পাঁচপক্ষ
~~~~~~
আত্মপক্ষ
~~~~~~
সুরচিতা বলল, “তারপর আর কী? সেই অন্য জনটা কে, তার ঠিকুজি কুলুজি চাইতে লাগল। আমি মুখে কুলুপ আঁটলাম। তখন জানতে চাইল বিয়েতে ওকে ডাকব কিনা। আমি বললাম, ‘বিয়েই করব না তো ডাকার কথা আসছে কী করে?’ ধৃতিকান্ত বিরক্তি নিয়ে চলে গেল। যেন আমার গ্রে ম্যাটার পচে দুর্গন্ধ ছাড়ছে...”
হাহা করে হাসতে লাগল সুরচিতা। অভিও।
রাতের খাবার এসে গেল। সে রাতের মতো সব কথা তুলে রেখে দুজনে ঘুমিয়ে পড়ল। দুজনের আশা, কথা যখন শুরু হয়েছে তখন সহমত হওয়ার রাস্তাও বেরোবে। একজন ভাবছিল বিয়েটা হবে। অন্যজন জানত বিয়েটা হবে না।
পরদিন সকালে পথে বেরিয়ে সূর্যোদয় দেখা গেল। তারপর চলতে চলতে রোদ মাখা শুকনো একটা দিন পাওয়া গেল ক্রমশঃ। সুরচিতাই কথাটা তুলল, “তাহলে বুঝতে পারছিস দুই পরিবারের কাছে ব্যাপারটা কতো বড়ো আঘাত। অন্য কেউ করলে হয়তো ‘বেশ করেছে’ বলার উদারতা আমাদের বাবা-মায়েদের আছে। কিন্তু নিজের সন্তান করলে চুরমার হয়ে যাবে ভেঙে।”
“এটা তুমি কখন বুঝলে?”, জানতে চাইল অভি।
সুরচিতা বলল, “তিনপাহাড়ি এসে। অঞ্জনা যাওয়ার পর ওর বাবা-মাকে দেখে। ওঁদের কাউন্সেলিং দিতে দিতে। মঠের সন্ন্যাসিনীদের চোখের জল দেখে। তাঁদের প্রার্থনা দেখে।”
অভি বলল, “অঞ্জনা যদি বাচ্চা নিয়ে ওঁদের মিশনে আশ্রয় নিত তাহলে তো ওঁদেরই লাভ। ক্রেডিট পেতেন ওঁদের হায়ারার্কিতে, এখানকার কমিউনিটিতেও।”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

No comments:
Post a Comment