পাঁচপক্ষ
~~~~~~
আত্মপক্ষ
~~~~~~
তারপর প্রায় বছর ঘুরে গেছে। ধৃতিকান্তকে দেখে সুরচিতা খুব হতাশ হয়েছিল। ওর হিসেব মতো ও সেই সময়ে অভিকে প্রত্যাশা করেছিল। যাই হোক আজ অভি আসছে। সুরচিতা ইস্কুলে ছুটি নিয়েছে পাঁচদিন। একদিন গেল প্রস্তুতিতে, তিনদিন যাবে আপ্যায়নে। একদিন যাবে শ্রান্তি কাটাতে। হ্যাঁ, শ্রান্তি, আনন্দের শ্রান্তি।
আজ সারা ঘরময় হাইড্রেনজিয়া ফুল, ধূপ আর মোমবাতি। বসার ঘরের ছোটো গোল টেবিলে ফল, মিষ্টি, কফি রাখা আছে। সুরচিতার পরনের ঢাকাই শাড়িটা কেনা অনেকদিন আগে, কিন্তু গায়ে উঠল আজ। তিনপাহাড়ি এসে প্রথম বসন্তে রডোডেনড্রন দেখে রং মিলিয়ে কেনা। আজ খোঁপাতেও রডোডেনড্রন। হাতের বইটায় মন নেই তার। থেকে থেকে মুখ তুলে দেখছে খুলে রাখা দরজার দিকে।
তারপর একসময় পায়ে পায়ে বেরিয়ে এলো বাগানে। এতো সেজে বাগানে দাঁড়াতে একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। কিন্তু অ্যাজেলিয়ার ঝোপের পেছনে ছোট্ট বাঁশের তাকে নজর যেতে মন ভালো হয়ে গেল। বেগুনি আর সাদা ভ্যান্ডা তো ফুটেইছে, তার মধ্যে এই প্রথম ফুটেছে লেডিস স্লিপার। প্রাণমনে আনন্দের আবহ ছেয়ে গেল। অনেক খেটে ফল পাওয়ার আনন্দ।
পিছন ফিরতেই দেখল ফুলন্ত রডোডেনড্রন গাছটার গায়ে হেলান দিয়ে অভি দাঁড়িয়ে। প্রাথমিক চমক কাটিয়ে সুরচিতা বলল, “আয়, ভেতরে আয়।”
ঘরের ভেতর পা রেখেই অভি বলল, “এ বাব্বা! আমি তো ভাবলাম তোমাকে কিচ্ছু লিখি নি বলে তুমি খুব রাগ করেছ। তা না তুমি দেখছি জানতে যে আমি আসব!”
সুরচিতা বলল, “জানতাম। তুই আসবি।”
একটু থেমে বলল, “ভেবেছিলাম আরও আগে আসবি।”
অভি পিঠের ব্যাগটা মাটিতে ধপ করে ফেলে সুরচিতাকে জড়িয়ে ধরল। দুজনের আবেগ কিছু থিতু হতে, সুরচিতার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে অভি বলল, “অভিমান হয়েছে?”
তারপর উত্তরের অপেক্ষা না করে আবার বলল, “সে তো হবারই কথা। আমিই চাকরির চক্কর ঠিকমতো বুঝতে পারি নি। তাই আসতে দেরি করে ফেললাম।”
সুরচিতা ওকে এবার ঠেলে সরিয়ে দিল একটু। ওর গলা জড়িয়ে ধরে বলল, “কিন্তু সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে নিজেই সারপ্রাইজড হয়ে গেলি?”
সুরচিতার কপালে, গালে, গলায় আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল অভি; বলল, “তোমাকে এতো সুন্দর করে সাজতে কখনও দেখি নি। ভীষণ ভালো লাগছে।”
সুরচিতাও অভির গলায় একটা গভীর চুমু দিয়ে বলল, “আজ কত বছর পরে আমার সাথে আমার প্রেমিকের দেখা হলো! সাজব না?”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
