Monday, December 9, 2024

Chapter 5 - বেঞ্জামিন

 


এত কথা বলার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সব সময়ে নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টের কোটরে আটকে থাকার উপায় অ্যান্থনির মা মারিয়ারও ছিল না। মারিয়া সক্কালবেলা বাতের মলম নিয়ে আসেন আড়ত থেকে। আড়তটা সেই ঠিকাদারেরই যিনি কার্লোসকে খনিতে কাজে লাগিয়েছেন।

সেই মলমগুলো তাঁর বৌদি মার্সেলা তাঁর থেকে নিয়ে যান দুপুরে, বাড়ি বাড়ি বিক্রি করতে। সন্ধেবেলা দুজনে হিসেবের খাতা লেখেন। এছাড়াও সকালে মার্সেলা আর দুপুরে মারিয়া তোড়জোড় করেন তাঁদের খাঁটি মেহিকান খাবারের ব্যবসার জন্য নানান অর্ডারি খাবার বানানোতে।

এইসব খাবারের মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় হলো টামালে। ভুট্টার দানা সেঁকে, গুঁড়ো করে যে আটা বা ছাতু তৈরি হয়, সেই ছাতু দিয়ে বানানো খোলে ঝাল ঝাল মাংস পুরে, খোলটাকে ভুট্টার খোসায় মুড়ে ফুটন্ত জলে ভাপানো।

স্কেট বোর্ডে চেপে অ্যান্থলি অর্ডারগুলো পৌঁছে দেয়। পরিমাণে বেশি থাকলে সঙ্গে নেয় জেকবকে। সেও তার স্কুটার বোর্ডে চড়ে পাল্লা দেয় অ্যান্থনির সাথে।

নাটালিরা যে রাত থেকে অ্যান্থনিদের পাড়াতে থাকতে শুরু করেছিল, সেই সন্ধেবেলা বড়ো অর্ডার ছিল বি বাইশ নম্বর অ্যাপার্টমেন্টে। মার্সেলা আর মারিয়া দুজনে মিলে বানিয়েছিলেন অর্ডারি টামালে। অ্যান্থনি জেকবকে নিয়ে গিয়েছিল বি বাইশ অ্যাপার্টমেন্টে অর্ডারি টামালে পৌঁছে দিয়ে প্রাপ্য দাম নিয়ে আসতে। 

বি বাইশ অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে অ্যান্টনি বেল বাজিয়েছিল। ভেতর থেকে ঝমাঝম গান বাজনা আর হাসি হল্লার আওয়াজ আসছিল। একজন লম্বা চওড়া লোক মাথায় অগুণতি বিনুনি আর মুখভর্তি দাড়ি নিয়ে দরজা খুলে বলেছিলেন, হ্যাঁ বলুন, কিভাবে সাহায্য করতে পারি?

অ্যান্থনি জানতে চেয়েছিল, বেঞ্জামিন আছেন?

দরজার সামনের জটাধারি মানুষটা বলেছিলেন, আমিই বেঞ্জামিন।

তখন অ্যান্থনি জানিয়েছিল, আপনার টামালের অর্ডারটা ডেলিভারি করতে এসেছি।

এর উত্তরে হাতে ধরা ক্যানের পাশ থেকে তর্জনী তুলে বেঞ্জামিন বলে, ঐ টেবিলে নামিয়ে রাখো।

সাধারণত, খরিদ্দাররা অর্ডারি খাবার দরজাতেই নিয়ে নেন আর সেখানেই দাম মিটিয়ে দেন। ডেলিভারি দিতে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে বলাটা বেশ বেখাপ্পা আর সন্দেহজনক। অ্যান্থনি কিছু বলার আগেই বেঞ্জামিন হলের ভেতর চলে গিয়ে বন্ধুদের সাথে নাচতে লেগেছিলেন। হেসে ঢলে পড়ছিলেন আশেপাশের লোকেদের গায়ে। বাকি সবাইও কমবেশি নাচছিলেন আর ভীষণ হাসছিলেন।

হলের মধ্যে লোকজনের ভাব দেখে অ্যান্থনি আর কথা বাড়ায় নি। পায়ে পায়ে এগিয়ে টেবিলে বোঁচকা নামিয়ে রেখেছিল। তারপর অ্যান্থনি দাম চেয়েছিল বেঞ্জামিনের থেকে। বেঞ্জামিন বলেছিল, মায়ের থেকে নিয়ে নে।

বাবা কিংবা মামার বয়সী অতগুলো লোককে টলমল করে এলোমেলো নাচতে আর উচ্ছ্বাসে আবোলতাবোল বকতে দেখে, চেঁচাতে দেখে জেকব ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাচ্ছিল। অ্যান্থনি জানতে চায়, কোথায় আছেন আপনার মা?

বেঞ্জামিন জানিয়েছিল, ঘরের ভেতরে।

একমাত্র শোবার ঘরের দিকে ইতস্তত পায়ে জেকবের কাঁধ জড়িয়ে ধরে এগিয়ে গিয়েছিল অ্যান্থনি। ঘরের কোণের ক্লোসেট থেকে একটা বোঁটকা গন্ধ আসছিল।

ঘরের মধ্যে বেঞ্জামিনের মাকে না দেখতে পেয়ে অ্যান্থনি ক্লোসেটের দরজাটা খুলেছিল। আর দেখেছিল নিজের পায়খানা প্রসাবের মধ্যে একটা চেয়ারে দড়ি দিয়ে বাধা অবস্থায় বসেছিলেন এক বৃদ্ধা। তাঁর গলা থেকে একটা থলি ঝুলছে।

চোখের জলে ভাসতে ভাসতে তিনি বলেছিলেন,দামটা তুমি আমার গলায় ঝোলানো থলি থেকে নিয়ে নাও। আমার তো হাত বাঁধা। নাহলে আমি নিজেই দিতে পারতাম। তোমার টিপ বাবদ একটা ডলার রেখো, কেমন? 

