পাঁচপক্ষ
~~~~~~
আত্মপক্ষ
~~~~~~
তারপর বলল, “দুটোর মধ্যে যোগাযোগ একটাই। মাশরুম চাষের প্রজেক্টের ছায়ায় জন্মনিরোধকের প্রজেক্টটা হয়। তাই মাশরুমের প্রজেক্টটা বেঁচে থাকার ওপর নির্ভর করছে অন্য প্রজেক্টটার বাঁচা-মরা। জন্মনিরোধক ব্যবস্থাটা জীবনযাপনের অঙ্গ করে তুলতে গেলে মেয়েগুলোকে পড়াশোনা করে বা না করে রোজগেরে যে হওয়া যায় সেই কথাটা জানাতে হবে এবং রোজগেরে হওয়াটা যে জরুরি সে কথাটাও বোঝাতে হবে। তাই মাশরুম কিংবা সুপুরির চাষ কিংবা দর্জির কাজ বা জারদৌসির আড়ি-সিপ্পি শেখার ব্যবস্থা করা। তাই নতুন কিছু শিখে বা আগে থেকে শেখা কোনো কাজ থেকে রোজগারের ব্যবস্থা যে করা যায় সেটা জানানো, বোঝানো। আর কী শিখলে রোজগারের উপায় হবে সেটা ভাবতে, সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে তোলার চেষ্টা।”
অভি তার প্রশ্নের পুরো উত্তর এখনও পায় নি। তাই বলল, “কিন্তু জনতা ক্ষমতা পাবে সেটা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীগুলো টের পেলে? বা তাদের মুঠোর লোক ধরে রাখার ছকের উল্টো পুরাণ পড়াচ্ছ টের পেলে তারা তো প্রজেক্ট ভেস্তে দেওয়ার সব চেষ্টা করবে। সেগুলো সামলাবার কথা ভেবেছ কিছু?”
অভির দূরদর্শিতায় নতুন করে মুগ্ধ হওয়ার কিছু ছিল না সুরচিতার। কিন্তু নিশ্চিন্ত বোধ করল আরেকবার। অভির জন্য, তার নিজের জন্যও, তার নিজের কর্মকুশলতার প্রতি, বুদ্ধির প্রতি তার আস্থা আরেকটু দৃঢ় হলো। উত্তরে সে বলল, “এই রিস্কগুলো ম্যানেজ করতে পারার ওপরেই দাঁড়িয়ে থাকে প্রজেক্টের সাকসেস। ধর কিনা, মেয়েরা যাতে জন্মনিরোধক ব্যবহার করে তার জন্য জিনিসটার উপকারিতার দিকটাকে যত্ন করে তুলে ধরতে হয়, আর অপকার যে কিছু নেই আজকের দিনে সে কথাটা নানা ভাবে প্রচার করে বা এঁদের সাথে তর্ক করে বোঝাতে হয়। এই সব কথা বোঝানোর চেষ্টাটা আমাদের ষড়যন্ত্র কিংবা কোনো আখের গুছোনোর অভিসন্ধি কিনা সেটা বোঝাতে মাদার সুপিরিয়রকে যেভাবে কায়দা করেছি সেটা একটা উপায়। এই উপায়ে যারা প্রজেক্টের সাথে সরাসরি জড়িয়ে নেই কিন্তু প্রজেক্ট সফল হলে তাদের ক্ষমতা কমে যাবে বা চলে যাবে বলে ভয় পাচ্ছে তাদের প্রতিহত করা যায়।”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

No comments:
Post a Comment