পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রাক্পক্ষ
~~~~~~
মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরোতে অনেকেই অভির চিলেকোঠার ঘরে দেখা করতে আসতে চাইত। কেউ বলত তার বাচ্চাকে পড়াতে। অভিকে এক পাহাড় নম্বর পেতে দেখে সারা জগৎ সংসার বোধহয় ভুলে গিয়েছিল যে কিছুদিন আগেই তারা অভিকে দেখত শুধুমাত্র বখে যাওয়া দুটো ছেলেমেয়ের সন্তান বলে।
কারও ছিল বিস্ময়, কারও হিংসে। কেউ বলত, তার ছেলের সাথে অভি যদি মেশে তাহলে তার ছেলের কিছু উন্নতি হতে পারে। কেউ কেউ এসে বসে থাকত সারাদিন, অভি কী করে এত অভাবেও এত ভালো করল সেই রহস্য জেনে নিতে নিজের নম্বর বাড়াবে বলে।
খবরের কাগজ বা টিভি চ্যানেল অবশ্য প্রথম সপ্তাহ ছাড়া আসে নি। এদিকে সে যে দিনের বেলাটা ইস্কুলে থাকবে তার জো ছিল না। কারণ ইস্কুলে ক্লাস হতো না, পড়াও হতো না। সারাদিন ফুটবল মাঠে থাকলে সন্ধের পড়াশোনাও ঘুমিয়ে পড়ে।
দিনে আর রাতের অধিকাংশ সময়টাই বাড়িতে ছেলেটার মা থাকতেন না, যে যত আপদ দোরগোড়াতে ঠেকিয়ে দেবেন। পড়শিরা ওদের বন্ধু ছিল না। নিম্নবিত্তের কারণে বাসাটা শুধু স্বল্পবিত্ত মানুষদের এলাকায় নিতে হয়েছিল দিলীপকে তা তো নয়। শিক্ষা, রুচি, সামাজিক পরিবেশ এবং আরও অনেক কিছুর সঙ্গে সমঝোতা করতে হয়েছিল। কিছু মাস্তান আর তোলাবাজও দুপুরে টোকা দিতে আরম্ভ করল অভির চিলেকোঠার ঘরে।
এই সময়ে একটা রবিবার দুপুরে অভি গিয়েছিল সুরচিতার বাড়ি। উদ্ভ্রান্ত গলায় বলেছিল, “সু তোমার কাছে কিছু চাইতে আমার ভীষণ লজ্জা করে। কিন্তু আমি পাগল হয়ে যাব এত লোক সামলাতে। আমি খুব অমিশুক। লোকজনের সাথে কথা বলতে জানি না; এসব ব্যাপারে ঠিক কী ভুল কী জানি না--”
অভিকে মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে সুরচিতা বলেছিল, “আমাকে কী তোর পাবলিক রিলেশন্স ম্যানেজার করবি নাকি?”
তারপর হিহি করে হেসেছিল। অভি একটু বিব্রত হয়েছিল। কিন্তু বলেছিল, “সু, বাবা-মা আমার শক্তি নয় দুর্বলতা। ওঁদের কারণে আমার কোনো কীর্তিরই গৌরব নেই। কিন্তু তুমিই শুধু আমাকে একটা আলাদা মানুষ হিসেবে দেখেছ।”
তারপর কিছুক্ষণ দুজনেই চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল। সুরচিতা অভির চুলে বিলি কেটে দিতে দিতে বলেছিল, “তোকে আমার অদেয় কিছুই নেই। বল, ঠিক কীভাবে এই পরিস্থিতির থেকে নিস্তার পেতে চাস। ভেবে উপায় তোকেই বার করতে হবে। সেটা কাজে পরিণত করতে আমাকে যা করতে বলবি সেটা আমি করব।”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

No comments:
Post a Comment