চেং ছিরাং আমাকে হুমকি দিয়েছে যে ও আমার টিমের বাকিদের ছাঁটাই করবে।”

মিন হুয়ে থেমে গেলো, ও দেখতে পেলো যে শিন ছি ব্যাপারটা বুঝেছে বলে মনে হয় না। তারপর শিন ছি প্রশ্ন করলো, “জিএস১.০-এর কাজ?”

“চিন্তা করিস না, এখনো সময় হয় নি। অনেকগুলো লোকের একটা না একটা ঝামেলা আছে বাড়িতে। ওদের দরকার আছে লাগাতার রোজগারের। তাছাড়া জিএস প্রজেক্টটা কেবল আমরাই বানিয়েছি। আমরা এটাকে আরো সম্পূর্ণ করতে চাই ভার্সান আপগ্রেড করে। আমি অনেকগুলো ধারণা আর সমাধান ভেবেছি। আমি যদি এখন ছেড়ে দি, তবে এটা অন্যদের হাতে পড়বে। আর আমিও ভাবতে পারি না তাহলে এটা কেমন দাঁড়াবে শেষ পর্যন্ত। হয়তো এটা ধ্বংস হয়ে যাবে, অথবা এটাকে সরিয়ে দেওয়া হবে অন্য কোনো প্রোডাক্ট দিয়ে। আমি চাই না এটার শেষ অমন করে হোক।”

“তাহলে তুই লোককে কেবল পাথর ছুঁড়ে মারিস?”

শিন ছি মাথা নাড়লো, “ভাগ্যক্রমে, আমি ছিলাম, যদি আমার জায়গায় ও থাকতো, তবে তুই জেলে যেতিস, জানিস তো?”

“বুঝেছি।”

“সামনে একটা মল আছে। গিয়ে জামা কিনে নে। তোর জামাকাপড় ভিজে সপসপ করছে।” বললো শিন ছি।

মলটা বিনচেং-এর সমস্ত কেনাকাটার জায়গার মধ্যে সব চেয়ে খরচ সাপেক্ষ। ওখানে প্রচুর আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ডও আছে। মিন হুয়ে ভালোই বাসে জামাকাপড় সাজগোজের জিনিস কিনতে, তবে ওর নজর শুধু জিনিসিটা কেমন দেখতে তার ওপরে, তাই এই মলে ও কোনো দিন আসে নি।

একবার ওর জন্মদিনে ঝৌ রু জি ওকে কয়েকটা জামা আর জুতো কিনে দিয়ে ছিলো এখান থেকে কারণ ও জানতো যে মিন হুয়ে বেশি খরুচে নয় আর ওকে দামও বলে নি জামাজুতোর।

একবার একটা ক্রিসমাসের অনুষ্ঠানের জন্য, সাও মু ওকে ধরে এনে ছিলো এখানে। মিন হুয়ে ছোট্টো একটা ব্যাগ কিনে ছিলো গুচির। তারপর অনেক দিন অবধি সাও মু ওকে নিয়ে মজা করেছে কারণ সাও মু অন্তত দুটো ব্যাগ তো কেনেই প্রতি বছরে।

“দরকার নেই।” ধড়ফড় করে বললো মিন হুয়ে, “বাড়ি গিয়ে বদলে নেবো।”

“আমার জামাও নোংরা হয়ে গেছে।”

বললো শিন ছি, “চল রাতের খাবার মলেই খাই। আর আমি ড্রাইভারকে বলি গাড়িটা বদলে আনতে, তারপরে আমাদের নিয়ে ফিরবে আবার।”

“আজ তো তোর দেখা করার দিন, তাই না?”

ঘাড় নাড়লো মিন হুয়ে।

“সু ছনের আঁকার লাওশি একদল বাচ্চাকে নিয়ে একটা শিল্প প্রদর্শনীতে গেছেন। তাই সু ছন আটটা পর্যন্ত ফিরবে না।”

মিন হুয়ে বাধ্য চোখে শিন ছির রক্তমাখা কলারের দিকে তাকালো, ওর নিজেকে বড়ো অপরাধী লাগলো, ঘাড় নেড়ে বললো, “চল, দোকান বাজারও করি। আমি কিন্তু তোকে একটা সাদা শার্ট কিনে দেবো।”

****

মিন হুয়েকে নিয়ে শিন ছি সোজা গেলো ডায়র-এ।

মিন হুয়ে জানতো যারা ফিনান্সে কাজ করে তারা নিজেদের জামাকাপড়ের ব্যাপারে খুব মনোযোগী। তাই মিন হুয়ে ধাক্কাটা হজম করে নিলো আর চললো শিন ছি সঙ্গে সঙ্গে।

উৎসাহ নিয়ে একজন মহিলা কর্মী এগিয়ে এলেন, “আপনাদের দুজনের, কোনো সাহায্য লাগবে?”

