পাঁচপক্ষ
~~~~~~
আত্মপক্ষ
~~~~~~
সুরচিতা দম নিতে দাঁড়িয়ে গেল। বড়ো শ্বাস নিয়ে খানিকক্ষণ বুকে ধরে রেখে ধীরে ধীরে ছাড়ল; শ্বাস নেওয়া আর ছাড়ার প্রক্রিয়া চালাল বার দুই-তিন। তারপর জবাব দিল, “সেও চিঠি লিখে লিখে তদ্বির করে করে তবে হয়েছে। তার জন্য অবশ্য সরকারের অন্য অন্য ডিপার্টমেন্টেও চিঠি লিখতে হয়েছিল। মেয়েদের দেখভালের ডিপার্টমেন্টে তদ্বির করতে হলো এই বলে যে এখানে মেয়েরা পুঁজি চায় না শুধু টেকনিকাল কাজটুকু শিখতে চায় স্বনির্ভর হওয়ার জন্য, দরকার পড়লে ফি দিতেও রাজি তারা। তারপর তো রাজ্যপালের দ্বারস্থ হতে হলো। তাঁর আদেশে তবে ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা হলো। কারণ এরকম ট্রেনিং-এর কোনো নিয়ম ছিল না। তাইতেই ধর কিনা প্রথম পাঁচটা বছর কেটে গেল। এরপর আবার ব্যাঙ্ক থেকে ধার করতে হবে, তার আগে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে।”
অভি বলল, “এসব কাজ জলদি হলে আমার কপাল পুড়ত না।”
সুরচিতা চমকে বলল, “মানে?”
অভি বলল, “তোমার বুড়ো হওয়ার জন্য যতোটা কাজ হলে যথেষ্ট হয় তার থেকে অনেক বেশি কাজ এখানে। তোমার বুড়ো হতে যতো সময় লাগবে তার থেকে অনেক বেশি সময় লাগবে সে সব কাজ হতে। তুমি আটকে গেলে কাজে। আরও অনেকদিন আটকে থাকবে। আর আমার কপাল পুড়ল। ভাবছিলাম বউ তো আমার আছেই, শুধু বিয়েটা করতে বাকি। এখন দেখছি তার কাছে আমার সাথে ঘর করার থেকেও বেশি আকর্ষণীয়, অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অনেক অনেক বেশি নেশা ধরানো কিছু আছে।”
সুরচিতা মনমরা হয়ে বলল, “আমি জানতাম। তুই দুঃখ পাবি। তোর আর এসব কাজের মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা নেই। তুই যেখানে ছিলি, তার থেকেও বেশি গভীরে আছিস আজ। আমার বিয়ের প্রয়োজনও নেই, ইচ্ছেও নেই।”
তারপর মরা মনকে জাগিয়ে উদাস গলাকে উৎসাহে চুবিয়ে বলল, “কিন্তু বিয়ের ইচ্ছে যখন তোর হয়েছে সেই ইচ্ছেটা মরার আগে একজন বউ খুঁজে বার কর। দেখবি তখন আমাকে বউ হিসেবে না পাওয়ার দুঃখটা আর ততো বাজবে না।”
অভি বলল, “সেই; তুমি মাশরুম কোম্পানির পার্টনারশিপ ব্যবসা করো। তাই আমাকে নতুন পার্টনার দেখে নিতে হবে। কিন্তু এতো কিছু থাকতে হঠাৎ মাশরুম ভাবলে কেন?”
সুরচিতা অবাক হলো, “তোকে বলিনি, কেন?”
অভি দুদিকে মাথা নেড়ে না বলল। সুরচিতা বলল, “আসলে এত ব্যস্ত থাকি আজকাল এসব নিয়ে কতটা বলছি আর কতটা বলছি না মনে রাখতে পারি না।”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)
