Friday, May 29, 2026

Panchpoksho - 56

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



আত্মপক্ষ

~~~~~~

তারপর যেন খানিকটা নিজের সাথেই কথা বলতে লাগল, “আমার বয়সী ছেলেরা সব্বাই তাদের প্রেমিকাদের বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে বলে বিয়ে করে ফেলছে চটপট। আর আমি শুধু ভাবছি, তাহলে তোমার বিয়ের বয়স তো কবেই পার হয়ে গেছে। রোজ ভাবি তোমাকে বলি সব ফেলে আমার কাছে চলে এসো। কিন্তু সমস্ত ধার দেনা না-চুকিয়ে কীকরে তোমাকে বলি রোজগারপাতি বন্ধ করে চলে আসতে আমার কাছে! তোমার কাছে আমার দৈন্যের কোনো লজ্জা নেই। কিন্তু তোমাকে অনাদরে রাখতে পারতাম না। তাই আমিও তাড়াহুড়ো করি নি। কিন্তু এইটা সত্যিই বোধ হয় তোমার বয়স পেরিয়ে গেছে। তাই সাংসারিক বাঁধনও বেড়ি লাগছে তোমার। ভালো লাগল এবারও তুমি সোজাসুজি বললে সহজ সত্যিটা। এবার আমি কী করব?” 

সুরচিতা তখন রাস্তার বাঁপাশে একটা খাদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে। সেদিকে তাকিয়ে অভি দেখল ঘাসে ঢাকা একটা ঢাল বেয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে সাদা কালো মেঘেরা নেমে চলেছে। যেন একটা র‍্যালি, সাজগোজ করে সুরে, ছন্দে, তালে মেঘেদের চলন। রাস্তার দিকে ফিরে সে দেখল ডান দিকের খাড়া ঢালের গায়ে ধসের দাগ। তবু সেই দেওয়ালে ঝুলছে একটা ফুলন্ত ম্যাগনোলিয়া। সে সুরচিতাকে ম্যাগনোলিয়া দেখাবে বলে সুরচিতার কাঁধ ধরে ঘুরিয়ে দিল। সুরচিতা খুশিতে ঝলমল করে উঠল। তারপর রাস্তার ঢাল বেয়ে নামতে নামতে বলল, “আপাতত সাতাশিমাইল বস্তি এসে গেছে। তুই কী করবি সে কথা আমরা সারা সন্ধে ধরে বসে ঠিক করব।”


সন্ধেবেলার চা খাওয়া মিটতে অভিই বলল, “বলো আমি কী করব?” 

সুরচিতা বলল, “প্রেমিকা ছেড়ে গেলে ছেলেরা একগলা মদ খেয়ে বন্ধুদের কাছে ছেড়ে যাওয়া মেয়েটার নামে খুব গালিগালাজ করে শুনেছি। তোর সেরকম কোনো বন্ধু কী নেই?” 

অভি বলল, “নিশ্চয়ই আছে এমন বলতে পারব না। আমি ক্লাসের সেরা ছাত্র। তাই আমার চারপাশে সহপাঠী বা জুনিয়র ছিল অনেক। কিন্তু ঘনিষ্ঠ কেউ হয় নি। তারা জানে আমি খুবই গভীর জলের মাছ। আমি প্রেমে পড়ি না। মদের আসরে যাই না নিজের গরিবীর অজুহাতে। আর মাতালদের উদ্ধার করি মানবতার ভানে। তারা আমার সাথে মদ কেউ খাবে না। তাছাড়া কেউ বুঝবে না আমাদের ব্যাপারটা বা ভুল বুঝবে ভেবে আমি কখনই কাউকে আমাদের সম্পর্কের কথা বলি নি।” 

সুরচিতা বলল, “মেয়েরাও জানতে চায় নি?”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

No comments:

Post a Comment

Readers Loved