“আমি ওঁকে একটা সাদা শার্ট কিনে দিতে চাই।" মিন হুয়ে বললো শিন ছিকে দেখিয়ে, “যেমনটা পড়ে আছেন ঠিক তেমনটা।”

শিন ছি জুড়ে দিলো, “আমার ঠিক এই স্টাইলটাই চাই।”

বলা শেষ করেই শিন ছি স্যুটের জ্যাকেটটা খুলে ফেললো, মহিলা কর্মী সেটা নিয়ে বললো, “এটা তো ভিজে গেছে। আমি কী এটা আপনার জন্য ইস্ত্রি করে শুকিয়ে আনবো?”

“ঠিক আছে, ধন্যবাদ।”

মহিলা কর্মী অন্য আরেকটি মেয়েকে স্যুটের জ্যাকেটটা দিয়ে দিলেন। ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন, “আপনি যে ধরনের সাদা শার্ট পরে আছেন সেটা আমাদের কাছে আছে। আমি কী একই সাইজে আনবো?”

“বেশ, আপনি তবে এঁর জ্ন্য কিছু জামা আর জুতো দেখুন।" বললো শিন ছি।

“ঠিক আছে।" বললেন সুশিক্ষিত মহিলা কর্মী, তাঁর সশ্রদ্ধ আচরণে কোনো চাটুকারিতা নেই, “আপনার চেহারা তো দারুন, ফুরেঁ। আমাদের এখানে গোলাপ ছাপা স্কার্ট আছে। ওঁকে বেশ মানাবে।”

মিন হুয়ে বাঁ দিক থেকে ডান দিকে তন্ন তন্ন করে দেখে তবে একটা পছন্দ করলো। একটা সুতি আর লিনেন মেশানো টি-শার্ট নিলো আর একটা ছাপা লম্বা স্কার্ট, কোনোটার ওপরেই দাম কিছু লেখা ছিলো না। মনে মনে মাপলো মিন হুয়ে, যেটা সব থেকে সস্তা বলে মনে হলো, সেটা নিলো। দোকানের কর্মীর জোরালো সুপারিশে এক জোড়া জুতোও নিলো, এই ভাবতে ভাবতে যে একমাস আগে যে বড়োসড়ো বোনাসটা পেয়েছে সেটা তো খরচাই হয় নি, ও নিজেকে কিছু পুরস্কার দিতেই পারে।

ফ্রন্ট ডেস্কে গিয়ে মিন হুয়ে ব্যাঙ্ক কার্ড বার করে যেই দাম দিতে যাবে, অমনি সোজাসুজি শিন ছি বললো, “আমি দেবো।”

“না, না, আমি দেবো।" শিন ছির হাতের কার্ডটা ফের ওর হাতের মধ্যে গুঁজে দিলো মিন হুয়ে।

মিন হুয়ে দাম দেবার জন্য যেরকম জবরদস্তি করছিলো তা দেখে শিন ছি আর দোকানের কর্মী দুজনেই চমকে উঠলো।

মিন হুয়ে একটা গভীর শ্বাস নিলো। খুব তুচ্ছ দেখতে জিনিসগুলোর দাম দাঁড়ালো আশি হাজার য়ুঁআরো বেশি …

“তুই যদি আমাকে একটা সাদা শার্টই দিবি, তাহলে শুধু শার্টটার দামটাই দে।" উপায় না দেখে বললো শিন ছি।

শার্টটা - শুধু একটা শার্টই - সাত হাজার য়ুঁআরো বেশি। ঠিক আছে? মনে মনে বিড় বিড় করলো মিন হুয়ে, কিন্তু মুখে বললো, “দরকার নেই! আমি ঠিক পারবো দিতে। আমাকে গতমাসেই একটা বড়ো বোনাস দিয়েছে, আমি সেটা এখনো খরচ করি নি।”

