Tuesday, May 12, 2026

Panchpoksho - 39

পাঁচপক্ষ

~~~~~~



প্রতিপক্ষ

~~~~~~

মধ্যে মধ্যে চলছিল টুকটাক কথাবার্তা আর তর্কাতর্কি। সুরচিতা খুব খোলামনেই তার মনের অবাক চেহারাটা মেলে ধরেছিল যে তেরটা বসন্ত ধৃতিকান্ত একলা কাটিয়েছে। ধৃতিকান্ত হেসে বলেছিল, “তুইও তো প্রেমিককে ছেড়ে অনির্দিষ্টকাল নির্বাসন নিয়েছিস। কী করে আছিস?” 

সুরচিতা বলেছিল, “কাজ নিয়ে।” 

ধৃতিকান্ত জবাবে বলেছিল, “আমি কী শুয়ে বসে খেলে কাটিয়েছি এতোগুলো বছর?” 

তারপর প্রায় বুজে যাওয়া স্বরে গলার কাঁপন লুকিয়ে বলেছিল, “একটা জলজ্যান্ত স্বপ্ন থাকলে, সেটা সত্যি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকলে, বছরগুলো চোখের নিমেষে পার হয়ে যায়। যেখানে যা কিছু সুন্দর দেখেছি সব জায়গায় তোকে আমার পাশে টের পেয়েছি। কিন্তু এখন দেখছি সেসব নেহাতই কাঁচা মনের কল্পনা।” 

তারপর মুহূর্তেই গলার উদাসভাবে ঝেড়ে বলেছিল, “পড়ানোর কাজে আর কত সময় যায় তোর? বাকি সময় কিসে যায় তোর?” 

সুরচিতা গলায় দুষ্টুমি জড়িয়ে বলেছিল, “ছক কষে। কীসের ব্যবসায় মূলধন কতো লাগে, লোক কতো লাগে, টেকনোলজি কী লাগে, কতগুলো লোকের কত সময়ের এমপ্লয়মেন্ট হয় এইসব। বাচ্চাদের মনস্তত্ত্বের বই পড়ে। ধেড়েদের মুখে খুড়োর কল ঝোলাবার ফিকির খুঁজে। খুড়োর কল কাস্টমাইজ করার প্ল্যানে। ধেড়েদের মনস্তত্ত্ব আর মন প্রভাবিত করার উপায় খুঁজে।”


ধৃতিকান্তর ফেরার ফ্লাইট ছিল পরদিন ভোরে। তাই খাওয়ার পরেই ওরা ন্যারোগেজ ট্রেনে চেপে বসেছিল। এটা সেটা বকবক করতে করতেই ধৃতিকান্ত বলে ফেলেছিল, “এখানে কী রাজনীতি নেই? ঝগড়া নেই? আমাকে বোঝাতে আসিস না যে প্রতিষ্ঠান আছে আর তাতে ক্ষমতা দখলের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটা এই সব মহিলারা ছেড়ে দিয়েছেন।” 

সুরচিতা অস্বীকার করেনি, “আছে সবই। কালই বললাম তো। কিন্তু আমার সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই। সরকারি গ্রান্ট পায় মিশন, ইস্কুল চালাবার জন্য। তার শর্ত পালনের জন্য আমার মতো দুচারজন অধার্মিককে মাইনে দিয়ে, পেনশনের ভরসা দেখিয়ে ওদের পুষতে হয়। তার সাথে লোভ আছে আমাদের ধর্ম দীক্ষা দিয়ে ইন্সেন্টিভ কামানোর। সিম্বায়োসিস, বন্ধু। আমরা একসাথে আছি।” 

ধৃতিকান্ত জানতে চেয়েছিল, “সারা জীবন এমনই কাটাবি তাহলে?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

No comments:

Post a Comment

Readers Loved