বৃদ্ধার গলার থলি থেকে প্রাপ্য দামটা নিয়েছিল অ্যান্থনি। টিপ নেওয়ার কথা আর মনে ছিল না।

ঘর থেকে বেরোতেই তিনজন লোক অ্যান্থনি আর জেকবকে ঘিরে ধরে চিমটি কাটতে আর নাচতে শুরু করেছিল। তাদেরকে ফুটবল মাঠের কায়দায় ট্যাক্ল করে, অ্যান্থনি বেরিয়ে আসে কোনো মতে বি বাইশ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে।

তারপর ছুটতে ছুটতে নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে পৌঁছে তার হুঁশ ফেরে। ট্যাক্ল করার সময় থেকে হুঁশ ফেরা অবধি পুরো সময়টা সে জেকববে আঁকড়ে ধরেছিল বলের মতোই!

দম নিতে নিতে জেকবকে বলেছিল, চলো আমরা সিঁড়িতে বসি একটুক্ষণ। তারপর ভেতরে যাব।

সিঁড়ি সাধারণত খালিই থাকে। জেকব বসেছিল অ্যান্থনির গা ঘেঁসে। অ্যান্থনি কিছুতেই বুঝতে পারছিল না যে কী করা উচিৎ।

ইস্কুলে যেমন শেখান হয়েছে সেই মতো অ্যান্থনির তখন নাইন-ওয়ান-ওয়ান ডায়াল করে পুলিশে জানানো উচিৎ যে বি বাইশে কীভাবে বেঞ্জামিনের মাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল, অযত্নে, অত্যাচার করে। এমনকি তাদের দুই ভাইকেও যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল সেই কথাও।

অ্যান্থনি টের পাচ্ছিল জেকবের হৃৎপিন্ডের ভীষণ ধড়ফড়ানি। সে ভাবছিল কিকরে জেকবকে বোঝানো যায় যে যা যা ঘটেছে সেসব কথা বাড়িতে বলা যাবে না। বললেই, মায়ের কাজ আরও বেড়ে যাবে। দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যাবে। তাদের ভাইবনেদের আর কিছুতেই কোনো কাজে মারিয়া পাঠাতে চাইবেন না। মা নিজেই সব অর্ডার ডেলিভারি করার চেষ্টা করবেন।

পকেট থেকে ফোনটা বার করে অ্যান্থনি মিনিয়নের ভিডিও চালিয়েছিল। পরপর কয়েকটা ভিডিও দেখে জেকবের হৃৎপিন্ডের গতি স্বাভাবিক হতে, অ্যান্টনি নাইন-ওয়ান-ওয়ান ডায়াল করে জানিয়েছিল, আমি পাপা উয়ান পিজারিয়াতে কাজ করি। চেস্টনাট পার্ক অ্যাপার্টমেন্ট কমিউনিটির বি বাইশে অর্ডার ডেলিভারি করতে গিয়ে দেখি যে এক ভদ্রমহিলাকে শোওয়ার ঘরের ক্লোসেটে বেধে রাখা হয়েছে, অনেক দিন ধরে হয়তো।

ডিসপ্যাচার জানতে চেয়েছিলেন, আপনার নাম, স্যর? 

অ্যান্থলি খুব স্বাভাবিক স্বরে বলেছিল, জন ডো।

জেকব হাঁ করে দেখেছিল, শুনেছিল সব। বেঞ্জামিনের বাড়ির পরিবেশে সে তো ভয় পেয়েইছিল, তারপর অ্যান্থনির ফোনে সে দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল। সিঁড়ির থেকে দুদ্দাড় করে নেমে ছুটে বাড়িতে এসে মাকে সব বলে ফেলেছিল।

মা ডেকে পাঠিয়েছিলেন মামা কার্লোসকে। মামা এসে পৌঁছোনো অবধি মা চেঁচিয়েছিলেন পাড়া মাথায় করে। তিনি বারবার সক্কলকে মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন যে পুলিশকে এড়িয়ে চলাই তাঁদের পরিবারের উদ্দেশ্যতিনি বার বার বলছিলেন, সব জেনে কিনা অ্যান্থনি নিজেই ফোন করেছে পুলিশকে!