“তেমন হলে -" ভ্রূ কুঁচকোলো শিন ছি, “আমি না হয় তোকে একটু সাহায্য করি খরচ করতে? খরচা কর, আমার এই শার্ট লাগবে এক ডজন।”

“নে তাহলে এক ডজন।”

মিন হুয়ে মনস্থির করে ফেলেছে, এই ঔদার্য্য ও শেষ পর্যন্তই টেনে নিয়ে যাবে।

দোকানের কর্মীর মুখে অপ্রস্তুত হাসি, “বু হাইসা, আমাদের কাছে এখন এক ডজন শার্ট নেই। এই সাইজে কেবল পাঁচ পিস আছে। অন্য ওয়্যারহাউস থেকে বাকিগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হবে না হয়। ছিং, একটা ঠিকানা দিয়ে যান। দু থেকে তিন দিনের মধ্যে আপনাদের দেওয়া ঠিকানায় পৌঁছে যাবে। ঠিক আছে?”

“হহ্‌।”

মিন হুয়ে ভাবছেঃ এর থেকে অনেক বেশি খরচ ও করেছে চেন জিয়া জুনের জন্য, আর শিন ছি তো সু তিয়াঁর প্রেমিক, তাহলে ওকেও সমান কদর করা উচিৎ। পয়সা বাঁচানোর কথা ভাবা যাবে না এক্ষেত্রে ও বেশ পয়সাওয়ালা লোক বলে। তাছাড়া, এখন, সু ছনের জীবনের যাবতীয় খরচ, সমস্ত কিছু শেখার খরচ, আর থাকার খরচ, সবই শিন ছি দিচ্ছে। ওকে কয়েকটা ভালো শার্ট কিনে দেওয়াই ঠিক কাজ।



মিন হুয়ে টাকাটা মিটিয়ে দিলো, ড্রেসিং রুমে গেলো। সমস্ত ভেজা জামাকাপড় বদলে নতুন জামা পরলো। বেরোনোর পরে দেখলো যে শিন ছির মুখের থেকে রক্ত ঝরা অবশেষে বন্ধ হয়েছে। নিশ্চিন্তির শ্বাস ছাড়লো দুজনেই। দুজনে তিনতলার পশ্চিমী খানার রেস্টুরেন্টে গেলো হাতে ব্যাগ নিয়ে।

রেস্টুরেন্টের ব্যবসা ওরা খারাপ করতে চায় না। ভেতরে বেশি খদ্দের ছিলো না। খাবার দিতে বলার দশ মিনিটের মধ্যেই খাবার সব এসে গেলো।

দুজনেই স্টেইক চেয়ে ছিলো, চুপ করে খেতে লাগলো, শুধু ছুরিতে মাংস কাটার শব্দ হচ্ছিলো। 

“জানিস তো,” হঠাৎ যেনো কিছু মনে পড়ে গেলো শিন ছির, বলতে লাগলো মাংসের টুকরোটা সসে চোবাতে চোবাতে, “আমি তোকে আর জিয়া জুনকে এক বাক্স ফুটি পাঠিয়েছি। দিন দুয়েকে পৌঁছে যাবে। খেয়ে দেখিস।”

ফুটি


মিন হুয়ে অবাক হলো। এটাই ফুটি খাবার মরশুম। ওগুলো বিক্রিও হয় বিনচেং-এর সর্বত্র। পাঠানোর কী দরকার, “তোর পাঠানো ফুটির কী কোনো বিশেষত্ব আছে?”

“আমি চাষ করেছি ওগুলো।”

মিন হুয়ে ভাবলো শিন ছি বুঝি ঠাট্টা করছে। 

“তোর কী মনে আছে মিংশুই কাউন্টিতে যখন গিয়ে ছিলাম সেই সময়টার কথা? আমি একটা ফুটির ক্ষেত দেখে ছিলাম?”

মিন হুয়ের মনে আছে, “সেতো মাত্র তিরিশ মু মানে দু হেক্টর (প্রায় একশো ঊনষাট কাঠা) বা কুড়ি হাজার স্কোয়ার মিটারের এক টুকড়ো জমি … সঙ্গে একটা দোতলা বাড়ি?”

“ওটাই। আমি কিনে নিয়েছি।”

“এটা আবার কবে হলো?”

