Tuesday, May 19, 2026

Panchpoksho - 46

পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটু চুপ করে গেল সুরচিতা। তারপর আবার শুরু করল, “মেয়েটার বাচ্চাটাকে প্রথমে মায়ের পেটেই মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তাহলে মেয়েটা আবার পুনর্বিবাহযোগ্য হয়, না হলে বাড়ির লোকের গলার কাঁটা হয়ে যাবে। সে উপায় না থাকলে তিনপাহাড়ির আশ্রম বা গুহামন্দির তো আছেই। তবে অঞ্জনার এত ঝঞ্ঝাট হয় নি বলেই জানি। মেয়েটার না ছিল কাঁচা পয়সা যোগানের অভাব, না ছিল ভাগীদার কোনো ভাইবোন। পারিবারিক সাচ্ছল্য, দায়িত্ববোধের অভাব, অবিবেচনা, সামাজিক রীতি সবের প্রভাবে মেয়েটা পালিয়ে গেল প্রথম প্রেমিকের সাথে। মিশনে ফিরল তিনবছর পর।” 

অভি গলায় দ্বিধা নিয়ে বলল, “এই যে এদের পড়াশোনার খেয়াল রাখার নামে এদের কন্ট্রাসেপটিভে অভ্যস্ত করছ, সেটা এদের বাড়ির লোক জানতে পারলে--” 

সুরচিতা কথা কেড়ে নিল, “মিশনের ছাত্রীদের আমি কনট্রাসেপ্টিভ যোগাই না। ওদের জ্ঞান দিয়ে ছেড়ে দি। প্রেম ভালোবাসা প্রাকৃতিক ঘটনা। তার পরিণামের দায়িত্বভাগ পুরুষ নিতে না চাইলে নারীর একার ঘাড়ে এসে পড়ে। সন্তান জন্মের আগে থেকেই মা শরীরের অংশ হিসেবে সন্তানকে বহন করেন। সন্তানের মায়ের পরিচয় সন্তানের জন্মের আগে থেকেই সমাজ জেনে যায়। অপরদিকে পুরুষের শরীরই পুরুষকে সুযোগ করে দিয়েছে সন্তানের দায় অস্বীকার করার। তাহলে নারী নিজে স্বাধীন ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠার আগে যদি সন্তানের মতো দুরূহ দায়িত্বের ঝুঁকি না নেয়, তাতে নারীরই লাভ।”

হিসেবের পরে এলো অসল কাজের কথা, “এই যুক্তিটা গ্রহণ করতে পারলে, মিশনের মেয়েদের দরকার পড়লে ওরা পকেটমানি থেকে কিনে নেয় কন্ট্রাসেপ্টিভ, আমার থেকে বা মিশনের ডাক্তারের থেকে অকপটে ব্র্যান্ড জেনে নেয়। আর পঞ্চায়েত স্কুলের মেয়েরা হেলথ সেন্টারে যায়। না পেলে আমি সঙ্গে করে নিয়ে যাই দোকানে, ও কেনে আমি ফান্ড করি। এসবের জন্যে প্রেসক্রিপশন যোগান মিশনের ডাক্তারবাবু বা বাজারের রোমা ডাক্তারনি। ওঁদের সাপোর্ট না পেলে ইস্কুলপড়ুয়া মেয়েদের স্বাস্থ্য সচেতনতার ওয়ার্কশপের নামে অনভিপ্রেত সন্তানসম্ভাবনা এড়ানোর উপায় বাতলানোর কাজটা আমি করতেই পারতাম না।” 

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)


Readers Loved