Tuesday, May 5, 2026

Panchpoksho - 32

 পাঁচপক্ষ

~~~~~~



প্রতিপক্ষ

~~~~~~

একটু পরে আবার বলেছিল ধৃতিকান্ত, “তের বছর আগে তুই ছিলি আমার প্রিয় বন্ধু। সেদিন আমি তোকে যেমনটা ছেড়ে রেখে গিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম তুই এখনও তাই আছিস। আমার প্রিয় বন্ধু। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা পরস্পরের কাছে প্রায় ভিনগ্রহী।” 

তারপরের নৈঃশব্দ দীর্ঘতর হয়েছিলো। একসময় বাস্তব বিবেচনা করে সুরচিতাকে বলতে হয়েছিলো, “বস, তুমি শহর থেকে পাঁচ মাইল দূরে, পাঁচশো ফুট উঁচুতে পাহাড়ের মাথায় বসে রোমান্টিক হতে পারো, কিন্তু তোমার পেট তো তাতে সায় দেবে না; এই গণ্ডগ্রামে তালি বাজালে ভূতের রাজার প্যান্ট্রিওয়ালাও আসবে না। আমি গেলাম খিচুড়ি, ডিম ভাজা রাঁধতে। এখন তুমি বসে অন্ধকার দেখবে, না আকাশের তারা গুণবে, নাকি খিচুড়ি ডিম ভাজার গন্ধে খিদে চাগাবে সেটা তোমার ব্যাপার।”


খিচুড়িটা হয়ে যেতে, সুরচিতা ডিম ভাজতে শুরু করেছিল। ঠিক তখনই ছুট্টে ঘরে ঢুকে পড়েছিল ধৃতিকান্ত। রান্না ঘরের দরজায় একটা টুল পেতে বসে বলেছিল, “আমাকে একটা অমলেট এমনি দিবি তো?” 

সুরচিতা হেসে ফেলেছিল, “বর্ষা কালে এলে এতে বেশ মাশরুম ঠেসে খাওয়াতে পারতাম। কিন্তু এখন পেঁয়াজ, লঙ্কা দিয়েই খেতে হবে। কাল থাকবি তো?” 

পাল্টা প্রশ্ন করেছিল ধৃতিকান্ত, “কেন, না হলে কী তোদের মুর্গিরা কাল স্ট্রাইক করবে?” 

সুরচিতা বলল, “না, কাল আমরা টৌলিং শহরে যাব এমুলুকের নুডুলের সেরা স্বাদ নিতে।” 

ধৃতিকান্ত তখন প্রায় অন্য যুগে; কলেজবেলার বাচালতায় মত্ত। বলেছিল, “না তুই বর্ষাকালের কথা কী বলছিলি? তখন এলে কী ভালো হতো? মাশরুম?” 

সুরচিতা বলল, “বটে। তার সাথে আরও অনেক কিছু।” 

ধৃতিকান্ত বলেছিল, “যেমন?” 

সুরচিতার দুচোখ যেন অনেক দূরের কিছু দেখছিল, “কোনো কোনো বাগানে জিঙ্গোবাইলোবার ডালে ঝোলা আনারসের মতো হলুদ অর্কিডের গোছা, হাসন্তমুখ ঘাস ফুল, আর ক্যালেন্ডুলার মতো অজস্র সাদা হলুদ ম্যাজেন্টা তারাফুলের গোছা।” 

ধৃতিকান্ত চোখ নাচিয়ে বলল, “এই ভ্যাপসা ভেজা এলাকাটাও সুন্দর হয়ে ওঠে বর্ষাতে? বসন্তকালে না হয় সব জায়গাতেই ফুল ফোটে। কিন্তু এখানে বর্ষাকাল সুন্দর বলছিস কী করে? সারাক্ষণ সবটা মেঘে ঢাকা থাকে না? ঘরের মেঝে থেকে জল ওঠে না বিন্দু বিন্দু!”

~~~~~~

Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml 

(চলবে)

No comments:

Post a Comment

Readers Loved