“কয়েক বছর আগে, আমি একটা ফুটির চাষাকে কাজে রেখে ছিলাম আমাকে শেখানোর জন্য কেমন করে ফুটি ফলাতে হয়।”

ব্যাপারটা যেনো বড্ডো উদ্ভট হয়ে যাচ্ছে। মিন হুয়ে হাসি মুখে জিজ্ঞেস করলো, “কখন সময় পাস এতো এই সব করার তোর এই এতো ব্যস্ততার মধ্যে?”

“আমি তো আর রোজ যাই না। আম কয়েক জন লোককে রেখেছি জায়গাটার দেখাশোনা করার জন্য। যখন কোনো সমস্যা হয়, তখন আমি কয়েক দিন থেকে ক্ষেতে কাজ করি। ফুটিগুলো সব প্রাকৃতিক, কোনো পোকা মারা ওষুধ নেই, মিষ্টি বাড়ানোর জন্য কিছু দিই না। ছন ছনেরও ভালো লাগবে নিশ্চয়ই।”

মিন হুয়ে তাকালো শিন ছির দিকে, নিঃশব্দে হাসলো, “শিন ছি, কখনো কখনো তোকে বুঝে উঠতে বেশ কঠিন লাগে।”

“সে তো তোকেও বোঝা মুস্কিল হয়ে যায় মাঝে মাঝে।" দুম করে বলে দিলো শিন ছি, “তোকে চার বছর আগে প্রথম বার দেখি। এক রকম। যখন তোর সঙ্গে বিনচেং-এ দেখা হলো তখন অন্য রকম। এই মূহুর্তের তুই, আরেক রকম। কোন রকমটা তুই?”

“এই এখনকার আমিটাই আসল আমি। আমি বদমেজাজী। প্রেমটা সত্যি। আসলে আমরা খুব এক রকম।”

“কী করে জানলি আমার ব্যক্তিত্বটা কেমন?”

“আমি জানি না। আমি একটা কল্পনা করে নি তুই আমার সামনে যেমন আচরণ করিস তার থেকে -”

“আমি তোকে ইচ্ছে করে যতোটা জানতে দিই, তুই ততোটাই জানিস। যা আমি তোকে জানতে দিই না, সেটার কিস্যু তুই জানিস না।”

“ঠিকই। যেমন, আমি জানি না তুই কেনো ফুটি ফলাতে চাস।”

“কারণ আমার মনে হয় যে আমার জনক-জননী মা আর বাবা ফুটি চাষ করতো।”

“নাও হতে পারে তো? তোকে তো আর ফুটির ক্ষেতে কুড়িয়ে পাওয়া যায় নি।”

“আমি যখন একদম বাচ্চা ছিলাম, আমি তখন মাঝে মধ্যেই স্বপ্ন দেখতাম যে আমি ফুটির ক্ষেতে খেলা করছি।”

ওর চিন্তাগুলো অন্য দিকে বয়ে গেলো, “আসলে, অনেক আগেই তোকে আমার সন্দেহ করা উচিৎ ছিলো। সু তিয়াঁ আমার এই স্বপ্নের কথা জানতো, ও বলতো যে আমার মা-বাবা আমার মধ্যে একটা স্বপ্নের বিশ্বাস গেঁথে দিয়েছে, ওঁরা হয়তো ফুটি ফলাতেন।”

“...”

“এই কথাটা সু তিয়াঁ ডায়েরিতে লেখে নি, তাই তুই জানিস না। তুই যদি সত্যি সু তিয়াঁ হতিস তাহলে তুই ফুটির বাগানের কথা শুনে অবাক হতিস না।”

“তুই কী রক্তের একটা নমুনা পেতে চাস?" মিন হুয়ে হঠাৎ বলে উঠলো, “আজকাল ডিএনএ পরীক্ষা খুব তাড়াতাড়ি হয়। তোর জন্মদাতা মা-বাবা হয়তো এখনো তোকে খুঁজছেন, হতে পারে যে তোকে ফেলে দেন নি তাঁরা। তোর পাশে যে লেখাটা ছিলো, সেটা হয়তো জাল …”

“না।”

“একটা মানুষের জীবনে দুয়েকটা আত্মীয়স্বজন থাকা ভালো।”

“আমার সু তিয়াঁ আছে, জিয়া জুন আছে, একটা সন্তান আছে।" শিন ছির দু চোখ নরম হয়ে এলো, “স্বজন যদি কারো না থাকে সে তো তোর - তোর মা-বাবা দু জনেই মারা গেছেন, আর তোর জেদ, মেজাজ। চেষ্টা করেছিস কখনো? আরেকটু ভালো থাকার?”

