Saturday, April 25, 2026

Panchpoksho - 22

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



প্রাক্‌পক্ষ

~~~~~~

কোনো কোনো দিন হয়তো যাবতীয় ল্যাম্পপোস্টরা ভেঙে পড়ত দুজনের ঘাড়ে সাইন-কোসাইনের অনুপাতে। কখনও নিওলিথিক কুমোরেরা মৃৎপাত্রে কী করে নকশা ফোটাত সে কথাটা স্পষ্ট হয়ে উঠত। কখনও তুমুল তর্ক হতো স্টিলির মধ্যে সংসক্তি আসঞ্জন নিয়ে; কখনও সালকাস জাইরাসে উন্মাদনা ছড়াতো ভারী জল। এবং এসবের মধ্যে দিয়ে সব শৈত্য পেরিয়ে কখন যেন উষ্ণ গালফ স্ট্রিম হয়ে যাতায়াত শুরু হয়েছিল গোলাপি খামে রাখা ছেঁড়া ছেঁড়া কবিতার, বুনো ফুলের আর চকোলেটের।


কিন্তু তার আগে বয়ে গিয়েছিল অনেক হিমশীতল মুহূর্ত। অভির জীবনে না ছিল দোল, না দিওয়ালি; না দূর্গাপুজো, না সরস্বতী পুজো। সে-জীবনে যতোটা পাথরের রুক্ষ কাঠিন্য ছিল, ততোটা ছিল না কৈশোরের উচ্ছ্বাস বা কৌতূহলের বিস্ফোরণ। ততোটাই দুরূহ ছিল সে পাথরের বুকে কোনো আঁচড় কাটা বা তার নিজের ফাটল বরাবর সম্ভাব্য ভাঙনগুলো আটকে কোনো নকশা কুঁদে তোলা। বইয়ের কোণে আঙুলে আঙুল ছুঁয়ে গেলে সুরচিতার হৃদপিণ্ডের দেওয়ালে রক্তের ঢেউ আছড়ে পড়ত অনেকক্ষণ। কিন্তু সেই ঢেউয়ের ঝাপটা অভির চোখেও ছলকে উঠতে দেখেছিল সুরচিতা, বছর ঘুরে যেতে।


এরকম কিছু যে হতে পারে সেটা সুরচিতার আজন্মের সামাজিক বোধের সীমায় ছিল না। নিজের কাছে সত্যিটা স্বীকার করতে তার প্রবল যন্ত্রণা হয়েছিল। অভির সাথে একটা সহজ সম্পর্কের আবর্তে আসা অনেক ধৈর্যের সিঁড়ি ভাঙা। সেই সম্পর্কটা সুরচিতা কিছুতেই তার একতরফা প্রেমের দাবিতে ভেঙে দিতে চাইত না। 

সে অনেক নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে ভেবে ভেবে যে অভির যদি সন্দেহ হয় সুরচিতার উদ্দেশ্য কী তাই নিয়ে বা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে বলে। তার সারাক্ষণ আশঙ্কা হতো যে তার মনোভাবের ব্যাখ্যায় অভি যদি ব্যর্থের কামনা চরিতার্থতার চেষ্টা দেখে তাহলে জগৎ, জীবন সব কিছু নিয়ে ছেলেটার মনে তিক্ততার বিস্ফোরণ হতে পারে। বিশেষত অভির বাবা-মায়ের সমস্ত কথা শুনে সুরচিতা টের পেয়েছিল তার অভিমানের গভীরতা। সেই অভিমানই মাত্র চোদ্দ বছরের ছেলেটার সহ্য, দার্ঢ্য, বিবেচনার মূলে। অথচ সারা পৃথিবী হয় ওকে দয়া দেখাতো, নয়তো তাচ্ছিল্য।

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)



No comments:

Post a Comment

Readers Loved