পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রতিপক্ষ
~~~~~~
সুরচিতা দুদিকে মাথা নেড়ে বলেছিল, “বলতে পারব না। গত কয়েক বছরে জীবনের যে দিশা দেখেছি, যা করে চলেছি, যা করতে চাই আজ সবই এখানে আসার পরে ঠিক করা। যা ভেবে এখানে এসেছিলাম তার সাথে সে সবের কোনো মিলই নেই। আগামী কয়েক বছর কী করব জানি আজ। কিন্তু সেই ‘কয়েক’ বছরের মধ্যে ঠিক কটা বছর, বা মাস, বলতে পারব না। তারপর জীবন যেরকম ভাবাবে সেরকম চলব।”
ধৃতিকান্ত অধৈর্য হয়ে বলেছিল, “কোনো মানে হয়? দশ বছর পর তোর যদি মনে হয় ‘আমাজনের জঙ্গল দেখি’, পারবি না। তখন শরীরের জোরও থাকবে না। হতাশ হয়ে যাবি--।”
সুরচিতা সামলে নিয়েছিল তর্কের সেই উত্তপ্ত উন্মত্ততা, “যখন ইচ্ছে হবে তখন চেষ্টা করব এই মিশনের আমাজন শাখায় বদলি নেওয়ার। না হলে যে দেশের কারেন্সি তখন স্ট্রঙ্গেস্ট থাকবে সে দেশে পোস্ট ডক করতে চলে যাব। কয়েক বছরে আমাজন দেখার পয়সা উঠে আসবে।”
তখন ধৃতিকান্ত শান্ত হয়ে বলেছিল, “তাহলে পিএইচডি করে ফেলেছিস?”
সুরচিতার চেহারায় ফুটে ওঠা সম্মতি দেখে আবার বলেছিল, “সে অবশ্য পোস্ট ডক করতে তো যখন তখন যাওয়াই যায়--কিন্তু কতদিন করেছিস পিএইচডি? তারপর কী আর অ্যাকটিভলি রিসার্চ করছিস? না হলে--”
কথা কেড়ে নিয়েছিল সুরচিতা, “পিএইচডি পেলাম তাও বছর পাঁচেক হলো। তারপর থেকে যা কাজ করছি তা নিয়ে গোটা তিনেক পেপারও বেরিয়েছে রে, তবে সেগুলো সবই সোশ্যাল সায়েন্স জার্নালে।”
ট্রেন তখন তিনপাহাড়ি ঢুকছিল। সুরচিতা সিট থেকে উঠে দরজার দিকে যাচ্ছিল। ধৃতিকান্ত সমাহিত গলায় বলেছিল, “তোর সাথে আবার কবে দেখা হবে?”
সুরচিতা হেসে বলেছিল, “হবে হয়তো। এত ভাবিস না।”
তারপর টুক করে নেমে পড়েছিল। ওকে বেশ খানিকটা উজিয়ে গিয়ে চড়াই ভাঙতে হতো। ধৃতিকান্ত এগিয়ে গিয়েছিল জাংশনের দিকে, সেখান থেকে এয়ারপোর্টে গিয়ে ওর রাত্রিযাপন ও উড়ানের পরিকল্পনা ছিল।
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

No comments:
Post a Comment