Sunday, May 10, 2026

Panchpoksho - 37

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



প্রতিপক্ষ

~~~~~~

ধৃতিকান্তর উত্তর সুরচিতার অজানা ছিল না। সে বলেছিল, “না, তোর বাবা ফোন ধরেছিলেন। তোর মোবাইল নাম্বার দিলেন, ঠিকানা দিলেন। আজ এলে তোকে পাব কিনা সেটা আমিই জিজ্ঞেস করেছিলাম। আমি যদিও তিনটে হাওয়াই আড্ডা পার হয়ে তবে তোর এখানে এলাম, কিন্তু তোর বাবাকে ফোন করেছিলাম ইউসিএলএ থেকেই।” 

সুরচিতা পুরোনো দিনের মতো উচ্ছসিত হয়ে বলেছিল, “বস! তুমি তো হলিউডের কোলের ছেলে এখন।” 

ধৃতিকান্ত হেসেছিল মুচকি। সুরচিতা আবার বলেছিল, “বাবা কী জানেন যে তুই আইএসডি করছিলি?” 

ধৃতিকান্ত নেতিবাচক মাথা নেড়েছিল। তারপর বলেছিল, “চিতা, তুই সত্যিই ডিজিট্যাল পৃথিবীর বাইরে। এখন আইএসডি করার দরকার পড়ে না। ভিওআইপি দিয়েই সস্তায় কথা বলা যায়।” 

শ্রোতার গোল গোল চোখ দেখে আবার বলতে শুরু করেছিল, “ভিওআইপি মানে--” 

তাকে মাঝপথে থামিয়ে সুরচিতা বলেছিল, “নে এবার ঘুমো। আমার পড়শিরা আবার চারটে থেকে উঠে ঘন্টা বাজাতে শুরু করবে।”


সকাল বেলা দুকাপ চা হাতে বসার ঘরে এসেছিলো সুরচিতা। ধৃতিকান্ত তখনও ঘুমোচ্ছিল। সুরচিতা ওকে ডেকে তুলতে ও উঠে বসল ধড়মড়িয়ে। তারপর হাই তুলতে তুলতে বলল, “ওরে বাবা চারটের সময় অতো ঘন্টা বাজল কেন? তারপর গুনগুন করতে করতে লোকজন যায় আর আসে, যায় আর আসে। ঘুমের দফারফা।” 

সুরচিতা ‘আগেই-তো-বলেছিলাম’ জাতীয় একটা ভঙ্গিমায় জবাব দিয়েছিল, “সন্ন্যাসিনীরা ছটায় ডিনার খেয়ে শুয়ে পড়েন। অন্ধকার থাকতে উঠে ধম্মকম্মে লাগেন। ঊষালগ্নে গুহার মধ্যে রাখা জাগ্রত দেবতার মূর্তিতে অর্ঘ্য অর্পণ করে জপতপ সারেন। তারপর উপাসনাকেন্দ্রে গিয়ে ভগবানের অবতারদের গানটান শোনান। ফের পুরুত শান্তির জল ছেটান আর সবাই মাথা পেতে নেন; তারপর “নবজন্মের আরক” বা “এলিক্সির অফ রিজুভেনেশন” নামে ভগবানের প্রথম অবতারের আঙুলের ডগা ছোঁয়া চিনির জল খেয়ে নিজেদের হেঁসেলে ঢোকেন।”

শ্রোতার মনোযোগে ইন্ধন দিয়ে বলে চলে, “বরাদ্দ মতো দুধ বা চা, পাঁউরুটি, কলা, ডিম, আপেল যে যা খান তাই খেয়ে যার যা কাজ তাতে লেগে পড়েন। মানে কেউ রান্না করেন, তো কেউ করেন মশলা, কেউ বাসন মেজে ধুয়ে মুছে তাকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখেন, কেউ কেউ কাপড় জামা চাদর লেপ বালিশের ওয়াড় পিছনের বাগানের উনুনে সাবান দিয়ে সেদ্ধ করে কেচে ধুয়ে শুকোতে দেন, কেউ বা আবার ঘর বারান্দা উঠোন সব ঝাড়ু দিয়ে মুছে সাফ করেন। মানে সন্ন্যাসিনীরা সব কাজ সারেন, একা একা বা দলে দলে।”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

No comments:

Post a Comment

Readers Loved