মামা তো অ্যান্থনির ফোন কেড়ে নিয়ে সেটার থেকে সিম খুলে ভেঙে ফেলে দিয়েছিলেন ডামস্টারে। ফোনটাও আছড়ে ফেলে ভেঙে ছুঁড়ে দিয়েছিলেন ডামস্টারের ওপারের মোবাইল হোম কমপ্লেক্সে।

অথচ পুলিশকে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে অ্যান্থনি বলেছিল যে সে খাবারের দোকানের ডেলিভারি বয়। পাপা উয়ান পিজারিয়া চেস্টনাটপার্ক অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের সবচেয়ে কাছের পিজা আর অন্যান্য খাবারের দোকান। পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে খুঁজলে কখনই পেত না।

পুলিশ যাতে সাক্ষী হিসেবে অ্যান্থনিকে না খোঁজে সে জন্য পুলিশকে অ্যান্থনি নিজের নাম বলেছিল জন ডো, মানে সে নিজের নাম বলবে না, নাম গোপণ রাখবে। যে কোনো অপরাধের অভিযোগ জানলে অভিযোগকারীর আইনি অধিকার আছে নিজের পরিচয় গোপণ রাখার। অর্থাৎ কোনোভাবেই সে নিজের পরিচয় পুলিশকে জানায় নি। 

কিন্তু তার মাথায় আসে নি যে বেঞ্জামিন যদি টের পায় যে সে বেঞ্জামিনের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছে তাহলে বেঞ্জামিন পুলিশকে তাদের ঠিকানা দিয়ে দিতে পারে। অ্যান্থনিদের পুরো পরিবারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সে পুলিশকে অপরাধ দমনে সাহায্য করছে বলে তর্ক করে নিজের সাজা কমিয়ে ফেলতে পারে। অন্য সব আইন মেনে চললেও, অ্যান্থনিরা তো আইন ভেঙেই ইউনাইটেড স্টেটসে বাস করছে!

তাদের মেক্সিকোতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল যেদিন তারা ইউনাইটেড স্টেটসে পা রেখেছিল তার এক সপ্তাহের মধ্যে। একসপ্তাহের বেশি ইউনাইটেড স্টেটসে থাকার অনুমতি তাদের ছিল না। তারা কোনো দিনই মেক্সিকোতে ফিরে যায় নি। অনুমতি অমান্য করে, আইন ভেঙে তারা বাস করছে অন্য দেশে। 

রাতে অ্যান্থনির দাদা হেক্টর তার দিকে চেয়ে শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিল।

অ্যান্থনি জানে না তার দাদা কেন এত চুপচাপ হয়ে গেছে। একমাত্র সকার খেলার সময় ছাড়া কখনওই দাদার গলা দিয়ে আওয়াজ বের হয় না। একবছরের মধ্যেই দাদা ইস্কুলের সকার দলের ক্যাপ্টেন হয়ে গেছে। তাও দাদার কোনো বন্ধু নেই। অন্য কেউ হলে এতদিনে সকার দলের ক্যাপ্টেনকে ঘিরে ইস্কুলের ছেলেমেয়েদের একটা চাক বেধে থাকত সবসময়।

কিন্তু হেক্টর একদম কথা বলে না। কারুর সাথেই বলে না। এদেশে আসার পর থেকেই সে এরকম চুপচাপ। কী যে হয়েছিল তার জীবনে যখন সে বাবার সাথে দেশ থেকে ইউনাইটেড স্টেটসে এসেছিল, তাও জানা যায় না!

হেক্টরকে বাবা লুকিয়ে এনেছিলেন, ঢাকা গাড়িতে, অনেক লোকের সঙ্গে। সেভাবেই তাকে পাঠিয়েছিলেন মামার কাছে। লুকোচুরির কারণে স্যান দিয়েগো থেকে স্যান গ্যাব্রিয়েল পাহাড়ের ফুটহিলস্‌ এলাকার এই শহরে আসতে, মাত্র দুঘন্টার রাস্তা পেরোতে নাকি হেক্টরের দু সপ্তাহ লেগেছিল। কিন্তু এই সময়টুকুতে সে ভয়ানক চুপচাপ হয়ে যায়।

সে মাকে ঘরের কাজে, মামাকে বাইরের কাজে, যখন যেমন ডাক পড়ে সাহায্য করে। তা বাদে পড়াশোনা করে। ওর দেখাদেখি নিনাটাও তাই করে। তবে নিনার কিছু বন্ধুবান্ধব আছে, গানের দল আছে, নাচের দল আছে। কিন্তু নিনাও কথা কম বলে আর সারাক্ষণ পড়াশোনা করে। 

পুলিশে ফোন করার মতো ভুল কাজ করার ভয়ানক রাতে, মায়ের বাড়ি মাথায় করা চীৎকার থামতে, মামার ধমক শেষ হলে, নিনা বিড়বিড় করে বলেছিল, ভেবে রাখ, ইস্কুলে গিয়ে পুলিশ কথা বলতে চাইলে কী বলবি।

নিনা অ্যান্থনির থেকে বয়সে ছোটো হলেও পড়ে একই ক্লাসে। ওর বুদ্ধি বেশি কিনা তাই নিয়ে সবাই সন্দেহ করে। আবার সবাই নাকি এও জানে যে নিনা সবসময় একদিন এগিয়ে ভাবে। 

সেই রাতে সব্বাই ঘুমিয়ে পড়ার পর অ্যান্থনির কেবল মনে পড়ছিল ঘন বিনুনিবাধা মাথার নিচে দাড়ি গোঁফের ফাঁক দিয়ে জ্বলতে থাকা চোখদুটো। এই প্রথম তার ভয় করছিল যে তার কৃতকর্মের শাস্তি বাড়ির সক্কলকে পেতে হবে। বিশেষত রেনালদোর অনুপস্থিতিতে এরকম একটা ঘটনা ঘটল; এর জেরে হয়তো তাদের সব্বাই মেহিকোতে ফেরত পাঠিয়ে দেবে ইউনাইটেড স্টেটস্‌-এর সরকার। মেহিকোতে গেলে তারা সব্বাই গাছতলাতে থাকতে বাধ্য হবে!  রেনালদো যে বাড়ি, জমি সব বেচে দিয়েছেন সোনোরাতে।

