Tuesday, April 14, 2026

Panchpoksho - 11

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~

প্রত্নপক্ষ

~~~~~~

বাবা বলেছিলেন, “তুই যখন পছন্দ করছিস না এই টাকাটার ব্যাপারটা--” 

সুরচিতা দুম করে বলেছিল, “দিলীপকাকুর প্রেসটা চলছে না কেন? ফাল্গুনীর সামনের পুরোনো প্রেস তো এখনও ঘটাং ঘটাং করে চলছে?” 

বাবা খুব দ্বিধা করে বলেছিলেন, “সে অনেক কথা। ফাল্গুনীর প্রেস তো শুধু প্রেস নয়, ওদের মুদিখানা আছে, সিনেমা হলটা আছে, আরও আছে কাপড়ের দোকান। অনেক বড়ো পুঁজি। ওঁরা একটা ব্যবসার টাকা অন্যটায় এনে লাগাতে পারেন। সে কারণেই ওঁরা চটপট ম্যানুয়াল কম্পোজ ছেড়ে কম্পিউটারে কম্পোজ করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ফাল্গুনীর বুড়ো মালিক-–কী যেন নাম--বল না?” 

সুরচিতা মনে করিয়ে দিয়েছিল বাবাকে, “মণিভূষণ গুঁই।” 

বাবা আবার ফিরে গিয়েছিলেন তাঁর আত্মগত কথোপকথনে। সুরচিতাও যেন এক বোয়া কন্সট্রিকটরের গল্প শুনছিল গোগ্রাসে।


“হ্যাঁ। ওঁর সাথে ওঁর ছেলেরা তো ছিলই এখন আবার মেজছেলের বড়োছেলেটাও কাজকম্ম করছে। ও তো কম্পিউটার শিখেছে, একটা ইন্টারনেট কাফে খুলেছে। ও-ই সব কম্পোজের কাজগুলো করে এখন।” 

সুরচিতা বোঝার চেষ্টা করছিল যে দিলীপের প্রেস বন্ধ হওয়ার পিছনে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পুরোনো প্রযুক্তির পাঞ্জা লড়াই নাকি সিআইএ বা গুঁই কোম্পানির কোনো ষড়যন্ত্র আছে। তাই ফস্‌ করে বলল, “তো ওরাই কী দিলীপকাকুর প্রেস বন্ধ করার জন্য কিছু করেছে?” 

বাবা মুচকি হেসে বলেছিলেন, “ওঁদের কিচ্ছু যায় আসে না দিলীপের মতো দু তিনটে লোকের ছাপাখানাতে। মণিবাবুই তো দিলীপের প্রেসটা কিনলেন, কোনো দরাদরি ছাড়াই। দিলীপ তো ওঁদের ওখানেই কাজ শিখেছে। তারপর উনিই গ্যারেন্টার হয়ে দিলীপের লোনের ব্যবস্থা করে ওর প্রেসটা খুলে দিয়েছিলেন। শুরুর দিকে কাজও দিতেন। বিয়ের কার্ড ছাপা, ক্যালেন্ডার, ডাইরি, পরে পরে পাঁজি, শারদীয়ার স্যুভেনির, বই।” 

সুরচিতার বেশ জটিল লাগছিল এবার। তাই বলে ফেলেছিল, “তাহলে, দিলীপকাকু প্রেসটা চালাতে পারল না কেন?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)



No comments:

Post a Comment

Readers Loved