Sunday, April 26, 2026

Panchpoksho - 23

পাঁচপক্ষ

~~~~~~



প্রাক্‌পক্ষ

~~~~~~

দুয়েরই কারণ ওর বাবা-মায়ের বেছে নেওয়া জীবনযাপন। দুজনের সিদ্ধান্তের, কর্মের ফল মর্মে মর্মে অভি ভোগ করত। সেই জন্যই ওর ফ্রি টিউশনে আপত্তি ছিল। ওর আপত্তি ছিল বাবা-মায়ের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার আর অক্ষমতার দায় দয়াশীল পৃথিবীর কাঁধে তুলে দিতে। বিকল্প হিসেবে সে নিজের কাঁধটা অনেক শক্তিশালী করে তুলছিল। কোনটা দাক্ষিণ্য আর কোনটা শুধুই ভালো ব্যবহার সেটা বোঝার বয়স হয় নি বলে ও এড়িয়ে চলত সমবয়স্কদেরও। তাই শ্রদ্ধাটুকু সুরচিতা গোপন করে নি, প্রেমটাকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে চলেছিল অনেকদিন।


লম্বা ছুটির সময়ে সুরচিতা অভিকে নিয়ে যেত মিউজিয়ামে, তারামণ্ডলে, সায়েন্স সিটিতে, চিড়িয়াখানায়, বটানিকাল গার্ডেনে। কখনও বা ঐতিহাসিক মনুমেন্টগুলোতে। তাতে যেমন ডালহৌসি স্কোয়ার থেকে বিবাদী বাগের গল্প থাকত, তেমনই থাকত ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল বা ফোর্ট উইলিয়াম। বাদ পড়ত না অক্টারলোনি মনুমেন্ট বা ন্যাশনাল লাইব্রেরি। ছিল নন্দন, রবীন্দ্রসদন, এশিয়াটিক সোসাইটি, টাউন হল, মহাজতি সদন। তারপর বইমেলাও। 

একবার দুজনে চক্ররেলে চড়ে বেরিয়েছিল গঙ্গার ধার ধরে শহরের সীমানা দেখতে। দুজনে ছাড়া কেউ জানতও না এসব টইটইয়ের কথা। অভির তো বলার কেউ ছিল না। সুরচিতা নিজেকে কয়েক ভাগে আলাদা করে নিয়েছিল। এক ভাগে ছিল তার বাবা-মায়ের মেয়ে, আরেক ভাগে তার ইউনিভার্সিটির জীবন। আরেক ভাগে তার টোল। অন্য আরেকভাগে অভি।


ধীরে ধীরে অভি অনেক সহজ হয়ে উঠেছিল। কখন অভির মনে সুরচিতার জন্য একটু একটু করে ভালো লাগা জমতে জমতে তা প্রেমের পাহাড় হয়ে উঠেছে তা ওরা নিজেরাই টের পায় নি। একদিন কোনো একটা মুশকিল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে সুরচিতার চোখমুখ উপচে উঠেছিল মুগ্ধ প্রশংসায়; হয়তো প্রেমেও। 

তার উত্তরে একটা জটিলতর প্রশ্ন রেখেছিল অভি, আর উত্তর পেয়ে ওর চেহারায় ঝকঝকিয়ে উঠেছিল সেই মুগ্ধতা যা শিরার রক্ত হৃদয়ে পদ্ম না ফোটালে দেখাই যায় না। ভেঙে পড়েছিল সুরচিতার সমস্ত আড়াল। অভিও লুকোনোর চেষ্টা করে নি তার একমাত্র বন্ধুর কাছে তার প্রেমের কথা। 

তারপর ওদের চোখে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিমার মানে বদলে গিয়েছিল। বসন্তের হাওয়া আর গ্রীষ্মের দুপুর ভীষণ সহনীয় হয়ে উঠেছিল। বর্ষার জলে ভাসা রাস্তায় ঘেন্নার আবর্জনারা অবজ্ঞা পেয়েছিল, আর সফেন ঢেউগুলোতে ভীষণ ভালোলাগা আছড়ে পড়েছিল। শরতের নীলিমা গাঢ়তর হয়েছিল। হেমন্তের মানে দাঁড়িয়েছিল দুঃসময়ের প্রস্তুতিতে গোণা কয়েক প্রহর; আর শীত মানে বসন্তের অপেক্ষা, পায়ের শব্দ গোণা।

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)



No comments:

Post a Comment

Readers Loved