অ্যান্থনিরা পাঁচ ভাইবোন আর মা মেহিকোতে চলে গেলে, রেনালদো হয়তো ইউনাইটেড স্টেটসে পৌঁছে একা থাকতে বাধ্য হবেন। তাঁর সাথে মারিয়ার আর ছেলেমেয়েদের হয়তো আর কোনোদিনই দেখা হবে না।

ভোররাতে ঘুমিয়ে পড়ার ঠিক আগে অ্যান্থনি ভেবে নিল যে কেউ জিজ্ঞেস করলে সে বলে দেবে যে সে কিছু জানেই না।

কয়েকদিন পর লন্ড্রি যাতায়াতের পথে নিনা বেঞ্জমিনের মুখোমুখি হয়েছিল। বেঞ্জামিন নিনার কব্জি ধরে বলেছিল, আমি কিন্তু পুলিশকে তোদের সব কথা বলেছি।

নিনা সে কথা অ্যান্থনিকে ছাড়া বাড়ির আর কাউকে বলে নি।  আবার অ্যান্থনিকেও কেউ কিছু জিজ্ঞেস করে নি।

অ্যান্থনি অনেকবার ভেবেছিল যে কেন তাকে নয়, কেন নিনাকে ধরেছিল বেঞ্জামিন। বেঞ্জামিন কী তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে? নাকি তাকে চটাতে চাইছে যাতে চটে গিয়ে সে বা তাদের বাড়ির কেউ বেঞ্জামিনের ওপর চড়াও হওয়ার মতো অন্যায় করে। আর বেঞ্জামিন দুম করে পুলিশ ডাকতে পারে যাতে তারা পুলিশের নজরে পড়ে যায়।

ব্যাপারটা স্পষ্ট করে বোঝার জন্য একদিন খেলার ছলে অ্যান্থনি বেঞ্জামিনের বারান্দায় ফুটবলটা শুট করেছিল। তারপর একটু অপেক্ষা করেছিল যদি বলটা কেউ নিজেই দেয়।

না, কেউ দেয় নি। তখন অ্যান্থনি ডোরবেল বাজিয়েছিল। বেঞ্জামিন দরজা খুলেছিল। অ্যান্থনিকে দেখে সে কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছিল। অ্যান্থনিই বলেছিল, বলটা দেবেন, প্লিজ? ওটা আপনার বারান্দায় পড়ার জন্য দুঃখিত।

দরজাটা খুলে রেখেই বেঞ্জামিন চলে গিয়েছিল বারান্দায়; আর কাঁপা হাতে বলটা অ্যান্থনিকে ফেরত দিয়ে ক্যাঁচ করে দরজাটা ভেজিয়ে দিয়েছিল। অ্যান্থনি কেমন যেন টের পেল যে ওকে ভয় পেয়েছে বেঞ্জামিন। সে রাতে নিনাকে অ্যান্থনি জানিয়েছিল, বেঞ্জিকে নিয়ে বেশি মাথা ঘামানোর দরকার নেই। লোকটা বেশ ভিতু।

নিনা বলেছিল, তবু সজাগ থাকাই ভালো।

অ্যান্থনি অস্বীকার করে নি। কিন্তু তারপর থেকে যতবার ও বেঞ্জামিনের মুখোমুখি হয়েছিল প্রত্যেকবার ও বেঞ্জামিনের চোখে চোখ রেখে বলেছিল, হেলো, হাউ ইস ইট গোয়িং?

প্রত্যেকবারই বেঞ্জামিন চোখ নামিয়ে উত্তর না দিয়ে চলে গিয়েছিল। তাতে অ্যান্থনি বুঝতে পেরেছিল বেঞ্জামিন লোকটা ভিতু এবং জেনে বুঝে অন্যায় করে, অন্যায় করে ধরা পড়ে গেলে আবার প্রবল ভয় পায় আর হেরো লোকের মতো কষ্ট পায়। খুব শিগগিরই অ্যান্থনি নিনার কাছে কবুল করে ফেলে, লোকটা বেশ বাজে লোক।

ইয়ারা আর জেকবের কাছে পুলিশের হেলিকপ্টার বেঞ্জামিনকে খুঁজছে শুনে ওরা একটু আশ্বস্ত হয়েছিল। অ্যান্থনির ফোনের কারণে না হোক আরও অন্য কোনো কারণে পুলিশ নিশ্চয় বেঞ্জামিনকে ধরে নিয়ে যেতে চায়। পুলিশ বেঞ্জামিনকে ধরে নিয়ে গেলেই পাড়াতে একটা বিপজ্জনক অপরাধী কমে যাবে।


~~~~~~~~~~

Read at your own pace. On Browser the whole book FREE OF COST from this link. সম্পূর্ণ বই নিজের গতিতে পড়ার জন্য ইন্টারনেট ব্রাউজারে বিনামূল্যে এই লিঙ্ক থেকে : https://read.bookfunnel.com/read/9cq7a4tl7h
Read at your own pace. On Browser or Download the whole book FREE OF COST from this link. সম্পূর্ণ বই নিজের গতিতে পড়ার জন্য ইন্টারনেট ব্রাউজারে বা ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে বিনামূল্যে এই লিঙ্ক থেকে : https://dl.bookfunnel.com/9cq7a4tl7h
~~~~~~~~~~~~~
Link to Previous Post আগের পোস্ট: https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/12/chapter-4.html
Link to Following Post পরের পোস্ট: https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/12/chapter-6.html

