পাঁচপক্ষ
~~~~~~
আত্মপক্ষ
~~~~~~
দুদিকে মাথা নেড়ে বলল সুরচিতা, “না। আজকাল মিশনগুলোকে খেটে খেতে হয়। উপরি কিছু হলে দান করতে হয় নবীন মিশনে, বা প্রশাসনের উর্দ্ধমাগে কোনো নির্ধারিত সংস্থায়। আর এখানকার কমিউনিটি ব্যাপারটা ভালো মনে মেনে নিত, না বিষ নজরে দেখত সেটা বলা সহজ নয়। সোশ্যাল মিডিয়া এসে ইস্তক গত দুতিন বছরে মতামত জাহির করার মানে, অন্যকে শোনানোর সুযোগ বেড়ে যাওয়ায় সব্বাই বেশ স্বমতাবলম্বী স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছে এই পাহাড়েও। তার সাথে আছে ট্র্যাডিশনাল মিডিয়ার বাড়বাড়ন্তে নানান মতবাদের পণ্যায়ন। ফলে যথাযথ প্যাকেজিং পেলে যে-কোনো মতবাদ জনমনকে পোট্যাটো চিপস্-এর মতোই মুগ্ধ করতে পারে যুক্তিবুদ্ধিকে ছুটি দিয়ে। সাধারণ মানুষের তাই যে-কোনো মতের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যে-কোনো মতের জোরেই দুনিয়া দখল করার সুযোগ এখন অনেক, অনেক বেশি। ফলে মঠের মোকাবিলা আর শুধু একটা সুযোগসন্ধানী রাজনীতিক বা ক্ষমতা দখলের লড়াইতে নামা দুয়েকটা দলের সাথে নেই। সুতরাং শুধু অঞ্জনা নয় যে কোনো মেয়েকেই তার বাচ্চাশুদ্ধু থাকতে দেওয়ার আগে মঠ অনেকগুলো বিষয় তুল্যমূল্য করে।”
একটা খাড়া চড়াই শুরু হয়ে যাওয়ায় দুজনেই কথা থামিয়ে দিল।
বেশ কিছুটা পথ পার হয়ে রাস্তা আবার হালকা চড়াইতে উঠতে শুরু করায় আবার বলতে শুরু করল সুরচিতা, “অঞ্জনা প্রথমে নিজের বাড়িতেই ফিরেছিল। সেখান থেকে চিঠি লিখেছিল আমাকে। কয়েকটা শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল ওর। সেগুলোর চিকিৎসা এগোলে ও একটু সুস্থ হলে মিশনে ফিরতে চেয়েছিল। আমি মহাধ্যক্ষার সাথে কথা বলি। মেয়ে নিজের ইচ্ছেয় ফিরলে এঁদের ক্ষমাধর্মে সহিষ্ণুতাব্রতে তো আটকায় না। তাই অঞ্জনা অনায়াসে ফিরে এসেছিল।”
~~~~~~
Published at পরবাস-৫৯, এপ্রিল ২০১৫ https://parabaas.com/PB59/LEKHA/gSanhita59.shtml
(চলবে)

No comments:
Post a Comment