পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রতিপক্ষ
~~~~~~
সুরচিতা আবার যেন ফিরে গেল অন্য এক দৃশ্যে, “ক্রিপ্টোমেরিয়ার কালচে ভেজা গায়ে রমণীর খোঁপায় লাগান জুঁইয়ের মালার মতো ঝুলে থাকা সাদা সাদা অর্কিডের গোছা, গোধূলির পীতাভায় দিন শেষের দীর্ঘশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে থাকে অতল খাদে, যেন কার অপেক্ষায় ছিল, সে বুঝি আসে নি; আর ভোরের রক্তিমায় লজ্জারুণ হয়ে জেগে ওঠে নতুন অপেক্ষায়, অক্লান্ত চেয়ে থাকে সারাদিন পথের দিকে, যদি সে আসে, যদি সে আসে।”
ধৃতিক্লান্ত অবাক গলায় বলল, “বাব্বা পাহাড়ে যাদু আছে দেখছি! তোর মতো ঝগড়ুটে, মুখরা মেয়েকেও কবি বানিয়ে ফেলল।”
বাস্তব আর বর্তমানে ফিরতে ফিরতে সুরচিতা বলল, “না, কাব্য আর হলো কই--। তবে তখন এমন তারাভরা আকাশ দেখতে পেতিস না। গাছভরা রডোডেনড্রন আর গোলাপ দেখতে পেতিস না।”
গ্লাসের গায়ে চামচ বাজিয়ে প্রিয় বন্ধুর খোঁজে অনেকগুলো বছর উজিয়ে আসা ছেলেটা গাইতে শুরু করেছিল, “মাশরুমের বদলে তারা পেলুম তাই রে নাই রে না...”
সুরচিতা আঁতকে উঠেছিল, “করছিস কী? থাম থাম। এখানে চারপাশে চিরকুমারীরা থাকেন। তোর পৌরুষের গন্ধে তাদের এমনিই ঘুমের ব্যাঘাত হয়েছে আজ রাতে; তার ওপর তুই এমন মেটিং কল দিলে ওঁদের যে নরকেও জায়গা হবে না?”
গল্পের গন্ধে থেমে গিয়েছিল ধৃতিকান্ত। তারপর একটা অমলেট একটা প্লেটে সাজিয়ে আরেকটা বোল দিয়ে ঢেকে রেখেছিল টেবিলের একধারে। তারপর একমুখ গরম খিচুড়ি জিভে লোফালুফি করতে করতে জিজ্ঞেস করেছিল, “তুই কী সন্ন্যাস নিবি নাকি? দুবেলা মালা নিয়ে জপা প্র্যাকটিস করছিস? নাকি এরা অন্য কিছু নিয়ে জপে? কিন্তু খেতে বসে প্রেয়ার করলি কই?”
সুরচিতা চামচ দিয়ে নেড়ে নেড়ে পাতের খিচুড়িটা ঠাণ্ডা করতে করতে জবাব দিয়েছিল, “আমি এদের মাইনে করা অঙ্কের মাস্টার। ধম্মকম্ম করলেই এরা শত্রুতা শুরু করবে। ভাববে আমিও বুঝি হেডমাস্টারনি হতে চাই, ক্ষমতার দখল নিতে চাই।”
এই খানে ফস করে ধৃতিকান্ত বলে বসে ছিল, “এই ধ্যাধ্ধ্যাড়া পাহাড় চুড়োয় আবার ক্ষমতা কী রে? অগুণতি মেঘলা দিন, আর পাগলা করা মনখারাপ, এখানে ক্ষমতার লোভ তাও আবার...কেউ থাকে!”
বাকি কথাগুলো অট্টহাসিতে ঢেকে গিয়েছিল। আবার সুরচিতা, “শ্শ্শ্শ্শ্...” করে উঠেছিল। তারপর বলেছিল, “যেখানে পাইয়ের সাইজ যেমন, খেয়ে হজম করার লোকের পাকস্থলীর মাপ আর স্বাস্থ্য তো তেমনই হবে। কাল খুব ভোরে উঠে শহরে যাবো আর রাত করে ফিরব। না হলে তোর মতো ডবকা ছোকরার আওয়াজ পেয়ে কুমারীরা সারা দিন ভ্যান ভ্যান করবে এখানে।”
ধৃতিকান্ত খেই ফিরে পেয়েছিল, “তাতে তোর হিংসে হবে?”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

No comments:
Post a Comment