Sunday, December 8, 2024

Chapter 4 - নতুন দেশ

 


একদিন সন্ধেবেলা খেলাধূলো থামার পরে নাটালি আর অ্যাশলি বসেছিল দোতলায় ওঠার সিঁড়িটার ওপর। এডউইন একটা অনাথ বেড়ালকে বাড়িতে থাকতে দিয়েছিল। সেই বেড়ালটা বাড়িটা নোংরা করে দিয়ে পালিয়ে গেছে। ফলে সারা বাড়ির জিনিসপত্র ঠেলে সরিয়ে উল্টেপাল্টে এডউইন বাড়ি পরিষ্কার করছে।

নাটালি অ্যাশলিকে বলছিল তাদের ইয়োসিমিটি ন্যাশনাল পার্ক দেখার গল্প। সে যখন খুব ছোটো, প্রায় অ্যাশলির মতো তখন শেষবার বাবা, মা, মাসি, দিদি আর দাদার সাথে নাটালি গিয়েছিল ইয়োসিমিটিতে। প্রত্যেক গ্রীষ্মে জুন মাস থেকে অগাস্ট মাস যখন ইস্কুল বন্ধ থাকে সে সময় তারা ভাইবোনেরা বেড়াতে যেত, আরভিতে চেপে।

অ্যাশলি কখনও কোনো আরভি চড়ে নি। দেখেছে, দিদিমার বাড়িতে পার্ক করা অবস্থায়, আর ছবিতে, তার বাবা-মায়ের যে আরভি ছিল সেইটা। নাটালি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিল যে আরভি ঠিক কী, “আরভি মানে রেসিডেন্সিয়াল ভেহিক্ল, যাতে থাকা, খাওয়া বা শোওয়া যায়।" 

কোনো কোনো গ্রীষ্মে দিদিমার আর বাবা-মায়ের দুটো আরভি নিয়ে সবাই মিলে যেতেন ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কে কিংবা লেক পাওয়েল ন্যাচারাল প্রিসার্ভে। নয়তো দুটো দলে ভাগ হয়ে লেক মিইড-হুভার ড্যাম কিংবা স্যালটন সি যাওয়া হতো।

কিন্তু অ্যাশলির কোত্থাও যাওয়া হয় নি। ওকে নিয়ে বাড়ির থেকে অনেক দূরে যাওয়া যায়, ক্যাম্প করে থাকা যায়, ওর তেমন বয়স হতে হতে মিগেইলের সাথে সরকারের মোকদ্দমা শুরু হয়ে গেল। তবে ওকে নিয়ে টেরেসা গিয়েছিলেন রোস বোওলে, ফোর্থ অফ জুলাই, ইউনাইটেড স্টেটসের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপণের আতসবাজির উৎসবে। 

সেদিন নানান শহরে আতসবাজির উৎসব হয়। রোস বোওল বা হলিউড বোওলে আতসবাজির উৎসব দেখতে হয় টিকিট কেটে। টিকিটের অনেক দাম।

টেরেসা কোনো একটা অনুষ্ঠানে ভলান্টিয়ারি করে দুটো টিকিট পেয়েছিলেন। প্রিসিলা, এডউইন, নাটালি সব্বাই চেয়েছিল অ্যাশলি যাক। আর তারা বসে বসে গল্প করেছিল তিন বছর আগে বাবার সাথে অ্যারক্যানসয়ের বেন্টনভিলে কী দারুণ আতসবাজির উৎসব দেখেছিল তারা তাই নিয়ে।

সেখানে মিগেইল গিয়েছিলেন তাঁর এক বন্ধুর নিমন্ত্রণে। অ্যাশলি ছোটো সে যায় নি, তাকে নিয়ে ভেরোনিকা ছিলেন পোমোনাতে।

বেন্টনভিলের আতসবাজির উৎসব দেখতে টিকিট লাগে না। খোলা মাঠে সব্বাই নিজের নিজের কম্বল আর চেয়ার পেতে বসে অর্কেস্ট্রা শোনেন। তারপর রাত আটটায় শুরু হয় আতসবাজির উৎসব।

সেখানে যেমন চোখ ধাঁধানো আতসবাজির খেলা দেখেছিল তিন ভাইবোন তার সঙ্গে তুলনা চলে কেবলমাত্র রোস বোওল আর হলিউড বোওলের। স্যান দিয়েগোর ওয়াটার ফ্রন্টেও তারা দেখেছে আতসবাজির উৎসব। তাই তারা অকপটে তুলনা করছিল নানান শহরে ফোর্থ অফ জুলাই পালনের উৎসবের জাঁকজমক কেমন তাই নিয়ে।

বেন্টনভিলের উৎসবের কথায় প্রিসিলা বলেছিল, আমি নায়াগ্রাতেও অমন সুন্দর ফোর্থ অফ জুলাইয়ের উৎসব দেখিনি!

