Friday, May 22, 2026

Panchpoksho - 49

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

বিকেলের চা এলো। অভিকে জাগালো সুরচিতা। খিদে মিটল মাংসে পুর দিয়ে বানানো পুলি পিঠে আর নুডলের সুপ খেয়ে। সন্ধের অন্ধকার ঘনিয়ে আসতে একটা জলন্ত বাতি দিয়ে গেলেন ডর্মিটরির মালকিন এক দিদি। সঙ্গে আরেকটা মোমবাতি। সুরচিতার বালিশের পাশে একটা সার্চলাইট রাখা ছিল। সুরচিতা বাতিটা নিভিয়ে দিল ফুঁ দিয়ে। অভি বলল, “এখন কী অন্ধকারে থাকব নাকি?” 

সুরচিতা খিলখিলিয়ে হেসে উঠল, “তোর ভয় করছে নাকি? স্থানীয় লোকেরা অবশ্য কেবল ভূত দেখে সন্ধে হলেই।” 

অভি বলল, “যাহ্‌, অন্ধকারে বিরক্ত লাগে। তোমার কাছে লাইটার আছে?” 

সুরচিতা বলল, “আছে। টয়লেট গেলে সার্চলাইট নিয়ে যাবি। বাতি জ্বালাবো ঘরে খেতে দিলে। কারণ এখন বাতি জ্বেলে ফুরিয়ে ফেললে তখন যদি বলে ওদের আর বাতি নেই? তাছাড়া ঘরে কার্বন মনোক্সাইড জমা হবে। তাই আলো নিভিয়ে রাখাই রেওয়াজ এখানে।” 

অভি বলল, “বলিহারি, অ্যাডভেঞ্চার। দামটাও সস্তা। সার্ভিসটাও ঘাটিয়া।” 

সুরচিতা বলল, “সেই জন্যই এখানে মেয়েরা আসে দল বেধে, অন্তাক্ষরী খেলে। আর ছেলেরা নেশা করে পড়ে থাকে বা টর্চের আলোয় তাস খেলে।” 

অভি বলল, “আমাদের তো অনেক কথা আছে। আমরা নাহয় সেগুলোই বলি।” 

সুরচিতা বলল, “বলো।” 

তারপর ঢক ঢক করে কিছু আওয়াজ হলো। সুরচিতার হাঁটুর ওপর হাতড়াতে লাগল অভির হাত। সুরচিতা অভির হাত ধরে ফেলল। অভি গলা সাফ করে বলল, “প্রিয়ে আমাকে বিয়ে করবে?” 

সুরচিতা বলল, “না।” 

অভি বলল, “ঠাট্টা হচ্ছে?” 

সুরচিতা সুর করে বলল, “না-আ।” 

অভি বলল, “কেন?” 

সুরচিতা বলল, “বলেছিস কাউকে তুই আমাকে বিয়ে করতে চাস?” 

অভি বলল, “না। তুমি রাজি না হলে অন্য কাউকে কী করে বলব? তাছাড়া আমার কোনো সন্দেহই ছিল না মনে আমাদের প্রেম নিয়ে। যাদের সন্দেহ থাকে তারা অন্যলোকের সাথে আলোচনা করে। আমি ভাবলাম তুমি আমার অপেক্ষায় এতো দিন আছো, তাই বাড়ি নয় আমার প্রায়োরিটির টপে ছিল আমাদের বিয়ে।” 

সুরচিতা বলল, “আস্তে কথা বল। এখানে সবাই বাংলা বোঝে।” 

তারপর অভি আর কিছু বলছে না দেখে সুরচিতা বলল, “আমাদের প্রেম তো অনেক দিনের। সন্দেহ ছিল না প্রেমের সততা নিয়ে তাও মানি। কিন্তু আমরা তো আগে কথাই বলি নি বিয়ে করব কিনা তাই নিয়ে। তাই না?” 

অভি বলল, “বলে যাও।” 

সুরচিতা বলল, “আজ কথা উঠল। আমি আমার মত জানালাম। আমরা পরস্পরের প্রেম সশ্রদ্ধভাবে গ্রহণ আর রক্ষণ করেছি। গোপনীয়তা রেখেছি যথাসম্ভব। বাস্তবে তুই আর আমি ছাড়া একথা কেউ জানেও না। তার ভিত্তিতেই আমি আশা করছি তুই আমার সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দিবি।” 

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Readers Loved