পাঁচপক্ষ
~~~~~~
আত্মপক্ষ
~~~~~~
সুরচিতা বলল, “পাগল! মুচলেখা নিয়ে ও আমাকে মিশনের পাক্কা কনটেনডর ইনস্টিটিউশন বানাতে পারত, পিছনে পলিটিশিয়ান লেলিয়ে প্রজেক্টের বারোটা পাঁচ করতে পারত। সব থেকে বাজে ব্যাপার গ্রামের মেয়েগুলো যে আমার স্পেশাল ক্লাসে দু-পাতা পড়তে শিখছে, দু-ধাপ সিঁড়ি ভাঙা অঙ্ক শিখছে সেটাও বন্ধ হয়ে যেত। তাই আমি মাদারকে বলেছিলাম যে ‘প্রমাণ করুন যে আমি গ্রামে কন্ট্রাসেপটিভ বিলোনোর প্রজেক্ট করছি আপনার এই সন্দেহ সত্যি’।”
অভি রহস্য গল্পের পাতা উল্টোবার মতো রুদ্ধশ্বাসে বলল, “তারপর? প্রজেক্টটা চালাচ্ছ কী করে?”
সুরচিতা বলল, “গ্রামের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা একটা রেজিস্টার্ড অ্যাসোসিয়েশন করেছে। আমাকে রেখেছে মেন্টর হিসেবে। রেখেছে ডাক্তারদের আর ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের অ্যাডভাইসর হিসেবে। সবই অনারারি পদ।”
অভি ফুট কাটল, “তা ভিন্ন উপায় কী? স্পনসরকে তো আর মাইনে দিয়ে পোষা দিয়ে যায় না।”
সুরচিতা বলল, “এসএমই বলা যেত। কিন্তু পয়সা কড়ির ব্যাপারটা স্পষ্ট করার জন্যই এমন ব্যবস্থা। না হলে আমরা সবাই ট্যাক্স নিয়ে ঝঞ্ঝাটে পড়তাম।”
সে রাত কেটে যেতে একটা ভয়ঙ্কর চড়াই ভেঙে দুজনে পৌঁছল একটা চ্যাটালো জায়গায়। যেখান থেকে নিচে তাকালে দেখা যায় নিচের রাস্তাটা। কিন্তু বোঝা যায় না সেটাতে দুটো রাস্তা এসে মিলেছে না কি সেটা দুভাগ হয়ে গেছে। একটা ল্যান্ড-রোভার গেল রাস্তাটা দিয়ে। দেখে বোঝা গেল একদিক থেকে দেখলে দুটো রাস্তা এসে মিলেছে একটা রাস্তায়; তার উল্টোদিক থেকে দেখলে রাস্তাটা দুভাগ হয়ে গেছে। তারপর রাস্তা বেশ চড়াই। কিন্তু কংক্রিট বাধানো সিঁড়ি করা আছে তার মধ্যে। সে সব সিঁড়ি চড়ার সময় গালে, মাথায়, ঘাড়ে কানে আদর দিয়ে যেতে লাগলো থোকা থোকা রডোডেনড্রন।
অভি বলল, “তাহলে তুমি আপাতত মাশরুম চাষ করছ?”
সুরচিতা বলল, “আমি করছি না। আমি উস্কানি দিচ্ছি। অনুপমা, মিনু, নীলিমা আর তাদের বন্ধুরা করছে। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের সিলভিকালচার ডিভিসন ওদের ট্রেনিং দিচ্ছে আপাতত অ্যাগ্রোনেটে নাইলন আর সুতির অনুপাত বদলে কেমন করে নার্সারি শেডের উষ্ণতা আর আর্দ্রতা বদলাতে হয় তার। সেটা হলে হবে গ্রীন হাউসে অ্যাটোমাইজার আর স্প্রিঙ্কলার দিয়ে আর্দ্রতা মাপার আর জল ছিটিয়ে সেচের কাজ শেখার পর্ব। তারপর ওঁদের লেটার অফ রেকমেন্ডশনের জন্য তদ্বির করতে হবে যেহেতু আধুনিক নার্সারির তরতরিকার ওপর ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টে কোনো সার্টিফিকেট কোর্স নেই।”
অভি প্রশ্ন করল, “তাহলে মিনুরা শিখছে কীকরে এসব ওদের নার্সারিতে?”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

No comments:
Post a Comment