এডউইন আর নাটালি ভেঙচি কেটে বলেছিল, আমরাও দেখব, তখন তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাব না।

তারপর অবশ্য কবে কী করে নায়াগ্রা যাবে দুজন সেই পথে আলোচনা গড়িয়ে গিয়েছিল। 

গল্প করতে করতে অ্যাশলি একসময় ঘরে ঢুকে পড়েছে। ভেরোনিকার কাছে বসে পড়তে শুরু করেছে। নাটালি সিঁড়িতেই বসেছিল নিজের স্মৃতির অথই সমুদ্রে ডুবে। এমন সময় তার নজরে এলো উল্টোদিকের সিঁড়িতে বসে আছে ইয়ারা আর রায়ান।

রায়ান পাড়াতেই থাকে। ইয়ারার বয়সী প্রায়। মাঝে মাঝে সে খেলতে আসে ইয়ারার সাথে। এমন সময় ইয়ারাদের অ্যাপার্টমেন্টের ঠিক ওপরতলার অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা গোল ভুঁড়িওয়ালা ভদ্রলোক পিঠে ল্যাপটপ ব্যাগ নিয়ে হাজির হলেন সিঁড়ির সামনে। তাঁর ল্যাপটপ ব্যাগটা দেখাচ্ছে একটা বোঝার মতো।

তিনি কিছু বলার আগেই রায়ান জিজ্ঞেস করল, তুমি কী স্যান্টা ক্লস?

ভদ্রলোক ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে আমতা আমতা করছিলেন। তখন ইয়ারা জিজ্ঞেস করল, তুমি আমাদের জন্য কী গিফ্‌টস এনেছো?

ভদ্রলোক ততক্ষণে সামলে নিয়েছেন। একগাল হেসে বললেন, এ ভেরি গুড ইভনিং।

রায়ান সে উত্তরে খুব খুশি হলো আর বলল, ধন্যবাদ।

ইয়ারাও বলল, ধন্যবাদ।

তারপর ওরা ভদ্রলোককে রাস্তা ছেড়ে দিল।

কিন্তু এই ভিনদেশি অপরিচিত ভদ্রলোকের সাথে এত মস্করা করার ফল ভাল হয় নি। ইয়ারাকে তার মা প্রবল বকুনি দিলেন, প্রবল জেরা করলেন যে সে কী কী বলেছে ভদ্রলোককে, আর পই পই করে মানা করলেন যে ইয়ারা যেন কোনো অচেনা লোকের সাথে কথা না বলে।

ইয়ারা শুধু মিন মিন করে বলার চেষ্টা করল যে, কথা তো রায়ান বলছিল, আমি তো সঙ্গে ছিলাম।

ততক্ষণে রায়ান গায়েব হয়ে গেছে ইয়ারার পাশ থেকে। অ্যান্থনি এসে ইয়ারাকে মায়ের বকুনি থেকে বাঁচাল। বলল, তুমিই তো নিনাকে পাঠিয়েছিলে ভদ্রলোকের বাড়িতে, ওঁর স্ত্রীকে বই দিতে। অপরিচিত কোথায়? তোমার পরিচিত তো!

তাতে অবশ্য মা ধমকে উঠেছিলেন, অ্যান্থনি! 

ইয়ারা জড়িয়ে ধরেছিল অ্যান্থনিকে।

অ্যান্থনি মায়ের ধমক খেতে অভ্যস্ত। বিশেষত ইয়ারা আর জেকবের ভাগের বকুনি সে সব সময়েই যেচে নিজের ওপর নেয়। এ জন্যও তাকে অনেক বকুনি খেতে হয় দাদা হেক্টরের থেকে।

আবার অ্যান্থনির বকুনি নিজের দিকে টেনে নেয় হেক্টর। কিন্তু নিনা কিংবা হেক্টর কখনওই বকুনি খায় না। ওরা যেচে মায়ের লন্ড্রি করে দেয়। হেক্টর ভাজ করা ঠেলা গাড়ি করে জামা কাপড় লন্ড্রিঘর অবধি পৌঁছে দেয়, নিনা বয়ে দেয় সাবান, স্কেট বোর্ডে চড়ে। ওরা দুজনেই কাচা কাপড় ড্রায়ারে দিয়ে দেয়। শুকনো কাপড় ড্রায়ার থেকে বের করে নিয়ে আসে।

আসলে কাপড় কাচার দিনে আর কোনো কাজ করা যায় না। সারাদিন দফায় দফায় সারা বাড়ির সব্বার কাপড় কাচা চলে। সব্বাই মানে মা মারিয়া, হেক্টর, অ্যান্থনি, নিনা, জেকব আর ইয়ারা।

তবে অ্যান্থনিও বাড়ির কাজ করে দেয় অনেক। যেমন তার মা মারিয়া আর মামি মার্সেলা মিলে যেসব খাবার বানান সেগুলোর ডেলিভারি করে অ্যান্থনি, অ্যাপার্টমেন্ট পাড়ার মধ্যেই। তাছাড়া মামা কার্লোস যে সব রিসাইক্লেবেল জিনিস জড়ো করেন সেগুলো বাছাইয়ের কাজও করে সে হেক্টরের সাথে।

অ্যান্থনির মামা-মামী একই পাড়ার অন্য একটা অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন। বছর তিনেক আগে মামা এসেছিলেন ইউনাইটেড স্টেটসে ইমারতী কাজের মজুর হয়ে, মেক্সিকো থেকে। তখন মেক্সিকোর তিহুয়ানা আর ইউনাইটেড স্টেটসের স্যান দিয়েগো শহর মিলে পাল্লা দিয়েছিল অলিম্পক গেমসের আয়োজক হওয়ার দৌড়ে।

