পাঁচপক্ষ
~~~~~~
~~~~~~
সুরচিতা বলল, “হ্যাঁ তার আগে তো সবার মতো ভেবে নিয়েছিলাম এরা এরকমই, মাথায় বুদ্ধি নাকি পোস্তদানার মতো আর রগচটা। আমার একজন কলিগ, ভুপেনজা আর ব্যাঙ্ক ম্যানেজার মিস্টার দাসাং বা টেলিফোন কেন্দ্রের কর্মী ফুংহোজা ব্যতিক্রম বলেই জানতাম। অঞ্জনাকেও সেই ব্যতিক্রমের দলেই রেখেছিলাম। ফের সে মেয়ে ইলোপ করতে আমার মনে হলো ব্যাপারটা এতো সহজ নয়। অঞ্জনা মিশনের ছাত্রী। বাবার হোটেল আছে দু-তিনটে। তাহলে আর্থসামাজিক পরিবেশ নয়, বয়ঃসন্ধির অচেনা উত্তেজনা, শরীর, মনই কী কারণ? কিন্তু যে অঙ্কে একশো পায়, ক্লাসে প্রথম তিনে থাকে, তারও এমন দুর্মতি, চঞ্চলতা বা প্রবৃত্তির কাছে সমর্পণ কেন?”
উত্তরটা সুরচিতা নিজেই দিল, “খুঁজতে খুঁজতে দেখলাম যে ওর কম্পিটিটরদের বাবা-মায়েরা বিবেচক। কিন্তু ওর বাবা-মা বেশ অবিবেচক। দুজনেরই স্খলন অনেক। তিনপাহাড়ি অরফ্যানেজ বা আমাদের মিশনের গুহামন্দিরে ওঁদের দুজনেরই একটি দুটি সন্তান জায়গা পেয়েছিল ওঁদের সেই বয়সে যে বয়সে ওঁরা নিজেরাই নিজেদের জীবনযাপনের দায়িত্ব নেওয়ার উপযুক্ত ছিলেন না। বলাবাহুল্য, অঞ্জনার মায়ের সেই সব সন্তানের বাবা আর অঞ্জনার বাবা একলোক নন, আর অঞ্জনার বাবার সেই সব সন্তানদের মা-ও অঞ্জনার মা নন।”
বলে চললো, “অঞ্জনার ঠাকুর্দা আর দাদামশায় দুজনেই ব্যবসাদার আর খাতায় কলমে এক সন্তানের পিতা। তাঁদের একমাত্র উত্তরসূরী যে সন্তান সেই সন্তানকে তাঁরা কখনও তাড়িয়ে দেন নি। তাছাড়া এঁদের সামাজিক রীতিই হলো পাত্র-পাত্রীকে ইলোপ করতে হবে, তারপর পারিবারিক সমঝোতা হবে, তারপর দুজনে ফিরে আসবে পরিবারে ধুমধাম করে। পারিবারিক সমঝোতা না হলে বা ইস্কুল পেরোবার আগে বাড়ি ছাড়লে, যা হয়, প্রথম মোহটুকু কেটে গেলে পেটের টান বড়ো হয়ে দাঁড়ায়। রোজগারের চেষ্টা দেখতে হয়। ততোদিনে হয়তো সংসার বাড়ার সম্ভাবনাও দেখা দেয়। অমনি দুজনের সহ্যশক্তির টানাপোড়েন তৈরি হয়। তারপর একদিন সব ঝামেলা ঝঞ্ঝাট এড়াতে ছেলেটা মেয়েটাকে ফেলে চলে যায়। আর মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে আসে।”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

No comments:
Post a Comment