“সু তিয়াঁ যদি বেঁচে থাকে তবে ও তোর কথা জেনে খুশি হবে।”

শিন ছি দীর্ঘশ্বাস না ফেলে পারলো না। 

মিন হুয়ে হঠাৎ হেসে উঠলো।

“এতো হাসির কী আছে?”

“আমরা সু তিয়াঁর কথা বললাম, কিন্তু ঝগড়া করলাম না - এমন বোধ হয় প্রথম বার হলো।" মিন হুয়ে বললো, “আজকে আমি তোকে খাওয়ালাম।”

“তার মানে আজ তুই সত্যিই পয়সা খরচা করলি।”

***



চালক গাড়িটা বদলে আরেকটা গাড়ি এনেছে, ওদেরকে ছ্যুনতাং গার্ডেন্স-এ নিয়ে যাবে বলে। অ্যাপার্টমেন্টে কেউ নেই। সু ছন তখনো বাড়ি ফেরে নি।

“আমি আগে চান করবো। কিছু মনে করবি না তো?" জানতে চাইলো শিন ছি, “আমার সারা গা থেকে রক্তের গন্ধ বেরোচ্ছে যেনো।”

“না, কিছু মনে করবো না।”

দুটো জামাকাপড় নিয়ে ও চানে চলে গেলো। একটা সাদা টি-শার্ট আর একটা ঢিলা ক্রপড প্যান্ট। ওর মুখ থেকে রক্ত বেরোনো এক্কেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু কাচ লেগে ছড়ে দাওয়ার দাগগুলো খুব স্পষ্ট।

মিন হুয়ে বললো, “বোস, তোর মুখের ক্ষতগুলোতে ব্যান্ড-এইড লাগিয়ে দি।”

যেমন কথা, শিন ছি বসলো সোফাতে, আর মিন হুয়ে ওর সামনে দাঁড়িয়ে ওর মুখটা ধরে প্রথমে একটা তুলোর টুকড়ো চুবিয়ে নিলো অ্যালকোহলে।

ক্ষত পরিষ্কার করা হয়ে গেলে, বুড়ো আঙুলের ডগার মাপে ব্যান্ড-এইড কেটে একে একে ক্ষতগুলোতে এঁটে দিলো।

দুজনে খুবই কাছাকাছি, শিন ছি একটা দারুণ গন্ধ ছড়াচ্ছে শাওয়ার জেলের। মাথার চুলের কিনারায় খুলির সাদা চামড়া অবধি দেখতে পাচ্ছে মিন হুয়ে। মিন হুয়ের আঙুলের ডগা ওর মুখের ওপর দিয়ে, ভ্রূর ওপর দিয়ে বুলিয়ে গেলো পাখির পালকের মতো হালকা চালে। হতে পারে এই জন্য যে ও কিছু সময় আগেই একটা বই পড়েছে, আর তার কালির গন্ধ লেগে আছে।

অন্য একটা কারণে মিন হুয়ে ঘামতে শুরু করলো, “শিন ছি।”

“হুঁ?”

“আমি প্রেম করতে চাই।”

“কী?”

“দয়া করে মাথায় কোনো গভীর মনস্তাত্ত্বিক বোঝা নিস না ।” , বললো মিন হুয়ে, “আমার এখন নিরাপদ কাল চলছে।”

“না।”

“আমি তোকে এই মাত্র বারোটা শার্ট কিনে দিয়েছি।”

“না।”

“তুই সু তিয়াঁকে পাস না কাছে, সেটা খুবই দুঃখের। তুই আমাকেও পাস না। তাও দুঃখের।”

“তুই ঠিক বলেছিস। সেটা দুঃখের। কিন্তু -”

শিন ছি অন্তর্ভেদী চোখে তাকালো মিন হুয়ের দিকে, “যদি আমি আমার শপথ ভুলে যাই, তবে সেটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।”




~~~~~~~~~~~~

সম্পূর্ণ বই বিনামূল্যে : https://dl.bookfunnel.com/lcj5vznt96

Link to Previous Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/10/jpda-chapter-58.html

Link to following Post in the Series : https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/10/jpda-chapter-60.html

Readers Loved