অলিম্পিক গেমসের উপযুক্ত স্টেডিয়াম, অ্যারেনা, বানানোর জন্য প্রচুর ইমারতী কাজ হচ্ছিল দুই শহরে। অলিম্পিক্সের জন্য শহরে জড়ো হওয়া মানুষদের থাকার জন্য হোটেল, ঘর, বাড়ি, রাস্তা, সেতু, পার্ক এইসবও তৈরি হচ্ছিল। সারা ইউনাইটেড স্টেটস্‌ থেকে ইমারতীর মজুর আনা হয়েছিল স্যান দিয়েগোতে। আনা হয়েছিল মেক্সিকো থেকেও।

পরের বছর এসেছিলেন অ্যান্থনির বাবা রেনালদো। কিন্তু ততদিনে কার্লোস কাজ পেয়েছিলেন খনিতে, স্যান দিয়েগো থেকে উত্তরে, লস এঞ্জেলসের উত্তর-পুর্বে কিছু সোনার খনি আছে, সেখানে।

স্যান দিয়েগোতে আসার আগে কার্লোস, রেনালদো দুজনেই চাষের কাজ করতেন মেক্সিকোর সোনোরাতে। চাষের থেকে যা আয় হতো তাতে পরিবারের সব্বার খাবার, পোশাক বা তাঁদের ছেলেমেয়েদের খাতাবই-এর মতো রোজকার সাংসারিক প্রয়োজন মিটত না কিছুতেই। তারওপর কারুর কোনো বড়ো অসুখ করলে নিরুপায় মৃত্যু মেনে নিতে হতো। তাই স্বাচ্ছল্যের খোঁজে কার্লোস আর রেনালদো এসেছিলেন স্যান দিয়েগোতে। রেনালদো আসার সময় সঙ্গে আনেন হেক্টরকে। 

হেক্টরের মামি, কার্লোসের স্ত্রী, মার্সেলা আর তাঁদের মেয়ে ভ্যানেসা আর ছেলে ওয়াকিন ইউনাইটেড স্টেটসে পৌঁছেছিলেন চার্চের অতিথি হিসেবে, কয়েকদিনের জন্যকিন্তু তাঁরা কেউই ফিরে যান নি আর। আসলে আর কোনোভাবে কার্লোসের পরিবার কার্লোসের সাথে যোগ দিতে পারতেন না। 

খনির কাজে কার্লোস সম্ভাবনা দেখেছিলেন যে আইনত তিনিও একদিন সপরিবারে ইউনাইটেড স্টেটসে থাকতে পারবেন ভবিষ্যতে। অথচ সেটা কবে যে ঘটবে তারও কোনো হদিশ ছিল না। সেটা না ঘটা পর্যন্ত তিনি মেহিকোতে পরিবারের কাছে গেলে তাঁর আবার ইউনাইটেড স্টেটসে কাজ করার আর থাকার রাস্তা বন্ধ হয়ে যেত। বন্ধ হয়ে যেত নিয়মিত রোজগারের উপায়। পুরো পরিবার মজে যেত দারিদ্র্য আর অনটনের অনিশ্চিত অন্ধকারে। তাই চার্চের আতিথেয়তা জুটতে কার্লোস ও মার্সেলা ইউনাইটেড স্টেটসে যাওয়ার আর সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেন নি।

মারিয়া তার পরের বছর ক্রিসমাসে আসেন ইউনাইটেড স্টেটসে অ্যান্থনি, নিনা, জেকব আর ইয়ারাকে সঙ্গে নিয়ে, আত্মীয়ের নিমন্ত্রণে। না, কাগজে কলমে সে আত্মীয় মোটেও তাঁর বড়োভাই কার্লোস ছিলেন না। গ্রামের এক প্রতিবেশীর দূরসম্পর্কীয়া আত্মীয়ার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন তাঁরা।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে মারিয়াও তারপর থেকে আর ফিরে যান নি সোনোরাতে। কারণ সেখানে সন্তানদের নিয়ে তিনি বড়ই অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। রেনালদোও ছিলেন না সাথে, ছিল না বড়ো ছেলে হেক্টরও।

সমস্ত কাজ একলা সামলে বড়ই নাজেহাল হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তারওপর ছিল দিনে, রাতে যে কোনো সময়ে অপহরণকারীদের হানার ভয়, অ্যান্থনি কিংবা তার বোন নিনার অপহৃত হয়ে যাওয়ার ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকা। ইউনাইটেড স্টেটসে এসে অপহরণের আতঙ্কটা ছিল না আর। রোজকার খাওয়া-পরার ব্যবস্থা নিয়েও ভাবতে হয়  নি চার্চের কৃপায়।

যে বড়োদিনে মারিয়া ইউনাইটেড স্টেটসে পৌঁছেছিলেন, সেই বড়োদিনের আগের সন্ধ্যাতেই রেনালদোকে ফিরে যেতে হয় মেহিকোতে। কারণ বিশেষজ্ঞদের বিবেচনায় তিহুয়ানা আর স্যান দিয়েগো বাতিল হয়ে গিয়েছিল অলিম্পিকের আসর বসানোর দৌড় থেকে। আর তার ধাক্কায় নির্মাণের কাজে ভাটা পড়েছিল। সপ্তায় সপ্তায় ঝাঁকে ঝাঁকে শ্রমিকেরা ফিরে যাচ্ছিলেন  স্যান দিয়েগো থেকে নিজের নিজের শহরে আর গ্রামে।

