পাঁচপক্ষ
~~~~~~
আত্মপক্ষ
~~~~~
সুরচিতা একটু সময় নিয়ে উত্তর দিল, “বলতে পারব না। আমি চাই যে তুই আর পাঁচটা মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন কর। ঘর সংসার কর। সেটা হতে গেলে দেখা না হওয়াই ভালো। কোনোরকম যোগাযোগ না রাখাই ভালো। কিন্তু, আমি জানি না, এখান থেকে কাজ বন্ধ করে যদি আমাকে চলে যেতে হয় তাহলে যেখানে গিয়ে পৌঁছোব সেখানে তুই আছিস কিনা। একদম যোগাযোগ না রাখলে তো সেটা জানা সম্ভব নয়। কিন্তু এক্ষুনি সেসব কথা ভাবতে ইচ্ছে করছে না। তুইও এখনও কিছুদিন ব্যস্ত থাকবি বৈষয়িক কারণে। মা-বাবাকে নিয়ে। নেহাৎ দরকার না হলে যোগাযোগ নাই বা করলি। এতদিনে কত ঝামেলা তো আমাকে ছাড়াই সামলে নিয়েছিস, তাই না?”
শান্তস্বরে অভি বলল, “তোমার ইচ্ছে মতো তুমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছ। তাতে আমার কোনো ভূমিকা নেই। কিন্তু আমি এরপরের জীবনটা যেভাবে ভেবেছিলাম তাতে তুমি ছিলে। এবার তোমার সিদ্ধান্তের নিরিখে আমাকে ভবিষ্যৎ ভাবতে হবে। আমি তোমাকে কোনো কথা এক্ষুনি দিতে পারব না। কিছু সময় আমারও লাগবে। কিন্তু তৈরি থেকো, সবকিছুর পরে আমি আবারও এসে তোমার সাথে থাকতে চাইতে পারি। বিয়ে কিংবা সংসার না চেয়ে, শুধু তোমার সাথে থাকার জন্য। তৈরি থেকো আবার করে নতুন কিছু ভাবার জন্য।”
সুরচিতা অভির দুই হাতের তালু নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল, “আমি তো নতুনের জন্য সব সময় তৈরি। কিন্তু সেদিন কী করব সে কথা আমিও আজ দিতে পারব না। তুইও সেদিন আবার ফিরে যাওয়ার জন্য তৈরি থাকিস।”
পরদিন ভোরে ল্যান্ড রোভার ধরে ওরা নেমে এলো হলদুঝোরাতে। তারপর সেখান থেকে চলল ওমনিতে, টৌলিং হয়ে মাঠপুরের রেল জংশনের পথে। সেখান থেকে বিকেলে মা-বাবার কাছে যাওয়ার ট্রেন ধরবে অভি। এবারও সুরচিতা তিনপাহাড়িতে নেমে গেল। তার সামনে এখনও অনেকটা চড়াই পথ।
অভির প্রেমে মজে গিয়ে সে যে জগৎ সংসারকে ভালোবেসে ফেলেছে। আপন করে ফেলেছে। অগুণতি সন্ততি সেখানে মূঢ়, ম্লান, মূক জন্মাচ্ছে, বেড়ে উঠছে দিশেহারা। তাদের যতজনকে সম্ভব ততজনকে যে অভির মতো আত্মমর্যাদায় স্বনির্ভরতায় প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। সুরচিতার যে তাদের সেই অধ্যবসায়ের সঙ্গী না হয়ে উপায় নেই।
(শেষ)
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
