পাঁচপক্ষ
~~~~~~
প্রাক্পক্ষ
~~~~~~
অভির প্রথম ক্লাসের দিন সুরচিতা ওর সাথে দেখা করেছিল, ইস্কুলে ছুটি নিয়ে। দুজনে সন্ধে অবধি এখানে সেখানে আড্ডা দিয়েছিল। বাড়ি ফেরার সময় তুমুল বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল সুরচিতা। মনসাতলার মুখে এতো জল হয়েছিল যে ওর পা থেকে চটি খুলে ভেসে গিয়েছিল। তবু সেদিন কোনো দুঃখ তো দূর বিরক্তিও হয় নি।
অসম্ভব আনন্দ হয়েছিল জীবন কানায় কানায় ভরে যাওয়ায়, অনেক দুঃস্বপ্নের পরে একটা স্বপ্নকে সত্যি হয়ে উঠতে দেখে। এতো আনন্দ যে চোখ ভরে উঠছিল উচ্ছাসে। গালে গড়িয়ে আসা অশ্রু ধুয়ে যাচ্ছিল বৃষ্টির জলে। পুরো রাস্তা খালি পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরেছিল মেয়েটা।
কপালে, চিবুকে, দুহাতের দশ আঙুলে, কনুই জুড়ে একশ কুড়ি ডিগ্রি জ্বর ছিল তার, বৃষ্টি আরও বাড়িয়ে তুলেছিল সেই জ্বর আর তার ঘোর। অভি তাকে ছুঁয়েছিল কপালে, চিবুকে, আঙুলে, কনুইতে, স্তনসন্ধিতে, চেনা রেস্তোরাঁর অচেনা কেবিনের পর্দাঘেরা আবছায়াতে।
শীতকালে সুরচিতা শ্যামশরণের সাথে তিনপাহাড়ি এসেছিল প্রথম বার। সরকারি সাহায্যে চলা একটা মিশনারি স্কুলে চাকরিও জুটিয়ে নিয়েছিল। শ্যামশরণ ফিরে গিয়েছিল সুরচিতার শহরে; আর সুরচিতা ফিরে এসেছিল শ্যামশরণের শহরে। তারপর ক্রমশঃ মত্ত হয়েছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নির্মাণে।
অভির সাথে যোগাযোগ মানে মাসান্তে কটা টাকা পাঠানো আর একটা পোস্টবক্স নম্বর। কখনও যে মনপ্রাণ দুজনের কারুরই ক্ষেপে ওঠে নি দেখা করার জন্য তা নয়। কিন্তু জগতের নজর আর কৌতূহল এড়াতে দুজনেই স্বীকার করে নিয়েছিল স্বেচ্ছা বিরহ। দোল-দূর্গোৎসবে অভির শহরে ফেরাটা অনিবার্য ছিল। তাই সুরচিতা সেসব সময়ে মিশনে উৎসব উদযাপনে সামিল হওয়ার অছিলায় বাড়ি ফিরত না। কিংবা বেড়াতে চলে যেত কোনো সমুদ্রের তীরে বা জঙ্গলের গভীরে। মা-বাবা কখনও সঙ্গী হতেন, কখনও হতেন না। চার ছ বছর থেকে কিছু বেশি বছর কিংবা অনির্দিষ্টকাল, বিরহের দীর্ঘ অভ্যেসে তারা দুজনেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল।
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

No comments:
Post a Comment