কার্লোস চেষ্টায় লাগেন যাতে রেনালদোরও খনিতে একটা কাজ জুটে যায়। কিন্তু ছমাসের চেষ্টাতেও রেনালদোকে স্যান দিয়েগো থেকে নিজের কাছে আনতে পারেন নি তিনি। ফলে এটা ওটা কাজ করে রোজগার করতে করতে, কর্তৃপক্ষের নজরে পরে রেনালদো ফিরে যেতে বাধ্য হন মেহিকোতে।

কিন্তু তিনি জানতেন যে সোনোরা থেকে মারিয়া বেরিয়ে পড়েছেন ছেলেমেয়েদের নিয়ে কার্লোসের কাছে উঠবেন বলে।  এরপরে রেনালদো চেষ্টায় লাগেন তাঁদের সোনোরার বসত বাড়ি আর লাগোয়া জমিটুকু বেচে যে কটা পেসো পাওয়া যায় তার ব্যবস্থা করতে।

আইনত কার্লোস, রেনালদো বা তাঁদের পরিবারের কারুরই ইউনাইটেড স্টেটসে থাকার কথা নয়, কাজ করার কথা তো নয়ই যতদিন না খনি বা চার্চ তাঁদের থাকার আইনী ব্যববস্থা করে দিচ্ছেন। ফলে তাঁরা ইউনাইটেড স্টেটসের প্রশাসনের চোখে অপরাধী।

তবু কাজের লোকের দরকার থাকায় কার্লোস লাগাতার কাজ করে চলেছেন খনিতে, কিন্তু যে কোনো দিন পুলিশের নজরে পড়ে গেলে সব ফেলে তাঁকে চলে যেতে হতে পারে মেহিকোতে, যেমন রেনালদোকে যেতে হয়েছিল। তাই পুলিশের নজর এড়িয়ে বাঁচার চেষ্টায় কারুর সাথে ঝগড়া বিবাদ করা তাঁদের চলে না। গাড়ি চালাতে হয় সতর্ক আর সাবধানী হয়ে। কোনো ভাবেই দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়া চলে না। জড়িয়ে পড়লেই তাঁদের আইন ফাঁকি দিয়ে বিদেশের মাটিতে থেকে যাওয়ার কথা উঠবে।

এদিকে যে ঠিকাদার কার্লোসকে খনির কাজে নিয়োগ করেছেন তাঁরই ব্যবস্থায় কার্লোস তাঁর নিজের পরিবারের জন্য আর মারিয়া যাতে নিজের ছেলেমেয়েদের সাথে থাকতে পারেন সেইজন্য দুটো অ্যাপার্টমেন্ট পেয়েছেন। কিন্তু অ্যাপার্টমেন্ট দুটোই জেলের সামনে। ফলে জেলের আবাসিক আর পুলিশের যাতায়াত প্রায় নৈমিত্তিক তাঁদের পাড়ায়। তাই তাঁরা কোনো প্রতিবেশির সাথেই মেশেন না। বাচ্চাদেরও বারণ করা হয় কারুর সাথে, বিশেষত বয়স্কদের সাথে, কথা বলতে।

কিন্তু এইসব বিধিনিষেধ অ্যান্থনি আর তার ছোটো ভাই জেকব কিংবা সব থেকে ছোট্টো বোন ইয়ারার পক্ষে মানা সম্ভব হয় না। সাঁতারের পুলে কিংবা গলিপথে ফুটবল আর সকার খেলার সময় পাড়ার অন্য সব খেলুড়েদের সাথে কলকলিয়ে কথা না বলে তারা থাকতে পারে না। কোন দিকে বল যাবে, কালকের মুভের থেকে আজকের মুভের তফাৎ কী কিংবা বলটাকে নিয়ে আর কি কি ম্যাজিক করা যায় কিংবা কিভাবে কাকে পায়ের তলা টেনে পুলে চুবিয়ে দেওয়া যায় এই সব নানা উত্তেজনায় মত্ত থাকে তাদের বকর বকর।

ভাষাটাও তাদের আটকায় না। সোনোরায় থাকতেই অ্যান্থনি আর তার ভাইবোনেরা চার্চের পাদ্রির কাছে ইংরেজি শিখেছিল। বাড়িতে মারিয়া, মার্সেলা, কার্লোস অবশ্য কথা বলেন স্প্যানিশের সাথে তাঁদের মাতৃভাষা অওধাম মিশিয়ে। ভাইবোনেরা সব্বাই ইংরেজিতেই নিজেদের মধ্যে কথা বলে। তবে মায়ের সাথে মায়ের ভাষাতেই কথা বলে তারা। তাই তারা বাড়ির বাইরে স্প্যানিশ বলতে ভরসা পায় না। কারণ তারা আসলে স্প্যানিশ জানেই না।


~~~~~~~~~~~~

Read at your own pace. On Browser the whole book FREE OF COST from this link. সম্পূর্ণ বই নিজের গতিতে পড়ার জন্য ইন্টারনেট ব্রাউজারে বিনামূল্যে এই লিঙ্ক থেকে : https://read.bookfunnel.com/read/9cq7a4tl7h
Read at your own pace. On Browser or Download the whole book FREE OF COST from this link. সম্পূর্ণ বই নিজের গতিতে পড়ার জন্য ইন্টারনেট ব্রাউজারে বা ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে বিনামূল্যে এই লিঙ্ক থেকে : https://dl.bookfunnel.com/9cq7a4tl7h
~~~~~~~~~~~~~
Link to Previous Post আগের পোস্ট: https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/12/chapter-3.html
Link to Following Post পরের পোস্ট: https://projectionofnaught.blogspot.com/2024/12/chapter-5.html

Readers Loved