পাঁচপক্ষ
~~~~~~
আত্মপক্ষ
~~~~~~
একটু থেমে আবার বলল, “এখানে যে বিদেশি সন্ন্যাসিনীরা আছেন, এখানে মানে আমাদের মিশনে আর অন্যান্য মিশনে, তারা খুব মাশরুম ভক্ত। ওঁরাই মাশরুম খেতে আর রাঁধতে শিখিয়েছেন আমাকে। ওঁরাই বলেছিলেন যে ওঁদের দেশ শীতপ্রধান হলেও ওঁরা সারা বছর মাশরুম ফলান। এদিকে এদেশের পশ্চিম থেকে এখানে আসা সন্ন্যাসিনী যাঁরা তাঁরাও বিদেশিনীদের মতোই অধিকাংশ চাষির ঘরের মেয়ে। চাষি মানে আমাদের এখানকার মতো নয় যে নিজের আধছটাক জমিতে ধান বোনে কি বোনে না বড়ো চাষির জমিতে জন খাটতে যায়। এরা চাষ বলতে বোঝে আদিগন্ত বাদাম কী তিসি ক্ষেতের বুকে কোকো গাছের স্পটেড প্লান্টেশন। এঁদের সাথেই গালগল্প করে বুঝলাম মাশরুম দিয়েই শুরু করা যায়। তারপর আমার আর পার্টনারদের ইচ্ছের ওপর নির্ভর করছে কী হবে।”
অভি বলল, “তুমি যে এই সব চাপিয়ে না দিয়ে পার্টনারের বিবেচনার ওপর আস্থা রাখছ, ভালো হলে তাতেই হবে, খারাপ হলেও তাতেই হবে। হয় একটা বুদ্ধিমান বিবেচক লিডার তৈরি হবে যে পুরো দলটার মাঝিগিরি করতে পারবে; নয়তো একটা কুচুটে লোকের আখের চিন্তায় তোমাকে তাড়ানোর ষড়যন্ত্র হবে আর পুরো দলটার কাজের দফা-রফা।”
সুরচিতা হাসল, বলল, “সে তো সব প্রজেক্টের ক্ষেত্রেই সত্যি। তবে এই দলের লোকগুলোর আর্থিক পুঁজিটা ছিনিয়ে নেওয়া গেলেও ওদের অভিজ্ঞতা আর যেটুকু জ্ঞানগম্যি হোলো সেটা কাড়তে পারবে না। তবে যদি আরও বড়ো দুর্যোগ আসে, এই লোকগুলোর জ্ঞানটা, অভিজ্ঞতাটা অন্য কেউ এদের থেকে শিখে নেওয়ার আগেই এদের মরে যেতে হয়... তাহলেই কেবল সবটা জলে যাবে। আমার থাকা না-থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি একটা প্রচেষ্টার অনুঘটক মাত্র।”
দম নিয়ে সে আবার বলল, “মেয়েদের মধ্যে কন্ট্রাসেপ্টিভের ব্যবহার শুরু করানো বা বাড়ানোর প্রজেক্টেও একই ব্যাপার। পৃথিবীতে জন্মনিরোধক পাওয়া যায়, কী কী রকম, তাতে শরীরের কী ক্ষতি হয় কী হয় না এসব জ্ঞান আর কোথায় পাওয়া যায় সেই ঠিকানা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া। তারপর কে ব্যবহার করবে আর কে করবে না, কিংবা কে তাতে ষড়যন্ত্রের অভিসন্ধি দেখবে সেটা যার যার ব্যাপার।”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

No comments:
Post a Comment