পাঁচপক্ষ
~~~~~~
আত্মপক্ষ
~~~~~~
সুরচিতা বলল, “একসময় পাগলের মতো বলতাম না, ‘আমি সব দেখব’, আমাজন, আন্দিজ, রকি, আল্পস, জমাট নর্থ সি আর অরোরা বোরিয়ালিস, দক্ষিণ গঙ্গোত্রী আর অরোরা অস্ট্রেলিস। দেখব হয়তো। জীবন মানে অনন্ত সম্ভাবনা। বাঁধা গতে না ফেলে বহতা নদীর মতো চলতে দিলে হয়তো ঘাটা-আঘাটায় ঠেকতে ঠেকতে পৌঁছে যাব তীর্থে।”
অভি বলল, “পরে ইচ্ছে হলে সংসার পাতবে?”
সুরচিতা বলল, “ইচ্ছে হলে নিশ্চয়ই পাতব। কিন্তু ইচ্ছে হলে, তবেই; অনিচ্ছায় নয়।”
অভি বলল, “আমাকে জানাবে না। তাই না?”
সুরচিতা বলল, “নিশ্চয়ই না। তুই আমার সবটা অধিকার করে আছিস। তাই ভেবেছিস আমার সাথে চব্বিশ ঘন্টাটা ভাগ করে নিবি। আমি তোর সবটা অধিকার করে আছি। আমি কাউকে এটা ছেড়ে দিতে রাজি নই। অথচ সংসারে আমার রুচি, মতি কিছুই নেই আর এখন। কিন্তু জীবনের নিয়মে ইচ্ছে হলে তুই সংসার করবি যখন, তখন সে সংসারে তোর অংশীদার যে থাকবে সেই তো তার চব্বিশ ঘন্টার ভাগ দেবে তোকে, তোকে পূর্ণ অধিকার করবে। আমার অস্তিত্বের কথা জানলে সে যে দিতেই পারবে না। তাই তো আমাদের ভালোবাসাগুলোকে, প্রেমগুলোকে যথার্থ সম্মান দিয়েই নিজেদেরকে আমরা বিচ্ছিন্ন করে নেব পরস্পরের থেকে। না হলে যে আমরা শান্তি পাব না, স্বস্তি পাব না।”
অভি স্থির হয়ে বসে শুনল। মানল কিনা বোঝা গেল না। তারপর জানলা দিয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল বিকেলের আলোয় আলসেমি মাখা মাঠটার দিকে। হয়তো মাঠটা নয়। অন্য কিছু দেখছিল। দূরে, ভূগোলে নয়, সময়ে। দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দে বার বার ধরা পড়ছিল ডরমিটরির চালা কাঁপিয়ে দেওয়া ঝড়টা।
তারপর একসময় ঝড় মিলিয়ে গেল। আলোটা মরে গিয়ে একটা ছাইরঙা কুয়াশার মতো সন্ধে নামতে লাগল। একটা একটা করে তারা ফুটতে লাগল আকাশে। পরিবেশিকা চা আর চানাচুর নিয়ে এলো। ঘরের আলো জ্বালিয়ে দিল। অভি প্রথম মুখ খুলল, “আর কখনও আমাদের দেখা হবে না, তাই তো?”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

No comments:
Post a Comment