পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রত্নপক্ষ
~~~~~~
সুরচিতা কোনো উত্তর না দিয়ে জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়েছিল বাবার চোখের মধ্যে সরাসরি। বাবা তখন বলেছিলেন, “পার্টি তো ফ্রি স্কুল দেখিয়ে দিয়েছে, সেখানে পড়তে তো পয়সা লাগে না। কিন্তু আঁকার মাস্টারের কাছে টিউশন না নিলে ছেলেরা সব আঁকাতেও ফেল করে। যে-ছেলের বাবা আর্ট কলেজের মাস্টার তার ছেলেও ফেল করে। মাস্টারও পার্টির লোক, মাস গেলে সে সংগঠনকে, দলকে চাঁদা দেয়; দিলীপের থেকে বেশিই দেয় হয়তো। কী করবে দিলীপ? ছেলেটার ক্লাস নাইন। তুই যদি দেখিয়ে দিলে ওর মাধ্যমিকটা উতরে যায়।”
সুরচিতা বলেছিল, “আমি দেখালে ও পাশ করবে? জানলে কী করে?”
বাবা বলেছিলেন, “ছেলেটা ক্লাসে র্যাঙ্ক করে। এতকাল ইস্কুলের মাস্টারের কাছেই পড়তো। তাঁদের কেউ কেউ ওকে এখন বিনাপয়সায় পড়াতেও রাজি; কিন্তু ছেলে পড়বে না।”
সুরচিতা একটু অবাক হলো। তারপর ভাবলো সেও তো বাবা-মায়ের অবাধ্য, মত ও পথের বিরোধী। আরেকটা ছেলে তেমন হতেই পারে। কিন্তু বাবা-মায়ের সাথে দরাদরিটা সে ছাড়তে পারবে না। এতো অবিচার, অন্যায়ের শোধ তোলার একটা সুযোগ তার এসেছে; সে ছাড়বে না। তখন বলল, “বেশ ওকে ফ্রি-তে পড়াতে পারি। কিন্তু তোমাকে ফ্রি-তে মহান হতে দেব না।”
বাবা বললেন, “বেশ আসছে মাস থেকে ইলেক্ট্রিকের বিল তোমাকে দিতে হবে না।”
তারপর একদিন সকালে অভি এসেছিলো। সেদিন নাইনের অঙ্কের ক্লাস। ক্লাসের সাথে অভি তাল মেলাতে পারবে কিনা দেখার জন্য সেদিন ওর পরীক্ষা নিয়েছিল সুরচিতা। ছেলেটা একশোয় পঁচানব্বই পেয়েছিল। বিনেপয়সায় বেশি খাটতে হবে না দেখে সুরচিতা খুশি হয়েছিল। কিন্তু পরের দিন অভি আসে নি। তারপরের দিনও না। এদিকে ইলেক্ট্রিকের বিল এসে গিয়েছিল। সুরচিতা কেঁচে যাওয়া যুদ্ধটার জন্য বেশ খেপে গিয়েছিল। তবু বিলটা দেখে ও একমাসের টাকাটা বাবার টেবিলে রেখে দিয়েছিল।
সন্ধে পেরিয়ে প্রায় রাত তখন। সুরচিতা খাটে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ছিল। বাবা এসেছিলেন ওর কাছে, ইলেক্ট্রিক বিল বাবদ যে টাকাটা ও বাবার টেবিলে রেখে এসেছিল সেই টাকাটা ওকে ফেরত দেবেন বলে। সুরচিতা বলেছিল, “সে ছোকরা তো আসছে না। অতএব আমাকেও ফোকটে খাটতে হচ্ছে না।”
বাবা বলেছিলেন, “সে ছেলের আত্মসম্মান বোধ তীব্র। সে তোর বাকি ছাত্রদের থেকে জেনে গেছে তারা মাইনে দিয়েই পড়ে। তাই ও দিলীপকে বলে দিয়েছে যে ও নিজেই যা পারে তার জন্য টিউটরের দরকার নেই ওর।”
সুরচিতা বলেছিল, “তাহলে আর টাকাটা ফেরত দিচ্ছ কেন?”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

No comments:
Post a Comment