পাঁচপক্ষ
~~~~~~
আত্মপক্ষ
~~~~~~
একটু থেমে এক ঢোক জল খেল সুরচিতা। তারপর আবার বলতে লাগল, “মাকে যদি সত্যি কথা বলতাম তাহলে পাড়াতুতো বান্ধবীদের কাছে, দিদার বাড়িতে, জেঠুর বাড়িতে গিয়ে ‘তোমাকে ছাড়া কাকেই বা বলি আমার মেয়ের অপকম্মের কথা’ বলে কেঁদে বুক ভাসাতো। সেসব কথা চালাচালি হয়ে তোর বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছতে সময় লাগত না। তারপর ধাড়ি মেয়ের সাথে কচি ছেলের প্রেমের রসালো গল্প বলে কথা। আর যে কী কী হতো তার ঠিক নেই। তোর বাবা-মাকে হয় তো টুকুন রায়রা ধরত, তারপর ধরত আমার বাবা-মাকে, গায়ে পড়ে সালিশি করতে আসত।”
গলার স্বরে উদ্বেগ নিয়ে এলো বিপ্দের সম্ভাবনাগুলো, “তারপর আমার একটা ভালো বিয়ে দিতে উঠে পড়ে লাগত যাতে তোর সুন্দর ভবিষ্যতের কাঁটাটা ওপড়ানো যায়। না হলে আমাদের সাচ্ছল্যকে শাস্তি দিত তোদের দারিদ্র্যকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। পুরো সম্পর্কটা তোর আমার ভালো লাগা, বেঁচে থাকা, আনন্দ, উপলব্ধির বলয় থেকে গিয়ে পড়ত সমাজ আর রাজনীতির পাঁকে। ওদের মধ্যস্থতার ওস্তাদিতে আমার বাবা এবং মা-ও মাৎ হয়ে যেত। তোর বাবা-মাকে আরেক প্রস্থ গ্লানিতে নাকানি চোবানি খাওয়ানো হতো।”
নিশ্চিন্তি এলো বলার সুরে, “তাই কোনো ঝামেলা না করে আমি পালিয়ে এলাম তিনপাহাড়িতে। শ্যামশরণদার কাছে শুনেছিলাম এখানকার মেয়েদের আর ইস্কুলগুলোর কথা। তাই শ্যামশরণদার সাথে এসে মিশন দেখে ইন্টারভিউ দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়ে বাড়ি ফিরে যাই। সানসাইন অ্যাকাডেমিতে বলি আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে বিদেশে তাই আমাকে যেন ওরা তক্ষুণি ছেড়ে দেয়, দিল্লীতে মাসির বাড়ি যেতে হবে বিয়ের বাজার আর বিয়ে করার জন্য। অন্য চাকরি নিয়ে যাচ্ছি সে কথা ওদের বলি নি কারণ বললে ওরা কম্পেন্সেশন চাইত। তবে শেষ মাসের মাইনেও দেয় নি। বলেছিলাম দিল্লী থেকে ওঁদের নেমতন্নর চিঠি পাঠিয়ে দেব।”
অভি বলল, “পারোও বটে। কিন্তু এখন কেন বলছ আমাকে বিয়ে করবে না? অন্য কেউ এসেছে তোমার জীবনে?”
সুরচিতা হাসল, “ধৃতিকান্ত এসে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, সে প্রস্তাবে আপত্তি জানালাম যেই, সেও একই প্রশ্ন করেছিল।”
অভি জানতে চাইল রুদ্ধশ্বাসে, “তাকে কী বলেছিলে?”
সুরচিতা, “বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ, অন্যকেউ আছে’।”
অভি ফের প্রশ্ন করল, “তারপর?”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

No comments:
Post a Comment